কুরবানির মাহাত্ম্য, বিধান ও প্রাসঙ্গিক ফিকহি বিশ্লেষণ
কুরবানির মাহাত্ম্য, বিধান ও প্রাসঙ্গিক ফিকহি বিশ্লেষণ
🔹 কুরবানির পরিচয় ও তাৎপর্য
কুরবানি একটি ইবাদত, যা প্রতি হিজরি বর্ষের জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে আদায় করা হয়। এটি মূলত ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ)-এর আত্মত্যাগের স্মৃতি রক্ষায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করার বিধান।
"কুরবানির পশুর রক্ত ও গোশত আল্লাহর নিকট পৌঁছে না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।"
﴿لَنۡ يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَـٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقۡوَىٰ مِنكُمۡ﴾ — সূরা হজ্ব, আয়াত ৩৭
🔹 কুরবানির হুকুম
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, কুরবানি মুস্তাতি' (সক্ষম) ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব। অন্য মাজহাবগুলোতে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
«مَن وَجَدَ سَعَةً فلَمْ يُضَحِّ، فلا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا»
— সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩১২৩“যে ব্যক্তি কুরবানির সামর্থ্য রাখে অথচ কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে।”
🔹 কুরবানির পশুর শর্ত
- উট – ৫ বছর পূর্ণ
- গরু – ২ বছর পূর্ণ
- ছাগল/ভেড়া – ১ বছর পূর্ণ (বা ছয় মাসে বড় দেখায়)
- পশু হতে হবে সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত
🔹 কুরবানির সময়
ঈদের নামাযের পর থেকে শুরু করে ১২ই জিলহজ্বের মাগরিব পর্যন্ত কুরবানি করা যায়।
«مَن ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلَاةِ فَإِنَّهُ ذَبَحَ لِنَفْسِهِ»
— সহীহ বুখারী, হাদীস: ৯৮৪“যে নামাযের আগে কুরবানি করে, সে কেবল নিজের জন্য মাংস জবাই করল।”
🔹 আধুনিক ভুল ও সংশোধনী
অনেকে শুধু “গরীব থাকলে কুরবানি করা দরকার” মনে করেন। অথচ ইসলামে এটি আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। আবার কেউ মনে করেন কুরবানির মাংস শুধু দান করতে হবে—তাও ভুল; নিজের খাওয়া, উপহার ও দান—তিনটিই সুন্নাহ।
🔹 উপসংহার
কুরবানি আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও তাকওয়ার বহিঃপ্রকাশ। ইবরাহীম (আঃ)-এর আত্মোৎসর্গের অনুসরণে আমরা যেন এই ইবাদতকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা না বানিয়ে তাতে অন্তরের খুশু-খুজু ও তাকওয়া রাখি—এটাই মূল উদ্দেশ্য।
Comments
Post a Comment