Posts

মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ: কেন করব, কীভাবে করব, এবং এর ফজীলত

মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ: কেন করব, কীভাবে করব, এবং এর ফজীলত মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। একজন মুসলমানের পরিচয় শুধু ইবাদতের মাধ্যমে নয়, বরং তার আচার-আচরণ, কথা-বার্তা এবং মানুষের সাথে ব্যবহার দ্বারা প্রকাশ পায়। ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা যেখানে মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করা ঈমানের অংশ হিসেবে গণ্য হয়েছে। সুন্দর আচরণ কেন করব? ১. আল্লাহর আদেশ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় ও সদাচরণের আদেশ দেন।” (সূরা নাহল ৯০) এখানে “الإحسان” মানে উত্তম আচরণ। অর্থাৎ মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ। ২. রাসূল ﷺ-এর আদর্শ إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ “আমি উত্তম চরিত্র পূর্ণাঙ্গ করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।” (মুয়াত্তা মালিক) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মানুষের চরিত্র সুন্দর করা।  সুন্দর আচরণের ফজীলত ১. জান্নাতের নিকটবর্তী হওয়া إِنَّ أَقْرَبَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا “কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে আমার সবচেয়ে ...

অনুশীলন

الصفة المشبهة – অনুশীলন (Practice) নিচে الصفة المشبهة ব্যবহার করে অনুশীলনের জন্য ৪০টি বাক্য দেওয়া হলো। প্রথম অংশে আরবি থেকে বাংলা (২০টি), দ্বিতীয় অংশে বাংলা থেকে আরবি (২০টি)। সবগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। প্রথম অংশ: আরবি ➜ বাংলা (২০টি) اللهُ غفورٌ رحيمٌ الرجلُ كريمٌ الطالبُ ذكيٌّ الولدُ صغيرٌ البيتُ واسعٌ الطريقُ طويلٌ الامتحانُ صعبٌ الدَّرسُ سهلٌ الرجلُ شجاعٌ المرأةُ صبورةٌ هو عطشانُ الطفلُ جوعانُ محمدٌ أمينٌ السماءُ صافيةٌ القلبُ طاهرٌ المعلمُ حكيمٌ الهواءُ باردٌ البحرُ عميقٌ الكتابُ مفيدٌ الوجهُ جميلٌ দ্বিতীয় অংশ: বাংলা ➜ আরবি (২০টি) আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু। সে খুব ধৈর্যশীল। ছেলেটি বুদ্ধিমান। এই রাস্তা দীর্ঘ। বইটি উপকারী। লোকটি সাহসী। মেয়েটি লজ্জাশীলা। বাড়িটি বড়। পরীক্ষা কঠিন। পাঠ সহজ। সে তৃষ্ণার্ত। শিশুটি ক্ষুধার্ত। আকাশ পরিষ্কার। তার হৃদয় পবিত্র। শিক্ষক প্রজ্ঞাবান। হাওয়া ঠান্ডা। সমুদ্র গভীর। তার মুখ সুন্দর। সে সত্যবাদী। এই মানুষটি সৎ। 📌 নির্দেশনা: প্রথম অংশের বাক্যগুলো বাংলায় অনুবাদ করবে। দ্বিতীয়...

الصفة المشبهة (আস-সিফাতুল মুশাব্বাহ) – একেবারে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা

الصفة المشبهة (আস-সিফাতুল মুশাব্বাহ) – একেবারে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা আজ আমরা আরবি ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় الصفة المشبهة باسم الفاعل নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই বিষয়টি এমনভাবে বুঝবো যাতে একজন প্রাথমিক ছাত্রও সহজে বুঝতে পারে।  الصفة المشبهة কী? الصفة المشبهة হলো এমন একটি বিশেষণ (Adjective) যা সাধারণত স্থায়ী বা স্থিতিশীল গুণ বোঝায়। অর্থাৎ – কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে যে গুণটি সাময়িক নয় বরং স্থায়ীভাবে আছে, সেটা বোঝাতে الصفة المشبهة ব্যবহার হয়। সহজ উদাহরণ: كريمٌ = দয়ালু جميلٌ = সুন্দর كبيرٌ = বড় এগুলো এমন গুণ যা সাময়িক নয়, বরং স্থায়ী বৈশিষ্ট্য বোঝায়।  কেন একে “مشبهة” বলা হয়? একে مشبهة বলা হয় কারণ এটি اسم الفاعل -এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু পার্থক্য হলো: اسم الفاعل → কাজ করছে এমন অর্থ দেয় (সাময়িক) الصفة المشبهة → স্থায়ী গুণ বোঝায় তুলনা: كاتبٌ = লেখক (যে এখন লিখছে) كريمٌ = দয়ালু (এটা তার স্থায়ী গুণ)  الصفة المشبهة সাধারণত কোন فعل থেকে আসে? এটি সাধারণত فعل لازم (Intransitive verb) থেকে তৈরি হয়। ...

تصحيح الجمل التي فيها أخطاء

تصحيح الجمل التي فيها أخطاء لو طلبتني لاجيء لو طلبتني لجئتُ الخطأ: الفعل الصحيح هو "جئتُ" وليس "اجيء"، ويجب وجود لام الجواب. لو علمت لقلت لو علمتُ لقلتُ الخطأ: يجب وضع الضمة (تُ) لأن الفعل للمتكلم. لو صدقت لكان الخير لو صدقتَ لكان الخيرُ يفضل تحديد المخاطب، ورفع كلمة "الخيرُ" لأنها اسم كان. لو سعينا لفزنا لو سعينا لفزنا الجملة صحيحة. لو جاء لاستبشرنا لو جاءَ لاستبشرنا إضافة الفتحة لضبط الفعل. لو وجدت الوقت لقرات لو وجدتُ الوقتَ لقرأتُ الخطأ: "قرأتُ" بالهمزة، وضبط الفاعل والمفعول. لو نصرتني لانتفعت لو نصرتني لانتفعتُ إضافة الضمة للمتكلم. لو لو توجه لتعلم لو توجهتَ لتعلمتَ حذف التكرار، وتصحيح الفعلين. لو اجتنبوا من البلاء لا وقع على المصيبه لو اجتنبوا البلاءَ لما وقعوا في المصيبةِ لا يُقال "اجتنبوا من"، والصحيح حذف "من"، واستعمال "لما"، وتصحيح التراكيب. لو حضرت هناك لنصرت لو حضرتُ هناك لنصرتُ ضبط فعل المتكلم. لو ما ابطات لجدت القطار لو لم أُبطِئْ لوجدتُ ال...

ভালো চরিত্রের গুরুত্ব, উপকারিতা ও মর্যাদা — কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে বিস্তৃত আলোচনা

ভালো চরিত্রের গুরুত্ব, উপকারিতা ও মর্যাদা — কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে বিস্তৃত আলোচনা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)  সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি মানুষকে সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর, যিনি মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। ভাই ও বোনেরা, ইসলামে ভালো চরিত্র (حُسْنُ الْخُلُقِ) শুধু একটি সামাজিক গুণ নয়; এটি ঈমানের পরিপূর্ণতার অন্যতম প্রধান নিদর্শন। মানুষ নামাজ পড়তে পারে, রোজা রাখতে পারে, দান করতে পারে; কিন্তু যদি তার চরিত্র খারাপ হয়, তবে তার আমল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর যদি চরিত্র সুন্দর হয়, তবে অল্প আমল দিয়েও সে উচ্চ মর্যাদা লাভ করতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে বলেন: وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা আল-কলম ৬৮:৪) এই আয়াত প্রমাণ করে যে, নবী ﷺ এর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তাঁর মহান চরিত্র। তিনি ছিলেন সত্যবাদী, আমানতদার, দয়ালু, ক্ষমাশীল ও নম্র। ইসলামে ভালো চরিত্র ঈমানের সাথে সরাসরি...

ছোট আমল, বড় সওয়াব — কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে বিস্তৃত আলোচনা

ছোট আমল, বড় সওয়াব — কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে বিস্তৃত আলোচনা  মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)  সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি অল্প আমলের মাধ্যমে অসংখ্য সওয়াব দান করেন। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর, যিনি আমাদের এমন সব সহজ আমল শিখিয়ে গেছেন যার সওয়াব আকাশসমান। মানুষ সাধারণত মনে করে বড় সওয়াব পেতে হলে বড় কাজ করতে হবে। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য হলো—এখানে ছোট ছোট আমলও বিশাল সওয়াবের কারণ হয়ে যায়, যদি তা ইখলাসের সাথে করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ অর্থ: “যে অণু পরিমাণ সৎকর্ম করবে, সে তা দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৯৯:৭) এই আয়াত প্রমাণ করে, ছোট আমল কখনো তুচ্ছ নয়। অণু পরিমাণ ভালো কাজও আল্লাহর কাছে মূল্যবান। রাসূল ﷺ বলেছেন: لَا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا অর্থ: “কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করো না।” (সহিহ মুসলিম) অতএব, ছোট আমল অবহেলা করা উচিত নয়। এখন আমরা ধারাবাহিকভাবে এমন কিছু ছোট আমল আলোচনা করব, যেগুলোর সওয়াব অনেক বড়, অথচ অনেক সময় আমরা তা থেকে বঞ্চিত হ...

আল্লাহর ভালোবাসা কীভাবে অর্জন করা যায় এবং তিনি আমাদের কত নিকটবর্তী

আল্লাহর ভালোবাসা কীভাবে অর্জন করা যায় এবং তিনি আমাদের কত নিকটবর্তী  মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)  আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।   সমস্ত প্রশংসা সেই মহান রব আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, রিজিক দিয়েছেন, হিদায়াত দিয়েছেন এবং আমাদেরকে তাঁর ভালোবাসা অর্জনের সুযোগ দিয়েছেন। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর। আজকের আলোচনার বিষয় — আল্লাহর ভালোবাসা কীভাবে অর্জন করা যায়, তিনি আমাদের কতটুকু নিকটবর্তী, এবং বান্দা এক হাত এগিয়ে এলে আল্লাহ কিভাবে বহু গুণ এগিয়ে আসেন। আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা একজন মুমিনের সর্বোচ্চ কামনা হওয়া উচিত। কারণ আল্লাহ যদি কাউকে ভালোবাসেন, তবে সে ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে সফল। আল্লাহ বলেন: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদের ভালোবাসেন। (সূরা বাকারা ২:২২২) এ আয়াত আমাদের শেখায়, আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে প্রথম কাজ হলো তওবা। মানুষ ভুল করবে, গুনাহ করবে — এটাই স্বাভাবিক। ক...