অপচয়: এক মারাত্মক বাস্তবতা

 অপচয়: এক মারাত্মক বাস্তবতা

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

আমরা অনেক সময় বুঝে না বুঝে এমন কিছু করে ফেলি, যা শরীয়তের মাকসাদের পরিপন্থী। এমন আচরণ একজন মুসলিমের জন্য শোভনীয় নয়। অপচয়ও তেমনি একটি গর্হিত কাজ, যা কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।

খাবারের অপচয়

প্রতিদিন অসংখ্য পরিবার খাবার নষ্ট করে। ভাত, তরকারি, রুটি—এসব অনেক সময় অর্ধেক খাওয়া হয় না; ফেলে দেওয়া হয়। ময়লার সাথেই চলে যায় এসব খাবার। অথচ একমুঠো ভাত তৈরি হতে কত শ্রম ও ঘাম ঝরে মানুষের! ধান লাগানো, রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করা, ধান কাটা, মাড়ানো, ভাঙানো এবং বাজারে পৌঁছে দেওয়া—সবকিছুতেই কষ্ট জড়িত। আর এতে ফেরেশতারাও আল্লাহর হুকুমে ভূমিকা পালন করেন।

এই ভাত নষ্ট করা মানে শুধু একটি খাবার নয়, বরং সেই কষ্ট, বরকত এবং কৃতজ্ঞতার চেতনাকে অপমান করা। এতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।

পানির অপচয়

আমরা অজু করতে গিয়ে, হাত-মুখ ধুতে গিয়ে কিংবা অপ্রয়োজনীয়ভাবে পানির কল খোলা রেখে প্রতিনিয়ত পানি অপচয় করি। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমরা নদীর ধারে অজু করলেও পানি অপচয় করবে না।" (ইবনু মাজাহ)

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয়

ঘর ছেড়ে চলে গেলেও বাতি, পাখা, এসি চলে থাকে—এটিও এক ধরনের অপচয়। অকারণে ইলেকট্রনিক ডিভাইস চালু রাখা, ফোন চার্জার লাগিয়ে রাখা, অপ্রয়োজনীয় লাইট জ্বালিয়ে রাখা এগুলোর ফলে শুধু সম্পদ নয়, পরিবেশও নষ্ট হয়।

জীবনের সময়ের অপচয়

সময় হলো আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় নিয়ামতগুলোর একটি। কিন্তু আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়া, অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বা গীবতে মশগুল থাকি। এটা কেবল দুনিয়ার নয়, আখিরাতেরও অপচয়।

কীভাবে বাঁচব অপচয় থেকে?

  • খাবার যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই নিতে শিখো।
  • বাকি খাবার সংরক্ষণ করে পরে খাওয়ার ব্যবস্থা করো।
  • পানি ব্যবহারে সচেতন হও। অজু বা গোসলেও মিতব্যয়িতা চর্চা করো।
  • ঘর ছাড়ার আগে লাইট, ফ্যান বন্ধ করে বের হও।
  • ফোন, ল্যাপটপ চার্জ শেষে খুলে রাখো।
  • সময়কে গঠনমূলক কাজে লাগাও—ইলম, ইবাদত ও খিদমতে।

অপচয়ের পরিণতি

অপচয় আমাদের জীবনে বরকত নষ্ট করে দেয়। খাদ্যে, পানিতে, সম্পদে বরকত উঠে যায়। হৃদয়ে না-শুকুরি জন্মে। আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হয়।

শেষ কথা

একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত প্রতিটি কাজের পিছনের উদ্দেশ্য বোঝা এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। অপচয় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, বরকতের সংরক্ষণ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা—এটাই হওয়া উচিত প্রত্যেক ঈমানদারের চেতনা।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি