Posts

পোস্ট মুমিন ও মুসলিম

  মুসলিম ও মুমিন: অভিন্ন পরিচয়ের অন্তরালে অর্থগত স্তরভেদ, ঈমানের হাকিকত এবং ইসলামের বাহ্যিক-আভ্যন্তরীণ স্বরূপ কুরআন-সুন্নাহ, আকিদা, উসুল, আরবি ভাষাতত্ত্ব, মানতিক ও দর্শনের আলোকে একটি তাহকিকি পর্যালোচনা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  মানবসমাজে কিছু শব্দ এমন রয়েছে, যেগুলো উচ্চারণে অত্যন্ত পরিচিত হলেও তাদের প্রকৃত তাৎপর্য, পরিভাষাগত সীমারেখা এবং শাস্ত্রীয় ব্যবহারের সূক্ষ্মতা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের ধারণা অস্পষ্ট। ‘মুসলিম’ ও ‘মুমিন’ এমনই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা। আমরা কাউকে মুসলমান বলি, কাউকে মুমিন বলি, আবার কখনো মুসলিম ও মুমিন শব্দ দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করি। সাধারণ কথাবার্তায় এ ব্যবহার অনেক সময় যথার্থ হলেও কুরআন, সুন্নাহ এবং ইলমুল আকিদার পরিভাষায় শব্দ দুটির মধ্যে এমন কিছু অর্থগত পার্থক্য রয়েছে, যা অনুধাবন না করলে ঈমানের প্রকৃতি, ইসলামের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিচয়, মানুষের আমল, অন্তরের বিশ্বাস এবং শরিয়তের বিধানের সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সম্পর্কে গুরুতর বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। প্রশ্ন হলো, প্রত্যেক মুসলিম কি মুমিন? প্রত্যেক মুমিন কি মুসলিম? মুসলিম ও ...

পোস্ট ইসলাম কে আকল দিয়ে

  আকল কি ওহির বিচারক, নাকি ওহির অনুধাবনকারী? শরিয়তের বিধান, মানবীয় বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা, তা‘আব্বুদি ইবাদত, নববী আনুগত্য এবং যুক্তিবাদের দার্শনিক অসারতা: একটি গভীর উসুলি, মানতিকি ও জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  মানবসভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে আকল বা মানবীয় বুদ্ধি এক বিস্ময়কর শক্তির নাম। এই আকলের সাহায্যে মানুষ মহাবিশ্বের রহস্য অনুসন্ধান করেছে, পদার্থের অন্তর্গত গঠন উন্মোচন করেছে, মহাকাশের দূরতম প্রান্তে অনুসন্ধানযান পাঠিয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিলতম সমস্যার সমাধান করেছে, দর্শনের দুরূহ প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করেছে এবং যুক্তির মাধ্যমে অসংখ্য অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করেছে। কিন্তু মানবীয় বুদ্ধির এই বিপুল সাফল্য কখনোই প্রমাণ করে না যে, আকল সর্বজ্ঞ, স্বয়ংসম্পূর্ণ, সর্বত্র নির্ভুল কিংবা সত্যের একমাত্র চূড়ান্ত মানদণ্ড। বরং জ্ঞানের ইতিহাস যতই বিস্তৃত হয়েছে, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতাও ততই প্রকট হয়েছে। যে মানুষ একসময় পৃথিবীকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র মনে করত, পরবর্তী গবেষণায় সে নিজের ধারণার সংশোধন করেছে; যে চিকিৎসাপদ্ধতিকে একসময় চূড়ান্...

পোস্ট মুহাম্মদ না আবু হানিফা

  ‘মুহাম্মদী নামাজ’ বনাম ‘হানাফি নামাজ’: সুন্নাহর অনুসরণ, ইজতিহাদের অনিবার্যতা, তাকলিদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি এবং মাযহাবি ফিকহের দার্শনিক তাৎপর্য একটি গভীর উসুলি, ফিকহি, মানতিকি ও জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  মানবসমাজে কিছু কিছু পরিভাষা এমনভাবে প্রচলিত হয়ে যায়, যেগুলোর বাহ্যিক শব্দার্থের আড়ালে একটি গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিভ্রান্তি, ধারণাগত অসংগতি এবং কখনো কখনো মারাত্মক বুদ্ধিবৃত্তিক সংকীর্ণতা আত্মগোপন করে থাকে। ‘মুহাম্মদী নামাজ’ ও ‘হানাফি নামাজ’—এই দ্বৈত পরিভাষার ব্যবহারও তেমনই একটি বিষয়। কোনো কোনো মুসলিম ভাইকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মুহাম্মদী নামাজ পড়ি, আপনারা হানাফি নামাজ পড়েন।’ আবার কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, ‘আমরা তো মুহাম্মদ ﷺ-কে অনুসরণ করি, আপনারা আবু হানিফাকে অনুসরণ করেন কেন?’ কথাগুলোর বাহ্যিক আবেগ হয়তো নবীপ্রেম ও সুন্নাহর প্রতি আনুগত্যের দাবি বহন করে; কিন্তু এর অন্তর্নিহিত ধারণাগত কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে নববী সুন্নাহর অনুসরণ এবং সুন্নাহ অনুধাবনের স্বীকৃত ইলমি পদ্ধতির মধ্যে একটি কৃত্রিম দ্বন্দ্ব নির্মাণ করা হয়...