Posts

তরজমা

এসো তরজমা শিখি  মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) এখানে আরবী বাক্যগুলোর বাংলা তরজমা ও বাংলা বাক্যগুলোর আরবী তরজমা এবং তারকীবি কিছু আলোচনা করা হয়েছে। * আরবী বাক্য সমূহের বাংলা তরজমা: إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى. নিশ্চয়ই সমস্ত কাজের মূল্য নির্ধারিত হয় নিয়তের উপর; আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিদান পায়। يَجِبُ عَلَى الطَّالِبِ أَنْ يَجْتَهِدَ فِي دِرَاسَتِهِ حَتَّى يَنَالَ النَّجَاحَ. শিক্ষার্থীর কর্তব্য হলো অধ্যবসায়ের সাথে পড়াশোনা করা, যাতে সে সফলতার সোনালী দ্বারে পৌঁছাতে পারে। لَوْ صَدَقَ الْإِنْسَانُ فِي قَوْلِهِ لَكَانَ مَحْبُوبًا عِنْدَ النَّاسِ. মানুষ যদি তার কথায় সত্যবাদী হয়, তবে সে মানুষের হৃদয়ে প্রিয় হয়ে ওঠে। مَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ. যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য মুক্তির পথ সৃষ্টি করে দেন এবং অপ্রত্যাশিত স্থান থেকে রিযিক দান করেন। لَمْ يَذْهَبِ الطُّلَّابُ إِلَى الْمَدْرَسَةِ لِأَنَّ الْجَوَّ كَانَ مُمْطِرًا. বৃষ্টিভেজা আ...

কুরআনের সাথে আমাদের সম্পর্ক: এক আত্মসমালোচনার আহ্বান

কুরআনের সাথে আমাদের সম্পর্ক: এক আত্মসমালোচনার আহ্বান মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আমাদের হিদায়াতের জন্য নাযিল করেছেন মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ–এর উপর, যিনি কুরআনের জীবন্ত ব্যাখ্যা ছিলেন। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমাদের জীবনের সবচেয়ে হতাশাজনক এবং আফসোসের বিষয় হলো—আমরা কুরআন তেলাওয়াত করি না। কুরআনের সাথে আমাদের সম্পর্ক নেই বললেই চলে। আমরা মুসলিম, আমরা ঈমানদার বলে পরিচয় দিই, আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি—কিন্তু কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে আমরা কতটা সচেতন? বাস্তবতা হলো, অনেক নামাজি মুসল্লিও বছরে একবার পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত করতে পারেন না। অন্যদের কথা তো বাদই দিলাম। অথচ এই কুরআন আমাদের জন্যই নাযিল হয়েছে—আমাদের জীবন পরিচালনার জন্য, আমাদের অন্তর আলোকিত করার জন্য। কুরআন কেন নাযিল হয়েছে? আল্লাহ তাআলা বলেন— شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ “রমজান মাস, যাতে নাযিল হয়েছে কুরআন—মানবজাতির...

দরিদ্রদের জন্য আমাদের এগিয়ে যেতে হবে

দরিদ্রদের জন্য আমাদের এগিয়ে যেতে হবে প্রারম্ভিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আমাদেরকে রমজানের মতো বরকতময় মাস দান করেছেন—সংযমের মাস, সহমর্মিতার মাস, তাকওয়ার মাস। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তিদূত হযরত মুহাম্মদ ﷺ–এর উপর, যিনি ছিলেন দানশীলতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, রমজান আমাদের সামনে এক মহামূল্যবান সুযোগ এনে দেয়—নিজেকে সংশোধনের, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার, এবং সমাজের অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের আশেপাশেই এমন বহু মা-বোন ও পরিবার রয়েছে যারা সাহরী ও ইফতারের সামান্য আয়োজন করতেও অক্ষম। কেউ হয়তো অল্প ভাত আর লবণ দিয়ে ইফতার করে, কেউ বা শুধু পানি দিয়ে রোযা ভাঙে। আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেই এমন মানুষ আছে যারা চুপচাপ কষ্ট সহ্য করছে। তারা মুখে কিছু বলে না, কিন্তু তাদের অভাবের ভাষা আমরা যদি হৃদয় দিয়ে শুনি—তবে বুঝতে পারবো আমাদের কত বড় দায়িত্ব রয়েছে। রমজান: সহমর্মিতার শিক্ষা রমজান কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণার নাম নয়; এটি হৃদয়ের জাগরণের নাম। আল্লাহ তাআলা বলেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ ال...

আরবী বাক্য

كان الرجل شديد الغضب سريع الانفعال اذا سمع كلمة تمس كرامته القديمة المتجذرة في اعماق نفسه. লোকটি ছিল প্রবল রাগী ও দ্রুত উত্তেজিত; তার আত্মার গভীরে প্রোথিত প্রাচীন সম্মানে আঘাত লাগে এমন কোনো কথা শুনলেই সে জ্বলে উঠত। ذلك القائد عظيم الهمة بعيد النظر ثابت القلب في الملمات لا تزعزعه العواصف ولا تضعفه الشدائد. সেই নেতা ছিল উচ্চ মনোবলসম্পন্ন, সুদূরদর্শী ও বিপদে অবিচল হৃদয়ের অধিকারী; ঝড় তাকে টলাতে পারত না, দুর্দশা তাকে দুর্বল করতে পারত না। رأيت شيخا طويل الصمت واسع الصدر حسن الخلق يواجه الاساءة بابتسامة هادئة وقلب سليم. আমি এক বৃদ্ধকে দেখলাম—দীর্ঘ নীরবতার মানুষ, প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী, উত্তম চরিত্রের; অপমানের জবাব দিতেন শান্ত হাসি ও নির্মল অন্তর দিয়ে। هو قريب العهد بالعلم لكنه قوي الارادة شديد الحرص على بلوغ اعلى المراتب. সে সদ্য জ্ঞানার্জনের পথে পদার্পণ করেছে, কিন্তু তার ইচ্ছাশক্তি দৃঢ় এবং সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে প্রবল আগ্রহী। كان الطالب حاد الذكاء سريع الفهم عميق التفكير اذا عرضت عليه المسائل الدقيقة. ছাত্রটি ছিল তীক্ষ্ণবুদ্ধি, দ্রুত অনুধাবনক্ষম ও গভীর চিন্তাশীল; সূক্ষ্ম বিষ...

অপচয় রোধ করা: প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য

অপচয় রোধ করা: প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) অপচয় রোধ করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়—আমাদের দ্বারা যে পরিমাণ অপচয় হয়, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। পানি অপচয়, ভাত অপচয়, বিদ্যুৎ অপচয়, সময় অপচয়—কত কিছুই না আমরা নষ্ট করছি! বিশেষ করে সাহরি ও ইফতারের সময় বহু আইটেম তৈরি করা হয়; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য কিছু খাওয়া হয়, বাকিগুলো ফেলে দেওয়া হয়। এটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়; বরং এটি একটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমস্যা। ১. অপচয় সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশনা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে অপচয় সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। তিনি বলেন: وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ “তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা আল-আ'রাফ: ৩১) এ আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—খাওয়া ও পান করা বৈধ, কিন্তু সীমালঙ্ঘন বা অপচয় হারামসদৃশ কাজ। আল্লাহ নিজেই বলেছেন, তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না। একজন মুমিনে...

শেষ রাত: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহামূল্যবান সময়

শেষ রাত: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহামূল্যবান সময় মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) শেষ রাত আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি সময়। বিশেষ করে রমযান মাসে এ সময়ের মর্যাদা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অথচ আমরা অনেকেই শুরু রাতে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করি। তারাবীহ নামাযের পর গল্প-আড্ডা, মোবাইল ব্যবহার, অনর্থক আলাপ—এসব আমাদের শেষ রাতের বরকত থেকে বঞ্চিত করে। ফলে সাহরীতে ঠিক সময়ে উঠতে পারি না; উঠলেও তাড়াহুড়ো করে খেয়ে আবার ঘুমিয়ে যাই। কেউ ফজরের নামায আদায় করি, কেউ বা তাও ছেড়ে দেই। অথচ সামান্য সচেতনতা ও নিয়ত থাকলে এই সময়টুকু হতে পারে আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ। ১. শেষ রাতের গুরুত্ব  আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে শেষ রাতের ইবাদতের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ বলেন: وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ “আর তারা শেষ রাত্রিতে ক্ষমা প্রার্থনা করত।” (সূরা আয-যারিয়াত: ১৮) এ আয়াত প্রমাণ করে, সাহরীর সময় তথা শেষ রাত ছিল নেককার বান্দাদের বিশেষ ইবাদতের সময়। তারা শুধু রোযা রাখার জন্য জাগত না, বরং ইস্তিগফার, তাওবা ও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করত। ...

কায়দা

নূরানী শিশুদের জন্য আরবি হরফ ও মাখরাজ প্রথম অংশ: আরবি ২৯টি হরফ ا ب ت ث ج ح خ د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ع غ ف ق ك ل م ن و ه ء ي আরবি ভাষায় মোট ২৯টি হরফ রয়েছে। সঠিক তিলাওয়াতের জন্য প্রতিটি হরফের মাখরাজ জানা জরুরি। দ্বিতীয় অংশ: আরবি হরফের ১৭টি মাখরাজ আরবি হরফ উচ্চারণের নির্দিষ্ট স্থানকে মাখরাজ (مخرج) বলা হয়। ২৯টি হরফ মোট ১৭টি মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হয়। 🔹 হলক (কণ্ঠনালী) থেকে – ৩টি মাখরাজ ১. হলকের শুরু থেকে: ء (হামযাহ), ه (হা) ২. হলকের মধ্যখান থেকে: ع (আইন), ح (হা - ভারী হ) ৩. হলকের শেষ থেকে: غ (গইন), خ (খ) 🔹 জিহ্বা থেকে – ১০টি মাখরাজ ৪. জিহ্বার গোড়া, উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: ق (ক্বাফ) ৫. জিহ্বার গোড়া থেকে একটু সামনে এনে, উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: ك (কাফ) ৬. জিহ্বার মধ্যখান, উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: ج (জীম), ش (শীন), ي (ইয়া - সাকিন অবস্থায়) ৭. জিহ্বার এক পাশের কিনারা, উপরের দাঁতের মাড়ির গোড়ার সাথে লাগিয়ে: ض (দদ) ৮. জিহ্বার আগার কিনারা, উপরের সামনের দাঁতের মাড়ির সাথে লাগিয়ে: ل (লাম) ৯. জিহ্বার আগা, উপরের তালুর গোড়ার সাথে লাগিয়ে: ن (নূন) ১০. জিহ্বার...