সকাল ও সন্ধ্যার আমল
সকাল ও সন্ধ্যার আমল
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)
প্রিয় পাঠক, আমাদের প্রতিটি দিন শুরু হয় সকাল থেকে এবং রাত আসে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এই সময়গুলোতে বিশেষ আমল ও দোয়া রয়েছে যা আমাদের জীবনে বরকত নিয়ে আসে এবং বিপদ, দুর্ঘটনা ও মন্দ থেকে রক্ষা করে। কিন্তু আমরা প্রায়ই এ সময়গুলোকে অবহেলা করি। উদাসীন থাকা মানে নিজের সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যাওয়া। এজন্য সকালের আমল এবং সন্ধ্যার আমল আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সকালের আমল
সকালের প্রথম আলোয় নামাজের পর বা ফজরের নামাজের আগে কিছু আমল করলে তা মানুষের মন, শরীর ও জীবনের জন্য বরকত সৃষ্টি করে। প্রতিটি সকাল আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য অনুভব করায় এবং দিনের সকল কাজকে সহজ ও মঙ্গলময় করে।
সন্ধ্যার আমল
সন্ধ্যার সময় তথা আছরের নামাজের পর কিছু আমল ও দোয়া করলে তা দিনের শেষ অংশে আমাদেরকে সুরক্ষা দেয়। এটি পরিবারের শান্তি, দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা ও বিপদ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও এই সময়ে যেকোনো ভুল, দোষ ও দুর্বলতা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ থাকে।
সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস
এই তিনটি সূরা আমাদেরকে প্রতিদিন পাঠ করার জন্য মহান সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো বারবার পাঠ করলে আল্লাহর রহমত, নিরাপত্তা এবং বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সূরা ইখলাস (আরবি)
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
اللَّهُ الصَّمَدُ
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
ফজিলতঃ সূরা ইখলাসের পাঠ একজনকে তাওহীদের সত্য জ্ঞান দেয় এবং আল্লাহর একত্বের শিক্ষা দেয়। প্রতিদিন ১০ বার পাঠ করলে আল্লাহ তা’আলা তার ১/৩ কুরআনের সমতুল্য সওয়াব দান করেন।
সূরা ফালাক (আরবি)
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
ফজিলতঃ সূরা ফালাক পাঠ করলে জাদু, দুর্নীতি ও শত্রুর খারাপ প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। দৈনিক পাঠ করা বিশেষভাবে নিরাপত্তা ও বরকত আনে।
সূরা নাস (আরবি)
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
مَلِكِ النَّاسِ
إِلَٰهِ النَّاسِ
مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
ফজিলতঃ সূরা নাসের পাঠ শয়তান ও নেফসের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে। প্রতিদিন সূরা নাস পড়লে অন্তর শান্তি পায় এবং আত্মার দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়।
সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত
সূরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত আমাদের জীবনে তাওহীদ, আল্লাহর শক্তি ও রহমতের প্রতি বিশ্বাস জোরদার করে। এগুলো হলোঃ
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ
সুতরাং প্রিয় পাঠক, সকালের ও সন্ধ্যার এই
আমলগুলোকে অবহেলা না করে প্রতিদিন পালন করো। এরা আমাদের জীবনের বরকত, সুরক্ষা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত এই আমলগুলো করলে আল্লাহ তা’আলা বিপদ ও দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করবেন এবং জীবনে শান্তি ও সফলতা দান করবেন।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাতের প্রত্যাশা করে; জান্নাত বলবে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করবে; জাহান্নাম বলবে, হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও। (তিরমিযী ও নাসায়ীبِسْمِ اللّهِ وَ عَلى بَرَكَةِ اللهِ
খাবার শেষে দোয়া
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ
বাথরুমে যাওয়ার দোয়া
اللّهُمّ إني أعوذ بك من الخبث والخبائث
বাথরুম থেকে বের হওয়ার দোয়া
غُفْرَانَكَ الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِيْ اَذْهَبَ عَنِّيْ الْاَذَى وَعَافَانِيْ
ঘুমাতে যাওয়ার সময় দোয়া
ঘুমানোর আগে রাসূল (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন: اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
ঘুম থেকে উঠার সময় দোয়া
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
দুধ খাওয়ার সময় দোয়া
اللّهُمَّ بارِكْ لِي فِيهِ وَزِدْنِي مِنْهُ
নতুন কাপড় পড়ার সময় দোয়া
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ
Comments
Post a Comment