Posts

Showing posts from May, 2025

আত্মবিকাশ ও আল্লাহপ্রদত্ত যোগ্যতার প্রকাশ

 আত্মবিকাশ ও আল্লাহপ্রদত্ত যোগ্যতার প্রকাশ ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে শুধু সৃষ্টি করেননি, বরং তাদের মধ্যে অগণিত যোগ্যতা ও ক্ষমতা দান করেছেন। এই যোগ্যতাগুলো নিছক অলঙ্কার নয়, বরং এগুলোর সদ্ব্যবহার করাই হল শুকরিয়া আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তোমার ভেতরে যদি সুন্দর আরবিতে কথা বলার সামর্থ্য থাকে, তাহলে তা গোপন না রেখে প্রকাশ করা উচিত। যেমন—তুমি আরবী কথোপকথন চর্চা করে নিজের ভাষাগত সক্ষমতা ধরে রাখো, এটা মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। আবার যদি লিখার শক্তি থাকে, তাহলে তা লেখালেখি, সম্পাদনা ও পত্রিকায় লেখা দিয়ে কাজে লাগানো উচিত। তোমার কণ্ঠ যদি সুন্দর হয়, তবে কোরআনের তেলাওয়াতে মনোযোগ দাও, গজলে ব্যয় করো, যেন এই নেয়ামতের মাধ্যমে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারো। 🔍 আমাদের আরও যেসব সুপ্ত যোগ্যতা আছে, কিন্তু প্রকাশ করি না: স্মরণশক্তি – কুরআন, হাদীস বা কবিতা মুখস্থ রাখার জন্য গবেষণাশক্তি – দ্বীনি বা জাগতিক বিষয়ে রেফারেন্সসহ লেখা বা তাহকীক করার জন্য বক্তৃতা ক্ষমতা – মজলিসে বা ...

মানুষকে কষ্ট দেওয়া: এক নিষিদ্ধ পাপ

 মানুষকে কষ্ট দেওয়া: এক নিষিদ্ধ পাপ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা আমরা প্রায়ই এমন কিছু আচরণ করি, যা দ্বারা অন্য কেউ কষ্ট পায়—কিন্তু আমরা তা উপলব্ধিও করি না। সহপাঠী, বন্ধু, প্রতিবেশী, আত্মীয়—কারো প্রতি কটু কথা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, শারীরিক আঘাত কিংবা সম্পদে হস্তক্ষেপ—এসব কিছুই মানুষকে কষ্ট দেয়। ইসলাম এমন আচরণের কঠোর নিন্দা করে। কুরআনের দিকনির্দেশনা وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا “যারা মুমিন নর ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের অপরাধের জন্য নয়, তারা একটি বড় অপবাদ এবং স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।” (সূরা আহযাব: ৫৮) রাসূল (সা.)-এর হাদীস الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ “সেই ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম, যার হাত ও জবান থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।” (সহীহ বুখারী) সাহাবা ও সালাফদের বক্তব্য ইবনু আবী হাতিম তাঁর তাফসীরে হযরত হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন—“যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাই...

অপচয়: এক মারাত্মক বাস্তবতা

 অপচয়: এক মারাত্মক বাস্তবতা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা আমরা অনেক সময় বুঝে না বুঝে এমন কিছু করে ফেলি, যা শরীয়তের মাকসাদের পরিপন্থী। এমন আচরণ একজন মুসলিমের জন্য শোভনীয় নয়। অপচয়ও তেমনি একটি গর্হিত কাজ, যা কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। খাবারের অপচয় প্রতিদিন অসংখ্য পরিবার খাবার নষ্ট করে। ভাত, তরকারি, রুটি—এসব অনেক সময় অর্ধেক খাওয়া হয় না; ফেলে দেওয়া হয়। ময়লার সাথেই চলে যায় এসব খাবার। অথচ একমুঠো ভাত তৈরি হতে কত শ্রম ও ঘাম ঝরে মানুষের! ধান লাগানো, রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করা, ধান কাটা, মাড়ানো, ভাঙানো এবং বাজারে পৌঁছে দেওয়া—সবকিছুতেই কষ্ট জড়িত। আর এতে ফেরেশতারাও আল্লাহর হুকুমে ভূমিকা পালন করেন। এই ভাত নষ্ট করা মানে শুধু একটি খাবার নয়, বরং সেই কষ্ট, বরকত এবং কৃতজ্ঞতার চেতনাকে অপমান করা। এতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। পানির অপচয় আমরা অজু করতে গিয়ে, হাত-মুখ ধুতে গিয়ে কিংবা অপ্রয়োজনীয়ভাবে পানির কল খোলা রেখে প্রতিনিয়ত পানি অপচয় করি। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমরা নদীর ধারে অজু করলেও পানি অপচয় করবে...

আখেরাতের প্রস্তুতি নাও হে আল্লাহর বান্দা

আখেরাতের প্রস্তুতি নাও হে আল্লাহর বান্দা--- মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি,,,, কথাগুলো আমার ভাই ও বোনকে উদ্দেশ্যে করে বলা হয়েছে।। হুবহু সেটাই তুলে ধরা হলো।।। তোমার আখেরাতকে তোমাকেই সাজাতে হবে। তোমার আল্লাহকে তোমাকে সন্তুষ্ট করতে হবে। তোমার জান্নাত কে তোমাকে সাজাতে হবে দুনিয়াতে বসেই। তোমার কবরকে আলোকিত তোমাকেই করতে হবে। সুতরাং প্রত্যেকটা মানুষকেই তার অবস্থান অনুযায়ী তার নিজ নিজ জায়গাতেই আমল করে যেতে হবে।। সুতরাং তুমি হে আল্লাহর বান্দা,,, এখন থেকেই নিজের জীবনের হিসাব নেওয়া শুরু কর, পিছনের জীবনে যত গুনাহ হয়ে গেছে আল্লাহর কাছে তওবা করে মাফ চেয়ে নাও। যত নামাজ ছেড়ে দিয়েছি যত রোযা ছেড়ে দিয়েছি, আমার দ্বারা মানুষ কষ্ট পেয়েছে, অন্যের জিনিস না বলে ধরেছি, অন্যকে শুধু শুধু কষ্ট দিয়েছি, মা বাবার সাথে খারাপ আচরণ করেছি, সহপাঠীদের সাথে মন্দ ব্যবহার করেছি, ভাই বোনের সাথে রাগারাগি করেছি, চোখের গুনাহ হাতের গুনাহ পায়ের গুনাহ মুখের গুনাহ করেছি। আমার দ্বারা যদি এসব প্রকাশ পেয়ে যায় তাহলে অনতিবিলম্বে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নাও।। তিনিতো গাফফার তিনি অবশ্যই মাফ করে দিবেন। এবং জীবনক...

আমি কী হতে চাই" – মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

 "আমি কী হতে চাই" – মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা আমি জীবনে শুধু বড় কিছু হতে চাই না— আমি হতে চাই একজন খেদমতের মানুষ। একজন এমন বান্দা, যার পুরো জীবনটা শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর পথে ব্যয় হয়। আমি চাই: 🕌 ইসলামের উন্নতির জন্য কাজ করতে, 📖 কুরআন ও হাদীসের খেদমত করতে, 🤝 দুর্বল ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমার স্বপ্ন— 🔸 এমন একটি জীবন, যা অন্যের জন্য উপকারী হয়। 🔸 এমন একটি অন্তর, যা দোয়া ও দরদে ভরা থাকে। 🔸 এমন একটি কলম, যা দ্বীনের পক্ষে চলে, বাতিলের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হয়। 🔸 এমন একটি হৃদয়, যা নিজেকে নয়, উম্মাহকে আগে রাখে। আমি আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে চাই: 🔹 মানুষ যেন সত্য চিনে, 🔹 ইসলামের সৌন্দর্য যেন সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, 🔹 কুরআনের আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। 🤲 দোয়া করি: > اللهم اجعل حياتي كلها في خدمتك وخدمة دينك، واستخدمْني ولا تستبدلْني، واجعلني جندًا من جنود الحق، وخادمًا من خُدّامِ القرآن والسنّة অর্থ: “হে আল্লাহ! আমার জীবনকে তোমার ও তোমার দ্বীনের খেদমতে ব্যয় করো, আমাকে কবুল করে নাও এবং বাতিলের পরিবর্তে হক্বের একজন সৈনিক বানিয়ে দাও—একজন খাঁটি খেদমতগার, কুরআন ও সুন্নাহর খাদ...

আমাদের ভুল, আত্মসমালোচনা ও ইসলামী সমাধান

 আমাদের ভুল, আত্মসমালোচনা ও ইসলামী সমাধান লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা   আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাআলা আমাকে একটি সংবেদনশীল মন ও মেজাজ দান করেছেন। আমি এমন একটি মানুষ, যে ইসলামের সৌন্দর্য নষ্ট হতে দেখলে চুপ থাকতে পারে না। ইসলামের সৌন্দর্য হলো নম্রতা, বিনয়, আদব, সততা, ভদ্রতা এবং মানবিকতা। অথচ এই গুণগুলো আজ আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কিছু প্রচলিত ভুল আমরা অনেক সময় নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। নম্রভাবে চলা তো দূরের কথা, আমরা অহংকার নিয়ে চলি। ছোটদের সম্মান করি না, বড়দের শ্রদ্ধা করি না। মসজিদে ময়লা দেখলে নিজে পরিষ্কার করি না, বরং ইমাম বা মুয়াজ্জিনকে দোষ দেই। তরকারিতে একটু বেশি লবণ হলেই স্ত্রীকে গালমন্দ করি। রাস্তায় কষ্টদায়ক কিছু পড়ে থাকলে তা সরাই না। মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলি না। এই ভুলগুলোর কারণ কী? আমরা আত্মগরিমায় ভুগি এবং নিজের ভুলকে বুঝতে চাই না। আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ থেকে দূরে চলে গেছি। ইসলামকে আমরা শুধুমাত...

আদব-আচরণ ও পরিচ্ছন্নতা: এক মুসলিমের রুচির প্রতিচ্ছবি

 আদব-আচরণ ও পরিচ্ছন্নতা: এক মুসলিমের রুচির প্রতিচ্ছবি ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা আমাদের আদব-আচরণই আমাদের চরিত্রের পরিচয় বহন করে। একজন মুসলিমের উচিত নিজের চলাফেরা, আচার-ব্যবহার এমনভাবে গড়ে তোলা, যা তাকে পরিচ্ছন্ন, শালীন ও সুশৃঙ্খল হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যায়—অনেকেই যেখানে-সেখানে পেশাব করে পরিবেশকে নোংরা করে ফেলছে, খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করছে, এবং রাস্তা-ঘাটে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে রাখছে। চিপস বা বিস্কুটের প্যাকেট, পানির বোতল, প্লাস্টিক, কাগজ—সবকিছু যেখানে সেখানে ফেলে রেখে আমরা শুধু রাস্তা নোংরা করছি না, বরং নিজেদের রুচিহীনতা এবং অসচেতনতা তুলে ধরছি। ধানক্ষেতের পাশে, রাস্তার পাশে, ফুটপাতের কোণে পেশাব করে আসা—এসব কি একজন মুমিনের শোভা পায়? আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কখনো এমন করেছেন? সাহাবায়ে কেরাম কি এভাবে রাস্তা নোংরা করেছেন? না। বরং, তারা সব সময় পরিচ্ছন্নতা, আদব, ও পরিমিত আচরণের প্রতি অগ্রাধিকার দিতেন। আমরা আজ নিজেরাই ভুলকে স্বাভাবিক মনে করছি, আর ভুলকেই সঠিকভাবে দেখে নিতে শিখে ফেলেছি। আমাদের রুচি বদলে ...

তাকদীর: মানুষের ইচ্ছা বনাম আল্লাহর পূর্বনির্ধারণ

 🔮 তাকদীর: মানুষের ইচ্ছা বনাম আল্লাহর পূর্বনির্ধারণ ✍️ লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা 📖 তাকদীর কী? তাকদীর অর্থ— নির্ধারণ বা পরিমাপ। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি ঘটনা, সৃষ্টির অবস্থা এবং ভবিষ্যতের হালাত পূর্ব থেকেই জেনে এবং নির্ধারণ করে রেখেছেন । 🤲 তাহলে আমি কী স্বাধীন? আমি যেহেতু বিচারযোগ্য , সেহেতু আমাকে ইচ্ছাশক্তি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর জ্ঞান হলো চূড়ান্ত, কিন্তু সেই জ্ঞান আমার ইচ্ছাকে বাধা দেয় না। “আল্লাহ জানেন তুমি কী করবে, কিন্তু তিনি তোমাকে করতেই দিচ্ছেন।” ⚖️ আমি করলে আল্লাহ কেন নির্ধারণ করলেন? কারণ আল্লাহর জ্ঞান সময়ের ঊর্ধ্বে । তিনি যা জানেন, তা আমি করার পরেই প্রমাণিত হয়। যেমন— এক অভিজ্ঞ শিক্ষক যদি আগে থেকেই জানেন, ছাত্র ফেল করবে, তাহলে তিনি ফেল করাবেন না; বরং তিনি জানেন, ছাত্র নিজেই ফেল করবে। 🌙 বিশ্বাস না করলে কী হয়? তাকদীর অস্বীকার করা ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ অস্বীকার । রাসূল ﷺ বলেন: “যে ব্যক্...

মানতেক কী ও কেন: যুক্তিবিদ্যার ঝলমলে জগৎ

 🌟 মানতেক কী ও কেন: যুক্তিবিদ্যার ঝলমলে জগৎ ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা 📘 মানতেক কী? ‘ মানতেক ’ (المنطق) শব্দের অর্থ — বক্তৃতা, যুক্তির আলোকে কথা বলা। আমি সহজভাবে বললে: মানতেক হলো এমন একটি বিদ্যা যা আমাকে চিন্তা ও যুক্তির ভুল থেকে বাঁচিয়ে দেয়। 🔍 কেন মানতেক শেখা জরুরি? আমি যদি সঠিক যুক্তি জানতে চাই, তবে মানতেক আমার সহায়ক। ➤ বুদ্ধিবৃত্তিক আত্মরক্ষা : আমাকে কারো ভুল প্রশ্নের জবাব দিতে সাহায্য করে। ➤ তর্কে পারদর্শিতা : আমি সহজেই সঠিকভাবে কথা বলতে পারি। ➤ ইলমের পথে সহায়ক : ফিকহ, কালাম, উসুলে সহায়তা করে। ➤ ভুল যুক্তি চিনতে পারি : আমি কোন যুক্তি ভুল বা ফাঁকা — তা ধরতে শিখি। 📚 আমি মানতেকের মাধ্যমে যা শিখি: ▸ সংজ্ঞা, বিষয়, দাবি বোঝা ▸ কিয়াস (Analogy), ইস্তিদলাল (Deduction) ▸ মিথ্যা তর্ক (Fallacy) চিনে ফেলা ⚖️ মানতেক কি সবার জন্য? না, মানতেক ঈমানের বিকল্প নয় , কুরআনের জায়গা নয়। তবে আমি যদি হক বুঝতে চাই — মানতেক সাহায্...

বাকসংযম: কথা কম বলার ফযীলত

 বাকসংযম: কথা কম বলার ফযীলত ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা বেশি কথা বলা কেন ক্ষতিকর? অধিক পরিমাণে কথা বলা উচিত নয়। কারণ যে বেশি কথা বলে, সে সহজেই ভুলে পড়ে। বেশি কথা বলার মাঝে অহংকার, রিয়া ও গিবতের ঝুঁকি থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।” (বুখারি) কথা মানুষের চরিত্রের দর্পণ। অপ্রয়োজনীয় কথা বললে হৃদয় কলুষিত হয়ে যায়। যে কম কথা বলে, তার অন্তর বেশি ধ্যানী হয় এবং জ্ঞানী মানুষরা সাধারণত মিতভাষী। ✦ কথা কম বলার উপকারিতা মিতভাষী ব্যক্তি সহজে মানুষের সম্মান অর্জন করে। যে কম কথা বলে, সে নিজের ইজ্জত ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারে। অল্প কথা বললে মনোযোগ বাড়ে এবং চিন্তা শক্তি বৃদ্ধি পায়। কথা কম বললে আত্মনিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়, যা একজন মুমিনের গুণ। বেশি কথা বললে যে ভুল হয়, কম কথা বললে তা এড়ানো যায়। ⸺🕊⸺ আমরা কী করব? নিজেকে প্রশ্ন করব: এই কথা কি আমার জন্য দরকারি?...

আসল সৌন্দর্য মুখে নয়, চরিত্রে—যেখানে বিনয় জ্বলজ্বল করে

 আসল সৌন্দর্য মুখে নয়, চরিত্রে—যেখানে বিনয় জ্বলজ্বল করে ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা চেহারা দেখে যদি মানুষ হতো বড় ⸺ তবে ফেরাউন হতো আদর্শ। চরিত্র দেখে যদি মানুষ বাঁচে ⸺ তবে মুত্তাকীরাই হয় মুকুটধারী। যার মুখে জ্বলজ্বল করে চাহনি ⸺ তার অন্তরেও হোক নূরের দীপ্তি। জিহ্বা যেন হয় নরম ফুলের মতো ⸺ কথা হোক মধুর, কোমল, হিকমতভরা। আর ব্যবহার হোক এমন ⸺ যেন সাহাবাদের স্বভাবের প্রতিচ্ছবি। ⸺🌸⸺ তালিবুল ইলম হয় যদি তাকাব্বুরী ⸺ ইলম হয়ে যায় খারাপ সওদা। অহংকার সব কিছুকে হারায় ⸺ বিনয় সব হৃদয়কে জয় করে। চরিত্র গড়ো, রূহ পরিষ্কার করো ⸺ কারণ মানুষ দেখবে আগে তোমার আচরণ। হাসি মুখ, নরম লহজা, সম্মানপূর্ণ বয়ান ⸺ এসবই একজন সত্যিকার দ্বীনদারের সাজ। আসো, আমরা চরিত্রের পথেই থাকি ⸺ যেন আখেরাতে দাঁড়াতে পারি উঁচু ময়দানে।

একটা পাতা উড়ে যায় — কেউ ভাবে না, তাতে লেখা ছিল স্বপ্নের ইলম…

 একটা পাতা উড়ে যায় — কেউ ভাবে না, তাতে লেখা ছিল স্বপ্নের ইলম… ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা একটা পুরনো কাগজ পড়ে ছিল রাস্তার ধারে ⸺ সবাই হাঁটছে, কেউ তাকায় না। কেউ জানে না, সেখানে ছিল আল্লাহর নাম ⸺ হয়তো ছিল কোনো হাদীস। জীবনের গল্প কেবলই বইয়ে নয় ⸺ কাগজও কখনো জানে কতটা ইলম হারাল। পড়া শেষে কেউ ছিঁড়ে ফেলে ⸺ কেউ প্যাকেট বানায় মাছের। একটা কাগজ ছিল দোয়া দিয়ে ভর্তি ⸺ আজ সে ময়লার গর্তে। ⸺🌿⸺ হে তালিবুল ইলম! ইলম শুধু মুখস্থের নাম নয় ⸺ ইলম আদবের নাম। যে কাগজে লেখা হয় কল্যাণের শব্দ ⸺ তারও অধিকার আছে সম্মানের। কাগজ ভাঙে, পড়ে যায়, নষ্ট হয় ⸺ কিন্তু তার বুক ফেটে বের হয় ইলম। তাই বলি, ওরা কাগজ নয় — ওরা ইলমের রূহের জামা। তাদের হেফাজত করো ⸺ যেন তুমি আল্লাহর নিআমতের হক আদায় করো।

📜 কাগজ: ইলমের আসবাব, অবহেলায় অপমানের দায়

 📜 কাগজ: ইলমের আসবাব, অবহেলায় অপমানের দায়      ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা কাগজ আমাদের জ্ঞানের বাহক ⸺ বই, খাতা, কিতাব, সব তার গর্ভজাত। আমরা অনেকেই কাগজকে পাত্তা দিই না ⸺ ফেলে দিই যেখানে-সেখানে। পড়া শেষ করে ছিঁড়ে ফেলি ⸺ যেন ওর আর কোনো মর্যাদা নেই। মুড়ি বানাই, ঝালমুড়ি বেচি ⸺ তাতে থাকে লেখাজোখার ছাপ। এটা কি ইলমের সাথে আদবের মিল? ⸺ না বরং এটি গাফিলত ও খেয়ানত। যে কাগজে লেখা ছিল আল্লাহর নাম ⸺ রাসূলের হাদীস, সাহাবার বাণী, তা আমরা জুতা লাগা রাস্তায় ফেলে দিই ⸺ নৌকা বানাই খেলনার মতো। ⸺🌿⸺ 🕯️ কাগজের অবমাননা নয় ⸺ চাই হেফাজত, ইজ্জত ও শ্রদ্ধার পরিচয় তুমি যদি চাও আল্লাহ ইলম দান করুক ⸺ আগে তাঁর নিআমতের সম্মান শেখো। কাগজ ফেলে দেওয়ার আগে দেখে নাও ⸺ কোনো নাম, আয়াত, দোআ আছে কি না। যদি ইলমী কিছু থাকে ⸺ তা আলাদা করে জমাও, সংরক্ষণ করো। পুরনো কাগজ পুড়িয়ে ফেলো সম্মান করে ⸺ যেন অপবিত্র না হয়। মাদরাসা ও ঘরে এমন বক্স রাখো ⸺ যেখানে হিফাজতের সাথে জমা রাখা যায়। এই ...

চশমা: চোখের সাথি, যত্নের অনুপম উপাখ্যান

 👓 চশমা: চোখের সাথি, যত্নের অনুপম উপাখ্যান ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা চশমা আমাদের চোখের বন্ধু ⸺ যাকে আমরা দৃষ্টির ঠিকানা বলি। অনেকেই পড়ে থাকি প্রতিদিন ⸺ কিন্তু যত্নে গাফিল করি বারবার। চশমা শুধু এক জোড়া কাচ নয় ⸺ এটি আমাদের চাহনির বাহন। অযত্নে ফেলে রাখলে ⸺ মুহূর্তেই হতে পারে ক্ষতি বা ভাঙন। হাত ধুয়ে ব্যবহার করাই উত্তম ⸺ ময়লা হাত চশমার শত্রু। চশমা খোলার সময় একহাতে নয় ⸺ বরং দু’হাতে খুলাই স্বাস্থ্যসম্মত। রাত্রে শোবার আগে চশমা জায়গামতো রাখা চাই ⸺ নইলে পিষে যাওয়ার শঙ্কা প্রবল। চশমা কখনো বিছানায়, বালিশে, বা গদি-চাপে ফেলে রাখা উচিত নয় ⸺ এটি একটি দায়িত্বের চিহ্ন। রোদ, ধুলো ও পানির আঘাত থেকে রক্ষা করা দরকার ⸺ নইলে লেন্স ও ফ্রেম উভয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চশমা মুছার জন্য নির্ধারিত কাপড় ব্যবহার করাই উত্তম ⸺ জামা-কাপড়ে মুছলে স্ক্র্যাচ পড়ে যায়। ⋆✦⋆ 🔎 চশমা ভাঙলে শুধু কাচ ভাঙে না, ভাঙে ভরসা ⸺ ক্ষয় হয় খরচ ও মনের শান্তি চশমা ভেঙে গেলে কষ্ট শুধু চোখে নয় ⸺ ব্যথা লাগে হৃদয়ে। ...

আমার জীবনচলা – হাঁটা ও নামাজে সাহিত্যিক সৌন্দর্য 🌿

 🌿 আমার জীবনচলা – হাঁটা ও নামাজে সাহিত্যিক সৌন্দর্য 🌿 ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা 🚶‍♂️ আমার হাটা ও চলাফেরা কেমন হওয়া উচিত আমার হাটা হবে নম্রতায় মোড়া ⸺ অহঙ্কার থেকে মুক্ত। আমার চলাফেরা হবে গাম্ভীর্যপূর্ণ ⸺ যেন প্রতিটি পায়ে পড়ে নেকীর ছাপ। আমি হাঁটবো এমনভাবে ⸺ যাতে কারো শান্তি বিঘ্নিত না হয়। আমার গমন হবে লক্ষ্যভিত্তিক ⸺ অলসতায় নয়, আত্মসচেতনতায়। রাসূলের চালচলন ছিল দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ⸺ আমিও তাই তার আদর্শে চলতে চাই। হাটা হবে এমন ⸺ যেন দুনিয়া আমার গন্তব্য নয়, বরং আখিরাতের পথে। ⋆✦⋆ 🕋 আমার নামাজ কেমন হওয়া উচিত আমার নামাজ হবে হৃদয়ছোঁয়া ⸺ শুধু শরীরের নড়াচড়া নয়। আমি দাঁড়াবো আল্লাহর সামনে ⸺ ভয়ের সাথে, ভালোবাসার সাথে। রুকু ও সিজদায় হবে আত্মসমর্পণ ⸺ যেন আমি একান্তভাবে অনুতপ্ত। আমার দৃষ্টি থাকবে সিজদার স্থানে ⸺ অন্তর থাকবে মালিকের সামনে। আমার নামাজ হবে রাসূলের সুন্নাহ মোতাবেক ⸺ এক বিনয়ময় সাধনা। প্রতিটি তাকবীর হবে নতুন উপলব্ধি ⸺ প্রতিটি তাসবীহ হবে হৃদয় ...

🕌 আমার নামাজ কেমন হওয়া উচিত 🕋

 🕌 আমার নামাজ কেমন হওয়া উচিত 🕋 নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়, বরং এটি আমার প্রাণের স্পন্দন , আমার অন্তরের শান্তি, আমার আত্মার মুক্তি। আমার নামাজ এমন হওয়া উচিত যেন প্রতিটি রাকাআতে আমি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছি – যেন আমি তাঁকে দেখছি, অথবা অন্তত জানছি, তিনিই আমাকে দেখছেন। নামাজের মধ্যে থাকতে হবে খুশু ও খুজু —মনোযোগ, ভয়, ভালোবাসা ও বিনয়। যেন দুনিয়ার সকল ঝামেলা ভুলে আমি আমার রবের সাথে কথোপকথনে লিপ্ত। আমার নামাজ হবে সুন্নাত মোতাবেক —রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে পড়েছেন, আমিও সেইভাবে পড়ার চেষ্টা করব। আমার ক্বিরাআত হবে তাজউইদের সাথে, আমার রুকু ও সিজদা হবে পরিপূর্ণ— গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পূর্ণ । নামাজের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি দোয়া, প্রতিটি ওঠা-নামায় থাকবে আত্মসমর্পণের স্বাদ । আমি যেন জানি, এই নামাজই আমার জীবনের সফলতার চাবিকাঠি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এমন নামাজ পড়ার তাওফিক দাও, যা তোমার কাছে কবুলযোগ্য হয়। ✍ মুহা...

জিলহজের প্রথম দশ দিনের ফজিলত ও আমল

 জিলহজের প্রথম দশ দিনের ফজিলত ও আমল ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি ভূমিকা জিলহজ মাস ইসলামের অন্যতম বরকতময় মাস। এই মাসের প্রথম দশ দিন বিশেষত প্রিয়, কারণ এই দিনে করা ইবাদত আল্লাহর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় ও উত্তম সওয়াবের কারণ। আমাদের মুমিন ভাই-বোনদের উচিত এই দশ দিনের গুরুত্ব বুঝে যথাযথ আমল করে আল্লাহর কাছে পৌঁছানো। জিলহজের প্রথম দশ দিনের ফজিলত عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل العشر أحيى الليل وأيقظ أهله، وشد المئزر، وأطاب، وكثر من التكبير والتهليل والتحميد — صحيح البخاري 969 নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিলহজের দশ দিনকে এত বড় গুরুত্ব দিয়েছেন যে, এই সময়ে তিনি রাতে ইবাদত করতেন, পরিবারের সবাইকে জাগিয়ে দিতেন, ইচ্ছা শক্তি বাড়াতেন এবং বেশি বেশি তাকবীর, তাহলীল ও তামীদ করতেন। কেন জিলহজের প্রথম দশ দিন এত গুরুত্বপূর্ণ? এই দশ দিনের আমল আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম পথ। অন্তর থেকে পরিশুদ্ধ হয়ে তাকওয়ার স্তর উন্নীত হয়। ঈদুল আযহা ও কুরবানির সময়কাল এই দশ দিনেই। সাধারণ আমলের চেয়ে এই সময়কা...

আমাদের মাজহাব অনুযায়ী কুরবানির বিধান ও বিশ্লেষণ

 আমাদের মাজহাব অনুযায়ী কুরবানির বিধান ও বিশ্লেষণ ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি ভূমিকা কুরবানি ইসলামের অন্যতম পবিত্র ইবাদত, যা ঈদুল আযহার অন্যতম ফরজ বা সুন্নত। কুরআন ও হাদীস থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে চারটি মাজহাব নিজেদের ফিকহি ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। এই প্রবন্ধে সেই চার মাজহাবের বিধান ও দৃষ্টিভঙ্গি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। হানাফি মাজহাবের বিধান হানাফি মাজহাবে কুরবানি একান্ত ওয়াজিব (আবশ্যক), যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদ রাখে ঈদের দিন সকালে, তাদের জন্য কুরবানি ফরজ। এর অর্থ, এটি মিস্কিন বা অক্ষম ব্যক্তির উপর ফরজ নয়, কিন্তু সক্ষম ব্যক্তির জন্য এটি ছেড়ে দেয়া গুনাহ। «الأضحية واجبة على المقيم الموسر» — الدر المختار مع رد المحتار 6/312 অর্থাৎ, সামর্থ্য থাকা অবস্থায় কুরবানি না করলে পাপ হবে। হানাফি ফিকহে এটি কঠোর বিধান হিসেবে গণ্য।

চার মাজহাব অনুযায়ী কুরবানির বিধান ও বিশ্লেষণ

 চার মাজহাব অনুযায়ী কুরবানির বিধান ও বিশ্লেষণ ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি 🔹 ভূমিকা ইসলামি শরীয়তে কুরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যদিও মূল আদেশ কুরআন ও হাদীস থেকে এসেছে, কিন্তু এর বিশদ বিবরণ চার মাজহাবের ফিকহি বিশ্লেষণেই স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে। নিচে প্রতিটি মাজহাব অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো। 🔸 হানাফি মাজহাব হানাফি মাজহাবে কুরবানি ওয়াজিব সেই ব্যক্তির ওপর, যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে ঈদের দিন সকালবেলা। «الأضحية واجبة على المقيم الموسر» — الدر المختار مع رد المحتار 6/312 হানাফিদের মতে, এটি এমন ইবাদত যা ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে; কাজেই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা পরিত্যাগ করা জায়েজ নয়। 🔸 মালিকি মাজহাব মালিকি মাজহাবে কুরবানি সুন্নাতে মুআক্কাদা , তবে তারা এটাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। «والأضحية سنة مؤكدة، يكره تركها للقادر» — الشرح الكبير للدردير 2/113 তাঁদের মতে, যারা কুরবানি করার সামর্থ্য রাখে, তারা না করলে তা مكروه তানযীহি। 🔸 শাফেয়ি মাজহাব শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী কুরবানি সুন্নাতে মুআক...

কুরবানির ইতিহাস ও হিকমত

 কুরবানির ইতিহাস ও হিকমত ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি 🔹 কুরবানির সূচনা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কুরবানি মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ইবাদত। কুরআন মাজীদ জানায়, এই ইবাদতের সূচনা হয়েছে আদম (আঃ)-এর যুগ থেকেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই এই ইবাদত চালু হয়েছে। ﴿إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانٗا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ ٱلْآخَرِ﴾ — সূরা মায়েদা, আয়াত ২৭ হাবীল ও কাবীলের কুরবানির ঘটনা এই প্রথার সূচনালগ্নে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত রীতির পরিচয় দেয়। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ)-এর মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে। 🔹 ইবরাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ)-এর আত্মোৎসর্গ আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম (আঃ)-কে স্বপ্নে আদেশ করেন, যেন তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-কে কুরবানি করেন। ইবরাহীম (আঃ) তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত হন আল্লাহর হুকুম পালনে। ﴿يَـٰبُنَيَّ إِنِّيٓ أَرَىٰ فِي ٱلْمَنَامِ أَنِّيٓ أَذۡبَحُكَ فَٱنظُرۡ مَاذَا تَرَىٰ﴾ — সূরা সফফাত, আয়াত ১০২ এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানলো, কুরবানি কেবল পশু জবাই নয়; বরং তা এক গভীর আত্মত্যাগ, ইখলাস ও তাকওয়ার ...

কুরবানির মাহাত্ম্য, বিধান ও প্রাসঙ্গিক ফিকহি বিশ্লেষণ

 কুরবানির মাহাত্ম্য, বিধান ও প্রাসঙ্গিক ফিকহি বিশ্লেষণ ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি 🔹 কুরবানির পরিচয় ও তাৎপর্য কুরবানি একটি ইবাদত, যা প্রতি হিজরি বর্ষের জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে আদায় করা হয়। এটি মূলত ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ)-এর আত্মত্যাগের স্মৃতি রক্ষায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করার বিধান। "কুরবানির পশুর রক্ত ও গোশত আল্লাহর নিকট পৌঁছে না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।" ﴿لَنۡ يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَـٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقۡوَىٰ مِنكُمۡ﴾ — সূরা হজ্ব, আয়াত ৩৭ 🔹 কুরবানির হুকুম হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, কুরবানি মুস্তাতি' (সক্ষম) ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব । অন্য মাজহাবগুলোতে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। «مَن وَجَدَ سَعَةً فلَمْ يُضَحِّ، فلا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا» — সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩১২৩ “যে ব্যক্তি কুরবানির সামর্থ্য রাখে অথচ কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে।” 🔹 কুরবানির পশুর শর্ত উট – ৫ বছর পূর্ণ...

মোবাইল ফোন

  ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা মোবাইল ফোন — বর্তমান যুগের এক আশ্চর্য আবিষ্কার। আমরা মুসলমানরা এই প্রযুক্তিকে ভালো কাজে ব্যবহার করি, খারাপ কাজে নয়। যেমন — লেখালেখি, ভালো বক্তব্য শোনা , কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামিক ভিডিও দেখা, দরস ও দোয়া শোনা, কিংবা নতুন কিছু শেখা, এসবই মোবাইলের মাধ্যমে আজ সহজ হয়েছে। কিন্তু যদি এই মোবাইলকে অশ্লীলতা, গীবত, খেলাধুলার আসক্তি বা সময় নষ্টের কাজে লাগানো হয়, তাহলে এই নিয়ামতই হয়ে যেতে পারে গজবের কারণ! আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেন — "ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ" — “অতঃপর সেদিন তোমাদেরকে অবশ্যই নিয়ামতসমূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।” (সূরা তাকাসুর: ৮) 📌 মনে রাখো! নিয়ামতের জবাবদিহি থেকে কেউ রেহাই পাবে না। তাই মোবাইল ব্যবহার করো কেবল দ্বীনের জন্য, ইলমের জন্য, উন্নতির জন্য। তরুণ প্রজন্মের প্রতি একান্ত আহ্বান — সময়ই জীবন, সময় নষ্ট মানেই জীবন নষ্ট। দুনিয়ার প্রযুক্তি হোক আখিরাতের সোপান, না যে, ধ্বংসের কারণ! আল্ল...

🌸 جُمعة مباركة 🌸

  🌸 جُمعة مباركة 🌸 الحمد لله الذي جعل الجمعة سيد الأيام يوم الجمعة هو أفضلُ الأيام عند الله، فيه ساعة لا يوافقها عبدٌ مسلمٌ قائمٌ يصلي يسأل الله شيئًا، إلا أعطاه إياه. قال رسول الله ﷺ: «أفضلُ أيامِكم يومُ الجمعةِ...» (رواه أبو داود) 🔹 أكثروا من الصلاة على النبي ﷺ 🔹 واقرؤوا سورة الكهف 🔹 وادعوا لأنفسكم وللأمة الإسلامية 🔹 وكونوا من التائبين المصلحين اللهم اجعلنا من المقبولين في هذا اليوم المبارك، واغفر لنا ولوالدينا ولجميع المسلمين. آمين. ✍️ بقلم: محمد منير الزمان طلحة "ضياء الدين"

😄 হাসিমুখের হীরার মূল্য

 😄 হাসিমুখের হীরার মূল্য মজা করতে পারাটা আমার জন্য অনেক আনন্দের । জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তে যদি কারো মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে পারি—তাতেই আমি সার্থক। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি মানুষকে হাসিখুশি রাখার , যেন দুঃখের অন্ধকারে একটুখানি আলো ছড়িয়ে দিতে পারি। কখনো কেউ দুঃখ পেয়ে চুপচাপ বসে থাকলে, আমি এগিয়ে যাই তার পাশে। বলি মজার কথা, করি কৌতুক, চেষ্টা করি তাকে হাসানোর । হয়তো সে একটুখানি হাসে, কিন্তু সেই হাসির পেছনে আল্লাহর রহমত কাজ করে। আমি বিশ্বাস করি — "একজন মুমিনের হাসি অন্য মুমিনের জন্য সদকা" । তাই যতটুকু পারি, দুঃখী হৃদয়ের মাঝে আনন্দের জ্যোতি ছড়িয়ে দিতে চাই। ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা "দ্বীনের দীপ্তি"

✨ ছাত্রজীবনের সাদা পৃষ্ঠা

  📚✨ ছাত্রজীবনের সাদা পৃষ্ঠা একটি বাস্তবধর্মী ইসলামি জীবনচিত্র সেই মাদরাসার ছোট্ট ঘর টা এখনো চোখে ভাসে, যেখানে কাঠের বেঞ্চে বসে কোরআনের অক্ষরগুলোর সাথে প্রেমে পড়েছিলাম । প্রথম হরফ ছিল "আলিফ" — দাঁড়িয়ে থাকা এক ভরসার রেখা , যেন জানিয়ে দিচ্ছিল, "আল্লাহর পথ সোজা, কিন্তু ধৈর্যের পরীক্ষা" । হুজুরের হাতে বাঁশের ছড়ি থাকলেও, তার হৃদয়ে ছিল রহমতের ঢেউ । আমরা কাঁপতাম, কিন্তু শিখতামও 💚 দুপুরে কড়া রোদ, সন্ধ্যায় কুয়াশা, কখনো ভেজা জামা, কখনো খালি পেটে তাকওয়ার তৃষ্ণা — তবু ছাত্রজীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল কুরআনের সোহবতে সোনা বানানো সময় । কক্ষের এক কোণে বসে থাকত মোহাম্মদ সাদিক — নামাজে কান্না করা সেই সহপাঠী, যার চোখে আমি জান্নাতের দীপ্তি দেখতাম। আর রাতে কেরোসিনের আলোয় মিযান আর হেদায়াতুন্নাহু পড়ে পড়ে ঘুমিয়ে পড়তাম, কলম মুখে রেখেই 📖✍️ তখন বুঝতাম না, এতো কষ্টের কি মানে? কিন্তু আজ বুঝি— এই মেহনতই একদিন আমাদের আখিরাতে উঁচু করবে ইনশাআল্লাহ। ছাত্রজীবন মানেই একটি জি...

একটি আধ্যাত্মিক ইসলামী উপন্যাস

  একটি আধ্যাত্মিক ইসলামী উপন্যাস   মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দূর কোনো বসন্তের ভোর , হালকা কুয়াশা মেখে এক তরুণ হাঁটছিল মসজিদের দিকে। তার চোখে ছিল তাওবার আলো , অন্তরে ছিল গুনাহর ভার । নাম তার ইউসুফ। ইউসুফ একদিন ছিল নাফরমানির জগতে ডুবে থাকা এক সাধারণ যুবক। কিন্তু হঠাৎ তার হৃদয় ভেদ করে আসে এক আল্লাহভীতির ঝড় । তার জীবনের বাঁক ঘুরিয়ে দেয় একটি কালো রাতে, যখন সে প্রথম শুনেছিল— "হে আত্মা, তোমার প্রতিপালকের দিকে ফিরে চল..." সেই রাত ছিল লাইলাতুল কদর । পৃথিবী নিস্তব্ধ, কিন্তু আসমান ছিল ব্যস্ত— ফেরেশতা নেমে আসছিল একের পর এক, রহমতের বার্তা নিয়ে। ইউসুফের চোখে অশ্রু, কিন্তু অন্তরে শান্তি। তার প্রথম তাহাজ্জুদ , প্রথম তওবা , আর প্রথম কুরআনের আয়াত যেন তার রুহে নূরের প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয়। সে বুঝে যায়—জীবন মানেই দুনিয়ার পথে ছুটে চলা নয়, বরং আখিরাতের যাত্রা শুরু এখন থেকেই। আর এই যাত্রার সঙ্গী কেবল একজনই— আল্লাহ । ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা "দ্বীনের দীপ্তি"

বৃহস্পতিবার বিকেলে

  🌧️ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টির এক মনোরম মুহূর্তে আমি দোকানে বসে ছিলাম। হঠাৎ মাহদি ভাই এসে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন, "ভাই, কিছু খেয়েছেন?" আমি বিনয়ের সাথে উত্তর দিলাম, "না, এখনো কিছু খাইনি।" সঙ্গে সঙ্গে তিনি দোকানদারকে বললেন, “দুই কাপ লাল চা দেন।” দুজনে একসাথে চা পান করলাম — আলহামদুলিল্লাহ! ☕ এরপর মাহদি ভাই নিজেই আমাকে চপ খাওয়ালেন ।🍢 আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তাআলাই মূলত খাওয়ানোর মালিক, রিজিক দাতা । মাহদি ভাই তো শুধু ওসীলা । আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন মানুষকে আপ্যায়নের সৌভাগ্য । তাঁর মনটা আকাশের মতো বিশাল । তিনি মানুষকে নিজের মতো আপন ভাবেন , আর সম্মান করেন হৃদয় থেকে । ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি

জুমার দিন কেমন কাটানো উচিত

  💎✨ জুমার দিন কেমন কাটানো উচিত ✨💎 ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা 🌅 সকালে ঘুম থেকে উঠে দোয়া: আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা... 🛁 গোসল করে পরিষ্কার হওয়া এবং সুন্দর জামা পড়া 👕 আতর লাগানো এবং ছুন্নাত অনুযায়ী সাজানো 📖 সূরা কাহফ পাঠ, যাতে জুমার আলো লাভ হয় 🕌 মসজিদে আগে গিয়ে প্রথম কাতারে বসা 🗣️ খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং কথা না বলা 🙏🏼 নামাজে গভীর খুশু-খুযু সহকারে সালাত আদায় 🤝 মুসলিম ভাইদের সঙ্গে সালাম ও ভালোবাসা বিনিময় 💬 বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা 📿 আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত বিশেষ দোয়া 🍽️ হালাল রিযিক দিয়ে পরিবারসহ খাবার খাওয়া 📚 দ্বীনী বই পড়া বা ইসলামিক খুতবা শোনা 🌇 মাগরিব ও এশার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় 🕋 রাতে আত্মসমালোচনা ও গুনাহ মাফের দোয়া করা 🕊️ ঘুমানোর আগে দরুদ ও দোয়ার মাধ্যমে দিন শেষ করা

জুমার বার: মুমিনের আলোয় ভরা দিন

 💚❤️💛 জুমার বার: মুমিনের আলোয় ভরা দিন 💛❤️💚 ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা আলহামদুলিল্লাহ! শুক্রবার মানেই বরকতের এক বিশেষ উপহার। এই দিনে আসমান থেকে রহমতের বৃষ্টি ঝরে পড়ে। জুমার দিনের সকালটা শুরু হোক ঘুম থেকে উঠে পবিত্র গোসল দিয়ে। তারপর পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ে, আতর লাগিয়ে জুমার প্রস্তুতি। সূরা কাহফ পড়া যেন ভুলে না যাই, এতে জ্যোতি ছড়ায় এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত। জুমার খুতবা যেন হয় উপদেশে ভরা, মনকে নরম করে দেয়। নামাজ শেষে মুমিন ভাইদের সাথে কুশল বিনিময়—ভ্রাতৃত্ববোধ জাগে। এই দিনে দরুদ শরীফ পড়লে অনেক সওয়াব হয়, ভুললে চলবে না। আসরের পরের মুহূর্তগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ—দোয়া কবুলের সময়। জুমা হোক আমার জীবনে এক ঈমানী আলো, এক আত্মিক জাগরণ।

ভোরের নরম আলোতে 🌤️

  *** ভোরের নরম আলোতে 🌤️ সকালটা শুরু হয়েছিল পাখির কুজন আর মায়াময় আলোতে। সুবহানাল্লাহ! হালকা হিমেল হাওয়া যেন হৃদয়ে এক শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। আলহামদুলিল্লাহ! তাজা বাতাস, ঝিকিমিকি আলো, আর আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ—এক চিত্রকাব্য যেন। মাশাআল্লাহ! চায়ের কাপে ধোঁয়া আর হৃদয়ে কিছু নতুন স্বপ্ন—প্রতিটি সকাল নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দেয়। ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ্‌র রহমত ছাড়া এই সৌন্দর্য অনুভব করা যায় না। আলহামদুলিল্লাহ! তুমি যদি চাও, প্রতিটি সকাল হোক বারাকাহর, তাহলে শুরু করো দোয়া দিয়ে, ইবাদতে মগ্ন হয়ে। ইনশাআল্লাহ! এই সকাল শুধু আলো নয়, এই সকাল আমাদের তাওবাহর, শোকরগুজারির, আর নতুন করে যাত্রা শুরুর মুহূর্ত। সুবহানাল্লাহ! ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

☀️ রঙিন সকালের সৌরভে ☀️

  ☀️ রঙিন সকালের সৌরভে ☀️   ভোরের আলো চোখে পড়তেই অন্তর বলে উঠল — সুবহানাল্লাহ! হালকা কুয়াশায় ঢাকা গাছের পাতা যেন জিকির করছে — আলহামদুলিল্লাহ! পাখির ডাকে হৃদয় নরম হয়ে গেল — মাশাআল্লাহ! এক কাপ চা হাতে বসে ভাবলাম, জীবন তো এক নিয়ামত — ইনশাআল্লাহ! আজকের দিন হোক ইবাদতে পূর্ণ, কাজে সফল — আলহামদুলিল্লাহ! সকাল মানেই নতুন আশা, নতুন উদ্যম — সুবহানাল্লাহ! যদি মন চায়, আজ থেকেও শুরু হোক এক নতুন যাত্রা — ইনশাআল্লাহ! ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

স্মৃতির সন্ধ্যায়

  ✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  স্মৃতির সন্ধ্যায় ইনশাআল্লাহ , একদিন এই সন্ধ্যাটা মনে পড়বে। বৃষ্টির শব্দে যখন শহরটা নরম কম্বলের মতো নিঃশব্দে ঢেকে যায়, তখন হৃদয়ে নামে এক রকম শীতলতা। সেই শীতলতার মাঝেও উষ্ণ থাকে কিছু স্মৃতি, কিছু মুহূর্ত—যা কখনোই মুছে যায় না। আলহামদুলিল্লাহ , এমনই এক সন্ধ্যায় কলম হাতে নিলাম, ভেজা কাগজে অনুভূতির রেখা আঁকতে। সাজ্জাদ ভাই, রাকিব ভাই, মাহবুব ভাই, সাইদুল ভাই—তোমাদের এই ভ্রাতৃত্ব, এই মুহূর্ত, এই ভালোবাসা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। একসাথে বসে মুড়ির ঘ্রাণে মিশে যাওয়া গল্পের স্বাদ আলাদা। সেই মুহূর্তে যখন কেউ বলে—“ভাই, আপনি এত উৎসাহ পান কিভাবে?” তখন উত্তরটা হয় জীবনের ইতিহাস। সুবহানাল্লাহ , একেকটি প্রশ্নে খোলে যায় পুরনো পৃষ্ঠা, বেরিয়ে আসে জীবনের জমে থাকা আবেগ। লেখালেখির শুরু সেই হেদায়াতুন্নাহু জামাত থেকে—যেখানে প্রতিটি তাকরির লিখেছি, হৃদয়ে রেখেছি। তারপর কিতাব, প্রবন্ধ, রোজনামচা—সবকিছু ধীরে ধীরে ফেসবুক আর ব্লগে প্রকাশ করা শুরু করলাম। সাজ্জাদ ভাই বললেন, “ভাই, এইসব এডিট কিভাবে করেন?” তখন মনে হল, শুধু লেখাই নয়, এই হৃ...

একটি বৃষ্টিময় সন্ধ্যার স্মৃতি

  একটি বৃষ্টিময় সন্ধ্যার স্মৃতি ✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা সারাদিন ধরে আকাশ কাঁদছিল —মিষ্টি বৃষ্টি পড়ছিল থেমে থেমে। চারপাশে যেন এক শীতল আবরণ নেমে এসেছে। মাগরিবের আজান শেষ হয়েছে মাত্র, আসমানে মেঘের ফাঁক দিয়ে মৃদু রঙের আলো ছড়িয়ে পড়ছে।আমরা পাঁচজন ভাই একত্রে বসেছি—প্ল্যান হচ্ছে মুড়ি পার্টি । এমন পরিবেশে, এমন মুহূর্তে, মুড়ি খাওয়ার মতো আনন্দ যেন খুব কমই আছে! হঠাৎ করে সাজ্জাদ ভাই ও রাকিব ভাই আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: ভাই, আপনি এত সুন্দর লেখেন কীভাবে? এত অনুপ্রেরণা পান কোথা থেকে? আমি তখন নরম হাসি হেসে বললাম: এটা তো আল্লাহর দেওয়া একটি নেয়ামত। ছোটবেলা থেকেই আমার লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ছিল। হেদায়াতুন নাহু জামাতে পড়ার সময় থেকেই আমি ওস্তাদদের আলোচনা লিখে রাখতাম। একসময় প্রবন্ধ , মাকালা , রোজনামচা লিখতে শুরু করলাম। পরে এগুলো ফেসবুকে ও ব্লগে প্রকাশ করতে থাকি। এরপর আলোচনার মোড় ঘুরে গেল ইউটিউব, ফটো এডিটিং, ওয়েব ডিজাইনিংয়ের দিকে। তারা জানতে চাইল: আপনার ভিডিও কীভাবে বানান? ফটো কীভাবে এডিট করেন? এসব কি অনেক কঠিন? আমি জানালাম, আমার ভ...

সুন্দর এক সকাল

  🌼 সুন্দর এক সকাল 🌼 এক পশলা হালকা রোদের ভোর, আলতো বাতাসে দুলে ওঠা গাছের পাতা, আর আকাশ জুড়ে আল্লাহর করুণার আলো— এ যেন এক রহমতের সকাল । সকাল মানেই নতুন শুরু, নতুন আশা, আর নতুন নেয়ামত গোনার সময়। ফজরের সালাত শেষে যখন পৃথিবী ধীরে ধীরে জেগে ওঠে, তখন প্রকৃতি যেন তসবিহ্ পাঠ করে— ﴿فَسُبْحَانَ اللّٰهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ﴾ অর্থ: “সুতরাং আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর সন্ধ্যায় ও সকালে।” – (সূরা রূম: ১৭) এমন এক সকালে একজন মুমিনের মনে থাকে শোকর, জিকির, এবং প্রেরণার নতুন আলো। এই সময়টুকু হলো আত্মার প্রশান্তি খোঁজার শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। “সকাল হল আত্মার খাদ্য গ্রহণের সময়। এই সময়ে কুরআনের তিলাওয়াত, দোয়া, এবং চিন্তাধারা আমাদের দিনটিকে করে তোলে আলোকিত।” চলো, আমরা সকালের এই নিঃশব্দ বার্তাকে হৃদয়ে ধারণ করি। الحمد لله বলে দিন শুরু করি, আর প্রতিজ্ঞা করি—আজকের দিন হবে সৎকর্ম ও ইতিবাচকতার এক নতুন অধ্যায়। ✍️ লিখেছেন: মুহাম্মদ...

বাংলা ভাষার অবক্ষয় ও আমাদের করণীয়

  বাংলা ভাষার অবক্ষয় ও আমাদের করণীয় বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়, আমাদের সংস্কৃতির মূল উপাদান। এই ভাষার জন্যই একদিন বাঙালি জাতি জীবন বিসর্জন দিয়েছিল। কিন্তু আজ আমরা নিজেরাই বাংলা ভাষার অবমাননা করছি। শহুরে জীবনে, শিক্ষাব্যবস্থায়, এমনকি দৈনন্দিন কথাবার্তায় ইংরেজি ও বিকৃত উচ্চারণে আমরা আমাদের মাতৃভাষাকে অপমান করছি। “বাংলার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি, এখন বাংলাকেই যদি আমরা ক্ষুন্ন করি, তবে এই আত্মত্যাগের কী মূল্য থাকবে?” 🔍 বর্তমান অবক্ষয়ের কিছু দৃষ্টান্ত শুদ্ধ শব্দের বিকৃত ব্যবহার: যেমন ‘দেখেন’ এর বদলে ‘চাইছেন’, যা অর্থ বিকৃতি ঘটায়। আঞ্চলিক ভাষার আধিক্য: আঞ্চলিকতা মধুর হলেও তা যদি শুদ্ধ ভাষার বিকল্প হয়ে যায়, তখন তা বিপদজনক। ইংরেজি আসক্তি: ‘ওকে’, ‘ফাইন’, ‘ইউ ক্যান’, ‘আই থিঙ্ক’ ইত্যাদি কথায় বাংলা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। 💡 বাংলা ভাষা রক্ষার করণীয় বাংলার প্রতি ভালোবাসা জাগানো: ছোটদের বাংলা সাহিত্য পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাংলা বানান চর্চা: বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত বানান প্রতিযোগিতা, শুদ্ধ লিখন অনুশীলন করা জরুর...

🌸 শিরোনাম: “ছোট একটা দান, বড় একটা পরিবর্তন

🌸 শিরোনাম: “ছোট একটা দান, বড় একটা পরিবর্তন” - মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি একদিন খুব ভোরে শহরের এক মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন হাফিজ সাহেব। হঠাৎ তিনি দেখলেন, মসজিদের বারান্দায় একটি ছোট ছেলে চুপচাপ বসে আছে। গায়ে ছেঁড়া জামা, হাতে ময়লা একটি পুরনো প্যাকেট। হাফিজ সাহেব কাছে গিয়ে বললেন, — "বাবা, তুমি এখানে বসে আছো কেন?" ছেলেটি মুখ নিচু করে বলল, — "চাচা, আমি কাল রাত থেকে কিছু খাইনি। আর আমার মা অসুস্থ। ওষুধের টাকাও নেই..." হাফিজ সাহেব থেমে গেলেন। পকেট হাতড়ে বের করলেন একটা ছোট খাম। সেখানে ছিল মাত্র একশো টাকা। সেই টাকাটা তিনি ছেলেটার হাতে দিলেন আর বললেন, — "এই টাকাটা নিয়ে গিয়ে তোমার মায়ের ওষুধ কিনে দাও। ইনশাআল্লাহ, সব ঠিক হয়ে যাবে।" ছেলেটি বিস্মিত চোখে চেয়ে বলল, — "আপনি কি আল্লাহর মানুষ?" হাফিজ সাহেব মুচকি হেসে বললেন, — "আমি তো মানুষ, আল্লাহই আমাদের সবার রব।" 🌿 বছর পেরিয়ে গেল... হাফিজ সাহেব একদিন একটি মাদ্রাসায় দাওয়াত পে...

পাঠকের প্রতি অনুরোধ

                        পাঠকের প্রতি অনুরোধ ✨ লেখাটি সুন্দর অঙ্গসজ্জা এবং বিভিন্ন ডিজাইন ও রঙে সাজানো হয়েছে। আশা করি, পুরো লেখাটি পড়তে পাঠকদের খুব ভালো ও আনন্দ লাগবে। 🕊️ তাই আগ্রহী পাঠকগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে, দয়া করে পরিপূর্ণ লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। 💬 লেখাটি পড়ার পরে যদি কোনো মতামত, অনুভূতি কিংবা পরামর্শ থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে নিচের মন্তব্য ঘরে লিখে আমাদের জানাও। ✍️ আমরা যারা বিভিন্ন লেখা, প্রবন্ধ বা নিবন্ধ প্রকাশ করতে আগ্রহী, তারা নিজের নামসহ লেখা পাঠাতে পারো। লেখাগুলোকে বিভিন্ন রঙ এবং ডিজাইন দিয়ে সাজিয়ে ব্লগে/ওয়েবসাইটে ছাপানো হবে ইনশাআল্লাহ। 💡 আগ্রহীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং লেখা পাঠাতে পারেন নির্দ্বিধায়। ✅ লেখাটি ভালো লাগলে লাইক , শেয়ার , ও মন্তব্য দিতে ভুলবেন না!

صدقةٌ صغيرة... تغيّرُ حياةً كبيرة"

  🌸 العنوان: "صدقةٌ صغيرة... تغيّرُ حياةً كبيرة" - بقلم: محمد منير الزمان طلحة، نورُ الدين في فجرِ يومٍ من الأيام، خرجَ الحافظُ من المسجدِ بعد صلاة الفجر، وإذا به يرى غلامًا صغيرًا جالسًا في رُكنٍ من أركانِ ساحةِ المسجد، يلتفُّ في ثوبٍ ممزق، وبيده كيسٌ قديم. اقتربَ الحافظُ منه وقال: — "يا بني، ما بالكَ جالسًا هنا؟" فردَّ الصبيُّ بصوتٍ خافت: — "يا عمِّي، لم أذق طعامًا منذ البارحة، وأمي مريضة، وليس معنا ثمنُ الدواء..." تأثّر الحافظُ بكلامه، وأدخل يده في جيبه، فأخرجَ مظروفًا صغيرًا فيه مئةُ تاكا فقط. ناولهُ المظروفَ وقال: — "خذْ هذا يا بني، واذهب واشترِ الدواء لأمّك، إن شاء الله ستتحسن الأمور." رفعَ الصبيُّ رأسه بدهشةٍ وقال: — "هل أنتَ من عبادِ الله الصالحين؟" ابتسمَ الحافظُ وقال بلطفٍ: — "أنا عبدٌ من عباده، والله هو ربُّ الجميع." 🌿 مرتْ السنين... وفي يومٍ من الأيام، دُعيَ الحافظُ إلى مناسبةٍ في مدرسةٍ قرآنيةٍ معروفة. وصعدَ شابٌّ إلى المنصة، وجهُه مضيءٌ، وصوتُه واثقٌ، وكلما...

ভালোবাসা ও বিনয়সম্মত জবাব

  🌿 ভালোবাসা ও বিনয়সম্মত জবাব – মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা, দ্বীনের দীপ্তি প্রিয় মেরাজ ভাই, আপনার বিনয়পূর্ণ প্রতিক্রিয়ার জন্য অন্তরের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনি যেভাবে কথাগুলো বললেন, তা আসলে আপনার ভদ্রতা, নম্রতা এবং আত্মমর্যাদাবোধের প্রমাণ। কিন্তু সত্যি বলতে, আপনি যতটা নিজেকে অযোগ্য ভাবছেন, বাস্তবে আপনি তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি যোগ্য, সক্ষম ও প্রভাবশালী। 🔹 আপনার ভাষা—সাহিত্যের ছোঁয়ায় পূর্ণ আপনার মুখনিঃসৃত শব্দগুলো যেন শ্রুতিমধুর আয়াত, শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দেয়। কথার মধ্যে থাকে সৌন্দর্য, শুদ্ধতা, আর গভীরতা। 🔹 আপনি একজন স্বভাবজাত উপস্থাপক মঞ্চে আপনি দাঁড়ালেই মনে হয় শব্দেরা শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে সাজতে শুরু করে। আপনি যেভাবে মাদরাসার অনুষ্ঠানগুলোতে সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার বাতিঘর। 🔹 আপনার মধ্যে আছে নেতৃত্বগুণ, হাসিমুখ ও হৃদয়স্পর্শী আচরণ আপনি শুধু একজন বক্তা নন—আপনি একজন দিকনির্দেশক। আপনার চিন্তা, ব্যাখ্যা, ও দৃষ্টিভঙ্গি একদম পরিষ্কার, পরিশীলিত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ। 🔹 আপনি দ্বীনের এক মহান খেদমতগার আ...

ইমরানের দীপ্তিময় যাত্রা

ইমরানের দীপ্তিময় যাত্রা লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা স্মৃতির পাতায় যদি ফিরে যাই— তবে মনে পড়ে সেই পবিত্র রমজানের কথা। প্রথম যখন আমি সাতখামার মসজিদে তারাবি পড়াতে যাই। সাতখামার—আমার মামার বাড়ি। আমি তখন সদ্য কায়দা শেষ করেছি, এবং পরের বছর ভর্তি হয়েছি মিজান জামাতে। সেই বছর থেকেই শুরু হয় আমার এক অনন্য সফর। আর সেই সফরের প্রিয় সহযাত্রী ছিল— ইমরান । তখন ইমরান ক্লাস ফাইভে পড়ে। একেবারে ছোট্ট, মায়াবী চেহারা, কিন্তু চোখেমুখে ছিল গভীরতা, মনোযোগ আর বুদ্ধিমত্তার জ্যোতি। পরিচয় হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বুঝে নিই—এই ছেলেটি আলাদা। আল্লাহ যদি চায়, একদিন সে অনেক বড় কিছু হবে। যদিও তার পরিবার চেয়েছিল সে হোক একজন ডাক্তার; আমি চেয়েছিলাম, সে হোক আলোকিত এক আলেম, এক কুরআনের সৈনিক। *** কায়দা থেকে কুরআনের রাজপথে আমি তাকে শেখানো শুরু করি—আমার পড়া সেই পুরনো মক্তবের কায়দা থেকে। আলিফ, বা, তা—এই পরিচিত অক্ষরগুলোর মধ্য দিয়েই তার যাত্রা শুরু। তারপর একে একে মাখরাজ, হরফে লীন, হরকত, যযম, তাশদীদ, মাদ্দ, গুন্নাহ, নূন সাকিন, মীম সাকিন, কলকলা, ইমালা—এমনকি ‘নূনে কুতনি’র মতন...

ইমরান, তুমি আমার গর্ব!

  লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা স্মৃতির পাতায় যদি ফিরে যাই— তবে মনে পড়ে সেই পবিত্র রমজানের কথা। প্রথম যখন আমি সাতখামার মসজিদে তারাবি পড়াতে যাই। সাতখামার—আমার মামার বাড়ি। আমি তখন সদ্য কায়দা শেষ করেছি, এবং পরের বছর ভর্তি হয়েছি মিজান জামাতে । সেই বছর থেকেই শুরু হয় আমার এক অনন্য সফর। আর সেই সফরের প্রিয় সহযাত্রী ছিল— ইমরান । তখন ইমরান ক্লাস ফাইভে পড়ে। একেবারে ছোট্ট, মায়াবী চেহারা , কিন্তু চোখেমুখে ছিল গভীরতা , মনোযোগ আর বুদ্ধিমত্তার জ্যোতি। কায়দা থেকে কুরআনের রাজপথে আমি তাকে শেখানো শুরু করি— আলিফ, বা, তা থেকে। তারপর একে একে মাখরাজ, হরকত, তাশদীদ, মাদ, গুন্নাহ, নূন সাকিন —সব কিছু। দুই সপ্তাহের মধ্যেই সে আমাকে পুরো কায়দা মুখস্থ শোনায়—যেটা আমি নিজে এক বছর ধরে শিখেছিলাম! মাসআলা ও আখলাক—তার দীপ্ত জীবনচর্চা তারপর আমি তাকে ইস্তেঞ্জা, ওযু, তায়াম্মুম শেখাই। সে সুন্দরভাবে আত্মস্থ করে। এরপর কুরআন ধরিয়ে দিই—সে সেখান থেকেও নিয়ম জবাব দিতে পারে! নাজারা, তিলাওয়াত ও প্রতিভার বিস্ফোরণ সে নাজমুল সাকিবের কণ্ঠ নকল করে নিজস্ব স্ট...

কিতাবটি পড়ার পদ্ধতি ও কৃতকার্য হবার রহস্য

                               مِشْكَاةُ الْمَصَابِيْح         কিতাবটি পড়ার পদ্ধতি ও কৃতকার্য হবার রহস্য মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  মেশকাত শরীফ হাদীস শিক্ষা ও দরসে নিজামীতে এক গুরুত্বপূর্ণ কিতাব। দাওরার পূর্বপ্রস্তুতির অন্যতম স্তম্ভ হলো এই কিতাবটি বুঝে, মনে রেখে, বিশ্লেষণ করে পড়া। এজন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়ম, সঠিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও একজন উপযুক্ত উস্তায। উলামায়ে কেরামের দৃষ্টিতে মেশকাত পড়ার গুরুত্ব  মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেছেন: "মেশকাত শরীফ এমন একটি কিতাব, যা হাদীস বোঝার প্রথম দরজা। সুতরাং তা পড়তে হবে মনোযোগ, অধ্যবসায় ও ধ্যান নিয়ে।" মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন: "যে ছাত্র মেশকাত শরীফ ভালোভাবে বুঝে পড়ে, তার জন্য সিহাহ সিত্তা পড়া সহজ হয়ে যায়।" শাইখ আব্দুল মালেক (হাফিযাহুল্লাহ) – এর দিকনির্দেশনা তিনি বলেন: "মেশকাত শরীফ পড়ার ক্ষেত্রে শুধু মুখস্থ করলেই হবে না...

মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক: ইসলামী দৃষ্টিকোণ

  মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক: ইসলামী দৃষ্টিকোণ প্রণেতা: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা ভূমিকা পরিবার হল সমাজের ভিত্তি। আর পরিবারকে টিকিয়ে রাখার প্রধান উপাদান হলো মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যে সুমধুর সম্পর্ক। ইসলামের আলোকে পারিবারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই সম্পর্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেন: “وَقَضىٰ رَبُّكَ أَلّا تَعبُدوا إِلّا إِيّاهُ وَبِالوالِدَينِ إِحسانًا” অর্থাৎ: “তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করো এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা বনি ইসরাঈল: ২৩) হাদীসে এসেছে: “رضا الله في رضا الوالدين، وسخط الله في سخط الوالدين” অর্থাৎ: “আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে।” (তিরমিযী) সন্তানের অধিকার ও দায়িত্ব ইসলামে সন্তানেরও কিছু অধিকার রয়েছে, যেমন সুশীতল নাম রাখা, আদব শেখানো, দ্বীনী শিক্ষা দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু সন্তান বড় হওয়ার পর তার দায়িত্ব শুরু হয়—মা-বাবার খেদমত, তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার, তাদের প্রয়োজনে পাশে থাকা ইত্যাদি। র...

