Posts

Showing posts from September, 2025

আল কাউসার: ইলম ও হেদায়াতের আলোকিত দিশারী

  আল কাউসার: ইলম ও হেদায়াতের আলোকিত দিশারী মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আল কাউসার —এই নামটি উচ্চারিত হলেই হৃদয়ের গভীরে এক অনন্য প্রশান্তি ও শান্তির স্রোত নেমে আসে। এটি কেবল একটি পত্রিকা নয়; বরং এটি ইলম, আমল এবং হেদায়াতের এক মহিমান্বিত সফরনামা। যুগের পর যুগ মানুষ জ্ঞানের আলো থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্ধকারে বিভ্রান্ত হয়েছে, আর সেই অন্ধকারকে আলোর ঝলকানিতে রূপান্তর করার এক উজ্জ্বল প্রদীপ হলো আল কাউসার। হেদায়াতের মাধ্যম এই পত্রিকার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ হৃদয়ের গভীরে পরিবর্তন অনুভব করেছে। কেউ নতুন করে জীবনের দিশা পেয়েছে, কেউ আবার গাফেলতায় ডুবে থাকা জীবন থেকে জাগ্রত হয়েছে। কত তরুণ-তরুণী যে এ পত্রিকার প্রবন্ধ, গবেষণা ও তাহকীকি আলোচনার মাধ্যমে হেদায়াতের পথে অগ্রসর হয়েছে, তার হিসাব রাখা দুষ্কর। ইলমের তৃষ্ণা নিবারণ আধুনিক সময়ে জ্ঞানের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে নানা মাধ্যম, কিন্তু বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ইলম পাওয়া সত্যিই কঠিন। আল কাউসার সেই তৃষ্ণার্ত হৃদয়কে পরিতৃপ্ত করে। প্রতিটি সংখ্যা ...

উসুলুল ফিকহ: জ্ঞানের আঙিনায় একটি গল্প

  উসুলুল ফিকহ: জ্ঞানের আঙিনায় একটি গল্প মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    প্রিয় তালেবে ইলম ভাইয়েরা আমার, আজ আমি তোমাদের একটি গল্প শোনাবো। গল্পটি শুধু গল্প নয়, বরং এর মধ্যে লুকিয়ে আছে উসুলুল ফিকহ -এর সৌন্দর্য, প্রয়োজনীয়তা এবং কিভাবে এটি একজন তালিবে ইলমকে আলোকিত করে তার ব্যাখ্যা। গল্পের শুরু কল্পনা করো তুমি এক বিস্তৃত মরুভূমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছো। তোমার হাতে একটি মানচিত্র, কিন্তু মানচিত্রটি শুধু দিকনির্দেশনা দেয়, পথের প্রতিটি বাঁক বুঝতে হলে তোমাকে বুদ্ধি ব্যবহার করতে হবে। এই মানচিত্রটাই হলো কুরআন ও সুন্নাহ , আর সেই মানচিত্রকে বুঝে, ব্যাখ্যা করে, সঠিকভাবে পথ চলতে সাহায্য করে যে বিজ্ঞান, সেটিই হলো উসুলুল ফিকহ । তোমার যাত্রার পয়েন্টগুলো প্রথম পয়েন্ট: কুরআনকে বুঝা , তুমি কুরআন পড়ছো। একটি আয়াত সামনে এলো— ﴿أَقِيمُوا الصَّلَاةَ﴾ (সালাত কায়েম করো)। এখন প্রশ্ন হলো: কত ওয়াক্ত, কিভাবে, শর্ত কী? এই প্রশ্নের জবাব দিতে সাহায্য করে উসুলুল ফিকহ। দ্বিতীয় পয়েন্ট: হাদীসের...

হযরত মাওলানা আবু রাফফান সিরাজ সাহেব হুজুর

  হযরত মাওলানা আবু রাফফান সিরাজ সাহেব হুজুর মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা তাঁর রহমতে আমাদের এমন এক নক্ষত্র দান করেছেন, যিনি উলুমুল হাদীসের আকাশে দীপ্তিমান আলোর মতো জ্বলজ্বল করছেন। সেই নক্ষত্রকে যদি আমরা অনুসরণ করি, তাঁর দিকনির্দেশনা মেনে চলি, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমাদের ভেতরে এক ভিন্নতর যোগ্যতা তৈরি হবে—একটি দৃঢ় ভিত্তি, যা আমাদেরকে হাদীস বিজ্ঞানে সুদক্ষ করে তুলবে। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, হযরত মাওলানা আবু রাফফান সিরাজ সাহেব হুজুর -এর দরসে বসার সুযোগ পেয়েছি। শুধু তাই নয়, সরাসরি তাঁর কাছ থেকে দরস করারও তাওফীক পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ! রমজানের তাদরীবের স্মৃতি গত রমজানে জামিয়াতুন নূর আল-ইসলামিয়া, দাসেরগাঁও, মদনপুর, নারায়ণগঞ্জে— যা হযরত মাওলানা আবুল হাসান আব্দুল্লাহ সাহেব হুজুরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত— সেখানে উলুমুল হাদীসের উপর বিশ দিনব্যাপী তাদরীব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমি সেখানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সেই তাদরীব থেকে আমি অগণিত ফায়দা প...

ইংরেজি রচনা লেখার সহজ কৌশল

  ইংরেজি রচনা লেখার সহজ কৌশল মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আমরা অনেকেই মনে করি ইংরেজিতে রচনা লেখা একটি কঠিন কাজ। বিশেষত যারা ইংরেজিতে দুর্বল বা বেশি চর্চা করেনি তাদের কাছে বিষয়টি দুঃসাধ্য মনে হয়। অথচ বাস্তবতা হলো— ইংরেজিতে রচনা লেখা একেবারেই সহজ , যদি কিছু মৌলিক নিয়ম মেনে চলা হয়। আমি নিজেও শুরুতে বেশ অসুবিধায় ভুগেছি। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকদিন চেষ্টা করার পর বুঝতে পেরেছি যে ইংরেজি রচনার পেছনে আসলে কোনো অতি কঠিন রহস্য নেই। কিছু কৌশল জানা, কিছু শব্দভাণ্ডার আয়ত্ত করা, এবং নিয়মিত অনুশীলন করাই হলো সফলতার চাবিকাঠি। রচনা লেখার মূল ধাপগুলো বিষয় নির্বাচন (Topic Selection): রচনার বিষয় ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। আউটলাইন তৈরি (Outline Making): কোন কোন বিষয়ে লিখবেন তা ছোট করে সাজাতে হবে। ভূমিকা লেখা (Introduction): বিষয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতে হবে। মূল অংশ (Body): বিষয়ভিত্তিক কয়েকটি অনুচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা। উপসংহার (Conclusion): রচনার সারাংশ ও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি। এই কাঠামো মে...

আরবি দুর্বলতার বাস্তবতা ও উত্তরণের পথ

  আরবি দুর্বলতার বাস্তবতা ও উত্তরণের পথ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    বহুদিন ধরে আমি একটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করেছি এবং সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, আমাদের মাদরাসার ছাত্রদের মধ্যে আরবিতে দুর্বলতা অত্যন্ত প্রকট। এই দুর্বলতার কারণে তারা সাধারণ কিতাব বুঝতে পারে না, এমনকি বড় জামাতে ওঠার পরও কিতাব মুতালাআ করতে গিয়ে অসহায় বোধ করে। কেউ মেশকাত পর্যন্ত পড়ে, কেউ দাওরাহতেও পৌঁছে যায়; কিন্তু আরবির ভিত মজবুত না হওয়ায় কিতাবের বক্তব্য বোঝা তাদের জন্য দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়। হাদীসের কিতাবগুলো, যেমন— সহীহ বুখারী , সহীহ মুসলিম , বা সুনান আবু দাউদ — এগুলো আসলে গভীর আরবির অনুধাবন ছাড়া সম্ভব নয়। অথচ ছাত্ররা দাওরাহয় পৌঁছে গিয়ে বুঝতে পারে না আসল সমস্যাটা কোথায়। সমস্যাটা মূলত শুরুতেই ভিত মজবুত না করার মধ্যে । মিজান জামাত থেকেই আরবির প্রতি উদাসীনতা শুরু হয়। কেবলমাত্র “এসো আরবি শিখি” জাতীয় প্রাথমিক কিতাবগুলো পড়ানো হয়, কিন্তু চর্চা হয় না। হেদায়াতুন্নাহু কিংবা কাফিয়া জামাতে এসে ছাত্ররা নাহু ও সরফের ...

কাফিয়ার নতুন তাহকীক ও তালিবুল ইলমের প্রয়োজনীয়তা

  কাফিয়ার নতুন তাহকীক ও তালিবুল ইলমের প্রয়োজনীয়তা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আমি মাদানীনগর মাদ্রাসায় যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি। সেখানে একটি টেবিলের উপর নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত كافية ابن الحاجب কিতাবটি চোখে পড়ে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের সম্মানিত আবু সাঈদ সাহেব হুজুর এ কিতাবটির বিস্তারিত শরাহ করেছেন এবং নির্ভরযোগ্য বহু مخطوطات সামনে রেখে এর তাহকীক সম্পন্ন করেছেন। বইটি হাতে নিয়েই মনে হলো—এ যেন এক নতুন দিগন্ত। আলোচনা ও ব্যাখ্যাগুলো এতটাই সুন্দর ও নির্ভুল হয়েছে যে, ছাত্ররা এর থেকে অসাধারণ ফায়দা পাবে। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই—যারা কাফিয়া পড়ছো বা পড়বে, অবশ্যই এই কিতাব সংগ্রহ করো। এর উপকারিতা অসীম। আলহামদুলিল্লাহ, এই কিতাবে যে হাশিয়া সংযোজিত হয়েছে, তা মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য। একজন তালিবুল ইলম যদি হাশিয়া সহকারে মুতালাআ করে, তাহলে আর অন্য কোনো শরাহ পড়ার প্রয়োজন অনুভূত নাও হতে পারে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যখন আমি কাফিয়ায় ছিলাম, তখন شرح ال...

উসুলুল ফিকহ ও قواعد الفقه এর মধ্যে পার্থক্য

  উসুলুল ফিকহ ও قواعد الفقه এর মধ্যে পার্থক্য মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    ইসলামী জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো أصول الفقه (উসুলুল ফিকহ) এবং قواعد الفقه (কাওয়াইদুল ফিকহ)। অনেক সময় ছাত্রদের মনে বিভ্রান্তি দেখা দেয়—এই দুটি কি একই বিষয়, নাকি ভিন্ন কিছু? প্রকৃতপক্ষে, দুটোই ফিকহের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও তাদের আলোচনার ধরন, উদ্দেশ্য এবং ফলাফল একে অপরের থেকে ভিন্ন।  উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা ও আলোচ্য বিষয় أصول الفقه শব্দটি দুটি অংশে বিভক্ত: أصول (মূলনীতি/নিয়ম) এবং فقه (শরীয়তের ফিকহ বা বিধান)। অর্থাৎ, উসুলুল ফিকহ হলো ফিকহ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত নীতিমালা ও পদ্ধতি। ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর الرسالة এই বিষয়ে প্রথম সংকলিত কিতাব হিসেবে স্বীকৃত। الأصول: ما يُبنى عليه غيرُه، والفقه: معرفة الأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية. (ইমাম আমদী, الإحكام في أصول الأحكام, ১/১০) উসুলুল ফিকহে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে: আহকাম নির্ধারণের ...

মাদ্রাসা ছাত্রদের হতাশা ও সঠিক পথের সন্ধান

  মাদ্রাসা ছাত্রদের হতাশা ও সঠিক পথের সন্ধান মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আমাদের সমাজে একটি বড় সমস্যা হলো হতাশা। বিশেষত মাদ্রাসা ছাত্রদের মধ্যে এটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করার পর মনে করে—“আমি কি করব?”, “আমার ভবিষ্যৎ কি হবে?”, “আমি কি আদৌ যোগ্য কিছু করতে পারব?”। এসব প্রশ্ন অনেককে ভেতর থেকে কুরে খায়। আমি নিজেও একজন মাদ্রাসা ছাত্র। তাই সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই দুশ্চিন্তার ভার আমি গভীরভাবে অনুভব করি। অনেকে ভাবে—এই কিতাবাদি পড়ে ভবিষ্যতে কি হবে? অনেকেই আবার বলে—আমার টাকার প্রয়োজন, তাই আমাকে অন্য কিছু শিখতে হবে। এর ফলে দেখা যায়, কেউ বাংলা সাহিত্য, কেউ ইংরেজি সাহিত্য, আবার কেউ কম্পিউটার শিখে জীবনের পথ খোঁজে। অথচ বাস্তবতা হলো, আমরা যদি আমাদের মাদ্রাসার পড়াশোনা মনোযোগ দিয়ে করি, তবে হতাশা আসার কোনো কারণ নেই। কেননা কিতাবগুলোই জ্ঞানের মূলধন। এগুলো যদি আমরা আয়ত্ত করতে পারি, তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের যোগ্যতার ঘাটতি থাকবে না। ﴿وَقُل رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا﴾ (সূ...

আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভাব ও সঠিক ব্যবহার

  আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভাব ও সঠিক ব্যবহার মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আলহামদুলিল্লাহ, আমি যখন আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকে কুরআন মজীদের আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা করেছি, তখন আমার অন্তরে নতুন এক অনুভূতির জন্ম হয়েছে। কুরআন পাঠ করার পর আমি উপলব্ধি করেছি যে বিজ্ঞানের প্রতিটি আলোচনাই কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর নিদর্শনের সাথে সম্পর্কিত। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন: إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ (সূরা আলে ইমরান: ১৯০) এই আয়াতের গভীরতা নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে আমি অনুভব করেছি যে আধুনিক বিজ্ঞানের সমস্ত গবেষণা আসলে আল্লাহর সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনেরই প্রচেষ্টা। আমি অনেক সময় নিয়েছি এ নিয়ে ভাবতে, আর এতে আমার চিন্তাশক্তি প্রসারিত হয়েছে। আবার কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: وَسَخَّرَ لَكُم مَّا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مِّنْهُ (সূরা জাসিয়া: ১৩) আমি যখন এই আয়াতের উপর গভীরভাবে ভেবেছি, তখন মনে হয়...

ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব

 ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  ইংরেজি ভাষা আজকের বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক ভাষা। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং যোগাযোগের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। একজন শিক্ষার্থী যদি ভালোভাবে ইংরেজি শিখতে পারে তবে সে বিশ্বজুড়ে জ্ঞান আহরণ করতে পারবে। ইন্টারনেট, বই এবং গবেষণার অধিকাংশই ইংরেজিতে লেখা, তাই ইংরেজি জানলে একজন শিক্ষার্থী সহজে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। শুধু তাই নয়, বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসার ক্ষেত্রেও ইংরেজি ভাষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ মানুষ হতে হলে ইংরেজিতে পারদর্শী হওয়া সময়ের দাবি। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত ইংরেজি ভাষা শেখার প্রতি মনোযোগী হওয়া। ইংরেজি শিখে আমরা কেবল নিজেদের উন্নত করতে পারব না, বরং সমাজ ও দেশেরও কল্যাণে অবদান রাখতে পারব।

بر الوالدين

  بر الوالدين محمد منير الزمان طلحة الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور  أنفسنا ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله. أما بعد: أيها الإخوة الكرام! حديثنا في هذا اليوم المبارك عن قضية عظيمة، وهي: **بر الوالدين**. إنه من أعظم القربات وأجلّ الطاعات. قال الله تعالى: ﴿وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا﴾ [الإسراء: 23]. وهذا يدل على أن حق الوالدين مقرون بحق الله تعالى. وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدِ، وَسَخَطُ الرَّبِّ فِي سَخَطِ الْوَالِدِ» [رواه الترمذي]. أيها الأحبة! برّ الوالدين لا يكون بالكلام فقط، بل بالعمل والخدمة والرحمة. فالوالدان تعبا لأجلنا، سهرا الليالي، تحملوا المشاق. فهل يكفي أن نرد الجميل بالكلمات؟ كلا. بل يجب أن نكون بارين بهم في حياتهم وبعد وفاتهم. وهنا أذكر بعض الكلمات باللغة الإنجليزية لتأكيد المعنى: 1. "A mother is she who can take the place ...

হাতের লেখার স্বপ্ন ও বাস্তবতার অভিযাত্রা

  হাতের লেখার স্বপ্ন ও বাস্তবতার অভিযাত্রা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে আজ আমি এমন এক সত্যের মুখোমুখি, যা আমার হৃদয়ের বহু বছরের আকাঙ্ক্ষা বহন করে এনেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম দয়া ও রহমতের মাধ্যমে আমার অন্তরের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। যে স্বপ্ন নিয়ে আমি প্রতিদিন কাটিয়েছি, যে স্বপ্নের আলোয় ভবিষ্যতের পথচলা কল্পনা করেছি, অবশেষে সেটিই সত্য হয়েছে— আমার হাতের লেখা কোর্স শুরু হয়েছে । বহুদিন ধরে আমার হৃদয়ে বাসা বেঁধেছিল এক তৃষ্ণা, এক অদম্য সাধনা—একদিন আমি আরবি খত্তে নুসখার জগতে পদার্পণ করব। অক্ষরের জগৎ আমার কাছে শুধু আঁকিবুকি নয়, বরং সৌন্দর্যের শিল্প, নান্দনিকতার মণিমুক্তা। সেই শিল্পকে ধারণ করার বাসনা আজ বাস্তবে রূপ পেয়েছে। কোর্সটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার, আর চলবে ইনশাআল্লাহ শুক্রবার পর্যন্ত। এই ক্ষুদ্র সময়ও আমার কাছে যেন একটি মহাসমুদ্র—যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান মুক্তোর মতো। এর আগে হাতের লেখার জগতে কিছুটা প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আংশিকভাবে রপ্ত হয়েছিল অক্ষরে...

অন্যের অগ্রগতি দেখে হিংসা নয়, দোয়া করা শিখি

  অন্যের অগ্রগতি দেখে হিংসা নয়, দোয়া করা শিখি মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আগ্রহী পাঠক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে আমি কিছু কথা বলতে চাই। আমাদের বর্তমান সময়ে একটি বড় সমস্যা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমরা যখন দেখি কেউ ইলমে বা দক্ষতায় উন্নতি করছে, তার লেখা, সাহিত্য, বা শিল্প সমাজে আলো ছড়াচ্ছে, তখন অনেকের মনে দোয়ার বদলে হিংসার আগুন জ্বলে ওঠে। তার ছায়াও সহ্য করতে চায় না অনেকে। অথচ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে— অন্যের অগ্রগতি দেখে হিংসা নয়, বরং দোয়া করা। কুরআনের দিকনির্দেশনা وَلا تَتَمَنَّوا ما فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعضَكُم عَلىٰ بَعضٍ ۚ “তোমরা কামনা করো না আল্লাহ যেভাবে তোমাদের কারো ওপর কারোকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।” (সূরা নিসা ৪:৩২) এই আয়াত স্পষ্টভাবে শিক্ষা দিচ্ছে—অন্যের অগ্রগতির দিকে লোভ বা হিংসার চোখে তাকাবে না। বরং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে স্বীকার করবে এবং তার জন্য দোয়া করবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শিক্ষা لا يؤمن أحدكم حتى يحب لأخيه ما يحب لنفسه “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হবে না যতক...

ছাত্রজীবনে সুন্দর লেখা অর্জনের গুরুত্ব

  ছাত্রজীবনে সুন্দর লেখা অর্জনের গুরুত্ব মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপেই একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়— সুন্দর লেখা । লেখা হলো মানুষের অন্তরের ভাষাকে প্রকাশ করার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। একজন ছাত্র যদি সুন্দরভাবে লিখতে না পারে, তবে তার জ্ঞানের আলো অর্ধেকই ঢাকা থেকে যায়। স্কুলের ছাত্র হোক, কলেজের ছাত্র হোক কিংবা মাদ্রাসার ছাত্র—প্রত্যেকের জন্যই সুন্দর লেখা অপরিহার্য। শুধু পাঠ্যবই মুখস্থ করলেই হবে না, বরং তা সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে হবে কলমের মাধ্যমে। মাতৃভাষায় সুন্দর লেখার প্রয়োজনীয়তা আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। তাই একজন ছাত্রের জন্য সবচেয়ে আগে দরকার বাংলা ভাষায় সুন্দর লেখা। মুখের ভাষা যেমন শুদ্ধ করতে হয়, তেমনি লেখার ক্ষেত্রেও দরকার শুদ্ধ বানান, সঠিক ব্যাকরণ এবং সাহিত্যিক আবহ। যদি বাংলা ভাষায় সুন্দরভাবে লেখা না যায়, তবে পরীক্ষায় যেমন নম্বর কাটা যাবে, তেমনি সহপাঠীদের কাছেও পিছিয়ে পড়তে হবে। আরবি ও উর্দুতে মাদ্রাসার ছাত্রদের দায়িত্ব বিশেষত মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য লেখা সুন্দর করা ওয়াজিব । কারণ তারা শুধু বাংলা নয়, বরং...

হাকিকী তালেবে ইলমের বাস্তবতা ও করণীয়

  হাকিকী তালেবে ইলমের বাস্তবতা ও করণীয় মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    বর্তমান সময়ে একজন হাকিকী তালেবে ইলম খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। কারণ আমাদের হৃদয় দুনিয়ার মোহে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এখন অনেক ছাত্রের মূল চিন্তা দুনিয়া কামাই করা, অথচ ইলমের আসল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীনের গভীরতা বোঝা এবং আমলকে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা। কিতাবের সাথে গভীর সম্পর্ক রাখা, তার থেকে الأسرار العلمية (ইলমের রহস্য) বের করা আজকাল দুর্লভ হয়ে পড়েছে। বর্তমান তালেবে ইলমের অবস্থা আজকের যুগের অনেক তালেবে ইলম কেবল পরীক্ষায় পাশ করার জন্য পড়াশোনা করে। কিন্তু حقيقة العلم (ইলমের বাস্তবতা) হলো তার গভীরে প্রবেশ করা। ইমাম ইবনে আব্দিল বার (رحمه الله) বলেন: "العلم ليس بكثرة الرواية، وإنما العلم الخشية" — (جامع بيان العلم وفضله، 2/52، دار الكتب العلمية) অর্থাৎ, ইলম হলো কেবল বর্ণনার নাম নয়, বরং আল্লাহভীতির নাম। কিতাব মুতালার পরিধি ও গভীরতা একজন প্রকৃত তালেবে ইলমকে কিতাবের সাথে এমন সম্পর্ক রাখতে হবে যে তিনি প্রতিটি বাক্যের গভীরে প্রবেশ করবেন, মুসান্নিফের উদ্দ...

ইলম অর্জনের কষ্ট ও পদক্ষেপ

  ইলম অর্জনের কষ্ট ও পদক্ষেপ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    ইলম হলো এমন এক মহামূল্যবান সম্পদ, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মাঝে বণ্টন করেন। কিন্তু এই সম্পদ সহজে অর্জিত হয় না। শত কষ্ট, ত্যাগ ও ধৈর্যের সাগর পাড়ি দিতে হয়। কবির ভাষায়: “মণি-মুক্তা সহজে মেলে না সাগরের বুকে, ডুব দিতে হয়, তবেই ধরা দেয় রত্নভাণ্ডার।” ইলম অর্জনে আকাবীরদের কিছু নমুনা: ইতিহাসে আমরা দেখি, ইমাম বুখারী (রহ.) একেকটি হাদীস সংগ্রহ করার জন্য হাজার মাইল পথ অতিক্রম করেছেন। তিনি কখনো অনাহারে থেকেছেন, কখনো ঘুমের সময় ত্যাগ করেছেন, কিন্তু জ্ঞান অর্জনের পথে বিরত হননি। আবার ইমাম শাফেয়ী (রহ.) শৈশবে লেখার জন্য কাগজ না পেয়ে হাড়, পাতা ও কাপড়ে জ্ঞান লিপিবদ্ধ করতেন। আল্লাহর রাসূল ﷺ-ও বলেছেন: জ্ঞান কেবল শিক্ষা দ্বারা অর্জিত হয় (হাদীস: বুখারী)। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ইলম অর্জনের জন্য নিরন্তর চেষ্টা ও কষ্ট অপরিহার্য। ইলম অর্জনের কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ত শুদ্ধ করা: প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ইলম শুধুমাত্র ...

ইসলামের সৌন্দর্য

  ইসলামের সৌন্দর্য মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য আল্লাহ তাআলা প্রেরণ করেছেন। এর সৌন্দর্য শুধু ইবাদত বা মসজিদের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে, প্রতিটি সম্পর্কের ভিতরে ইসলামের দীপ্তি বিদ্যমান। আখলাকের সৌন্দর্য রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আমি উত্তম চরিত্র পূর্ণাঙ্গ করার জন্য প্রেরিত হয়েছি (মুয়াত্তা মালিক)। উত্তম আখলাক ইসলামের একটি মূল সৌন্দর্য। বিনয়, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, দয়া, ভালোবাসা—এসব গুণাবলী একজন মুসলিমের অন্তরে ফুটে ওঠে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইবাদতের সৌন্দর্য নামাজ, রোজা, যাকাত ও হজ—এসব ইবাদত শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। নামাজ একজনকে অসৎ ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে (সূরা আনকাবূত: ৪৫)। রোজা ধৈর্য ও তাকওয়া শেখায়। যাকাত ধনী-গরিবের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে। আর হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। সামাজিক সৌন্দর্য ইসলামে প্রতিবেশীর হক, আত্মীয়তার...

রোজনামচা: জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সংরক্ষণের শক্তি

  রোজনামচা: জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সংরক্ষণের শক্তি মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    রোজনামচা, শব্দটি শুনলেই মনে হতে পারে এটি শুধু কাগজে লেখা কিছু। কিন্তু বাস্তবে, রোজনামচা আমাদের জীবনের এক অনন্য উপহার। এটি আমাদের প্রতিদিনের ঘটনাবলি, অনুভূতি, আনন্দ-দুঃখ, স্বপ্ন ও চিন্তাভাবনা সংরক্ষণের একটি মাধ্যম। প্রতিটি মুহূর্তকে লিখে রাখার মাধ্যমে আমরা নিজের জীবনের ইতিহাস তৈরি করি, যা ভবিষ্যতে আমাদের স্মৃতিচারণ এবং আত্মবিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়ায়। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, আলহামদুলিল্লাহ, আমার প্রতিবছরের রোজনামচা রয়েছে। আমার স্কুল জীবনের রোজনামচা, আমার মাদ্রাসা জীবনের রোজনামচা—সবই সংরক্ষিত। বেশিরভাগ লেখা আমি কম্পিউটারে কম্পোজ করেছি, যাতে তা আরও সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে সংরক্ষিত থাকে। এই অভ্যাস আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে প্রতিদিনের ঘটনা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করতে। আদিব হুজুরের পুষ্প সমগ্র আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে লেখার মাধ্যমে মনের ভাষাকে আবেগের সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা যায়। প্রতিটি শব্দ, বাক্য এবং অনুচ্ছেদ যেন হৃদয় থেকে এসেছে, এমনভাবে লেখা সম্ভব। আমি এ...

পোশাকের শালীনতা: ইসলামের সৌন্দর্য ও নৈতিক শিক্ষার আলোকে

  পোশাকের শালীনতা: ইসলামের সৌন্দর্য ও নৈতিক শিক্ষার আলোকে মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    পোশাক আমাদের ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতার পরিচায়ক। ইসলামে পোশাক শুধু সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং এটি শালীনতা, modesty এবং আত্মসম্মানের প্রতীক। বর্তমানে আমরা অনেক ক্ষেত্রে পোশাকে অশালীনতা করি। টাইট প্যান্ট, শর্টস বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রকাশকারী পোশাক পড়া আমাদের নৈতিক শিক্ষা ও ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে এমন পোশাক ছিল না। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, শালীন ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা যা আমাদের শরীরের আকারকে লুকায় তা অধিকতর প্রিয়। আলেম ও উলামাদের পোশাক আমাদের অনুসরণের যোগ্য। আমাদের উচিত পাঞ্জাবি, পায়জামা বা জুব্বা পড়া, যা শরীরের কোন অংশ প্রকাশ করে না। সঠিক পোশাকের মাধ্যমে আমরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব পালন করি এবং ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলি। শর্ট প্যান্ট বা টাইট পোশাক পরলে আমরা শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবে ও অস্বস্তিতে পড়ি। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি ইসলামের সীমানা রক্ষা করে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ...

বন্ধুত্ব, নেয়ামত ও স্মরণীয় সন্ধ্যা

  বন্ধুত্ব, নেয়ামত ও স্মরণীয় সন্ধ্যা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত থাকে যা হৃদয়ের পাতায় অমর হয়ে থাকে। গত শুক্রবারের রাতও আমাদের জীবনে তেমনই এক মূল্যবান সময়। আমি, সাইফুল ভাই, মাহদী ভাই, আব্দুল মতিন ভাই এবং জামিল ভাই— আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে যাত্রা করলাম মুড়াপাড়ার প্রখ্যাত একতারা রেস্টুরেন্টে । আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের প্রতিফলন আমরা সেদিন যেন নতুনভাবে উপলব্ধি করলাম। চারপাশে সাজানো হরেক রকম খাবারের আয়োজন আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দিল। সত্যিই, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দ্বারা কত বৈচিত্র্যময় ও সুস্বাদু খাদ্যসামগ্রী তৈরি করাতে পারেন—এ এক বিস্ময়কর দৃশ্য। আমাদের কেউ বেছে নিলো মিষ্টি ফালুদা, কেউ উপভোগ করলো গরম বানরুটি আর রসালো গ্রিল। প্রত্যেক খাবারের মাঝে আমরা আল্লাহর রহমতের স্বাদ অনুভব করছিলাম। তবে এই আয়োজনের সৌন্দর্য কেবল খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়ই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত। আমরা একসাথে বসে শুধু খেয়েই থেমে থা...

আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া

  আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন হলো এই পৃথিবীতে নানারকম খাবারের আয়োজন। তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য অগণিত রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আলহামদুলিল্লাহ , সেই নেয়ামতের অংশ আমরা প্রতিদিনই উপভোগ করি, কিন্তু শুক্রবারের রাতটি যেন ছিলো বিশেষ স্মরণীয়। আমি এবং কয়েকজন প্রিয় বন্ধু মিলে গেলাম মুড়াপাড়া একতারা রেস্টুরেন্টে।আমি,মাহদী ভাই , সাইফুল ভাই, আব্দুল মতিন ভাই,জামিল ভাই এই কয়েকজন যাই।চারপাশে সাজানো হরেক রকম খাবারের সৌন্দর্য দেখে প্রথমেই হৃদয় থেকে বেরিয়ে এলো আল্লাহর শুকরিয়ার সুর। তিনি কত মহান, তাঁর বান্দাদের দ্বারা কত অপূর্ব খাবার তৈরি করাতে পারেন, সেটা চোখের সামনে অবলোকন করলাম। আমাদের মধ্যে কেউ বেছে নিলো ঠাণ্ডা মিষ্টি ফালুদা, কেউ আবার উপভোগ করলো নরম বানরুটি ও মজাদার গ্রিল। প্রত্যেকের পছন্দ আলাদা হলেও, সবার মনে একটাই অনুভূতি— আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা। খাওয়ার প্রতিটি কণায় আমরা অনুভব করছিলাম তাঁর অসীম রহমত ...

ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পথ

  ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পথ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আলহামদুলিল্লাহ, আমি একদিন হযরত মাওলানা আবরারুল হক আসিফ সাহেব হুজুরের একটি আলোচনার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। সেই আলোচনায় এমন কিছু দিকনির্দেশনা পেলাম যা আমার জীবনকে নতুন এক অনুপ্রেরণা দিল। তিনি বললেন—যদি আমরা চাই লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে সাবলীলভাবে, ভুলত্রুটি ছাড়া ইংরেজিতে বক্তব্য দিতে, তাহলে আমাদেরকে তিনটি মূল কাজে নিয়মিতভাবে মনোযোগ দিতে হবে। প্রথমত, শোনার গুণ তৈরি করতে হবে। যত বেশি শুনব, তত বেশি বুঝব, শিখব এবং মনে রাখব। আজকের যুগে এটা কঠিন কিছু নয়। ইউটিউবে একবার সার্চ করলে আমরা সহজেই Mufti Menk -এর মতো আলিমদের অসংখ্য ইসলামিক লেকচার পেয়ে যাই। এগুলো শুধু ইংরেজি শেখার মাধ্যম নয়, বরং দীন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকেও সমৃদ্ধ করে। দ্বিতীয়ত, আমাদের চিন্তা-ভাবনা ইংরেজিতে করতে হবে। সারাদিনের পড়াশোনা, কাজকর্ম, এমনকি মানুষের সঙ্গে কথোপকথন—সবকিছু ইংরেজিতে ভাবার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোথাও আটকে গেলে বুঝতে হবে—এটা কি গ্রামারের দুর্বলতা নাকি শ...

কলরবের সুরে প্রথম পাঠ

  কলরবের সুরে প্রথম পাঠ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের অশেষ কৃপায় আজ আমি কলরবের প্রধান পরিচালক মাওলানা আবু সুফিয়ান সাহেব -এর ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তাঁর অমূল্য দিকনির্দেশনা আমাকে নতুন এক জগতের দুয়ার খুলে দিয়েছে। বাংলা আবৃত্তির সূক্ষ্মতা, শুদ্ধ উচ্চারণের মাধুর্য, উপস্থাপনার সৌন্দর্য এবং সুরের সঙ্গে তাল মেলানোর কলা—এসবই তিনি নরম অথচ দৃঢ় হাতে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। মনে হলো যেন আমি শুধু একটি ক্লাসে বসিনি, বরং সাহিত্য আর শিল্পের পবিত্র এক অঙ্গনে প্রবেশ করেছি। কলরবের সুর শুধু কানে মিষ্টি লাগে না, এটি আত্মার গভীরে প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়। সেই প্রশান্তির প্রথম স্বাদ আমি পেলাম যখন কলরবের প্রধান গজলের কয়েকটি লাইন শিখতে পারলাম। সেই সুর যেন আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে গিয়ে বাজতে লাগল— কলরব কলরব কলরব, কলরব কলরব কলরব, মিষ্টি সুরের কলরব, শান্তি সুখের কলরব। কলরব কলরব কলরব, কলরব কলরব কলরব, আমরা বাতিলের প্রাসাদ মাড়ি, অসত্য অনা...

কলরব প্রাঙ্গণে প্রথম পদচারণা

  কলরব প্রাঙ্গণে প্রথম পদচারণা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে আমি কলরবের মহিমান্বিত প্রাঙ্গণে পদার্পণ করেছি। আমার হৃদয়ে আনন্দের যে ঢেউ উঠেছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা দুষ্কর। বিশেষ করে যখন প্রধান পরিচালক হযরত মাওলানা আবু সুফিয়ান ভাইয়ের ক্লাসে বসার সুযোগ পেলাম, মনে হলো যেন জ্ঞানের এক অমূল্য খনি থেকে মুক্তো সংগ্রহ করছি। আরও পরম সৌভাগ্যের বিষয়, তাঁর সাথে এক ফ্রেমে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগও পেয়েছি, যা আমার জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানে এসে বুঝতে পারলাম, কলরব শুধু সুরের ধারক নয়, বরং এটি আত্মার প্রশান্তিরও আধার। আলোকিত শিক্ষার পরিবেশে আমি অনেক কিছু শিখতে পারছি। যেহেতু শুক্রবারে ক্লাস বন্ধ থাকে, তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর এক নতুন দ্বার খুলে গেল আমার জন্য। এ সময় আমি বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ, ছন্দোময় আবৃত্তি এবং সাহিত্যচর্চার সৌন্দর্যে নিজেকে গড়ে তুলতে পারি। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ শিখন আমার মূল পড়াশোনার অন্তরায় নয়। বরং এটি আমার বিশ্রামের সময়কে ...

কলরব: ইসলামী সঙ্গীতে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা

  কলরব: ইসলামী সঙ্গীতে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  আজকের সফর,,,,,,,,   আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমান বাংলাদেশের ইসলামী সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কলরব এক অনন্য কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইসলামের সৌন্দর্য, ঈমানের সুর এবং হৃদয়ের প্রশান্তি ছড়িয়ে দিতে কলরব দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কণ্ঠে যখন ইসলামী সঙ্গীত ধ্বনিত হয়, তখন মনে হয় আসমান থেকে নেমে আসছে প্রশান্তির বার্তা, আর মুমিনের অন্তরে জেগে ওঠে নবজীবনের উচ্ছ্বাস। ১৯ সেপ্টেম্বর ইনশাআল্লাহ যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে কলরবের নতুন যাত্রার উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। যেই সংগঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন প্রখ্যাত আলেম হযরত মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ (রহিমাহুল্লাহ), আজ সেই সংগঠনকে পরিচালনার মহান দায়িত্ব পালন করছেন হযরত মাওলানা আবু সুফিয়ান সাহেব। তাঁর নেতৃত্বে কলরব নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে এবং প্রজন্মের কাছে ইসলামী সঙ্গীতের এক নতুন রূপ তুলে ধরছে। আজকের দিনে আমি যখন এই মহৎ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে উদ্বোধনী ক্লাস...

আমার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী

  আমার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আলহামদুলিল্লাহ, আমার অন্তরের গভীর থেকে আমি যে নামটি উচ্চারণ করি, তিনি হলেন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী । তিনি কেবল একজন আলেমই নন, বরং তিনি আমাদের প্রজন্মের জন্য এক আলোকবর্তিকা, এক আশার প্রদীপ। তাঁর কণ্ঠে কুরআনের তিলাওয়াত, তাঁর কথায় হিকমত, আর তাঁর বয়ানে যে গভীরতা তা হৃদয়কে জাগ্রত করে, মনকে প্রশান্ত করে, আর আত্মাকে আল্লাহর দিকে আকৃষ্ট করে। আমার মাওলানা আজহারী সাহেব যখন কথা বলেন, তখন মনে হয় যেন জ্ঞানের সমুদ্র থেকে মুক্তো উঠিয়ে আনছেন। তাঁর প্রতিটি উপদেশ কেবল মুখের বাণী নয়, বরং তা মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলে গিয়ে প্রভাব ফেলে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম, একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, আর কুরআন হচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাতের দিশারী। তাঁর প্রতিটি বয়ান যেন দিশাহারা মানুষকে সঠিক পথে ডেকে আনে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বয়ান শুনে অনুপ্রাণিত হই, জীবনের দিকনির্দেশনা পাই, এবং ইসলামের সৌন্দর্য অনুভব করি। তাঁর জ্ঞানার্জনের ভাণ...

হাসানাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ: আলোর পথে এক প্রেরণার নাম

  হাসানাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ: আলোর পথে এক প্রেরণার নাম মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আলহামদুল্লাহ, বর্তমানে হাসানাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দেশের দীন শিক্ষা ও দাওয়াত খেদমতে অতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাদের পরিকল্পনা বড়, উদ্দেশ্য সুন্দর, এবং গরীব ছাত্র ও ছাত্রীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করানোর কাজটি তারা বহু বছর ধরে সততার ও নিষ্ঠার সঙ্গে করছে। আমার কাছে এটি শুধুমাত্র একটি দান সদকা কাজ নয়; এটি একটি আশার প্রদীপ, একটি সুযোগ, একটি সম্ভাবনার পথে পা বাড়ানো। প্রতিযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়ন এইতো ‘সীরাতুন্নবী প্রতিযোগিতা’ নামে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিল হাসানাহ ফাউন্ডেশন। আলহামদুল্লাহ, প্রতিভাবান ছাত্র ও ছাত্রীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ছিল; যারা সাহস ও স্মৃতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিল, যারা সীরাতের জ্ঞান নিয়ে মঞ্চ কখনো চুম্বিত করেছিল ও কখনো কণ্ঠে ধরা দিয়েছিল কুরআনের আলো। এই ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মনোরল, আত্মবিশ্বাস ও দ্বীনি জ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। এরা কেবল তথ্য শোনা নয়, নিজে ভাবতে শুরু করে, প্রশ্ন করতে শুরু ...

মানুষ কেন তার রবকে ভুলে গিয়ে দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়

  মানুষ কেন তার রবকে ভুলে গিয়ে দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয় মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  মানুষ জন্মের পর থেকেই দুনিয়ার বিভিন্ন রঙিন জগতে প্রবেশ করে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ইবাদতের জন্য, কিন্তু এই পৃথিবীর চাকচিক্য, মোহ, সম্পদ, ক্ষমতা ও অস্থায়ী সুখ-সুবিধা অনেক সময় মানুষকে তার প্রকৃত লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দেয়। ফলে মানুষ তার রবকে ভুলে গিয়ে দুনিয়ার পেছনে ছুটে চলে। দুনিয়ার ভোগ-বিলাস যেন এক প্রবল স্রোতের মতো, যে স্রোতে মানুষ ভেসে যেতে থাকে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ ﴿ٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا لَعِبٌۭ وَلَهْوٌۭ وَزِينَةٌۭ وَتَفَاخُرٌۢ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌۭ فِى ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَوْلَـٰدِ﴾ — “জেনে রাখ, দুনিয়ার জীবন কেবল খেলা-তামাশা, ভোগ-বিলাস, তোমাদের মাঝে গর্ব, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির সংখ্যায় প্রতিযোগিতা।” (সূরা হাদীদ: ২০) এ আয়াত আমাদেরকে বোঝায় যে মানুষ যখন দুনিয়ার বাহ্যিক চাকচিক্যে বিভ্রান্ত হয়, তখন সে তার আসল উদ্দেশ্য ভুলে যায়। অথচ আল্লাহ তাআলা মানুষকে পরীক...

মোবাইল ও খেলাধুলার আসক্তি থেকে বাঁচার প্রয়োজনীয়তা

মোবাইল ও খেলাধুলার আসক্তি থেকে বাঁচার প্রয়োজনীয়তা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    ভাইয়েরা আমার, বর্তমান সময়ে মুসলমানদের ঈমান-আমল নষ্ট করার জন্য ইহুদি-খ্রিস্টানরা অসংখ্য ফাঁদ তৈরি করেছে। এ যুগে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। এর ভেতরে যেমন কিছু উপকারী দিক রয়েছে—জ্ঞান অর্জন, দাওয়াত, যোগাযোগ, বই পড়া, শিক্ষামূলক কাজ—তেমনি রয়েছে নানান ক্ষতিকর দিক, যা মানুষের ঈমান-আমল ধ্বংস করে দিচ্ছে।  খেলা দেখার আসক্তি আমাদের অনেক ভাই মোবাইল ব্যবহার করে রাত-দিন খেলা দেখতে ব্যস্ত থাকে। কে জিতলো, কে হারলো—এটা জানা কি আমাদের জন্য জরুরি? এর দ্বারা আমাদের আখিরাতের কী উপকার হবে? আসলে আমরা বুঝতে চাই না, কেবল মজার জন্য দেখি। অথচ খেলা দেখার সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য গুনাহের দরজা—সময় নষ্ট, চোখের গুনাহ, নামাযের অবহেলা, ইমানের দুর্বলতা। কুরআনের সতর্কবাণী ﴿وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ﴾ (سورة المؤمنون: 3) অর্থ: যারা অনর্থক ও অর্থহীন কাজ থেকে বিরত থাকে, তারাই সফলকাম।  হাদীসের নির্দেশনা عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ...

