Posts

আরবী বাক্য

كان الرجل شديد الغضب سريع الانفعال اذا سمع كلمة تمس كرامته القديمة المتجذرة في اعماق نفسه. লোকটি ছিল প্রবল রাগী ও দ্রুত উত্তেজিত; তার আত্মার গভীরে প্রোথিত প্রাচীন সম্মানে আঘাত লাগে এমন কোনো কথা শুনলেই সে জ্বলে উঠত। ذلك القائد عظيم الهمة بعيد النظر ثابت القلب في الملمات لا تزعزعه العواصف ولا تضعفه الشدائد. সেই নেতা ছিল উচ্চ মনোবলসম্পন্ন, সুদূরদর্শী ও বিপদে অবিচল হৃদয়ের অধিকারী; ঝড় তাকে টলাতে পারত না, দুর্দশা তাকে দুর্বল করতে পারত না। رأيت شيخا طويل الصمت واسع الصدر حسن الخلق يواجه الاساءة بابتسامة هادئة وقلب سليم. আমি এক বৃদ্ধকে দেখলাম—দীর্ঘ নীরবতার মানুষ, প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী, উত্তম চরিত্রের; অপমানের জবাব দিতেন শান্ত হাসি ও নির্মল অন্তর দিয়ে। هو قريب العهد بالعلم لكنه قوي الارادة شديد الحرص على بلوغ اعلى المراتب. সে সদ্য জ্ঞানার্জনের পথে পদার্পণ করেছে, কিন্তু তার ইচ্ছাশক্তি দৃঢ় এবং সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে প্রবল আগ্রহী। كان الطالب حاد الذكاء سريع الفهم عميق التفكير اذا عرضت عليه المسائل الدقيقة. ছাত্রটি ছিল তীক্ষ্ণবুদ্ধি, দ্রুত অনুধাবনক্ষম ও গভীর চিন্তাশীল; সূক্ষ্ম বিষ...

অপচয় রোধ করা: প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য

অপচয় রোধ করা: প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) অপচয় রোধ করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়—আমাদের দ্বারা যে পরিমাণ অপচয় হয়, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। পানি অপচয়, ভাত অপচয়, বিদ্যুৎ অপচয়, সময় অপচয়—কত কিছুই না আমরা নষ্ট করছি! বিশেষ করে সাহরি ও ইফতারের সময় বহু আইটেম তৈরি করা হয়; কিন্তু দেখা যায়, সামান্য কিছু খাওয়া হয়, বাকিগুলো ফেলে দেওয়া হয়। এটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়; বরং এটি একটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমস্যা। ১. অপচয় সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশনা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে অপচয় সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। তিনি বলেন: وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ “তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা আল-আ'রাফ: ৩১) এ আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—খাওয়া ও পান করা বৈধ, কিন্তু সীমালঙ্ঘন বা অপচয় হারামসদৃশ কাজ। আল্লাহ নিজেই বলেছেন, তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না। একজন মুমিনে...

শেষ রাত: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহামূল্যবান সময়

শেষ রাত: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহামূল্যবান সময় মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) শেষ রাত আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি সময়। বিশেষ করে রমযান মাসে এ সময়ের মর্যাদা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অথচ আমরা অনেকেই শুরু রাতে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করি। তারাবীহ নামাযের পর গল্প-আড্ডা, মোবাইল ব্যবহার, অনর্থক আলাপ—এসব আমাদের শেষ রাতের বরকত থেকে বঞ্চিত করে। ফলে সাহরীতে ঠিক সময়ে উঠতে পারি না; উঠলেও তাড়াহুড়ো করে খেয়ে আবার ঘুমিয়ে যাই। কেউ ফজরের নামায আদায় করি, কেউ বা তাও ছেড়ে দেই। অথচ সামান্য সচেতনতা ও নিয়ত থাকলে এই সময়টুকু হতে পারে আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ। ১. শেষ রাতের গুরুত্ব  আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে শেষ রাতের ইবাদতের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ বলেন: وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ “আর তারা শেষ রাত্রিতে ক্ষমা প্রার্থনা করত।” (সূরা আয-যারিয়াত: ১৮) এ আয়াত প্রমাণ করে, সাহরীর সময় তথা শেষ রাত ছিল নেককার বান্দাদের বিশেষ ইবাদতের সময়। তারা শুধু রোযা রাখার জন্য জাগত না, বরং ইস্তিগফার, তাওবা ও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করত। ...

কায়দা

নূরানী শিশুদের জন্য আরবি হরফ ও মাখরাজ প্রথম অংশ: আরবি ২৯টি হরফ ا ب ت ث ج ح خ د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ع غ ف ق ك ل م ن و ه ء ي আরবি ভাষায় মোট ২৯টি হরফ রয়েছে। সঠিক তিলাওয়াতের জন্য প্রতিটি হরফের মাখরাজ জানা জরুরি। দ্বিতীয় অংশ: আরবি হরফের ১৭টি মাখরাজ আরবি হরফ উচ্চারণের নির্দিষ্ট স্থানকে মাখরাজ (مخرج) বলা হয়। ২৯টি হরফ মোট ১৭টি মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হয়। 🔹 হলক (কণ্ঠনালী) থেকে – ৩টি মাখরাজ ১. হলকের শুরু থেকে: ء (হামযাহ), ه (হা) ২. হলকের মধ্যখান থেকে: ع (আইন), ح (হা - ভারী হ) ৩. হলকের শেষ থেকে: غ (গইন), خ (খ) 🔹 জিহ্বা থেকে – ১০টি মাখরাজ ৪. জিহ্বার গোড়া, উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: ق (ক্বাফ) ৫. জিহ্বার গোড়া থেকে একটু সামনে এনে, উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: ك (কাফ) ৬. জিহ্বার মধ্যখান, উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে: ج (জীম), ش (শীন), ي (ইয়া - সাকিন অবস্থায়) ৭. জিহ্বার এক পাশের কিনারা, উপরের দাঁতের মাড়ির গোড়ার সাথে লাগিয়ে: ض (দদ) ৮. জিহ্বার আগার কিনারা, উপরের সামনের দাঁতের মাড়ির সাথে লাগিয়ে: ل (লাম) ৯. জিহ্বার আগা, উপরের তালুর গোড়ার সাথে লাগিয়ে: ن (নূন) ১০. জিহ্বার...

রমজানে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো: ইফতার ভাগাভাগির ফজীলত, করণীয় ও সামাজিক দায়িত্ব

রমজানে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো: ইফতার ভাগাভাগির ফজীলত, করণীয় ও সামাজিক দায়িত্ব মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) শুরু কথা,, রমজান মাস শুধু রোজা রাখা, তারাবীহ পড়া বা কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সহানুভূতি, দানশীলতা ও মানবিকতার মাস। এই মাস আমাদের শেখায়—আমরা নিজেরা ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে যেন অন্যের কষ্ট বুঝতে পারি। সমাজে এমন বহু দরিদ্র পরিবার রয়েছে যারা ইফতারের সময় সামান্য খাবারও জোগাড় করতে পারে না। আমরা যখন নানা রকম ফল, শরবত, ভাজাপোড়া ও মিষ্টান্ন দিয়ে ইফতার সাজাই, তখন হয়তো পাশের ঘরেই কেউ শুকনো রুটি বা এক গ্লাস পানি দিয়ে রোজা ভাঙে। এই বাস্তবতা আমাদের অন্তরকে নাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রশ্ন হলো—আমরা কি পারি না এমন পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে? নিশ্চয়ই পারি, এবং সেটাই হওয়া উচিত একজন সচেতন মুমিনের কাজ। দান ও সহানুভূতির ইসলামী ভিত্তি আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন: وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا অর্থ: তারা আল্লাহর ভালোবাসায় মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে। (সূরা দাহর: ৮...

সেহরি ও ইফতারের সময়ের বিশেষ ফজীলত, করণীয় ও বর্জনীয়

সেহরি ও ইফতারের সময়ের বিশেষ ফজীলত, করণীয় ও বর্জনীয় মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) ভূমিকা রমজান মাসে দুটি সময় বিশেষভাবে বরকতময়—সেহরির সময় এবং ইফতারের সময়। এই দুই মুহূর্তে আল্লাহ তা‘আলা বান্দার প্রতি বিশেষ রহমত ও তাওয়াজ্জুহ দান করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা এই মূল্যবান সময়গুলো ব্যস্ততার মধ্যে হারিয়ে ফেলি—সেহরির সময় খাবার প্রস্তুতি ও খাওয়ার ব্যস্ততায়, আর ইফতারের সময় রান্না ও আয়োজনের ব্যস্ততায়। অথচ এই সময়গুলো দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। তাই সচেতনভাবে আমাদের জানা উচিত—এই সময়ের ফজীলত কী, করণীয় কী, বর্জনীয় কী এবং কিভাবে আমরা সর্বোচ্চ উপকার লাভ করতে পারি। সেহরির সময়ের ফজীলত রাসূল ﷺ বলেছেন: تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً অর্থ: তোমরা সেহরি করো, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) সেহরি শুধু খাবার নয়; এটি একটি ইবাদত। নিয়তের সাথে সেহরি খেলে সওয়াব পাওয়া যায়। শেষ রাতের বিশেষ সময় সেহরির সময় মূলত রাতের শেষ তৃতীয়াংশের মধ্যে পড়ে। এই সময় সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেছেন: يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَ...

রমজান মাসে আমল বৃদ্ধি, ইখলাস ও ছোট আমলের ফজীলত

রমজান মাসে আমল বৃদ্ধি, ইখলাস ও ছোট আমলের ফজীলত মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)   ভূমিকা রমজান মাস আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নিয়ামত। এই মাসে নাজিল হয়েছে পবিত্র কুরআন, খুলে দেওয়া হয় জান্নাতের দরজা, বন্ধ করা হয় জাহান্নামের দরজা এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। এটি এমন এক মাস, যেখানে অল্প আমলেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। তাই এই মাসে প্রতিটি আমল গুরুত্বের সাথে, ইখলাসের সাথে এবং নিয়মিতভাবে করা অত্যন্ত জরুরি। রমজানের মর্যাদা আল্লাহ তাআলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকারা: ১৮৩) রমজানের মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন। তাই শুধু রোজা রাখা নয়, বরং প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা—এটাই আসল উদ্দেশ্য। ইখলাস বা নিয়তের বিশুদ্ধতা প্রতিটি আমলের প্রাণ হলো ইখলাস। রাসূল ﷺ বলেছেন: إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ...