একটি বৃষ্টিময় সন্ধ্যার স্মৃতি

 

একটি বৃষ্টিময় সন্ধ্যার স্মৃতি

✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
সারাদিন ধরে আকাশ কাঁদছিল—মিষ্টি বৃষ্টি পড়ছিল থেমে থেমে। চারপাশে যেন এক শীতল আবরণ নেমে এসেছে। মাগরিবের আজান শেষ হয়েছে মাত্র, আসমানে মেঘের ফাঁক দিয়ে মৃদু রঙের আলো ছড়িয়ে পড়ছে।আমরা পাঁচজন ভাই একত্রে বসেছি—প্ল্যান হচ্ছে মুড়ি পার্টি। এমন পরিবেশে, এমন মুহূর্তে, মুড়ি খাওয়ার মতো আনন্দ যেন খুব কমই আছে!
হঠাৎ করে সাজ্জাদ ভাইরাকিব ভাই আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন:
ভাই, আপনি এত সুন্দর লেখেন কীভাবে? এত অনুপ্রেরণা পান কোথা থেকে?
আমি তখন নরম হাসি হেসে বললাম:
এটা তো আল্লাহর দেওয়া একটি নেয়ামত। ছোটবেলা থেকেই আমার লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ছিল। হেদায়াতুন নাহু জামাতে পড়ার সময় থেকেই আমি ওস্তাদদের আলোচনা লিখে রাখতাম।
একসময় প্রবন্ধ, মাকালা, রোজনামচা লিখতে শুরু করলাম। পরে এগুলো ফেসবুকে ও ব্লগে প্রকাশ করতে থাকি।
এরপর আলোচনার মোড় ঘুরে গেল ইউটিউব, ফটো এডিটিং, ওয়েব ডিজাইনিংয়ের দিকে। তারা জানতে চাইল:
আপনার ভিডিও কীভাবে বানান? ফটো কীভাবে এডিট করেন? এসব কি অনেক কঠিন?
আমি জানালাম, আমার ভাই একজন দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার, ফটো ও ভিডিও এডিটর। তাঁর মাধ্যমেই অনেক কিছু শিখেছি, এবং আস্তে আস্তে নিজের চেষ্টায় অনেক কিছু করতে শিখেছি।
তখনই সাইদুল ভাই ডাক দিলেন:
ভাই, মুড়ি তো হয়ে গেছে! আসেন সবাই একসাথে খাই।
আমি কোনো টাকা দিইনি, কিন্তু তারা হাদিয়া দিল ভালোবাসা দিয়ে। বলল:
ভাই, আপনার কাছ থেকে কি আমরা টাকা চাইছি? এটা তো ভালোবাসার ব্যাপার।
তারপর আমরা সবাই মিলে—সাজ্জাদ ভাই, রাকিব ভাই, মাহবুব ভাই, সাইদুল ভাই—একসাথে মুড়ির স্বাদ নিতে নিতে স্মৃতির পাতায় এক সুন্দর সন্ধ্যা এঁকে ফেললাম।
মাগরিবের সে সন্ধ্যা সত্যিই ছিল অমলিন। কথাবার্তা, স্মৃতি, মুহূর্তগুলো যেন জীবনের পাতায় রঙিন ছাপ রেখে গেল। এই দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি