Posts

পোস্ট মাযহাব

  মাযহাব: নিছক মতাদর্শিক পরিচয় নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহ অনুধাবনের এক সুসংবদ্ধ ইলমি-উসূলি উত্তরাধিকার—মাযহাবের উৎপত্তি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ইজতিহাদি দর্শন, শরয়ি হিকমত ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অপরিহার্যতা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা লেখক: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  প্রারম্ভিক নিবেদন: মাযহাব সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানগত দৈন্য মাযহাব সম্পর্কে আমাদের সমাজে আলোচনা প্রচুর; কিন্তু মাযহাবের প্রকৃত স্বরূপ, ঐতিহাসিক বিবর্তন, উসূলি ভিত্তি, ইজতিহাদি কাঠামো, দলিল-প্রয়োগের পদ্ধতি এবং শরয়ি তাৎপর্য সম্পর্কে সুসংহত জ্ঞান তুলনামূলকভাবে অপ্রতুল। আমরা হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি—এই চারটি নাম উচ্চারণ করতে পারি; নিজেদের মাযহাবের পরিচয়ও দিতে পারি; কিন্তু এই মাযহাবগুলো কীভাবে গড়ে উঠল, কোন জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা এর পেছনে কাজ করল, কেন ফিকহি মাসআলায় একাধিক গ্রহণযোগ্য মতের উদ্ভব ঘটল, কীভাবে একজন মুজতাহিদ কুরআন-সুন্নাহ থেকে শরয়ি বিধান আহরণ করেন, কোন নীতির ভিত্তিতে একটি দলিল অন্য দলিলের ওপর প্রাধান্য পায়, কিংবা কেন একই হাদিস সম্পর্কে দুইজন প্রাজ্ঞ ফকিহের সিদ্ধান্...

পোস্ট শেষ রাতের চাওয়া

 হৃদয়ের নিভৃততম মিনার থেকে আরশের অধিপতির সান্নিধ্যে: «وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ»—ইলাহি নৈকট্য, রব্বানি মহব্বত, বান্দার আকুলতা ও দোয়ার অতলান্ত প্রেমদর্শন মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  প্রস্তাবনা: যখন সমস্ত দরজা রুদ্ধ হয়, তখনও একটি দরজা উন্মুক্ত থাকে মানবজীবনের সবচেয়ে গভীর নিঃসঙ্গতা কখনো মানুষের অনুপস্থিতি থেকে জন্ম নেয় না; বরং কখনো তা জন্ম নেয় এমন এক অন্তর্গত শূন্যতা থেকে, যেখানে চারপাশে অসংখ্য মানুষ থাকা সত্ত্বেও হৃদয় তার প্রকৃত আশ্রয় খুঁজে পায় না। মানুষ কখনো এমন এক দুর্বোধ্য বেদনার ভার বহন করে, যার যথার্থ ভাষান্তর তার নিজের কাছেও অসম্ভব হয়ে পড়ে। কখনো তার চোখে অশ্রু জমে, অথচ সে জানে না কাকে নিজের ব্যথার বিবরণ দেবে। কখনো তার হৃদয় এমন কোনো আকাঙ্ক্ষায় বিদীর্ণ হয়, যা পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষমতায় পূরণ করা সম্ভব নয়। কখনো অপরাধবোধ, কখনো ব্যর্থতা, কখনো সম্পর্কের ভাঙন, কখনো ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, কখনো গোপন পাপের অনুতাপ, আবার কখনো এমন এক অজ্ঞাত আকুলতা মানুষকে আচ্ছন্ন করে, যার কোনো দৃশ্যমান কারণ সে নিজেও খুঁজে পায় না। কিন্তু একজন মুমিনের জীবনে এমন ...

পোস্ট এসো মন ভালো লাগে

 এসো মন ভালো রাখি: মনস্তত্ত্ব, স্নায়ুবিজ্ঞান, জীবনদর্শন, আত্মিক প্রশান্তি ও মানবিক সম্পর্কের আলোকে একটি গবেষণামূলক অনুসন্ধান ভূমিকা: মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রা কখনো কখনো নিজের মনের অভ্যন্তরেই সংঘটিত হয় মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি  মানুষের জীবনে এমন কিছু যুদ্ধ আছে, যেগুলোর কোনো দৃশ্যমান রণক্ষেত্র নেই; এমন কিছু ক্ষত আছে, যেগুলো থেকে রক্ত ঝরে না, অথচ অন্তরের গভীরে দীর্ঘকাল ধরে যন্ত্রণার অনুরণন সৃষ্টি করে; এমন কিছু পরাজয় আছে, যেগুলোর সাক্ষী কোনো জনসমাবেশ নয়, বরং নিঃসঙ্গ রাত্রির নিঃশব্দ অশ্রু। মানুষ কখনো পৃথিবীর অগণিত মানুষের মধ্যে থেকেও নিজেকে নিঃসঙ্গ অনুভব করে, কখনো প্রাচুর্যের প্রাসাদে থেকেও অভাবের দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কখনো বাহ্যিক হাসির আড়ালে এমন এক মানসিক অবসাদ বহন করে, যার ভার অন্য কারও চোখে ধরা পড়ে না। কারণ, মানুষের জীবন কেবল দৃশ্যমান ঘটনাপ্রবাহের সমষ্টি নয়; এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত তার অনুভূতি, স্মৃতি, প্রত্যাশা, আশঙ্কা, আত্মপরিচয়, সম্পর্কবোধ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নির্মিত মানসিক কল্পনাপ্রবাহ। এই কারণেই ‘এসো মন ভালো রাখি’—শিরোনামটি নিছক একটি সান্ত...