কুরবানির ইতিহাস ও হিকমত
কুরবানির ইতিহাস ও হিকমত
🔹 কুরবানির সূচনা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
কুরবানি মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ইবাদত। কুরআন মাজীদ জানায়, এই ইবাদতের সূচনা হয়েছে আদম (আঃ)-এর যুগ থেকেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই এই ইবাদত চালু হয়েছে।
﴿إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانٗا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ ٱلْآخَرِ﴾
— সূরা মায়েদা, আয়াত ২৭
হাবীল ও কাবীলের কুরবানির ঘটনা এই প্রথার সূচনালগ্নে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত রীতির পরিচয় দেয়। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ)-এর মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে।
🔹 ইবরাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ)-এর আত্মোৎসর্গ
আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম (আঃ)-কে স্বপ্নে আদেশ করেন, যেন তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-কে কুরবানি করেন। ইবরাহীম (আঃ) তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত হন আল্লাহর হুকুম পালনে।
﴿يَـٰبُنَيَّ إِنِّيٓ أَرَىٰ فِي ٱلْمَنَامِ أَنِّيٓ أَذۡبَحُكَ فَٱنظُرۡ مَاذَا تَرَىٰ﴾
— সূরা সফফাত, আয়াত ১০২
এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানলো, কুরবানি কেবল পশু জবাই নয়; বরং তা এক গভীর আত্মত্যাগ, ইখলাস ও তাকওয়ার বহিঃপ্রকাশ।
🔹 কুরবানির মূল হিকমত ও দর্শন
- আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ
- আত্মনিবেদন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মনোভাব
- সমাজে সহানুভূতি, দানশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি
- নিজের খরচে ইবাদত করা, যা ধনসম্পদের সত্যিকার ব্যবহার
﴿إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَـٰلَمِينَ﴾
— সূরা আনআম, আয়াত ১৬২
🔹 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কুরবানির গুরুত্ব
হাদীস শরীফে আছে, রাসূল ﷺ নিজ হাতে কুরবানি করতেন এবং তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকেও করতেন। তিনি বলেন:
«اللَّهُمَّ هَذَا عَنِّي وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي»
— সুনান আবু দাউদ, হাদীস: ২৮১০
🔹 উপসংহার
কুরবানি হলো আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ। এটি একটি স্মারক, যা আমাদের আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ইতিহাস ও দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ইবরাহীমি আত্মত্যাগের এই শিক্ষা যেন কেবল রীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং জীবনব্যাপী অনুসরণযোগ্য আদর্শে পরিণত হয় — সেটাই কাম্য।
Comments
Post a Comment