জীবনে একটি লক্ষ থাকবে

  জীবনে একটি লক্ষ থাকবে মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    ভাইয়েরা আমার, আমরা যদি জীবনের দিকে একটু গভীর দৃষ্টিতে তাকাই, তাহলে দেখবো—এই পৃথিবীতে আসার আসল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ করা। জীবন হলো একটি সফর, একটি ভ্রমণ, যেখানে প্রত্যেকটি মুহূর্ত পরীক্ষার মতো। এই পরীক্ষার ময়দানে আমাদের জন্য জরুরি হলো একটি স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা। লক্ষ্যবিহীন জীবন হলো দিকহীন নৌকার মতো, যা ঢেউয়ের ধাক্কায় এদিক-সেদিক ভেসে বেড়ায় কিন্তু কখনো তীরে পৌঁছাতে পারে না। আমরা যদি লক্ষ স্থির না করি, তবে দুনিয়ার রঙিন মোহ, কষ্ট ও দুঃখের ঝড়, নানান প্রলোভন আমাদেরকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিবে। কিন্তু যদি আমরা একটি সঠিক লক্ষ ঠিক করি—যেটি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি, রাসূল ﷺ এর অনুসরণ, এবং আখিরাতের সফলতা—তাহলে প্রতিটি পদক্ষেপই হবে মুমিনের জন্য আলোর দিশারী। প্রিয় ভাইয়েরা, জীবনের বাস্তবতা হলো—এখানে কষ্ট আছে, দুঃখ আছে, পরীক্ষা আছে। কখনো পড়াশোনায় ব্যর্থতার কষ্ট, কখনো জীবিকার অভাবের কষ্ট, কখনো সমাজের উপহাসের কষ্ট। কিন্তু এই কষ্টগুলো আমাদেরকে ভেঙে দেওয়ার জন্য নয়, বরং আমাদেরকে গড...

দাওয়াতের মহিমা ও নবীদের ত্যাগ

  দাওয়াতের মহিমা ও নবীদের ত্যাগ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহপাকের জন্য, যিনি সৃষ্টির জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি, সুখ এবং সফলতার ব্যবস্থা রেখেছেন। যেমন মাছের শান্তি পানির মধ্যে, তেমনি মানুষের শান্তি রেখেছেন দ্বীনের আলোকে আঁকড়ে ধরে। আল্লাহপাকের হুকুম মেনে নবীদের তরীকা অনুসরণ করাটাই প্রকৃত দ্বীন। কুরআনের আয়াত: "وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ" (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত 107) "আমরা আপনাকে কেবল সৃষ্টির প্রতি রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।" হাদিস ১: হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ" (সহীহ বুখারি) "যে মুসলমান হলো, সে হলো যে তার লোভ-বাসনা ও হাতের দ্বারা অন্য মুসলমানকে ক্ষতি না করে।" হাদিস ২: "من دلّ على خير فله مثل أجر فاعله" (সহীহ মুসলিম) "যে ব্যক্তি কাউকে কল্যাণের দিকে নির্দেশ দেয়, তার জন্যও মূল কাজের সমান পুরস্কার রয়েছে।" যখন মানুষ দ্বীন থেকে গাফেল হয়ে য...

জীবনের কষ্ট ও সান্তনার সন্ধান

  জীবনের কষ্ট ও সান্তনার সন্ধান মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আমি উপলব্ধি করি, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আরাম আর স্বস্তি থাকবে না। কখনো দুনিয়ার সুখ এসে মুখে হাসি ফুটাবে, আবার কখনো নানান রকমের কষ্ট এসে হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করবে। এই দুনিয়া আসলে পরীক্ষার স্থান। কষ্ট, ক্লেশ, পেরেশানি —এসবই আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবনের নানান ধরনের কষ্ট আমি দেখি, কখনো পড়াশোনায় সফল না হওয়ার কষ্ট বুকে ভার হয়ে বসে। কখনো চোখে দেখতে না পারার কষ্টে মানুষ অন্ধকারে ডুবে যায়। কখনো সবার সামনে কথা বলতে না পারার অস্বস্তি ও লজ্জা হৃদয়কে গলিয়ে দেয়। আবার কখনো প্রিয়জনের মৃত্যু, অভাব-অনটন, দারিদ্র্য, সামাজিক অবমূল্যায়ন কিংবা ব্যর্থতার তীব্র যন্ত্রণা জীবনকে দুঃসহ করে তোলে। শুধু তাই নয়, সারাদিনের জীবনযাত্রায় আমরা কত কষ্টের সম্মুখীন হই। সকালে ঘুম ভেঙেই সংসারের চিন্তা, রাস্তায় যানজট, কর্মস্থলের চাপ, শিক্ষক বা সহপাঠীর বকুনি, অর্থের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে কষ্ট যেন ছায়ার মতো আমাদের অনুসরণ করে। মনকে কীভাবে সান্তনা দিব ...

রাতে না ঘুমিয়ে মোবাইল চালানো : করণীয় ও বর্জনীয়

  রাতে না ঘুমিয়ে মোবাইল চালানো : করণীয় ও বর্জনীয় মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি    আধুনিক সভ্যতার এক অনিবার্য সঙ্গী হলো মোবাইল ফোন । এটি আমাদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে—যোগাযোগ সহজ হয়েছে, জ্ঞান অর্জনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে, বিশ্ব আজ মুঠোফোনের মাধ্যমে হাতের মুঠোয়। কিন্তু অতি প্রিয় এই যন্ত্রটি যখন রাতের গভীর নীরবতা ভেঙে আমাদের চোখ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকে আক্রমণ করে, তখন সেটিই হয়ে ওঠে অভিশাপের মত ক্ষতিকর। রাতে ঘুমের সময় মানুষ শরীর ও মনকে বিশ্রাম দেয়, আত্মাকে শান্ত করে। অথচ মোবাইল স্ক্রিনের নীল আলো সেই শান্তিকে গ্রাস করে ফেলে। চোখে eye strain সৃষ্টি হয়, মাথায় headache জন্ম নেয়, স্নায়ু হয় উত্তেজিত। Sleep cycle বা ঘুমের চক্র ভেঙে যায়, পরদিন শরীর হয় অবসন্ন, মন হয় ক্লান্ত। একবার দুইবার হলে হয়ত সহনীয় মনে হয়, কিন্তু প্রতিদিনের অভ্যাসে এটি ধীরে ধীরে বিষের মত শরীরকে গ্রাস করে। ক্ষতিকর দিকসমূহ চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে যায়, dry eye ও অকাল চশমার প্রয়োজন দেখা দেয়। ...