মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক: ইসলামী দৃষ্টিকোণ
মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক: ইসলামী দৃষ্টিকোণ
পরিবার হল সমাজের ভিত্তি। আর পরিবারকে টিকিয়ে রাখার প্রধান উপাদান হলো মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যে সুমধুর সম্পর্ক। ইসলামের আলোকে পারিবারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই সম্পর্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেন: “وَقَضىٰ رَبُّكَ أَلّا تَعبُدوا إِلّا إِيّاهُ وَبِالوالِدَينِ إِحسانًا”
অর্থাৎ: “তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করো এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা বনি ইসরাঈল: ২৩)
হাদীসে এসেছে: “رضا الله في رضا الوالدين، وسخط الله في سخط الوالدين”
অর্থাৎ: “আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে।” (তিরমিযী)
সন্তানের অধিকার ও দায়িত্ব
ইসলামে সন্তানেরও কিছু অধিকার রয়েছে, যেমন সুশীতল নাম রাখা, আদব শেখানো, দ্বীনী শিক্ষা দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু সন্তান বড় হওয়ার পর তার দায়িত্ব শুরু হয়—মা-বাবার খেদমত, তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার, তাদের প্রয়োজনে পাশে থাকা ইত্যাদি।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “أنت ومالك لأبيك” — অর্থাৎ, “তুমি ও তোমার সম্পদ তোমার পিতার।” (ইবন মাজাহ)
বর্তমান সমাজে বিশৃঙ্খলার কারণ
আধুনিক যুগে প্রযুক্তির আসক্তি, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব এবং ইসলামী শিক্ষার অভাবে পরিবারে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সন্তান মা-বাবার সাথে দুর্ব্যবহার করছে, আর মা-বাবাও অনেক সময় সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করছে না।
সমাধান কী?
- পরিবারে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলা
- উভয়ের মধ্যে পরস্পর শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি তৈরি করা
- উলামায়ে কেরামের মজলিসে উপস্থিত থাকা ও পরামর্শ নেওয়া
- দ্বীনী শিক্ষাকে পরিবারের মৌলিক স্তম্ভে পরিণত করা
আরবি কিতাবের রেফারেন্স
- الآداب الشرعية – ابن مفلح
- جامع بيان العلم وفضله – ابن عبد البر
- حقوق الوالدين – ابن الجوزي
- الأدب المفرد – البخاري
সুতরাং,,,,
মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক হচ্ছে ভালবাসা, করুণা ও দায়িত্বের বন্ধন। এই বন্ধন যত দৃঢ় হবে, ততই সমাজ ও জাতি পাবে শান্তি ও স্থায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে এই সম্পর্কের হক আদায় করার তাওফিক দান করেন। আমীন।
Comments
Post a Comment