Posts

Showing posts from December, 2025

নতুন বছরের আলো, কমে আসা হায়াত এবং জাগ্রত হৃদয়ের ডাক

  নতুন বছরের আলো, কমে আসা হায়াত এবং জাগ্রত হৃদয়ের ডাক মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  আজ জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ, ২০২৬ সাল। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে গেছে। একটি নতুন সংখ্যা, নতুন বছর, নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। চারপাশে খুশির আমেজ—নতুন বছর পেয়েছি বলে আমরা আনন্দিত। মনে হচ্ছে, এবার সবকিছু নতুন করে সাজাবো। বাড়িঘর নতুনভাবে গুছাবো, পড়াশোনার টেবিল নতুন করে পরিষ্কার করবো, রুমের দেয়ালে নতুন রঙ লাগাবো, আলমারির ভেতর পুরোনো কাগজ ফেলে দিয়ে নতুন স্বপ্ন রাখবো। নতুন বছর মানেই আমাদের জীবনে একধরনের উৎসব। আত্মীয়স্বজন আসবে, বন্ধু-বান্ধব আসবে, মেহমানের আনাগোনা বাড়বে। ঘরে ঘরে রান্নার ঘ্রাণ ছড়াবে। হরেক রকমের খাবার—মিষ্টি, ঝাল, নানান স্বাদের পদ। হাসি, গল্প, ছবি তোলা, শুভেচ্ছা বিনিময়—সব মিলিয়ে জীবন যেন একটু বেশি রঙিন হয়ে ওঠে। কিন্তু এই সব খুশির মাঝেও একটি নীরব সত্য দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের সামনে—নতুন বছর এসেছে, কিন্তু আমাদের হায়াত কমে গেছে। আমরা খেয়াল করি না। আমরা শুধু বলি—“আরেকটা বছর পেয়ে গেলাম।” কিন্তু সত্য হলো, আরেকটা বছর হারিয়ে গেল। যদি আমার বেঁচে থাক...

নতুন সময়ের দরজায় দাঁড়িয়ে — হিসাব, হিজরত ও হৃদয়ের নবজাগরণ

  নতুন সময়ের দরজায় দাঁড়িয়ে — হিসাব, হিজরত ও হৃদয়ের নবজাগরণ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  ঠিক রাত বারোটা এক মিনিট। ঘড়ির কাঁটা এক অদ্ভুত মুহূর্তে এসে দাঁড়াবে। ২০২৫ নামের একটি পুরো বছর নিঃশব্দে বিদায় নেবে, আর ২০২৬ নামের নতুন একটি বছর আমাদের জীবনের খাতায় প্রথম পৃষ্ঠা খুলে দেবে। এই ক্ষণটি শুধু সময় বদলের নয়—এটি আত্মার দরজায় কড়া নাড়ার ক্ষণ, বিবেকের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হিসাব তোলার ক্ষণ। আজ ২০২৫-এর বিদায়, আর ২০২৬-এর আগমন। আজ আমাদের থেমে যাওয়ার দিন। দৌড় থামিয়ে একবার পেছনে তাকানোর দিন। প্রশ্ন করার দিন—আমি কেমন ছিলাম? আমি কী হয়েছি? আমি কোথায় পৌঁছালাম, আর কোথায় পৌঁছাতে পারিনি? সময় আমাদের কারও জন্য অপেক্ষা করে না। সে চলে যায়, আর পেছনে রেখে যায় স্মৃতি, ভুল, সাফল্য আর আফসোস। আল্লাহ তাআলা কুরআনে শপথ করে সময়ের কথা বলেছেন— وَالْعَصْرِ ۝ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ “শপথ সময়ের! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।” (সূরা আল-আসর) এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে আজই হিসাব করতে হবে। হিসাব ছাড়া সামনে এগোনো যায় না। আমি যদি একজন ছাত্র হই—তাহলে নিজেকে প্রশ্ন ...

নতুন বছরের সূচনা—নতুন নিয়ত, নতুন পথচলা

  নতুন বছরের সূচনা—নতুন নিয়ত, নতুন পথচলা মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  দেখতে দেখতে আরও একটি বছর আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিল। ২০২৫ শেষ হয়ে ২০২৬ এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়। আশ্চর্য লাগে—এই তো সেদিন ২০২৪ শেষ করে আমরা ২০২৫-এ পা রেখেছিলাম, কত স্বপ্ন, কত আশা নিয়ে। অথচ আজ মনে হচ্ছে, ২০২৫ যেন চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেল। দিনগুলো কোথায় গেল, সময়গুলো কিভাবে ঝরে পড়ল—এর কোনো হিসাব আমরা রাখতে পারিনি। আসলে সময় এমনই। সে নিঃশব্দে আসে, নিঃশব্দেই চলে যায়। মানুষ ব্যস্ত থাকে নিজের কাজে, নিজের চাওয়া-পাওয়ায়, নিজের হাসি-কান্নায়। আর এর মাঝেই একটি বছর আরেকটি বছরের সাথে মিশে যায়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে সময়ের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন— وَالْعَصْرِ ۝ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ “শপথ সময়ের! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।” (সূরা আল-আসর) নতুন বছর আসা মানেই শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা বদলানো নয়। নতুন বছর মানে নিজের দিকে ফিরে তাকানো, নিজেকে প্রশ্ন করা—আমি গত বছর কী করলাম? আল্লাহর জন্য কী করলাম? নিজের নফসের বিরুদ্ধে কতটা দাঁড়াতে পেরেছি? ২০২৬-এর প্রথম দিন থেকেই আমাদের নিয়ত...

সময় থাকতে সময়ের মূল্য যারা বুঝে না

  সময় থাকতে সময়ের মূল্য যারা বুঝে না মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  সময়—একটি নীরব স্রোত। সে শব্দ করে না, ডাক দেয় না, থামে না কারো জন্য। তবুও মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ এই সময়ই। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষ সবকিছু হারালে আফসোস করে, কিন্তু সময় হারিয়েও খুব কম মানুষই কাঁদে। অথচ যে সময় চলে যায়, সে আর কখনো ফিরে আসে না। সময় থাকতে সময়ের মূল্য যারা বুঝে না, তারা আসলে নিজেদেরই মূল্য বোঝে না। কারণ মানুষের জীবন মানেই কিছু নির্দিষ্ট সময়। শৈশবের সময়, যৌবনের সময়, শক্তির সময়, সুযোগের সময়—সবকিছুরই আলাদা একটি দরজা আছে। দরজাটা খোলা থাকে কিছুক্ষণ, কেউ ঢুকে পড়ে, কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই দরজা বন্ধ হতে দেখে। আমরা অনেকেই বলি—“একদিন করবো”, “সময় পেলে করবো”, “এখন না, পরে”। এই ‘পরে’ শব্দটাই সবচেয়ে বড় ধোঁকা। কারণ পরে বলে আসলে কিছু নেই। আছে শুধু এই মুহূর্ত, এই নিঃশ্বাস, এই সময়। একজন ছাত্র ভাবে—এখন না পড়লেও চলবে, সামনে সময় আছে। একজন যুবক ভাবে—এখন দীন মানা কঠিন, পরে ঠিক হয়ে যাবে। একজন বৃদ্ধ ভাবে—আর একটু সময় পেলে তাওবা করবো। কিন্তু সময় কাউকেই এতটা সুযোগ দেয় না ...