পারিবারিক সুখ ও শান্তি

  — মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা —    পারিবারিক সুখ ও শান্তি  প্রস্তাবনা এই উপন্যাসের প্রতিটি শব্দ ভালোবাসার সুবাসে পরিপূর্ণ। ইসলাম যেভাবে একটি পরিবারকে প্রেম, রহমত ও সহযোগিতার বন্ধনে গেঁথে দেয়, সেই চিত্রকে সাহিত্যের গাঁথুনিতে প্রকাশ করা হয়েছে এই লেখায়। মূল চরিত্র আদনান ও মাহজাবীন—যাদের জীবনের বাঁকে বাঁকে ইসলামি আদর্শের সৌন্দর্য মিশে আছে প্রেমের গভীরতায়। প্রথম অধ্যায়: হিজাবের আড়াল থেকে দেখা প্রেম মাহজাবীনের চোখে ছিল এক অনাবিল শান্তি, যা দেখে আদনান বিস্ময়ে থেমে যায়। না, এটা বাহ্যিক সৌন্দর্যে মোহিত হওয়া নয়, এটা ছিল এক আলোকিত আত্মার টান। মাহজাবীন ছিল কুরআনের হাফেজা, নরম ভাষায় কথা বলে, আর সবসময় নিজের হিজাব ঠিক রাখতো। একবার মসজিদের এক প্রোগ্রামে দেখা, তারপর ধীরে ধীরে হৃদয়ে গেঁথে যাওয়া। আদনান তখন থেকেই দোয়া করতো—“হে আল্লাহ! তাকেই আমার সঙ্গিনী করো, যে দ্বীন ও প্রেমে একসাথে পথচলার উপযুক্ত।” দ্বিতীয় অধ্যায়: নিকাহ — প্রেমের পূর্ণতা কয়েক মাস পর দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মাহজাবীন ও আদনানের আকদ সম্পন্ন হয়। নবীজির (সা.) হাদীস অনুযায়ী, ...

একজন তালেবে ইলমের আদর্শ গুণাবলী

  একজন তালেবে ইলমের আদর্শ গুণাবলী মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা ভূমিকা ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এই দ্বীন হিফাজতের জন্য আল্লাহ তাআলা নবীদের পর ওলামায়ে কেরাম ও তালিবুল ইলমদের দ্বায়িত্ব দিয়েছেন। তালেবে ইলম অর্থাৎ ইলম অন্বেষণকারী হল সেই ব্যক্তি, যিনি এই আল্লাহর নাযিলকৃত ওহীর জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন। এই শ্রেণির মানুষের জন্য মহান দায়িত্ব রয়েছে, তাই তাদের চরিত্র, অভ্যাস ও নৈতিকতা হতে হবে আদর্শবান। সালাফে সালেহীনের দৃষ্টিতে তালেবে ইলমের গুণাবলী ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: "أخي لن تنال العلم إلا بستةٍ، سأُنبيك عن تفصيلها ببيان: ذكاءٌ وحرصٌ واصطبارٌ وبلغةٌ، وإرشادُ أستاذٍ وطولُ زمانِ." অর্থাৎ: “হে ভাই! তুমি ছয়টি বিষয়ের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে: বুদ্ধিমত্তা, আগ্রহ, ধৈর্য, সামর্থ্য, উস্তাদের দিকনির্দেশনা, এবং দীর্ঘ সময়।” ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন: “তালিবে ইলম যেন তার জবান সংযত রাখে, অহংকার না করে, এবং রাতের ইবাদাতে অভ্যস্ত হয়।” খালাফ ও পরবর্তী ওলামায়ে কের...

সংক্ষেপে আরবী কায়দা

         সংক্ষেপে আরবী কায়দা  সংকলনে : মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা ১. হরফ পরিচিতি (হরুফুল হিজা – ২৯টি) ا، ب، ت، ث، ج، ح، خ، د، ذ، ر، ز، س، ش، ص، ض، ط، ظ، ع، غ، ف، ق، ك، ل، م، ن، ه، و، ي ২. হরকত (حَرَكَات) সংজ্ঞা : যে চিহ্ন হরফের ধ্বনি নির্ধারণ করে তাকে হরকত বলে। ফাতহা (ـَ) : بَ، تَ، ثَ কাসরা (ـِ) : بِ، تِ، ثِ দাম্মা (ـُ) : بُ، تُ، ثُ ৩. তানভীন (تنوين) সংজ্ঞা : দ্বিগুণ হরকত, শেষে “ন্” সদৃশ ধ্বনি। ــً (ফাতহাতাইন) : كِتَابًا ــٍ (কাসরাতাইন) : كِتَابٍ ــٌ (দাম্মাতাইন) : كِتَابٌ ৪. জযম / সুকূন (سكون) চিহ্ন : ـْ – হরফ নিঃশব্দ। اِبْنٌ، نَصْرٌ، يَكْتُبْ ৫. তাশদীদ (شدّة) চিহ্ন : ـّ – এক হরফ দুই বার উচ্চারণ। رَبِّي، مَدَّ، إِنَّ ৬. লীন হরফ (حرف اللين) হরফ : ওয়াও সাকিন ( وْ ) ও ইয়া সাকিন ( يْ )–পূর্বে ফাতহা। خَوْفٌ، بَيْتٌ، سَوْفَ ৭. কলকলাহ (قَلْقَلَة) হরফ ৫টি : ق، ط، ب، ج، د ( قطب جد ) সুগীরা : أَقْدَرُ কুবরা : وَ...

درس الأشباه والنظائر”

  মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  درس الأشباه والنظائر”  (দারসুল আশবাহ ওয়ান-নাযায়ির) একটি উচ্চতর ইসলামী ফিকহী কিতাব, যা ইল্মুল ফিকহে কাওয়ািদ বা ফিকহের মূলনীতি ও কায়েদাসমূহ শেখার জন্য রচি‌ত। সাধারণত দাওরায়ে হাদীস বা এর কাছাকাছি স্তরের ছাত্রদের জন্য এটি উপযোগী। এই কিতাব সাধারণভাবে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ. এর “الأشباه والنظائر” নামক গ্রন্থের ভিত্তিতে রচিত হয় এবং এতে ফিকহী কাওয়ািদের বর্ণনা, তাদের ব্যতিক্রম, উদাহরণ এবং প্রয়োগপদ্ধতি আলোচনা করা হয়। এই কিতাবের পাঠে যেসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিত: 1. প্রথমে কাওয়ািদের মূল বক্তব্য মুখস্থ করা। যেমন: “الأصل في الأشياء الإباحة” বা “الضرر يزال”. 2. প্রতিটি কাওয়েদার অধীনে উল্লেখিত উদাহরণগুলো ভালোভাবে বোঝা। এতে করে মূলনীতির বাস্তব প্রয়োগ বুঝা যায়। 3. মুকারিন কিতাব (অনুরূপ কিতাব) যেমন: قواعد الفقه، الفروق, تكملة الأشباه ইত্যাদির সাথে তুলনামূলক পাঠ। 4. শব্দ ও পরিভাষাগুলোর গভীর অর্থ অনুধাবন। যেমন ‘قاعدة، ضابط، نظير’ ইত্যাদির মাঝে পার্থক্য বোঝা। 5. মাশায়েখদের বয়ান ও টীকা (শরহ) সংগ্রহ করে পাঠ। যেমন: মাওলানা যাকারিয়া কান্ধল...

درس الأشباه والنظائر الذي قام بتدريسه

  درس الأشباه والنظائر الذي قام بتدريسه   فضيلة الشيخ الأستاذ  عبد المالك حفظه الله  الجامع : محمد منيرالزمان طلحة  الدرس الأول  একটি কথা মাশহুর,সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে আল কুরআন।এটা শুধু سياسي নয় । বরং কথাটা বাস্তব।এটা কীভাবে সম্ভব?এর রাস্তা শুধু একটা,তা হলো الفقه الإسلامي.এছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই।الفقه الإسلامي এর ذخيرة তো মাওজুদ আছে। এগুলো নাড়াচাড়া করার লোকও আছে।তারপরও কেন জীবনের সব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না? এই ذخيرة নিয়ে সব সমস্যার সমাধান কি সবাই দিতে পারে? অনেকেই এর অধ্যয়ন,পড়ন-পঠন শিক্ষাদানে রত আছেন,তারা কি পারছেন সেই কাজ?সমাধান দিতে হলে الفقه الإسلامي এর অধ্যয়ন আজকাল যেভাবে চলছে, এভাবে সম্ভব নয়।প্রচলিত পদ্ধতিতে তা সঠিকভাবে আদায় হবে না। বরং তা ব্যতিক্রমধর্মী হতে হবে।তা হলো, اختصاصي তরীকায় এর অধ্যয়ন করা।তাহলেই হার صنف এর মানুষের হার صنف এর সমস্যার সমাধান দেওয়া যাবে। দ্বীন ও দুনিয়া সম্পর্কীয় সমস্যার পরিধি বিস্তৃত।এটা হলো, عام لم يختص منه شيء ।সমাধান হবে فقه الإسلامي থেকে।আর فقه الإسلامي কুরআনেরই সার নির্যাস। বর্তমানে কোন কোন দে...