Posts

পোস্ট শেষ রাতের চাওয়া

 হৃদয়ের নিভৃততম মিনার থেকে আরশের অধিপতির সান্নিধ্যে: «وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ»—ইলাহি নৈকট্য, রব্বানি মহব্বত, বান্দার আকুলতা ও দোয়ার অতলান্ত প্রেমদর্শন মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  প্রস্তাবনা: যখন সমস্ত দরজা রুদ্ধ হয়, তখনও একটি দরজা উন্মুক্ত থাকে মানবজীবনের সবচেয়ে গভীর নিঃসঙ্গতা কখনো মানুষের অনুপস্থিতি থেকে জন্ম নেয় না; বরং কখনো তা জন্ম নেয় এমন এক অন্তর্গত শূন্যতা থেকে, যেখানে চারপাশে অসংখ্য মানুষ থাকা সত্ত্বেও হৃদয় তার প্রকৃত আশ্রয় খুঁজে পায় না। মানুষ কখনো এমন এক দুর্বোধ্য বেদনার ভার বহন করে, যার যথার্থ ভাষান্তর তার নিজের কাছেও অসম্ভব হয়ে পড়ে। কখনো তার চোখে অশ্রু জমে, অথচ সে জানে না কাকে নিজের ব্যথার বিবরণ দেবে। কখনো তার হৃদয় এমন কোনো আকাঙ্ক্ষায় বিদীর্ণ হয়, যা পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষমতায় পূরণ করা সম্ভব নয়। কখনো অপরাধবোধ, কখনো ব্যর্থতা, কখনো সম্পর্কের ভাঙন, কখনো ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, কখনো গোপন পাপের অনুতাপ, আবার কখনো এমন এক অজ্ঞাত আকুলতা মানুষকে আচ্ছন্ন করে, যার কোনো দৃশ্যমান কারণ সে নিজেও খুঁজে পায় না। কিন্তু একজন মুমিনের জীবনে এমন ...

পোস্ট এসো মন ভালো লাগে

 এসো মন ভালো রাখি: মনস্তত্ত্ব, স্নায়ুবিজ্ঞান, জীবনদর্শন, আত্মিক প্রশান্তি ও মানবিক সম্পর্কের আলোকে একটি গবেষণামূলক অনুসন্ধান ভূমিকা: মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রা কখনো কখনো নিজের মনের অভ্যন্তরেই সংঘটিত হয় মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  মানুষের জীবনে এমন কিছু যুদ্ধ আছে, যেগুলোর কোনো দৃশ্যমান রণক্ষেত্র নেই; এমন কিছু ক্ষত আছে, যেগুলো থেকে রক্ত ঝরে না, অথচ অন্তরের গভীরে দীর্ঘকাল ধরে যন্ত্রণার অনুরণন সৃষ্টি করে; এমন কিছু পরাজয় আছে, যেগুলোর সাক্ষী কোনো জনসমাবেশ নয়, বরং নিঃসঙ্গ রাত্রির নিঃশব্দ অশ্রু। মানুষ কখনো পৃথিবীর অগণিত মানুষের মধ্যে থেকেও নিজেকে নিঃসঙ্গ অনুভব করে, কখনো প্রাচুর্যের প্রাসাদে থেকেও অভাবের দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কখনো বাহ্যিক হাসির আড়ালে এমন এক মানসিক অবসাদ বহন করে, যার ভার অন্য কারও চোখে ধরা পড়ে না। কারণ, মানুষের জীবন কেবল দৃশ্যমান ঘটনাপ্রবাহের সমষ্টি নয়; এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত তার অনুভূতি, স্মৃতি, প্রত্যাশা, আশঙ্কা, আত্মপরিচয়, সম্পর্কবোধ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নির্মিত মানসিক কল্পনাপ্রবাহ। এই কারণেই ‘এসো মন ভালো রাখি’—শিরোনামটি নিছক একটি সান্ত...

পোস্ট না জেনে কথা না বলা

  অজ্ঞতার আস্ফালন, অর্ধজ্ঞতার আত্মম্ভরিতা ও জ্ঞানগত আমানতদারি: না জেনে নীরব থাকা, না বুঝে সিদ্ধান্ত না দেওয়া এবং অধ্যয়নবিহীন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত থাকার ইলমি, বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক দর্শন ভূমিকা: সর্ববিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা জ্ঞানের প্রমাণ নয়, বরং আত্মম্ভরিতারও বহিঃপ্রকাশ হতে পারে মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  মানবজীবনের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে এমন কিছু মৌলিক নীতি রয়েছে, যেগুলোর লঙ্ঘন কেবল ব্যক্তির চিন্তাগত দৈন্যই উন্মোচন করে না; বরং সমাজের জ্ঞানচর্চা, সত্য অনুসন্ধান, নৈতিক ভারসাম্য ও সামষ্টিক প্রজ্ঞার ভিতকেও পর্যায়ক্রমে দুর্বল করে দেয়। এসব নীতির অন্যতম হলো—কোনো বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান, নির্ভরযোগ্য অধ্যয়ন, যথার্থ অনুধাবন এবং যুক্তিসংগত প্রত্যয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সে বিষয়ে চূড়ান্ত বক্তব্য প্রদান, সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কিংবা অন্যের চিন্তা ও আচরণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থেকে বিরত থাকা। কেননা, বক্তব্য প্রদান যেমন একটি অধিকার, তেমনি তা একটি দায়িত্বও; আর দায়িত্ববোধহীন অধিকারচর্চা শেষ পর্যন্ত অধিকারটিরই নৈতিক ভিত্তি বি...