সৎ পথের আহ্বান
সৎ পথের আহ্বান
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দীপ্তি)
আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় জিসান। কেমন আছো তুমি? আশা করি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালোই আছো। হৃদয়ের গভীর থেকে তোমার জন্য দোয়া করি—আল্লাহ যেন তোমার জীবনকে হিদায়াত, ইলম ও আমলের আলোয় আলোকিত করে দেন। আজ আমি তোমার জন্য কিছু কথা, কিছু উপদেশ, কিছু দিকনির্দেশনা লিখে যাচ্ছি—যা কেবল শব্দের সমষ্টি নয়, বরং আমার হৃদয়ের অনুভূতি, আমার জীবনের অভিজ্ঞতা, আর তোমার জন্য আমার গভীর মমতা ও দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।
তুমি জানো, আমি তোমার দুই বোনের জন্যও কিছু লেখা প্রস্তুত করেছি। তাদের হাতে সেই লেখাগুলো তুলে দেবো ইনশাআল্লাহ। কিন্তু মনে রেখো, যদিও সেই লেখাগুলো তাদের উদ্দেশ্যে লেখা, তবুও তার প্রতিটি লাইনে তোমার জন্যও রয়েছে শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং জীবনের পথ চলার পাথেয়। তুমি অবশ্যই তাদের কাছ থেকে সেই লেখাগুলো নিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়বে। কারণ জ্ঞান কখনো নির্দিষ্ট কারো জন্য সীমাবদ্ধ থাকে না—যে গ্রহণ করতে চায়, তার জন্য প্রতিটি উপদেশই অমূল্য সম্পদ।
তবুও, তুমি একজন ছেলে হিসেবে, একজন ভবিষ্যৎ দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে—তোমার জন্য আলাদাভাবে কিছু কথা বলা প্রয়োজন মনে করেছি। তাই এই লেখাগুলো তোমার জন্য বিশেষভাবে সাজিয়ে দিচ্ছি, যাতে তুমি তোমার জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারো, নিজেকে গড়ে তুলতে পারো একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে।
জিসান, একটি বিষয় তুমি খুব ভালো করেই জানো—ঈদের পর আমি চলে যাবো। এই চলে যাওয়া হয়তো সাময়িক, হয়তো দীর্ঘ সময়ের জন্য। আমি নিজেও জানি না, কবে আবার তোমাদের সাথে দেখা হবে, কবে আবার একসাথে বসে কথা বলা হবে। এই অজানার মাঝেই আমি আজ কিছু আমানত তোমার হাতে তুলে দিতে চাই—এই লেখাগুলোই সেই আমানত।
এই আমানত কোনো বস্তুগত জিনিস নয়, এটি জ্ঞানের, দিকনির্দেশনার, এবং ভালোবাসার এক অমূল্য ভাণ্ডার। আমি হয়তো তোমার পাশে থাকবো না, তোমাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবো না, কিন্তু এই লেখাগুলো তোমার পাশে থাকবে। যখনই তুমি বিভ্রান্ত হবে, যখনই তুমি পথ হারানোর আশঙ্কা অনুভব করবে, তখন এই লেখাগুলো খুলে পড়বে—দেখবে, যেন আমি তোমার সামনে বসে কথা বলছি, তোমাকে পথ দেখাচ্ছি।
জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। অনেক মানুষ এই মূল্যবান সময়কে অবহেলা করে নষ্ট করে ফেলে—অপ্রয়োজনীয় কাজে, অর্থহীন বিনোদনে, কিংবা গুনাহের পথে চলতে গিয়ে। কিন্তু তুমি সেই দলের কেউ হবে না। তুমি হবে তাদের একজন, যারা নিজের সময়কে সম্মান করে, প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগায়, নিজের জীবনকে গড়ে তোলে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে।
আমি চাই, তুমি এমন একজন মানুষ হও—যাকে দেখে তোমার মা-বাবা গর্ব করবে, তোমার শিক্ষকরা খুশি হবে, আর সমাজ তোমাকে উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করবে। এই লক্ষ্য অর্জন করা সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়। প্রয়োজন শুধু দৃঢ় সংকল্প, নিয়মিত চেষ্টা, এবং আল্লাহর উপর ভরসা।
এই লেখাগুলো তুমি শুধু একবার পড়ে রেখে দেবে না। বারবার পড়বে, গভীরভাবে চিন্তা করবে, নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখবে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার চেষ্টা করবে। কারণ প্রতিবার পড়লে তুমি নতুন কিছু উপলব্ধি করতে পারবে, নতুনভাবে নিজেকে গড়ার প্রেরণা পাবে।
জিসান, মনে রেখো—আমি শুধু তোমাকে পরামর্শ দিতে পারি, পথ দেখাতে পারি। কিন্তু সেই পথে চলার দায়িত্ব তোমার নিজের। পরিশ্রম করতে হবে তোমাকেই, মেধা খাটাতে হবে তোমাকেই, নিজের জীবনকে পরিবর্তন করতে হবে তোমাকেই। আমি দূরে থাকলেও আমার দোয়া সবসময় তোমার সাথে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
আমার জন্য দোয়া করবে—আল্লাহ যেন আমাকে কবুল করেন, আমার এই সামান্য প্রচেষ্টাকে কবুল করেন। আর তোমার জন্যও দোয়া করি—আল্লাহ যেন তোমাকে একজন আদর্শ, দ্বীনদার, এবং সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।
সবশেষে বলি, এই লেখাগুলোকে তুমি শুধু পড়ার জন্য নয়, জীবনে বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করো। এগুলোই হোক তোমার জীবনের পথপ্রদর্শক, এগুলোই হোক তোমার চলার সাথী।
সৎ পথের আহ্বান
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দীপ্তি)
আমার হৃদয়ের গভীর থেকে একটি আকাঙ্ক্ষা বারবার জেগে ওঠে—এই সমাজের প্রতিটি পুরুষ, প্রতিটি নারী যেন তাদের প্রভু, তাদের রব, মহান আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসে। এমন এক ভালোবাসা, যা কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত হয়। আমি চাই, মানুষের অন্তর আল্লাহর স্মরণে সজীব হোক, তাদের জীবন হোক আল্লাহর সাথে এক অবিচ্ছিন্ন সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ।
কতই না সুন্দর হতো, যদি আমরা প্রত্যেকে আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করতাম! যদি আমাদের জিহ্বা সর্বদা জিকিরে সিক্ত থাকত, যদি আমাদের হৃদয় সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ও ভালোবাসায় কম্পিত হতো! যদি আমরা প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতাম, এবং তাঁর দেওয়া প্রতিটি হুকুম যথাসময়ে, যথাযথভাবে আদায় করতাম—তাহলেই তো আমাদের জীবন হতো প্রকৃত অর্থে সফল।
একজন বান্দা হিসেবে আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্বই তো এটাই—আমাদের স্রষ্টাকে চেনা, তাঁকে ভালোবাসা, এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। কিন্তু আফসোস! আমরা আজ সেই মূল দায়িত্ব থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছি। আমরা এমন এক মোহে আটকে গেছি, যা আমাদের দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
এই দুনিয়া—এর চাকচিক্য, এর ঝলমলে বাহ্যিক রূপ, এর আরাম-আয়েশ—আমাদেরকে এমনভাবে আবিষ্ট করে ফেলেছে যে আমরা আমাদের আসল গন্তব্য ভুলে বসেছি। আমরা ভুলে গেছি সেই রবকে, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, যিনি আমাদের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মালিক, যিনি আমাদের জন্য জীবন ও মৃত্যুর ফয়সালা নির্ধারণ করে রেখেছেন।
আমরা এমনভাবে দুনিয়ার ভালোবাসায় ডুবে গেছি যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি আমলের জন্যও আমরা সময় বের করতে পারি না! ভাবো তো—কতটা দুর্ভাগ্যজনক এই অবস্থা! আমরা দুনিয়ার কাজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে পারি, কিন্তু আমাদের রবের সামনে দাঁড়ানোর জন্য কয়েক মিনিট সময়ও যেন আমাদের কাছে মূল্যহীন হয়ে গেছে।
কেন এমন হলো? কেন আমরা দুনিয়ার প্রতি এতটা আসক্ত হয়ে পড়লাম? কেন আমরা এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের ভোগ-বিলাস ও আরাম-আয়েশের মধ্যে নিজেদেরকে এতটাই নিমগ্ন করে ফেললাম যে, আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের কথা আমাদের মনেই আসে না?
বাস্তবতা হলো—এই দুনিয়া আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা। এখানে আমাদের কিছু অর্জন করতে হবে, কিছু উপার্জন করতে হবে, জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। ইসলাম কখনোই দুনিয়াকে সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে বলে না। বরং দুনিয়ার মধ্যেই থেকে আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়ার শিক্ষা দেয়।
তাই দুনিয়াতে চলতে হলে আমাদের কিছু অর্থের প্রয়োজন, কিছু অর্জনের প্রয়োজন—এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন এই দুনিয়াই আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। যখন আমরা দুনিয়ার পেছনে ছুটতে গিয়ে আখেরাতকে ভুলে যাই, তখনই আমরা প্রকৃত ক্ষতির সম্মুখীন হই।
আমাদের মনে রাখতে হবে—এই জীবন চিরস্থায়ী নয়। আজ আমরা আছি, কাল হয়তো থাকবো না। মৃত্যু আমাদের খুবই নিকটে, যদিও আমরা তা অনুভব করতে পারি না। তাই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আখেরাতের চিন্তা থাকতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে—আমার এই কাজ কি আমাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, নাকি জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?
আমাদের জীবনের একটি বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত—জান্নাত লাভ করা। সেই জান্নাত, যেখানে থাকবে চিরস্থায়ী সুখ, যেখানে থাকবে না কোনো দুঃখ, কোনো কষ্ট, কোনো ভয়। আর সেই জান্নাত লাভের জন্য আমাদেরকে এই দুনিয়াতেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
তাই আসো, আমরা আমাদের জীবনের দিক পরিবর্তন করি। আমরা দুনিয়াকে আমাদের হাতের মধ্যে রাখি, কিন্তু হৃদয়ের মধ্যে নয়। আমরা দুনিয়ার প্রয়োজনীয় কাজ করি, কিন্তু আমাদের অন্তরকে আল্লাহর ভালোবাসায় পূর্ণ করি। আমরা আমাদের সময়কে এমনভাবে ভাগ করি, যাতে দুনিয়া ও আখেরাত—দুটোই সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিতে পারি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন—তাঁকে ভালোবাসার, তাঁর সাথে সম্পর্ক গড়ার, এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার। আমিন।
কিন্তু একবার ভেবে দেখো—এই দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝে যদি এমন হয়, আমি আমার রবকেই ভুলে যাই! আমি আল্লাহ তাআলাকে ভুলে যাই, তাঁর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে পড়ি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে ভুলে যাই, রমযানের রোজা রাখতে অবহেলা করি, মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করতে ভুলে যাই—তাহলে আমার এই দুনিয়ার অর্জনের মূল্যই বা কী থাকে?
যদি এমন হয়, আমার জিহ্বা কুরআনের তেলাওয়াত থেকে শূন্য হয়ে যায়, সকাল-সন্ধ্যার আমলগুলো আর আমার জীবনের অংশ না থাকে, নফল নামাজের প্রতি কোনো আগ্রহ না থাকে, তাহাজ্জুদের নীরব রাত আমার কাছে অচেনা হয়ে যায়—তাহলে তো আমি ধীরে ধীরে এক শূন্যতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এমন শূন্যতা, যা বাহ্যিকভাবে চোখে পড়ে না, কিন্তু অন্তরকে নিঃশেষ করে দেয়।
আর যদি আমি মানুষের উপকার করা ভুলে যাই, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো ভুলে যাই, দরিদ্রদের কষ্ট অনুভব না করি—তাহলে তো আমার মানবিকতাই হারিয়ে যাচ্ছে। তখন আমার জীবনের সৌন্দর্য কোথায়? তখন আমার এই অর্জন, এই সাফল্য—সবকিছুই তো অর্থহীন হয়ে পড়ে।
তাই বলছি, জিসান—যতটুকু সম্ভব দুনিয়া অর্জন করো, জীবনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য উপার্জন করো, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করো—এসবই প্রয়োজন। কিন্তু এই সবকিছুর পরেও অবশ্যই তোমাকে কিছু সময় আল্লাহ তাআলার জন্য নির্ধারণ করতে হবে। সেই সময়, যা হবে একান্তই তাঁর জন্য; যেখানে থাকবে না কোনো দুনিয়ার ব্যস্ততা, থাকবে না কোনো বিভ্রান্তি।
তোমাকে তোমার আখেরাতকে সাজাতে হবে। যেমনভাবে তুমি দুনিয়ার জন্য পরিকল্পনা করো, ভবিষ্যতের জন্য চিন্তা করো—ঠিক তেমনি, বরং তার থেকেও বেশি গুরুত্ব দিয়ে তোমাকে আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখেরাত চিরস্থায়ী।
নিজের জান্নাতকে গড়ে তোলার চিন্তা করতে হবে। ভাবতে হবে—কোন কাজগুলো আমাকে জান্নাতের কাছে নিয়ে যায়, আর কোন কাজগুলো আমাকে দূরে সরিয়ে দেয়। প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত যেন হয় সেই জান্নাতের পথে একেকটি ধাপ।
আর সবকিছুর উপরে—মৃত্যুর প্রস্তুতি নিতে হবে। মৃত্যু এমন এক সত্য, যা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এটি হঠাৎ করেই এসে যায়, কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই। তাই বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে জীবিত থাকতেই নিজের শেষ যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে রাখে।
একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করো—প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কতভাবে সাহায্য করছেন! আমরা শ্বাস নিচ্ছি—এটাও তাঁর দান। আমরা সুস্থ আছি—এটাও তাঁর অনুগ্রহ। আমাদের ছোট ছোট ইচ্ছাগুলো, আমাদের মনের গোপন আশা—সবকিছুই তিনি জানেন, এবং অনেক সময় আমরা চাওয়ার আগেই তিনি তা পূরণ করে দেন।
আমরা জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি—যেগুলোর কথা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। এমন অনেক নিয়ামত আমাদের কাছে আছে, যা কোটি কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়। এই চোখ, এই কান, এই সুস্থ দেহ, এই বুদ্ধি—সবই তো তাঁর অমূল্য দান।
তাহলে কি আমাদের উচিত নয়, সেই মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া? তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা? তাঁর হুকুম মেনে চলা?
ভাবো তো—যিনি আমাদের এত কিছু দিয়েছেন, তাঁর অবাধ্য হওয়া কত বড় অন্যায়! আমরা যদি জেনে-শুনে তাঁর নাফরমানি করি, যদি বুঝেও না বোঝার ভান করি, যদি তাঁর ডাকে সাড়া না দিই—তাহলে আমরা কেমন অকৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে যাই!
তাই আজ থেকেই নিজের ভেতরে এক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করো। নিজের সাথে নিজে প্রতিজ্ঞা করো—আমি দুনিয়ার পেছনে ছুটবো, কিন্তু আমার রবকে ভুলে নয়; আমি উপার্জন করবো, কিন্তু আমার আখেরাতকে ধ্বংস করে নয়; আমি জীবন গড়বো, কিন্তু সেই জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি।
এই পথটাই হলো সফলতার পথ—দুনিয়া ও আখেরাত, উভয় জগতের প্রকৃত সফলতার পথ।
জিসান, আমরা জানি নামাজ পড়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ আমাদেরকে যে সুস্থ শরীর, দুটি চোখ, শ্রবণশক্তি এবং অসংখ্য নেয়ামত দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন, সেই সমস্ত আশীর্বাদ আমাদের নিজের অঙ্গীকার ও আধ্যাত্মিক সচেতনতার উপর নির্ভর করছে। যদি আমরা নামাজকে অবহেলা করি, তবে আল্লাহ সেই আশীর্বাদগুলো আমাদের থেকে ফিরে নিতে পারেন। তিনি শক্তিশালী এবং তাঁর ক্ষমতা অসীম। এজন্য প্রত্যেক মুহূর্তে আমাদের মনকে সতর্ক রাখতে হবে, আল্লাহর ভয় ও সম্মানকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো আমাদের জন্য আবশ্যক। যখন আযান কানে আসে, তখন আর কোনো ব্যস্ততা, আর কোনো কাজ আমাদেরকে নামাজ থেকে বিরত করতে পারবে না। ফজরের সময়, জোহরের সময়, আসরের সময়, মাগরিব ও এশার সময়—যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন—সরাসরি মসজিদে যাওয়া বাধ্যতামূলক। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আমাদেরকে সর্বপ্রথম আল্লাহর দিকে মনোযোগ রাখতে হবে এবং নিয়মিতভাবে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজ পড়ার জন্য সময় মোটেই দীর্ঘ নয়; এক ঘন্টা যথেষ্ট, এবং বাকি ২৩ ঘণ্টা আমরা দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত থাকব। তবে সেই ব্যস্ততার মধ্যে আল্লাহর স্মরণ, কুরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা, এবং নফল নামাজও অব্যাহত রাখতে হবে।
আজ থেকেই মনস্থির করো—আর কোনোদিন নামাজ এড়াবে না। কোনোদিন আল্লাহর হুকুম অমান্য করবে না। একবেলা না খেয়ে থাকা যদি সম্ভব হয়, তাহলে নামাজের সময়ও তা বাধা হবে না। নামাজ আমাদের আত্মাকে প্রশান্তি দেয়, মনকে শক্তিশালী করে, এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় করে। প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে। যদি এখনো কোরআন শিখতে পারো না, তবে যেকোনোভাবেই হোক শিখে নাও। কোরআন শিখা মানে হচ্ছে আল্লাহর হুকুম, জীবনদর্শন ও নৈতিকতা হৃদয়ে ধারণ করা। প্রতিদিন কিছু না কিছু কোরআনের আয়াত পড়া, বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োগ করা অবশ্যক।
নামাজের সময় আমাদেরকে পুরো মনোযোগ দিয়ে দাঁড়াতে হবে। আল্লাহর প্রতি আমাদের ভয় ও ভক্তি যেন হৃদয় স্পন্দিত করে। এই প্রার্থনা আমাদের শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের নৈতিক ও মানসিক শক্তিও যোগায়। প্রতিদিন নামাজের সঙ্গে সঙ্গে কুরআন পড়া আমাদের অন্তরে আল্লাহর আলোচনা জাগায় এবং আমাদের চরিত্রকে শুদ্ধ করে। যারা নামাজকে অবহেলা করে, তারা ভুলে যায় যে আল্লাহই আমাদের সব কিছুর উৎস। আমাদের সুস্থ শরীর, চোখ, শ্রবণশক্তি—এগুলো আমাদের শিক্ষা ও পরিশ্রমকে সফল করতে সহায়ক। কিন্তু যদি আমরা আল্লাহকে ভুলে যাই, তাহলে আমাদের জীবন শূন্য হয়ে যেতে পারে।
অতএব, জিসান, তোমার প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর নির্দেশনাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে। নামাজ পড়া শুধু একটি রুটিন নয়, এটি একটি জীবনধারা। এটি আমাদের আধ্যাত্মিক বৃদ্ধি, নৈতিক উন্নতি এবং সর্বশেষে আখেরাতের প্রস্তুতির একটি অংশ। প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুনিয়ার আরাম আমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। এই জন্য নিয়মিত জামাতের সঙ্গে নামাজ, কুরআনের তেলাওয়াত, নফল নামাজ এবং দান-সদকা আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
আল্লাহ আমাদেরকে প্রতিটি মুহূর্তে সাহায্য করছেন। আমাদের মনের আশা, আমাদের প্রয়োজন, এমনকি যে জিনিসগুলো আমরা কল্পনাও করিনি, আল্লাহ তা'আলা আমাদের দান করেছেন। কোটি কোটি টাকা দিয়ে তিনি আমাদের আশীর্বাদ করেছেন, আমাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, সুস্থ শরীর এবং মানসিক শান্তি প্রদান করেছেন। এই সমস্ত আশীর্বাদকে হারিয়ে না যেতে, আমাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর হুকুম মেনে চলতে হবে। যদি আমরা অবাধ্য হই, নাফরমানি করি, বা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করি, তাহলে সেই সমস্ত আশীর্বাদ হারানোর সম্ভাবনা থাকে।
তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে আল্লাহর জন্য সময় বের করা একান্ত প্রয়োজন। নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, নফল ইবাদত—এগুলো আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। নামাজের মাধ্যমে আমরা আত্মিক প্রশান্তি পাই, আমাদের অন্তর আলোকিত হয় এবং আল্লাহর কাছে নিকটতম হওয়ার সুযোগ পাই। প্রতিটি আয়াত, প্রতিটি প্রার্থনা আমাদের চরিত্রকে আলোকিত করে, আমাদের জীবনকে সুশৃঙ্খল ও নৈতিক করে।
জিসান, আজ থেকেই নিজের প্রতিদিনের সময়কে পরিকল্পিত করো। নামাজকে সর্বপ্রথম স্থাপন করো, কুরআন পড়া ও বোঝার চেষ্টা করো, এবং নফল নামাজ, দান-সদকা এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতি অব্যাহত রাখো। প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলো। এই জীবনধারা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজকে সঠিক ও ফলপ্রসূ করে তোলে। আল্লাহর প্রতি ভক্তি, নামাজের নিয়মিততা, কুরআনের তেলাওয়াত—এই তিনটি আমাদের জীবনকে সম্পূর্ণ করে, আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের উন্নতি নিশ্চিত করে।
অতএব, প্রতিদিনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাও। নামাজ পড়ো, কুরআন শিখো, আল্লাহর নির্দেশ পালন করো এবং মানুষের প্রতি সদয় হও। নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাও, যাতে তোমার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। প্রতিদিন একটু হলেও কোরআনের আয়াত পড়া ও নামাজ আদায় করা, আমাদের আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটায়। প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা আমাদের জীবনের সফলতা ও আখেরাতের জন্য অপরিহার্য।
সকাল ও সন্ধ্যার আমল অবশ্যই পালন করবে। আমি এগুলো লিখে আলাদা কাগজে তোমাদেরকে দেব, সেখান থেকে শিখে নিতে হবে। আগামীতে তুমি পড়াশোনা কম করবে, অর্থ উপার্জন করবে, তাই অর্থ উপার্জন অবশ্যই হালাল পথে করতে হবে। সুদ, ঘুষ বা কোনো হারাম উপায় কখনো গ্রহণ করবে না। যেকোনো কাজ করবে, হালাল ও নিজের যোগ্যতার সীমার মধ্যে করতে হবে। বেশি উপার্জনের লোভে হারাম পথে যাবে না। সব সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে এবং যতটুকু পরিশ্রম করা সম্ভব, করবে।
একটি বিষয় ভালো করে মনে রাখো, তোমার আব্বু বাংলাদেশে থাকেন না। তিনি সৌদিতে প্রবাসী। তুমি চাইলেও তার সঙ্গে একসাথে থাকা যাবে না, একসাথে ছেলে-মেয়েসহ স্ত্রীসহ খাওয়া-দাওয়া বা ঘুমানো হবে না। এটা শুধুই আশা ও স্বপ্ন। তবে তিনি এই কষ্ট শুধু তোমাদের জন্যই করছেন। এইজন্য তোমাকে আব্বুর পরিশ্রমের পিছনে দাঁড়াতে হবে। বড় ভাই হিসেবে তোমাকে দায়িত্ব নিতে হবে। তোমার আব্বুকে বলতে হবে, "আব্বু, তুমি টেনশন কোরো না, আমি তোমার পাশে আছি। তুমি যেখানে থেকে চেষ্টা করো, আমি এখানে থেকে চেষ্টা করব।"
বাড়ির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করো, মেহনত করো। তবে শুধু নিজের জন্য নয়, তোমার দুই বোন ও ছোট ভাইয়ের জন্যও দায়িত্ব নিতে হবে। তোমাদের সংসার, তোমাদের পড়াশোনা, তোমাদের আচার-ব্যবহার—সবকিছু বড় ভাই হিসেবে তোমার নজরে রাখতে হবে। তোমার আব্বু যেখানে থেকে চেষ্টা করছেন, সেখানে থেকে তোমাকেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
তোমার আম্মু বাড়িতে একা থাকেন, আব্বু ছাড়া। তোমাকে তার সহযোগী হতে হবে। কখনো তার মন খারাপ হতে দিও না। বড় ভাই হিসেবে তোমাকে পরিবারকে সমন্বয় করতে হবে, বোনদের পথ প্রদর্শন করতে হবে, ছোট ভাইয়ের জন্য নজর দিতে হবে। প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলবে। পরিবারের সকলের শান্তি ও সুখ নিশ্চিত করা তোমার কর্তব্য।
জিসান, এই জীবন সহজ নয়। তবে দায়িত্ব, আত্মিক সচেতনতা, এবং আল্লাহর হুকুম মেনে চলা তোমাকে সফল করবে। কোরআন শিখা, নামাজের নিয়মিততা, আখেরাতের চিন্তা—all combined, এগুলো তোমার জীবনের ভিত্তি হবে। বড় ভাই হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মানে কেবল পদক্ষেপ নয়, মানসিক প্রস্তুতিও। তোমাকে শেখার জন্য, দাওয়াতের জন্য, দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে, আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিয়ে, পরিবারের সুখ এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে তোমাকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে। তোমার পরিবারকে সচল রাখার জন্য প্রতিটি মুহূর্তে ফিকির করতে হবে। যখন যা প্রয়োজন হবে, কিভাবে তা পূরণ হবে—সেই চিন্তা সবসময় তোমাকে করতে হবে। অলস জীবন যাপন করা যাবে না। বরং অতি দ্রুত, তোমার যোগ্যতা অনুযায়ী, কোনো কাজের মধ্যে প্রবেশ করো। তুমি যা করতে পার না—সেটিও চেষ্টা করো, অবশ্যই করো।ভবিষ্যতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ অবশ্যই তোমাকে নিতে হবে। পরিবারের পরামর্শ অনুযায়ী যে কাজগুলো তোমার হাতে আসবে, তা তোমাকে পূর্ণ নिष्ठা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। পরিবার, তাদের হাল, পরিবারের ভরণপোষণ ও দৈনন্দিন খরচ—সবকিছুতে তোমার সহায়তা এখন থেকেই শুরু হওয়া উচিত। এজন্য কাজের শুরুটা আজ থেকেই করো।
তুমি নিয়ত রাখো—আমি হয়তো বেশি পড়ালেখা করতে পারিনি, তবে আমি চেষ্টা করেছি এবং করব। দুই ভাই ও এক বোন—এই তিনজনকে আমি বড় বানাবো, তাদের জন্য সবরকম সুযোগ ও শিক্ষা নিশ্চিত করব। এই আশা ও নিয়ত তুমি মনে রাখো। তাদের মনের চাহিদা ও স্বপ্ন পূরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। দোয়া করো যাতে আল্লাহ তা’আলা তাদের মনের আশা পূরণ করেন।
বড় ভাই হিসেবে তোমাকে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। যত অর্থ খরচ লাগুক, যত পরিশ্রম প্রয়োজন—সবই তাদের জন্য দিতে হবে। তাদের শিক্ষা, তাদের দেখাশোনা, তাদের ভবিষ্যত—সবকিছুতে তোমার সতর্কতা ও দায়িত্ব থাকা উচিত। তুমি যদি এখন থেকে কিছুটা সহায়তা দাও এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি নজর রাখো, তবে তারা ভবিষ্যতে এমন কিছু অর্জন করবে যা আমাদের পরিবারের আলো ছড়িয়ে দেবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বড় ভাই হিসেবে তুমি দেখবে তারা কতটুকু তোমার প্রতি স্নেহ ও ভক্তি রাখে। তারা তোমার জন্য চোখের পানি ফেলবে, আল্লাহর কাছে তোমার জন্য দোয়া করবে, বলবে: "হে আল্লাহ! আমাদের বড় ভাই আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন, অনেক কিছু করেছেন। আমাদের বড় ভাইকে সাহায্য করো, সহযোগিতা করো। আমাদের বড় ভাইকে তোমার অলি বানিয়ে দাও।"
জিসান, বড় ভাই হিসেবে তোমার কাজ কেবল দায়িত্ব নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক ফজিলতও। তোমার অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও সততা পরিবারকে সুসংগঠিত করবে এবং আল্লাহর রসূলের নৈতিকতা ও দিকনির্দেশনার সঙ্গে তোমার জীবনকে সংযুক্ত করবে। প্রত্যেকটি পদক্ষেপে তোমাকে স্মরণ রাখতে হবে—তোমার কাজের মাধ্যেমে পরিবার শক্তিশালী হবে, শিক্ষিত হবে, সুসংহত হবে। এবং সেই চেষ্টা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় হবে।
সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহ আমাদের বড় ভাইকে হেফাজত করুন। যেন তার উপর কোনো অঘটন না আসে। যেন তার জীবন সুস্থ, নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকে। একইভাবে, তার বোন এবং ভাইও তার জন্য দোয়া করতে থাকবে, তার পাশে দাঁড়াবে। এই দায়িত্ব ও কর্তব্য কেবল বড় ভাইয়ের নয়, এটি তার আধ্যাত্মিক ও পারিবারিক কর্তব্যও।জিসান, তোমার কাজ হবে—তোমার ছোট ভাই ও বোনদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের নৈতিক ও সৎ চরিত্রের সাথে পরিচিত করানো। নিজের চরিত্রকে সর্বদা সৎ ও ঈমানদার রাখা। ভালো মানুষের সঙ্গ নিয়েই চলা, কখনোই খারাপ ছেলেদের বা বখাটে মানুষের সাথে সম্পর্ক না রাখা। সবসময় ভালো কথা বলা, সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করা, সহমর্মিতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখা।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—মোবাইলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখা। সময় নষ্ট করা যাবে না। যদি কোনো প্রয়োজনীয় কাজ থাকে, তা করা অবশ্য। তবে অহেতুক ভিডিও দেখা, ছবি দেখা, গান শোনা, রিলস বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেমনভাবে সময় ব্যয় করা—সেটি একেবারেই বর্জনীয়। প্রতিটি মুহূর্তকে ফলপ্রসূ কাজে ব্যবহার করতে হবে।
একটু খেয়াল করো, জিসান। আমরা এই জীবনে অনেক গুনাহ করেছি। আমাদের যেটুকু বয়স হয়েছে, সেই সময়ের কতটুকু আমরা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছি? আমাদের ২৪ ঘণ্টার অধিকাংশ সময় মোবাইলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ভিডিও, নাটক, সিনেমা বা রিলস দেখার মধ্যেই কেটে যায়। অথচ এগুলো দেখার পর আমাদের জীবনে কোনো লাভ হয় না। বরং ক্ষতি হয়—সময় নষ্ট হয়, মন শিথিল হয়, চিত্ত ও আত্মা দুর্বল হয়।
এইজন্য জিসান, প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর ইবাদত, শিক্ষা, নৈতিক চর্চা এবং প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করো। নিজের চরিত্র গড়ে তুলো। ছোট ভাই ও বোনদেরও একই পথে পরিচালিত করো। মোবাইল ও অবহেলাজনিত সময় নষ্ট বন্ধ করো। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য, পরিবারের কল্যাণের জন্য, নিজের উন্নতির জন্য—এই নীতি মেনে চলা অপরিহার্য।
এই ভিডিও, অবাঞ্ছিত রিলস, অপ্রয়োজনীয় খেলা—এগুলো দেখার মাধ্যমে আমাদের জীবনে কোনো টাকা বা অর্থ উপার্জন হয় না। যারা এই কাজগুলো করে, তাদের জীবনেও কোনো স্থায়ী লাভ নেই, কোনো সফলতা নেই। যারা সময় নষ্ট করে এগুলো দেখে, তাদের ব্যক্তিগত উন্নয়নও হয় না। কতটুকু দেখব আমরা এগুলো? প্রতিদিন কত ঘণ্টা আমাদের মেধা, মন ও সময় নষ্ট হচ্ছে এই কাজে?যখন খেলা চলে—ক্রিকেট, ফুটবল বা অন্য কোনো খেলা—মানুষ কত আগ্রহ নিয়ে দেখে। তবে কি তোমার জীবনে কোনো লাভ হবে? খেলার প্রতি সময় ব্যয় করলে কি তুমি কোনো উপার্জন করবে? কি তুমি উন্নতি করবে? না, বরং নিজের সময় এবং টাকা খরচ করতে হবে। নিজের মোবাইলের ডেটা ব্যবহার করবে, নিজের মানসিক শক্তি নষ্ট হবে। কতদিন আমরা এই খামখেয়ালি ও অব্যবস্থাপনায় চলতে থাকব?
এখন সময় এসেছে জাগরণের। এখন সময় এসেছে পূর্ণভাবে আল্লাহর ভয় এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার। নিজের ইচ্ছেকে নিয়ন্ত্রণ করা, অহেতুক চলাফেরা থেকে বিরত থাকা এবং উদাসীনতা ত্যাগ করা অপরিহার্য। প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে হবে—নিজের আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, শিক্ষা ও নৈতিকতার উন্নয়নে।
প্রতিটি মানুষের সাথে চলাফেরা আমাদের ভালো হতে হবে। সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। যেই কাজ করলে মানুষ আমাকে সৎ ও ভালো বলবে, সেই কাজই আমাকে করতে হবে। সমাজে প্রত্যেকের মধ্যে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে হবে। মানুষের চোখের শীতলতা এবং হৃদয়ের প্রশান্তি আমি হতে পারব। এই কাজগুলোই আমার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সুতরাং জিসান, আমাদের সময় নেই অবান্তর ভিডিও, খেলা বা সামাজিক নকল কার্যকলাপে। আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে এমন কাজে ব্যয় করতে হবে যা আমাদের, আমাদের পরিবার এবং সমাজকে সমৃদ্ধ করবে। যা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হবে। যা আমাদের সত্যিকারের সাফল্য, সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে। প্রতিটি পদক্ষেপে সচেতন হও, আল্লাহর নির্দেশ মান, এবং সৎ ও ফলপ্রসূ পথে চল।
কখনোই এমন কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া যাবে না, যা সমাজের মানুষের চোখে আমাকে খারাপ করে তুলবে। যে কাজগুলো করলে অন্যের চোখে আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে, সেই কাজগুলো থেকে আমি সর্বদা বিরত থাকব। আমাদের সময় এবং মনোযোগকে অহেতুক কার্যকলাপে ব্যয় করা মানে নিজের মূল্যহানি করা। টিকটক ভিডিও, অপ্রয়োজনীয় সামাজিক মিডিয়ার কার্যকলাপ—এসব থেকে দূরে থাকা আমার নৈতিক দায়িত্ব। এগুলোতে কোনো স্থায়ী লাভ নেই; বরং ক্ষতি এবং নষ্টের জন্যই এগুলো রয়েছে।বরং আমি আমার শক্তি, মন, এবং সময় এমন কাজে ব্যয় করব যা আমাকে উন্নতি করবে, জীবনের অগ্রগতি নিশ্চিত করবে, এবং আমার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ঘটাবে। আমি আমার পরিবারকে সম্মান করব এবং আমার মা-বাবার অবাধ্য কখনোই হবো না। তাদের নির্দেশনা এবং পরামর্শ অনুযায়ী চলব; কখনো তাদের সঙ্গে ঝগড়া করব না, কখনো রাগ প্রকাশ করব না। তাদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করব, তাদের পাশে থাকব, এবং তাদের নির্দেশনা অনুসারে চলব।
একটি নিয়ত করো, তুমি কখনোই মা-বাবার বিরুদ্ধে যাবে না। তাদের পরামর্শকে শ্রদ্ধা করবে এবং তা মানবে। কখনোই নিজের ইচ্ছা আল্লাহর বিধান বা পিতামাতার নির্দেশের বিপরীতে কার্যকর করবে না। তারা যা উপদেশ দেবেন, সেই পথেই চলবে। তাদের সাথে সম্পর্কের মধ্যে সৌজন্য, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় থাকবে।
তুমি কখনো কোনো মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করবে না। প্রেম, ভালোবাসা, বা এমন কোনো সম্পর্ক যা হারাম, এসব থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে আল্লাহর আজাব আসে; শাস্তি হতে পারে, এবং আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং হারাম থেকে দূরে থাকা আমাদের প্রথম ও সর্বাগ্রে দায়িত্ব।
সুতরাং, প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্ক থাকবে। নিজের ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করবে, হারাম ও অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকবে, এবং সবসময় সেই কাজ করবে যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবে, জীবনে সত্যিকারের উন্নতি আনবে, এবং পরিবার ও সমাজে সম্মান রক্ষা করবে। প্রতিটি মুহূর্তকে সৎ ও ফলপ্রসূ কাজে ব্যবহার করো, যা তোমাকে আল্লাহর নৈকট্য, পরিবারিক সুশৃঙ্খলতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা এনে দেবে।
এইজন্য তুমি নিজের থেকে কোনো মেয়েকে কখনো প্রপোজ করবে না। মনের মধ্যে কোনো খারাপ চিন্তা আনবে না। আজকের যুব সমাজ সবচেয়ে বেশি যে কাজগুলোর মধ্যে লিপ্ত, তা হলো ছবি দেখা, মুভি দেখা, এবং নায়ক-নায়িকাদের জীবনের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ রাখা। তারা জানে কখন কোন ছবি বের হচ্ছে, কখন নায়ক নায়িকা কোথায় কি করছে, সেই ব্যাপারে তারা অপেক্ষা ও আগ্রহ দেখায়। এটি একেবারেই খারাপ এবং লজ্জাজনক কাজ। আমরা মুসলমান হয়ে কেন এই ধরনের সময় নষ্ট এবং ক্ষতি করার কাজে লিপ্ত হব?যখন আমরা ছবি বা মুভি দেখি, অথবা খেলা দেখি, একটু চিন্তা করলে দেখতে পাবো, এর পিছনে আমাদের সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে—দৃষ্টি ক্ষয়, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা, মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়া। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো অর্থ ব্যয়। আমরা টাকা দিয়ে এমবি কিনেছি, কিন্তু সেই এমবিকে আমরা অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক কাজে ব্যবহার করছি। অন্যদিকে যারা এই ছবি বা খেলা দেখায়, তারা লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছে, অথচ আমাদের কিছুই পাওয়া যায় না; শুধুমাত্র কষ্ট ও ক্ষয় হয়।
আমাদের শ্রমকে সামান্য মজার কারণে অনর্থক কাজে ব্যয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি আমরা চাইলে এই সময়টিকে অনেক প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতে পারতাম। পরিবারকে সহায়তা করতে পারতাম, শিক্ষা অর্জন করতে পারতাম, নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারতাম। যদি মোবাইলে ভিডিও দেখা অত্যাবশ্যক হয়, তবে অবশ্যই শিক্ষামূলক এবং প্রয়োজনীয় ভিডিও দেখা উচিত। যেমন, পড়াশোনার ভিডিও, ইংরেজি শেখার ভিডিও ইত্যাদি। যদি এখনো ইংরেজি শেখা যায় না, মোবাইলের সাহায্যে এটি শেখার সুযোগ রয়েছে। এই সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করাই আমাদের প্রকৃত লাভ।
সুতরাং প্রতিটি মুহূর্তকে সতর্কভাবে ব্যয় করো। হারাম ও অপ্রয়োজনীয় আনন্দের খোঁজে সময় নষ্ট করো না। বরং নিজের উন্নতি, পারিবারিক কল্যাণ, শিক্ষাগত অর্জন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে সময় ব্যয় করো। স্মরণ করো, প্রতিটি ক্ষয়কালে আমরা যা হারাই তা আর ফিরে আসে না। তাই আমাদের সচেতন হওয়া উচিত, আমাদের সময়, শক্তি এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
আমি যদি অংক না পারি, তাহলে মোবাইলের মাধ্যমে অংক শিখতে পারি। মোবাইল থেকে বই নামিয়ে পড়াশোনা করতে পারি, অথবা হক্কানী উলামায়ে কেরামের বয়ান শুনতে পারি। এগুলো আমার শিক্ষার ধারাকে উন্মুক্ত করবে এবং আমাকে জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই, আর কখনো এমন অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করা যাবে না।সবচেয়ে বড় কথা হলো, আল্লাহর কাছে আমাদেরকে প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিটি কাজের ফলাফল আল্লাহর সামনে আমাদের উপস্থাপন করতে হবে। আজকে ছবি দেখার সময় আছে আমাদের, কিন্তু কুরআন শেখার সময় নেই। খেলা দেখার সময় আছে, কিন্তু বাড়ির কাজকর্মের জন্য সময় নেই। ফেসবুকে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রল করতে সময় যায়, কিন্তু নিজের পড়াশোনায় সময় নেই। সমাজ আজ মোবাইলের কারণে এবং এটির সঠিক ব্যবহার না জানার কারণে ক্ষতির মধ্যে পড়ে।
মোবাইল খারাপ নয়। বরং এটি ভালো উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু ব্যবহার না জানার কারণে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে এবং গুনাহের ফাঁদে পড়তে হচ্ছে। এজন্য আমার আহ্বান থাকবে, অন্তত তুমি জিসান, এই ধরনের ক্ষতিকর কাজ থেকে দূরে থাকো।
আমি তোমার দুটো হাত ও দুটো পা ধরে অনুরোধ করছি: কখনো নিজেকে গুনাহের পথে ফেলো না। কখনো ছবি দেখার চিন্তা করো না। তোমার চোখের সুরক্ষা নিশ্চিত করো এবং বাইরের মেয়েদের ছবি কখনো দেখো না। এইভাবে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবে, নিজের শিক্ষা ও চরিত্র গঠন করবে, এবং সমাজের একজন সম্মানিত ও সৎ মানুষ হয়ে উঠবে।
আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয় এমন কাজ আর করো না। আর কতদিন এমন অবহেলাজনক পথে চলবে? কখন আমরা শিক্ষা শিখব? তুমি পরিবারের বড় সন্তান, যদি তোমার দ্বারা অহেতুক কাজ প্রকাশ পায়, তাহলে তোমার ছোট ভাই ও দুই বোন তোমার থেকে কি শিখবে বল।তুমি তাদের অভিভাবক, গার্ড এবং তাদের জন্য দায়িত্বশীল। তোমার সর্বোচ্চ সহযোগিতা তাদের জন্য কাম্য। তাদের প্রতি কঠোরতা দেখাতে হবে, তাদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। তাদেরকে মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
যদি তুমি নিজেই অহেতুক অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করো, তাহলে তাদের জন্য তুমি কী আদর্শ তৈরি করবে? তাদের শেখানোর মতো কোন উদাহরণ থাকবে কি? তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, অন্তত তোমার নিজের এই অপ্রয়োজনীয় কাজগুলো বাদ দাও। মোবাইলকে সম্পূর্ণ বাদ দিতে বলছি না, বরং এর মধ্যে থাকা অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর কাজগুলো থেকে দূরে থাকো।
প্রয়োজনীয় কাজের জন্য মোবাইল ব্যবহার করতে পারো। যেমন, অনলাইনে আয় করা, গ্রাফিক্স বা ডিজাইনিং-এর কাজ শেখা, বিভিন্ন পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত অনলাইন পরামর্শ দেওয়া—এই ধরণের কাজে মনোযোগ দাও। এইভাবে তুমি নিজেকে, তোমার ভাইবোনকে এবং পরিবারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
যেসব কাজ হালাল এবং সার্থক, সেগুলোই তোমার লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রতিদিনের সময়কে এমন কাজে ব্যয় করো যা তোমার আত্মাকে সমৃদ্ধ করে, যা তোমার জ্ঞান, চরিত্র এবং ঈমানকে শক্তিশালী করে। হালাল পথে যে কাজগুলো রয়েছে, সেগুলোই করো। এগুলো তোমার জন্য এবং তোমার পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে। এগুলো তোমাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সাহায্য করবে এবং তোমার জীবনে বাস্তব উন্নতি নিশ্চিত করবে।অপরদিকে, tiktok বানানো, রিলস তৈরি করা, অপ্রয়োজনীয় ভিডিও বানানো বা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও দেখা—এই সমস্ত কর্মকাণ্ড তোমার সময়কে নষ্ট করে, তোমার মনোযোগকে ছিনিয়ে নেয় এবং তোমার ভবিষ্যতের জন্য কোনো গঠনমূলক যোগান দেয় না। এগুলোতে তুমি কোনো শারীরিক, মানসিক বা আত্মিক উন্নতি পাবে না। এগুলো শুধুমাত্র ক্ষণিক আনন্দ দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি ছাড়া কিছুই নয়। এগুলোকে সরাসরি তোমার জীবনের মূল পথ থেকে বিভ্রান্তি হিসেবে দেখা উচিত।
তুমি যদি কোরআন পড়তে পারো না বা পড়ার সময় থাকে না, তাহলে মোবাইলের সহায়তা নিতে পারো। আজকের যুগে মোবাইল শুধু বিনোদনের জন্য নয়; বরং এটি একটি শক্তিশালী শিক্ষার হাতিয়ার। মোবাইলের মাধ্যমে তুমি কোরআন শিখতে পারো, হাদীস জানতে পারো, ইসলামী তাফসীর শুনতে পারো, এবং নিজের জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি প্রসারিত করতে পারো। যদি তুমি সদ্ব্যবহার করতে জানো, তাহলে মোবাইল তোমার জীবনের এক মূল্যবান শিক্ষার পথ হয়ে উঠতে পারে।
আমি অনেক কথা বলেছি, হয়তো কঠোর মনে হতে পারে, কিন্তু তোমার মন খারাপ করবে না। আমি তোমার মামা হিসাবে, বিনম্র অনুরোধ করছি—আমি চাই তোমার জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। আমি চাই তোমার জীবন সুন্দর এবং সার্থক হোক। আমি চাই তুমি আল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করো এবং প্রতিটি মুহূর্তে তাকে স্মরণ করো। এই উদ্দেশ্যেই আমি তোমার কাছে কঠোর ভাষায় বলেছি। কঠোরতা কোনো শাস্তি নয়, বরং তোমার মঙ্গল ও গঠনমূলক শিক্ষার জন্য। আমি চাই তুমি এই কথাগুলোকে হৃদয়ঙ্গম করো এবং নিজের জীবনের জন্য বাস্তবিক পরিবর্তন আনো।
আমি আশা করি, তুমি যদি কথাগুলো মেনে চলো, তাহলে ভবিষ্যতে তুমি অনেক বড় কিছু করতে পারবে। তোমার মুখ উজ্জ্বল হবে, এবং তোমার চারপাশের সমাজ, তোমার পরিবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তুমি একজন স্বপ্নের মানুষ হয়ে উঠবে, যার দ্বারা অনেকে অনুপ্রাণিত হবে। একমাত্র তোমার শক্তিশালী সিদ্ধান্তই তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। মনে রেখো, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তুমি দুইটি পথের মধ্যে থাকো—একটি সঠিক পথ যা হালাল, সার্থক এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত করে; অন্যটি হলো ক্ষণস্থায়ী আনন্দের পথে যা ক্ষতি, ভুল এবং হতাশার দিকে নিয়ে যায়।
একটি সঠিক সিদ্ধান্ত তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, অনেক দূর এগিয়ে। তুমি যদি হালাল পথে চলার প্রতিজ্ঞা রাখো, তোমার প্রতিটি কাজ, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি চিন্তা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, এক দুর্বল বা ভুল সিদ্ধান্ত তোমাকে নিমিষেই ক্ষতি করতে পারে। তাই তোমার চিন্তাভাবনা, মনোযোগ এবং প্রতিটি কাজ আল্লাহর নিয়ম এবং ইসলামের পথে নির্ধারণ করা উচিত।
আজকের যুব সমাজ অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করছে। তারা ছবিতে, সিনেমায়, খেলা দেখায়, বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়ায় স্ক্রল করে এবং নিজের সময়কে অপচয় করছে। কিন্তু তুমি এসব থেকে আলাদা হও। তুমি তোমার প্রতিভা, জ্ঞান এবং সময়কে কাজে লাগাও। মোবাইলের সহায়তা নিয়ে শিক্ষাগত কাজ করো, কোরআন শিখো, হাদীস শিখো, ইংরেজি শিখো, অঙ্ক শিখো, অথবা ডিজাইন, অনলাইন কাজের মাধ্যমে উপার্জন করো—এই কাজগুলো তোমার জীবনকে মূল্যবান এবং সার্থক করবে।
আমি চাই, তুমি নিজেকে সঠিকভাবে পরিচালনা করো, এবং নিজের কাজের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং নিজের ভবিষ্যতকে সমৃদ্ধ করো। তুমি যদি দৃঢ় নিয়মিতভাবে চেষ্টা করো, তাহলে ভবিষ্যতে তুমি একজন আদর্শ মানুষ হয়ে উঠবে, যার দ্বারা সমাজ, পরিবার এবং যুবসমাজ উজ্জ্বল হবে। তোমার একটি শক্তিশালী সিদ্ধান্তই তোমার জীবনের পথ নির্ধারণ করবে। তোমার একটি দুর্বল সিদ্ধান্ত, হঠাৎ মুহূর্তে, তোমার সমস্ত প্রচেষ্টা শেষ করে দিতে পারে। তাই প্রতিটি মুহূর্তে সচেতন হও, আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করো, হালাল কাজ করো এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং অনর্থক কাজ থেকে দূরে থাকো।
এইভাবে তুমি নিজেকে, তোমার পরিবারকে এবং সমাজকে সমৃদ্ধ করতে পারবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবে। নিজের জীবনের জন্য সার্থক ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করবে। নিজের চোখ, মন ও হৃদয়কে রক্ষা করবে এবং সমাজে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে পরিচিত হবে। এই পথটাই তোমার জন্য সঠিক, সার্থক, এবং ঈমানভিত্তিক জীবন নিশ্চিত করবে।
যেমন তুমি নিজে মনোযোগ দিয়ে পড়বে এবং আমল করার চেষ্টা করবে, ঠিক তেমনই তোমার বন্ধুদেরকেও এই লেখা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবে। রাকিবকেও একটি কপি দেবে। চেষ্টা করবে যে তোমার পুরুষ বন্ধুরা প্রত্যেকে একটি কপি পাবে। মূল কপি অবশ্যই তোমার কাছে থাকবে। আর যদি তারা ফটোকপি করে নেয়, তাও সবচেয়ে ভালো হবে। এতে সকলের জন্য শিক্ষা ও প্রেরণার উৎস হবে।যেকোন প্রয়োজনে এবং যে কোনো পরামর্শের জন্য আমাকে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারো। যে কোনো বিষয় জানতে চাইলে, দ্বিধা করবে না, আমাকে সরাসরি বলবে। আমার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার 01309644967 এবং ইমেইল mohammedmoniruzzamantalha@gmail.com। এগুলো ব্যবহার করে যে কোনো প্রশ্ন বা সাহায্যের জন্য আমাকে যোগাযোগ করতে পারো।
এই পর্যন্ত আমাদের আলোচনাটি ছিল। ইনশাআল্লাহ, তোমরা প্রতিদিন এই লেখাগুলো অনুসরণ করে আমল করবে। নিজের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সার্থকতার পথে পরিচালনা করার চেষ্টা করবে। প্রতিটি মুহূর্তকে সুন্দর ও কার্যকর কাজে ব্যয় করবে। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তৌফিক দান করুন যাতে সময়মতো এবাদত করা যায়, নিজের আখেরাতকে সাজানো যায় এবং জান্নাতের প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর স্মরণ এবং তার ইবাদত করার তৌফিক দান হোক। জীবনের শেষ মুহূর্তে আল্লাহর কাছ থেকে কলেমা নসিব হোক। মৃত্যুর সময় আত্মাকে প্রস্তুত করার তৌফিক হোক, যেন কবরের জীবনে শান্তি ও সুমঙ্গল অর্জিত হয়। আমাদের প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে পরিচালিত হোক।
আমার আশা ও দোয়া—তুমি, তোমার পরিবার এবং তোমার বন্ধুরা সবসময় আল্লাহর পথে চলবে, ভালো কাজের জন্য সময় দেবে এবং জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে সার্থক ও হালাল পথে নেবে। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে সেই তৌফিক দান করুন যা তোমাদের জীবনকে আলোকিত করবে, মনকে শান্ত করবে, আত্মাকে সমৃদ্ধ করবে এবং পরিপূর্ণভাবে ইসলামী জীবনধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করবে। আমীন। ইয়া রব্বাল আলামীন।
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)
Comments
Post a Comment