Posts

কুরআন ও আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব:

  কুরআন ও আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব: ওহিভিত্তিক জ্ঞান, মানববুদ্ধি এবং সত্য অনুসন্ধানের দার্শনিক ভিত্তি ভূমিকা: জ্ঞানের প্রকৃতি, সত্যের মানদণ্ড এবং মানবচেতনার অস্তিত্বতাত্ত্বিক সংকট মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  মানুষ কেবল অস্তিত্বশীল কোনো জৈবিক সত্তা নয়; সে এমন এক অনুসন্ধিৎসু চেতনাধারী প্রাণী, যে নিজের অস্তিত্বের অর্থ, জগতের প্রকৃতি, জ্ঞানের বৈধতা এবং সত্যের চূড়ান্ত মানদণ্ড সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করতে সক্ষম। তার বুদ্ধি দৃশ্যমান জগতের কার্যকারণ বিশ্লেষণ করে, ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার উপাত্ত সংগ্রহ করে, স্মৃতি অতীত অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা সংরক্ষণ করে, ভাষা জ্ঞানকে সামাজিক পরিসরে সঞ্চারিত করে, আর নৈতিক বিবেক তার কর্মের যথার্থতা সম্পর্কে বিচার গঠন করে। কিন্তু এই বহুমাত্রিক জ্ঞানপ্রক্রিয়ার মধ্যেই নিহিত রয়েছে একটি মৌলিক দার্শনিক সমস্যা: মানুষ যে জ্ঞানকে সত্য বলে গ্রহণ করছে, সেই জ্ঞানের সত্যতা যাচাই করার নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড কী? জ্ঞানের উৎস সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাস কি নিজেই প্রমাণসাপেক্ষ, নাকি কোনো কোনো জ্ঞান এমন ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যাকে প্রত্যেকবার নতুন করে প্...

পোস্ট মহাবিশ্ব নিয়ে আলোচনা

  মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, সৃষ্টির মহাগ্রন্থ ও স্রষ্টার অস্তিত্ব: জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, কুরআনিক নির্দেশনা এবং মহাজাগতিক শৃঙ্খলার এক গভীর বিচার-বিশ্লেষণ ভূমিকা: দৃশ্যমান দিগন্তের ওপারে অদৃশ্য বাস্তবতার মহাসাম্রাজ্য মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  মানুষ পৃথিবীতে বসবাস করে; অথচ তার অস্তিত্বের পরিসর কেবল পৃথিবীর মাটিতে সীমাবদ্ধ নয়, তার চিন্তার দিগন্ত বিস্তৃত নক্ষত্রপুঞ্জের অতল প্রান্তে, তার কৌতূহল প্রসারিত ছায়াপথের মহাজাগতিক গোলকধাঁধায়, আর তার বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান নিবদ্ধ এমন এক বাস্তবতার ওপর, যার সামান্য অংশই তার প্রত্যক্ষ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার আওতায় এসেছে। মানুষ দু-চোখে দেখে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, বৃক্ষ, জীবজন্তু, চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্রের বিচ্ছুরিত আলো; কিন্তু তার চোখের সামনে দৃশ্যমান জগতের পরিধি অতিক্রম করলেই উন্মোচিত হয় অগণন এমন বাস্তবতার অস্তিত্ব, যেগুলো খালি চোখে অনাবিষ্কৃত থাকলেও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং দূরবীক্ষণযন্ত্রের সহায়তায় ক্রমশ জ্ঞাত হচ্ছে। অতএব, যা চোখে দেখা যায়, কেবল সেটুকুই বাস্তব—এমন ধারণা জ্ঞানতাত্ত্বিক অপরিপক্বতা;...

পোস্ট স্রষ্ঠার অস্তিত্ব ২

  স্রষ্টার অস্তিত্বের যৌক্তিক প্রমাণ দ্বিতীয় পর্ব: স্রষ্টা, মহাবিশ্ব, প্রাকৃতিক নিয়ম ও অমঙ্গলের সমস্যা—চারটি মৌলিক আপত্তির দার্শনিক বিশ্লেষণ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  ভূমিকা: প্রশ্নকে এড়িয়ে নয়, প্রশ্নের গভীরে প্রবেশ করে স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনায় কয়েকটি প্রশ্ন বারবার উত্থাপিত হয়। প্রশ্নগুলো নিছক আবেগনির্ভর নয়; এগুলোর সঙ্গে অধিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা, মহাকাশবিজ্ঞান, প্রকৃতির দর্শন এবং নীতিদর্শনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যেমন—আল্লাহ যদি সবকিছুর স্রষ্টা হন, তবে তাঁকে সৃষ্টি করেছে কে? মহাবিশ্ব যদি নিজেই অস্তিত্বশীল হতে পারে, তবে স্রষ্টার ধারণা কেন অপরিহার্য? প্রকৃতির নিয়ম যদি মহাবিশ্বের ঘটনাবলি ব্যাখ্যা করতে পারে, তবে তার বাইরে কোনো সত্তার ধারণা গ্রহণের প্রয়োজন কী? আর যদি আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও পরম দয়ালু হন, তবে পৃথিবীতে এত দুঃখ, নিষ্ঠুরতা, রোগ, দুর্যোগ ও অন্যায় কেন বিদ্যমান? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হলে প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পার্থক্য প্রতিষ্ঠা করা দরকার: কোনো বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা এবং সেই বিশ্বাসকে যুক্তির সাহায্যে খণ্ডন করা এক বিষয...