চার মাজহাব অনুযায়ী কুরবানির বিধান ও বিশ্লেষণ
চার মাজহাব অনুযায়ী কুরবানির বিধান ও বিশ্লেষণ
🔹 ভূমিকা
ইসলামি শরীয়তে কুরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যদিও মূল আদেশ কুরআন ও হাদীস থেকে এসেছে, কিন্তু এর বিশদ বিবরণ চার মাজহাবের ফিকহি বিশ্লেষণেই স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে। নিচে প্রতিটি মাজহাব অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।
🔸 হানাফি মাজহাব
হানাফি মাজহাবে কুরবানি ওয়াজিব সেই ব্যক্তির ওপর, যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে ঈদের দিন সকালবেলা।
«الأضحية واجبة على المقيم الموسر»
— الدر المختار مع رد المحتار 6/312
হানাফিদের মতে, এটি এমন ইবাদত যা ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে; কাজেই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা পরিত্যাগ করা জায়েজ নয়।
🔸 মালিকি মাজহাব
মালিকি মাজহাবে কুরবানি সুন্নাতে মুআক্কাদা, তবে তারা এটাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।
«والأضحية سنة مؤكدة، يكره تركها للقادر»
— الشرح الكبير للدردير 2/113
তাঁদের মতে, যারা কুরবানি করার সামর্থ্য রাখে, তারা না করলে তা مكروه তানযীহি।
🔸 শাফেয়ি মাজহাব
শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী কুরবানি সুন্নাতে মুআক্কাদা, তবে সুন্নত হওয়ার পরও এর প্রতি উৎসাহ রয়েছে এবং তা অগ্রাহ্য করাকে তারা নিন্দনীয় মনে করেন।
«الأضحية سنة مؤكدة عن النبي ﷺ»
— المجموع للنووي 8/383
তারা বলেন, নবী ﷺ নিজের ও তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছেন — তাই এটাতে অধিক সওয়াব ও ইবাদতের রূপ বিদ্যমান।
🔸 হাম্বালি মাজহাব
হাম্বালি মাজহাবে কুরবানি সুন্নাতে কেফায়া। অর্থাৎ, একটি পরিবার থেকে একজন কুরবানি করলেই যথেষ্ট।
«وهي سنة كفاية، إذا ضحى أهل البيت سقطت عن باقيهم»
— المغني لابن قدامة 11/96
তবে কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত না করলে সেটা অবহেলা হিসেবে গণ্য হয়।
🔹 উপসংহার
চার মাজহাবেই কুরবানির ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে, তবে হানাফি মাজহাবে এটি ওয়াজিব, বাকি তিন মাজহাবে তা সুন্নাতে মুআক্কাদা বা কেফায়া। সুতরাং, যাঁরা কুরবানি করার সামর্থ্য রাখেন, তাঁদের জন্য এটা ইবাদতের এক মহা সুযোগ, যা তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়।
Comments
Post a Comment