এক গাছের আর্তনাদ

  এক গাছের আর্তনাদ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  আমি গাছ। এইটুকুই আমার নাম, এইটুকুই আমার পরিচয়। কোনো পদবি নেই, নেই কোনো বংশমর্যাদা, নেই কোনো পরিচয়পত্র। তবুও আমি দাঁড়িয়ে আছি যুগের পর যুগ—নীরবে, অবিচল, সহিষ্ণু হয়ে। মানুষ আমাকে দেখে, কিন্তু দেখে না। মানুষ আমাকে ব্যবহার করে, কিন্তু বোঝে না। মানুষ আমার ছায়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নেয়, কিন্তু আমার ক্লান্তির কথা একবারও ভাবে না। আমাকে ডিল দেয়—আমি ফল দিই। আমাকে কষ্ট দেয়—আমি সুখ দিই। আমাকে কেটে ফেলে—আমি কাঠ দিই। আমাকে পোড়ায়—আমি উষ্ণতা দিই। বলুন তো, এমন নিঃস্বার্থতা আর কোথায় আছে? আমার শিকড় মাটির গভীরে গেঁথে থাকে। সেখানে অন্ধকার, সেখানে চাপা কষ্ট। পাথর আমাকে আঘাত করে, পোকা আমাকে কামড়ায়, পানি না পেলে আমি শুকিয়ে যাই। তবুও আমি উপরে তাকিয়ে থাকি—আকাশের দিকে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, উপরে আলো আছে। মানুষ ভাবে, গাছের কোনো অনুভূতি নেই। কিন্তু আমি অনুভব করি—সবচেয়ে বেশি। যখন ছোট্ট একটি শিশু আমার ডালে দোল খায়, আমি ব্যথা পাই—তবুও হাসি। যখন প্রেমিক-প্রেমিকা আমার ছায়ায় বসে স্বপ্ন দেখে, আমি নীরবে পাহ...

বই আমার বন্ধু—যখন বন্ধু আমার শত্রু তখন

  বই আমার বন্ধু—যখন বন্ধু আমার শত্রু তখন  মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে কেউ না কেউ থাকে, যার সাথে হৃদয়ের এক অদৃশ্য বন্ধন জড়িয়ে থাকে। কারো জীবনে সে বন্ধন ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে, কারো জীবনে পরিবারের সঙ্গে, আবার কারো জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে। কিন্তু খুব কম মানুষই উপলব্ধি করতে পারে—জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, সবচেয়ে নীরব সঙ্গীটি আসলে কে। আমি বিশ্বাস করি, ছাত্রজীবন হোক কিংবা পরিণত বয়স—মানুষের জীবনে সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু হলো বই । মানুষ বদলে যায়। সম্পর্ক বদলে যায়। সময়ের সাথে সাথে মুখোশ খুলে পড়ে অনেক আপনজনের। যে বন্ধু একদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলেছিল, সেই বন্ধুই একদিন অচেনা হয়ে ওঠে। কখনো হিংসা, কখনো স্বার্থ, কখনো অহংকার—বন্ধুত্বের বুক চিরে ঢুকে পড়ে বিষাক্ত ছুরি। তখন মানুষ ক্লান্ত হয়, ভেঙে পড়ে, বিশ্বাস করতে ভয় পায়। ঠিক সেই মুহূর্তে, নীরবে পাশে এসে দাঁড়ায় একটি বই। বই কখনো প্রতারণা করে না। বই কখনো ঈর্ষা করে না। বই কখনো তোমার সাফল্যে অস্বস্তি বোধ করে না। বরং তুমি যত বড় হও, যত গভীরে যাও, বই তত বেশি গর্ব ক...

আমি মাটি বলছি

  আমি মাটি বলছি আমাকে চিনো তোমরা? আমি সেই সাধারণ মাটি—যাকে প্রতিদিন তোমরা পা দিয়ে মাড়িয়ে যাও, অথচ একবারও জিজ্ঞেস করো না, আমি কেমন আছি। আমি মাটি। আমার কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই। আমার কণ্ঠ নেই, তাই আমার আর্তনাদ শোনো না। আমার চোখ নেই, তাই আমার অশ্রু তোমাদের চোখে পড়ে না। তোমাদের কাছে আমি শুধু মাটি—অমূল্য, অবহেলিত, পিষে ফেলার মতো একটি বস্তু। আমার ওপর মানুষের জুলুম তোমরা আমাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে তোলো। আমার বুক চিরে রাস্তা বানাও। আমার গায়ে ইট-পাথর চাপিয়ে গড়ে তোলো আকাশছোঁয়া ভবন। শীত এলে আমাকে উলঙ্গ করে রাখো, গ্রীষ্ম এলে আমাকে পুড়িয়ে ফেলো। বৃষ্টি এলে আমার ওপর দোষ চাপাও— বল, “মাটি নরম, মাটি কাদা, মাটি নোংরা।” কখনো কি ভেবেছো— এই মাটিরও কি ব্যথা লাগে না? তোমরা আমাকে আবর্জনার স্তূপ বানাও, বিষ ঢেলে দাও আমার শরীরে, আমার বুকের ভেতর কবর দাও প্লাস্টিক, বিষ, রক্ত আর আগুন। তবুও আমি কিছু বলি না। কারণ আমি জানি—আমার নীরবতাই আমার ইবাদত। আমার সহনশীলতা আমি সহ্য করি। কারণ সহ্য করাই আমার পরিচয়। আমার বুকে দাঁড়িয়ে তোমরা মসজিদ বানাও,...

শব্দের পথে আমার যাত্রা

শব্দের পথে আমার যাত্রা بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ কলম কখনো শুধু কালি বহন করে না—কলম বহন করে ভাবনা, অনুভব, বিশ্বাস আর দায়িত্ব। এই লেখার আঙিনায় প্রবেশ করার আগে পাঠকের কাছে আমার একটাই অনুরোধ—এখানে শব্দকে শুধু পড়বে না, অনুভব করার চেষ্টা করবে। আমার নাম মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা । আমি এমন একজন মানুষ, যে শব্দের ভেতর দিয়ে নিজেকে খুঁজে ফেরে, আর প্রশ্নের ভেতর দিয়ে উত্তরকে শানিত করে। এই ব্লগটি আমার চিন্তার দিনলিপি, জ্ঞানের ভাণ্ডার নয়—বরং জ্ঞান অর্জনের একটি চলমান পথ। এখানে আমি লিখব ইসলামিক জ্ঞান, সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও আধুনিক সায়েন্স বিষয়ে। কোনো বিষয়ই এখানে অপ্রয়োজনীয় নয়, যদি তা মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়। ইসলামিক চিন্তা ও আত্মশুদ্ধির লেখা ইসলাম শুধু একটি ধর্ম নয়—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এই জায়গায় আমি চেষ্টা করব কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের জীবন, সমাজ ও চরিত্র গঠনের বিষয়গুলো তুলে ধরতে। ইবাদত, তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, পরীক্ষার সময় মুসলিমের করণীয়—এসব বিষয় এখানে সহজ ভাষায়, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো করে তুলে ধরার চেষ্টা থাকব...

সময়, দায়িত্ব ও লেখার উত্তরাধিকার

  সময়, দায়িত্ব ও লেখার উত্তরাধিকার মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা    আমরা আমাদের জীবনে অনেক কিছুই স্বচক্ষে দেখি। কিছু দৃশ্য আমাদের চোখের সামনে দিয়ে নীরবে হেঁটে যায়, আর কিছু দৃশ্য গভীরভাবে হৃদয়ে গেঁথে থাকে—আজীবনের জন্য। আবার এমন অনেক কিছু আছে, যা আমরা দেখি না; কিন্তু কল্পনায় লালন করি, স্বপ্নে আঁকি, ভাবনায় বাঁচিয়ে রাখি। এই দেখা আর না-দেখার মাঝখানেই গড়ে ওঠে মানুষের জীবন। মানুষের আশা থাকে, স্বপ্ন থাকে, লক্ষ্য থাকে। কেউ চায় জ্ঞান অর্জন করতে, কেউ চায় সমাজ বদলাতে, কেউ চায় নিজেকে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য বানাতে। কিন্তু এই চাওয়াগুলোর সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে অলসতা— আর তার চেয়েও বড় শত্রু নিজের দুর্বলতা। আমরা অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এগোতে পারি না, কারণ আমরা সময়কে হেফাজত করতে জানি না। সময় এমন এক নিয়ামত, যা আল্লাহ তায়ালা সবাইকে সমানভাবে দিয়েছেন, কিন্তু সবাই সমানভাবে ব্যবহার করতে পারে না। কেউ সময়কে রাজত্বে পরিণত করে, আর কেউ সেই সময়ের নিচেই চাপা পড়ে যায়। সময় নিজে কখনো দোষী নয়— দোষ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির, আমাদের অগোছালো জীবনের। সময়কে হেফাজত করতে...

