পারিবারিক সুখ ও শান্তি

 

— মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা —    পারিবারিক সুখ ও শান্তি 

প্রস্তাবনা

এই উপন্যাসের প্রতিটি শব্দ ভালোবাসার সুবাসে পরিপূর্ণ। ইসলাম যেভাবে একটি পরিবারকে প্রেম, রহমত ও সহযোগিতার বন্ধনে গেঁথে দেয়, সেই চিত্রকে সাহিত্যের গাঁথুনিতে প্রকাশ করা হয়েছে এই লেখায়। মূল চরিত্র আদনান ও মাহজাবীন—যাদের জীবনের বাঁকে বাঁকে ইসলামি আদর্শের সৌন্দর্য মিশে আছে প্রেমের গভীরতায়।

প্রথম অধ্যায়: হিজাবের আড়াল থেকে দেখা প্রেম

মাহজাবীনের চোখে ছিল এক অনাবিল শান্তি, যা দেখে আদনান বিস্ময়ে থেমে যায়। না, এটা বাহ্যিক সৌন্দর্যে মোহিত হওয়া নয়, এটা ছিল এক আলোকিত আত্মার টান। মাহজাবীন ছিল কুরআনের হাফেজা, নরম ভাষায় কথা বলে, আর সবসময় নিজের হিজাব ঠিক রাখতো। একবার মসজিদের এক প্রোগ্রামে দেখা, তারপর ধীরে ধীরে হৃদয়ে গেঁথে যাওয়া। আদনান তখন থেকেই দোয়া করতো—“হে আল্লাহ! তাকেই আমার সঙ্গিনী করো, যে দ্বীন ও প্রেমে একসাথে পথচলার উপযুক্ত।”

দ্বিতীয় অধ্যায়: নিকাহ — প্রেমের পূর্ণতা

কয়েক মাস পর দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মাহজাবীন ও আদনানের আকদ সম্পন্ন হয়। নবীজির (সা.) হাদীস অনুযায়ী, “নিকাহ আমার সুন্নত, আর যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরায়, সে আমার উম্মত নয়।” তাদের সংসার শুরু হয় আল্লাহর নামে, কুরআন তেলাওয়াত আর মিষ্টি দুআ দিয়ে। আদনান মাহজাবীনের জন্য একখানা ছোট্ট কবিতা লিখেছিল—

“তুমি কুরআনের মতো শান্ত,
তুমি আমার জান্নাতের চাবি,
হিজাবের আড়ালে প্রেম লুকায়,
চোখে যেন আল্লাহর ছবি।”

তৃতীয় অধ্যায়: পরস্পরের অবলম্বন

সংসার ছিল না নিখুঁত, কিন্তু তাদের ভালোবাসা ছিল পরিপূর্ণ। মাহজাবীন আদনানকে ফজরের জন্য ডাকতো, আদনান বাজার থেকে মাহজাবীনের প্রিয় আতর কিনে আনতো। দুজনেই রাগ হতো, আবার একে অপরের হাতে পানি দিয়ে রাগ ভাঙাতো। কুরআনের এই আয়াতটি তাদের মনে গেঁথে গিয়েছিল: “তারা তোমাদের জন্য পোশাক, তোমরাও তাদের জন্য পোশাক।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)

চতুর্থ অধ্যায়: পরীক্ষা ও ধৈর্য

মাহজাবীনের একটি মিসক্যারিজ হয়। এই দুঃসময়ে আদনান চোখের পানি লুকিয়ে বলেছিল, “আল্লাহ তোমার ধৈর্যের জন্য জান্নাতে দ্বার খুলে রাখবেন।” মাহজাবীন দুঃখে ভেঙে না পড়ে আরও বেশি নামাজে সময় দিতে শুরু করলো। আদনান তাকে সাহস দিলো হাদীস শুনিয়ে: “যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট।”

পঞ্চম অধ্যায়: পূর্ণতার পথে যাত্রা

আল্লাহ তাদেরকে একটি কন্যা সন্তান দান করেন। তারা নাম রাখে “সাকীনা”—যার মানে শান্তি। সেই শিশুর হাসিতে যেন জান্নাতের ঝিলিক। এই সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালনে তারা পরস্পরের সহযোগী হয়। মাহজাবীন বলে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি দ্বীনের জন্য।” আদনান উত্তর দেয়, “আমি তোমাকে ভালোবাসি, কারণ তুমি আমার জান্নাতের পথ।”

সুতরাং,,,,

এই উপন্যাস প্রেমের, তবু পবিত্র। অনুভবের, তবু সংযত। আদনান ও মাহজাবীনের ভালোবাসা আমাদের শিক্ষা দেয়—ইসলাম কখনো ভালোবাসাকে বাঁধা দেয় না, বরং তা সৌন্দর্যময় করে তুলে। দাম্পত্য সম্পর্ককে মজবুত করতে চাইলে দরকার পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ক্ষমা, বোঝাপড়া এবং সর্বোপরি আল্লাহভীতি।

লেখক: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি