Posts

লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান: দাওয়াতের ভাষায় আমল, করণীয় ও বর্জনীয়

লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান: দাওয়াতের ভাষায় আমল, করণীয় ও বর্জনীয় মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)   আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে আবারও একটি বরকতময় ও ফযিলতপূর্ণ রাত দান করেছেন— লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান , যা আমরা বাংলায় সাধারণত শবে বরাত নামে চিনি। এই রাত আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও বান্দার প্রতি বিশেষ দয়ার এক অপূর্ব সুযোগ। এমন একটি রাত, যেখানে বান্দা চাইলে তার অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে পারে এবং ভবিষ্যতের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ার নিয়ত করতে পারে। এই বরকতময় রাতে আলহামদুলিল্লাহ প্রায় ২৯ মিনিট সময় ধরে আমি আলোচনা করেছি— এই রাতের করণীয় ও বর্জনীয় , আমল করার সঠিক পদ্ধতি , এবং কীভাবে এই রাত আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একটি বিষয় আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি— মানুষের সামনে যখন আমরা দ্বীনের কথা বলি, তখন কী বলছি তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কীভাবে বলছি । দাওয়াতের ভাষা: হৃদয়ে পৌঁছানোর চাবিকাঠি ইসলামের দাওয়াত এমন একটি আমানত, যা কেবল তথ্য দিয়ে নয়— হিকমাহ, কোমলতা ও অন্তরের দরদ দিয়ে পৌঁছাতে হয়। মানুষের সা...

শবে বরাতের রাতে সালাতুত তাসবিহ

 শবে বরাতের রাতে সালাতুত তাসবিহ ক্ষমা ও রহমতের এক অপূর্ব সুযোগ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)   আজকের এই বরকতময় রাত—লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান, যাকে আমরা বাংলায় শবে বরাত নামে চিনি—আমাদের জীবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নিয়ে হাজির হয়েছে। এটি এমন এক রাত, যে রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন, বান্দার তাওবা কবুল করেন এবং অসংখ্য গুনাহ মাফ করে দেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো—এই মহামূল্যবান রাতকে আমরা অনেক সময় অবহেলায় হারিয়ে ফেলি। কেউ ব্যস্ত থাকে অপ্রয়োজনীয় আয়োজন নিয়ে, কেউ রাত জাগে বিনোদনে, আবার কেউ এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে জানার আগ্রহই দেখায় না। অথচ এই রাত ছিল ইবাদতের, আত্মশুদ্ধির, গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার এক সুবর্ণ সময়। এই রাতে যে গুরুত্বপূর্ণ আমলটি আমরা করতে পারি, এবং যা আমাদের জীবনে হয়তো অনেকেরই এখনো আদায় করার সুযোগ হয়নি—তা হলো সালাতুত তাসবিহ । সালাতুত তাসবিহ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? সালাতুত তাসবিহ এমন একটি বিশেষ নামাজ, যার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে উৎসা...

ليلة النصف من شعبان

ليلة النصف من شعبان : গাফিলতি নয়, ইবাদতেই হোক আমাদের রাত মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) আজ সন্ধ্যার পর আমাদের সামনে উপস্থিত হচ্ছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রজনী— لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ । বাংলা ভাষায় যাকে আমরা সাধারণত শবে বরাত নামে চিনি। এটি এমন একটি রাত, যে রাত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক বিশেষ উপলক্ষ। এই রজনী আমাদের জীবনে বারবার আসে না; বছরে মাত্র একবারই আসে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমরা অনেকেই এই মহামূল্যবান সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই। শবে বরাত আমাদের সামনে আসে একটি প্রশ্ন নিয়ে— আমরা কি আল্লাহর দিকে ফিরে যাব, নাকি আবারও গাফিলতিতে ডুবে থাকব? এই রাত তো ছিল আত্মশুদ্ধির জন্য, নিজেকে আল্লাহর দরবারে সঁপে দেওয়ার জন্য, নিজের গুনাহের বোঝা হালকা করার জন্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র অনেক সময় ভিন্ন হয়ে যায়। এই সময়ে আমরা অনেকেই ইবাদতের পরিবর্তে ব্যস্ত হয়ে পড়ি বিভিন্ন আয়োজন আর উৎসবে। কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়ে রুটি, হালুয়া, গোশত, পোলাও—নানান রকম খাবার তৈরিতে। সারা রাত কেটে যায় রান্নাঘরে, হাঁড়ি-প...