পাঠকদের প্রতি

  সম্মানিত পাঠকের প্রতি,,,, মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  সম্মানিত পাঠক, এতক্ষণে আপনারা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছেন—আমরা আপনাদের সামনে যে দীর্ঘ পথচলা তুলে ধরেছি, তা কোনো সাধারণ গল্প নয়। “প্রাসাদ কন্যা” নামে বিশটি পর্বে যে আলোচনা ও উপন্যাসধর্মী বর্ণনা আপনাদের সামনে এসেছে, তা মূলত একটি আত্মার যাত্রা, একটি অন্তরের বিপ্লব, একটি নূরের পথে ফিরে আসার কাহিনি। ইনশাল্লাহ, এই বিশটি পর্ব একত্রিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের রূপ নেবে— যেখানে প্রতিটি অধ্যায় একেকটি আয়নার মতো, পাঠক নিজের ভেতরের মানুষটিকে খুঁজে পাবেন। এই লেখা এখানেই শেষ নয়। সময়ের সাথে সাথে এতে পরিমার্জন আসবে, ভাষা আরও পরিশুদ্ধ হবে, অনুভূতির গভীরতা আরও বিস্তৃত হবে। কারণ জীবনের মতোই সাহিত্যও চলমান—সে থেমে থাকে না। আমরা আপনাদের অনুভূতি জানতে চাই। এই গল্প পড়ে আপনার হৃদয়ে কী আলো জ্বলেছে, কোন বাক্য আপনাকে থামিয়ে দিয়েছে, কোন দৃশ্য আপনাকে নীরবে কাঁদিয়েছে কিংবা নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে—সে অনুভূতিগুলো আমাদের কাছে অমূল্য। এই উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নারীচরিত্র—যে একটি ধনী, প্রাসাদসম পরিবারের কন্যা হয়েও ...

পর্ব 20

  ২০. দুনিয়া ছাড়িয়ে আখিরাতের গল্প—উপন্যাসের মহৎ সমাপ্তি এই গল্পের শুরু হয়েছিল এক কন্যার জন্ম দিয়ে, আর শেষ হচ্ছে একটি জাতির আত্মাকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান দিয়ে। আরিয়ানার জীবন আসলে কোনো রূপকথা নয়। এটা আমাদেরই সমাজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক বাস্তব সত্যের প্রতিবিম্ব। সে দুনিয়া পেয়েও দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরেনি, সে ভালোবাসা পেয়েও হারামকে স্পর্শ করেনি, সে সম্মান পেয়েও অহংকারে ডুবেনি। কারণ সে বুঝেছিল— দুনিয়া হলো পরীক্ষা, আর আখিরাত হলো ফলাফল। এই উপন্যাসে আমরা দেখেছি— কীভাবে একজন নারী সম্পদ, ক্ষমতা, ফেম, লোভ— সবকিছুকে পেছনে ফেলে আল্লাহকে সামনে রাখে। আরিয়ানার জীবন আমাদের শেখায়— পর্দা মানে দুর্বলতা নয়, শক্তি। ঈমান মানে পিছিয়ে পড়া নয়, সঠিক পথে এগিয়ে চলা। ভালোবাসা হারাম দিয়ে নয়, হালাল পথে পূর্ণতা পায়। দুনিয়া ছেড়ে দিলে আল্লাহ দুনিয়াকে তোমার দিকে ফিরিয়ে দেন। আমরা এই গল্পে দেখেছি— এক বাবা-মা, যারা একসময় দুনিয়ার চাপে অন্ধ ছিল, কীভাবে সন্তানের ঈমানের দৃঢ়তায় নরম হয়ে গেল। আমরা দেখেছি— এক যুবক, যে ভালোবাসাকে পব...

পর্ব 19

  ১৯. পর্দার আড়ালে রাজকন্যার রাজত্ব হালাল নিকাহের পর আরিয়ানার জীবনে কোনো ঝলমলে প্রদীপ জ্বলেনি, কোনো উচ্চস্বরে উৎসব হয়নি, কিন্তু তার হৃদয়ের ভেতর জ্বলে উঠেছিল এক নিভৃত নূরের বাতি। এই আলো ছিল না বাহ্যিক, এই আলো ছিল আত্মার। সে বুঝে গিয়েছিল— আসল রাজত্ব কখনো মুকুটে হয় না, আসল রাজত্ব হয় চরিত্রে। রায়হানের সংসরে প্রবেশ করে আরিয়ানা নিজেকে হারায়নি, বরং নিজেকে আরও গভীরভাবে খুঁজে পেয়েছে। সে আর আগের মতো শুধু একাকী মেয়ে নয়, সে এখন এক নেক স্ত্রী, এক সচেতন মুসলিম নারী। পর্দা— যা একসময় অনেকের চোখে ছিল সীমাবদ্ধতা, আরিয়ানার কাছে তা হয়ে উঠল সম্মানের মুকুট। সে পর্দা করত ভয়ে নয়, সে পর্দা করত ভালোবাসায়। কারণ সে জানত— যে আল্লাহর জন্য নিজেকে ঢাকে, আল্লাহ তার মর্যাদা আকাশে তুলে দেন। বাইরে সে খুব সাধারণ। কিন্তু সেই সাধারণতার ভেতর লুকিয়ে ছিল অদ্ভুত এক ব্যক্তিত্ব। নরম কথা, সংযত হাসি, চোখে দৃষ্টি নত করার সৌন্দর্য। মানুষ তাকে দেখে বলত— “এই মেয়েটা বড় শান্ত।” কেউ বুঝত না— এই শান্তির পেছনে কত যুদ্ধ জয়...

পর্ব 18

  ১৮. নেক যুবকের প্রস্তাব—হালাল পথে ভালোবাসার পূর্ণতা পরিবারে ফিরে আসার সেই শান্ত সন্ধ্যার পর বাড়ির বাতাস যেন বদলে গিয়েছিল। যেখানে একসময় ছিল চাপ, সেখানে এখন ছিল প্রশান্তি। যেখানে ছিল জোর, সেখানে এখন ছিল দোয়া। আরিয়ানা বুঝতে পারছিল— আল্লাহ যখন কাউকে ফিরিয়ে আনেন, তখন শুধু মানুষ নয়, পরিবেশও বদলে যায়। সেই পরিবর্তনের মধ্যেই একদিন আব্বা নীরবে বললেন— “মা, এবার তোকে একটা কথা বলি?” আরিয়ানার বুক কেঁপে উঠল। কিন্তু এবার ভয়ে নয়। এক অদ্ভুত প্রশান্ত কৌতূহলে। আব্বা ধীরে ধীরে বললেন— “আমরা এমন কাউকে খুঁজছি, যে তোকে বোঝে, তোর ঈমানকে সম্মান করে।” এই এক বাক্যেই আরিয়ানার চোখ ভিজে উঠল। সে বুঝে গেল— এবার আর বিয়ে কোনো শৃঙ্খল নয়। এবার তা ইবাদত। কয়েক দিনের মধ্যেই এক নেক যুবকের কথা উঠল। নাম—রায়হান। শিক্ষিত, মার্জিত, নামাজী। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় পরিচয়— সে আল্লাহকে ভয় করে। রায়হানের সম্পর্কে প্রথম যে কথা বলা হলো— “সে দৃষ্টি নত রাখে।” এই কথাটাই আরিয়ানার হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলল। পর...

পর্ব 17

  ১৭. পরিবারে ফিরে যাওয়ার অনন্য সিদ্ধান্ত নূর যখন হৃদয়ে নামে, তখন মানুষ শুধু সামনে এগোয় না— সে পেছনেও তাকাতে শেখে। আরিয়ানার হৃদয়ও ঠিক তেমনই এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছিল। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সেই নূরানি বার্তা তার জীবনকে যেমন বদলে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি তার মনে জাগিয়ে তুলেছিল এক পুরোনো ডাক— বাড়ির ডাক। অনেক রাত। জানালার বাইরে শহরের আলো নিভে এসেছে। কিন্তু আরিয়ানার চোখে ঘুম নেই। তার সামনে ছড়িয়ে আছে স্মৃতির অ্যালবাম— মায়ের হাতের রান্না, বাবার গম্ভীর অথচ নিরাপদ কণ্ঠ, শৈশবের উঠোন, আর সেই ঘর— যেখান থেকে সে বেরিয়ে এসেছিল একদিন নিঃশব্দ কান্না নিয়ে। সে নিজেকে প্রশ্ন করল— “আমি কি শুধু নিজের ঈমান বাঁচাতে গিয়ে সম্পর্কগুলোকে ফেলে এসেছি?” “নাকি আল্লাহ আজ আমাকে বলছেন— ফিরে যাও?” ফজরের আজানের ধ্বনি তার ভাবনায় ছেদ টানল। সে উঠে অজু করল। নামাজে দাঁড়িয়ে হঠাৎ তার চোখ বেয়ে অশ্রু নামল। এই কান্না ছিল আলাদা। এ কান্নায় ছিল— ভয় নয়, অভিমান নয়, বরং দায়িত্ব। সিজদায় সে ফিসফিস করে বলল— ...

পর্ব 16

  ১৬. আল্লাহর পরিকল্পনা—মেয়ের জীবনে নূরের বার্তা মানুষ ভাবে সে পরিকল্পনা করে, আর আল্লাহ হাসেন— কারণ আসল পরিকল্পনাটা তাঁরই। আরিয়ানা আজ জানে— জীবনের প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি অপেক্ষা, প্রতিটি অশ্রু— সবই ছিল এক মহান নকশার অংশ। যে নকশা সে তখন বুঝতে পারেনি, কিন্তু আজ তার সামনে খুলে যাচ্ছে নূরের মতো উজ্জ্বল হয়ে। সাফল্যের আলো যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই আসে এক অদ্ভুত নীরবতা। এই নীরবতা কোলাহলের অভাব নয়, বরং ভেতরের গভীর প্রশান্তি। আরিয়ানা জানত— এই শান্তির ভেতরেই লুকিয়ে আছে আল্লাহর পরবর্তী নির্দেশ। এক ফজরের নামাজ শেষে সে দীর্ঘক্ষণ মুসাল্লায় বসে ছিল। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকছিল সকালের আলো। সেই আলো তার চোখে পড়ে মনে হলো— এ শুধু সূর্যের আলো নয়, এ যেন এক নূরানি বার্তা। ঠিক তখনই ফোনে একটি নোটিফিকেশন। একটি ইমেইল। একটি চিঠি— যা তার জীবনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে। চিঠিটা খুলতেই তার চোখ ভিজে উঠল। কোনো দুনিয়াবি অফার নয়। কোনো মিডিয়ার ক্যামেরা নয়। বরং— একটি আন্তর্জাতিক ইসলামি গবেষণা পরিষদ তার কা...

