ইমরান, তুমি আমার গর্ব!

 

লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

স্মৃতির পাতায় যদি ফিরে যাই— তবে মনে পড়ে সেই পবিত্র রমজানের কথা। প্রথম যখন আমি সাতখামার মসজিদে তারাবি পড়াতে যাই। সাতখামার—আমার মামার বাড়ি। আমি তখন সদ্য কায়দা শেষ করেছি, এবং পরের বছর ভর্তি হয়েছি মিজান জামাতে

সেই বছর থেকেই শুরু হয় আমার এক অনন্য সফর। আর সেই সফরের প্রিয় সহযাত্রী ছিল—ইমরান

তখন ইমরান ক্লাস ফাইভে পড়ে। একেবারে ছোট্ট, মায়াবী চেহারা, কিন্তু চোখেমুখে ছিল গভীরতা, মনোযোগ আর বুদ্ধিমত্তার জ্যোতি।


কায়দা থেকে কুরআনের রাজপথে

আমি তাকে শেখানো শুরু করি—আলিফ, বা, তা থেকে। তারপর একে একে মাখরাজ, হরকত, তাশদীদ, মাদ, গুন্নাহ, নূন সাকিন—সব কিছু।

দুই সপ্তাহের মধ্যেই সে আমাকে পুরো কায়দা মুখস্থ শোনায়—যেটা আমি নিজে এক বছর ধরে শিখেছিলাম!


মাসআলা ও আখলাক—তার দীপ্ত জীবনচর্চা

তারপর আমি তাকে ইস্তেঞ্জা, ওযু, তায়াম্মুম শেখাই। সে সুন্দরভাবে আত্মস্থ করে। এরপর কুরআন ধরিয়ে দিই—সে সেখান থেকেও নিয়ম জবাব দিতে পারে!


নাজারা, তিলাওয়াত ও প্রতিভার বিস্ফোরণ

সে নাজমুল সাকিবের কণ্ঠ নকল করে নিজস্ব স্টাইল তৈরি করে ফেলে! দুই মিনিটে এক পৃষ্ঠা! প্রতিদিন আধা পৃষ্ঠা পড়ার নিয়ম সে কঠোরভাবে মানে।


স্কুল, মঞ্চ, পুরস্কার আর গৌরব

সে স্কুলের প্রতিযোগিতায় নিয়মিত কেরাত পড়ে বিজয়ী হয়। ইমাম বুখারী একাডেমির প্রতিযোগিতায় প্রথম বা দ্বিতীয় হয়। কখনো ক্রেস্ট, কখনো ১০ হাজার টাকার পুরস্কার!


তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গি

আজ সে কলেজে পড়ে। GPA-5 পেয়েছে। পড়ায় ছেলেমেয়েদের ক্লাস নেয়। তার স্বপ্ন—ডাক্তার হয়ে গরিবদের ফ্রি চিকিৎসা


আমার গর্ব, আমার প্রেরণা

সে শুধু ছাত্র নয়—আমার আত্মার আত্মীয়, আমার স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। আমি গর্বিত, আল্লাহ তাকে আমার মাধ্যমে শিখিয়েছেন।

আল্লাহই তাকে শিখিয়েছেন, আমি শুধু একটি মাধ্যম মাত্র।


শেষ কথায় দোয়া

আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি গুণ কবুল করুন। সে যেন দীনের ও দুনিয়ার আলো হয়ে ওঠে। আমি তার জন্য নিরন্তর দোয়া করি—

ইমরান, তুমি আমার গর্ব!


লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

(তোমার ভাই, দোয়ার প্রত্যাশী)

Comments

Popular posts from this blog

সময়ের অপচয়, আত্মপ্রদর্শন ও সামাজিক মাধ্যমে অহেতুক প্রকাশ: এক আত্মসমালোচনামূলক আলোচনা

ইলম অর্জনের কষ্ট ও পদক্ষেপ

বেফাক পরীক্ষার প্রস্তুতি: মিশকাত জামাতের জন্য নিয়ম-নীতি ও কলাকৌশল