নতুন বছরে পা রাখার মুহূর্ত

নতুন বছরে পা রাখার মুহূর্ত মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)   আর মাত্র কয়েকটি মিনিট। এই কয়েকটি মিনিটের মধ্যেই আমার জীবনের আরেকটি জন্মদিন স্মৃতির পাতায় যুক্ত হয়ে যাবে, আর নতুন একটি তারিখ—নতুন একটি বছর—আমার জীবনের দরজায় কড়া নাড়বে। দেখতে দেখতে একটি বছর পার হয়ে গেল। সময় থেমে থাকে না, বরং নিঃশব্দে আমাদের কাছ থেকে জীবনের অধ্যায়গুলো নিয়ে এগিয়ে চলে। আজ আমি নতুন আরেকটি বছরে পা রাখলাম। এই নতুন বছরে প্রবেশের মুহূর্তে আমার হৃদয় ভরে উঠেছে কৃতজ্ঞতায়। মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে আরও একটি বছর বেঁচে থাকার সুযোগ দিয়েছেন—এটাই তো সবচেয়ে বড় নেয়ামত। আমি তাঁর দরবারে বিনীতভাবে প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন আজকের এই জন্মতারিখ থেকে আগামী জন্মতারিখ পর্যন্ত আমাকে নেক হায়াত দান করেন। এমন একটি জীবন, যা হবে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত। এই নতুন বছরে আমার একটি বড় আশা ও দোয়া—ইনশাআল্লাহ, আগামী জন্মদিন আসার আগেই আমি যেন একজন পূর্ণাঙ্গ মাওলানা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারি। এই ইলম যেন শুধু সার্টিফিকেটে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আমার চরিত্রে, আমার আমলে, আমার কথায় ও কাজে প্রকাশ পায়। ...

ফিজিক্স শিরোনাম

📘 ফিজিক্স সম্পূর্ণ কোর্স রোডম্যাপ শূন্য থেকে আত্মবিশ্বাস পর্যন্ত (২০ পর্ব) 🔰 পর্ব ১ : ফিজিক্সের ভিত্তি ফিজিক্স কী ও কেন পড়ব পদার্থবিজ্ঞানের পরিসর ভৌত রাশি মৌলিক ও উৎপন্ন রাশি SI একক দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় 🔰 পর্ব ২ : গতি ও বলের প্রাথমিক ধারণা স্থিরতা ও গতি দূরত্ব ও স্থানান্তর বেগ ও গড় বেগ ত্বরণ বল কী ভর ও ওজন কাজ, শক্তি ও ক্ষমতার পরিচয় 🔰 পর্ব ৩ : সরল গতি ও গতি সমীকরণ সরল গতি প্রাথমিক ও চূড়ান্ত বেগ প্রথম গতি সমীকরণ দ্বিতীয় গতি সমীকরণ তৃতীয় গতি সমীকরণ দূরত্ব–সময় গ্রাফ মুক্তপতন 🔰 পর্ব ৪ : নিউটনের গতি সূত্র প্রথম গতি সূত্র দ্বিতীয় গতি সূত্র (F = ma) তৃতীয় গতি সূত্র বাস্তব জীবনের প্রয়োগ গাণিতিক সমস্যা 🔰 পর্ব ৫ : ঘর্ষণ বল ঘর্ষণের ধারণা স্থির ও গতিশীল ঘর্ষণ ঘর্ষণের উপকারিতা ও অপকারিতা বাস্তব সমস্যা 🔰 পর্ব ৬ : ভরবেগ ও সংঘর্ষ ভরবেগ ভরবেগ সংরক্ষণ সূত্র স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ অস্থিতিস্থাপক স...

