মানুষকে কষ্ট দেওয়া: এক নিষিদ্ধ পাপ
মানুষকে কষ্ট দেওয়া: এক নিষিদ্ধ পাপ
আমরা প্রায়ই এমন কিছু আচরণ করি, যা দ্বারা অন্য কেউ কষ্ট পায়—কিন্তু আমরা তা উপলব্ধিও করি না। সহপাঠী, বন্ধু, প্রতিবেশী, আত্মীয়—কারো প্রতি কটু কথা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, শারীরিক আঘাত কিংবা সম্পদে হস্তক্ষেপ—এসব কিছুই মানুষকে কষ্ট দেয়। ইসলাম এমন আচরণের কঠোর নিন্দা করে।
কুরআনের দিকনির্দেশনা
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا
“যারা মুমিন নর ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের অপরাধের জন্য নয়, তারা একটি বড় অপবাদ এবং স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।” (সূরা আহযাব: ৫৮)
রাসূল (সা.)-এর হাদীস
الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
“সেই ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম, যার হাত ও জবান থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।” (সহীহ বুখারী)
সাহাবা ও সালাফদের বক্তব্য
ইবনু আবী হাতিম তাঁর তাফসীরে হযরত হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন—“যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে কষ্ট দেয়, সে যেন আল্লাহকে কষ্ট দিল।” এমনকি সামান্য কটুকথাও একজন ঈমানদারকে আহত করে।
ইমাম ইবনুল মুবারাক (রহ.) বলেন: “সত্যিকার ইলম ও তাকওয়ার পরিচয় হলো, তুমি এমন কথা ও আচরণ থেকে বিরত থাকবে যা অন্যের হৃদয়ে জ্বালা ধরিয়ে দেয়।”
সহপাঠীকে কষ্ট দেওয়া: বাস্তব ও নিন্দনীয়
অনেক সময় আমরা দুর্বল সহপাঠীকে কটাক্ষ করি, জিনিস নিয়ে নিই, শারীরিক আঘাত করি, অপমানজনক কথা বলি—যা তাকে কষ্ট দেয়। সে হয়তো মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না, কিন্তু অন্তরে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। মনে রেখো, এক মুমিনের দুঃখ আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
কীভাবে নিজেকে সংশোধন করব?
- কারো ক্ষতি করার আগে ভাবো: আল্লাহ কী বলবেন?
- অন্যের উপর হাসাহাসি, ঠাট্টা ও তুচ্ছ করা বন্ধ করো।
- যদি কারো হক নষ্ট করো, ক্ষমা চাও, ফিরিয়ে দাও।
- আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের মনকে শান্ত করো।
শেষ কথা
মুমিনের পরিচয় শুধু নামাজ-রোযাতে নয়, বরং তার ব্যবহারে, সহনশীলতায়, নরম ভাষায় ও অন্যের প্রতি সম্মানে। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের এমন ব্যক্তি হিসেবে কবুল করেন—যারা কখনো কাউকে কষ্ট দেয় না, বরং তাদের দুঃখ দূর করে।
Comments
Post a Comment