ডান হাতে খাওয়া : একটি অবহেলিত সুন্নত ও আমাদের আত্মসমালোচনা

ডান হাতে খাওয়া : একটি অবহেলিত সুন্নত ও আমাদের আত্মসমালোচনা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)   আজ আমি একটি খুবই প্রয়োজনীয়, অথচ অবহেলিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই। বিষয়টি ছোট মনে হলেও এর গভীরতা অনেক, এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিষয়টি হলো— ডান হাতে খাওয়া এবং বাম হাতে না খাওয়া । অনেকদিন ধরে আমি একটি বিষয় গভীরভাবে লক্ষ্য করছি, যা আমাকে বারবার ব্যথিত করেছে। আমাদের অনেকেরই আল্লাহ তাআলা পূর্ণ সুস্থ ডান হাত দান করেছেন—একটি বড় নেয়ামত। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, সেই নেয়ামতের যথাযথ কদর আমরা অনেকেই করছি না। ডান হাত থাকা সত্ত্বেও আমরা বাম হাতে খাবার খাচ্ছি। বাম হাতে চা, বাম হাতে ফল, বাম হাতে বিস্কুট— কখনো রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে, কখনো দোকানে বসে, কখনো আবার মোবাইলে চোখ রেখে। আমি নিজ চোখে বহুবার দেখেছি— এক হাতে মোবাইল স্ক্রল চলছে, আরেক হাতে খাবার। মোবাইল ধরা হচ্ছে ডান হাতে, আর খাবার তোলা হচ্ছে বাম হাতে। তখন মনে প্রশ্ন জাগে— কেন? ডান হাত কি নেই? ডান হাত কি খাওয়ার জন্য দেওয়া হয়নি? ডান হাত: সম্মানিত হাত ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—ডান হা...

ব্যস্ততার অজুহাত নয়, আমলের অঙ্গীকার

 ব্যস্ততার অজুহাত নয়, আমলের অঙ্গীকার মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি) জীবনের পথে চলতে গেলে ব্যস্ততা এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। দুনিয়াতে আগমন মানেই ব্যস্ততার ভিড়ে নিজেকে খুঁজে নেওয়ার সংগ্রাম। এমন কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যার জীবনে ব্যস্ততা নেই। বরং মানুষ যত বড় হয়, তার ব্যস্ততার পরিধিও তত বিস্তৃত হয়। একজন ছোট শিশুর দিকেই তাকিয়ে দেখলে বোঝা যায়— তারও ব্যস্ততা আছে। খাবার নিয়ে, খেলনা নিয়ে, বন্ধুদের নিয়ে, হাসি-কান্নার মধ্যেই তার দিন কেটে যায়। কিন্তু সে নাবালেগ। তার উপর তখনও শরিয়তের ফরজ বিধান আরোপিত হয়নি। নামাজ তার জন্য ফরজ নয়, রোজা তার উপর আবশ্যক নয়, কুরআন শেখার বাধ্যবাধকতাও তখন তার উপর নেই। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শিশুটি বড় হয়। তার মধ্যে বুঝ আসে, বোধশক্তি তৈরি হয়। সে যখন বালেগ হয়, ঠিক তখন থেকেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। কারণ বালেগ হওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহ তাআলা তার কাঁধে আমানত তুলে দেন। নামাজ ফরজ হয়, রোজা ফরজ হয়, কুরআন তেলাওয়াত শেখা ও পড়া ফরজ হয়, হালাল-হারামের সীমারেখা তার জীবনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ সময় দুনিয়াবী ব্যস্ততাও কমে না, বরং আর...