পর্ব 15

পর্ব 15 ১৫. মেয়ের জ্ঞানের দীপ্তি—দেশব্যাপী আলোড়ন সময় কখন যে বদলে যায়, মানুষ টেরও পায় না। যে আরিয়ানাকে নিয়ে একদিন সমাজ ফিসফাস করত, যার নাম উচ্চারণ হলেই ভ্রু কুঁচকে যেত— আজ সেই নামই খবরের শিরোনাম। নীরব সাধনার ফল এই আলোড়ন হঠাৎ আসেনি। এর পেছনে ছিল নীরব রাত, চোখের জল, অগণিত সিজদা। রাতের পর রাত আরিয়ানা পড়েছে। এক হাতে কিতাব, অন্য হাতে কলম— আর হৃদয়ের গভীরে একটাই নিয়ত— “হে আল্লাহ, এই জ্ঞান যেন আমাকে অহংকারী না বানায়।” গবেষণার পথচলা তার গবেষণার বিষয় ছিল এমন, যা মানুষকে ভাবতে বাধ্য করে। ধর্ম, নৈতিকতা আর আধুনিক সমাজ— এই তিনের সংযোগস্থল। সে দেখাতে চেয়েছিল— ইসলাম কোনো বাধা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ দিশা। তার লেখা ছিল যুক্তিতে শক্ত, ভাষায় শান্ত, আর উদ্দেশ্যে পরিষ্কার। প্রথম স্বীকৃতি একদিন ইমেইল এলো। তার গবেষণাপত্র জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত হয়েছে। আরিয়ানা চুপ করে বসে পড়েছিল। সে প্রথমে আনন্দে চিৎকার করেনি। সে প্রথমে সিজদায় পড়ে গিয়েছিল। কারণ সে জানত— এই স্বীকৃতি তার নয়।...

পর্ব 14

 পর্ব 14 ১৪. পরীক্ষার পর পরীক্ষা—সমাজের কথা, দুনিয়ার চ্যালেঞ্জ ঈমানের পথে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর পর মানুষ ভাবে— এবার বুঝি সব সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। আরিয়ানা বুঝে গেল, পরিবারের চাপ ছিল এক ধরনের পরীক্ষা, আর সমাজ— সে আরেক, আরও গভীর, আরও দীর্ঘ পরীক্ষা। কথার তীর সে যেদিন সিদ্ধান্তে অটল থাকল, সেদিন থেকেই শুরু হলো ফিসফাস। “শুনেছিস?” “ও নাকি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।” “ধর্মের দোহাই দিয়ে আসলে নিজের ইচ্ছা চালাচ্ছে।” এই কথাগুলো কেউ তার সামনে বলেনি, কিন্তু বাতাসের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। আরিয়ানা প্রথমদিকে খুব কষ্ট পেত। সে ভাবত— আমি তো কাউকে আঘাত করিনি, তবুও কেন আমার নামের সঙ্গে এত কালি মাখানো হচ্ছে? গীবতের অদৃশ্য আগুন হুরাইরা একদিন বলল— “তোর নাম নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিছু আত্মীয়, কিছু পরিচিত…” আরিয়ানা আর শুনতে চায়নি। সে জানত— গীবত এমন আগুন, যা সামনে না জ্বললেও পেছনে সব পুড়িয়ে দেয়। সে নিজের মনকে শক্ত করল। বলল— “আমি যদি প্রতিটা কথার জবাব দিতে যাই, তাহলে আমার শক্তি নষ্ট হবে।” “আল্লাহ জানেন—এ...

পর্ব 13

  ১৩. স্থির ঈমান—মেয়ের ত্যাগ ও অটল সিদ্ধান্ত মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা  ঝড় থেমে যায়নি। কিন্তু আরিয়ানার ভেতরে ঝড় থামার এক অদ্ভুত দৃঢ়তা জন্ম নিয়েছে। সে বুঝে গিয়েছিল— এখন আর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে রাখার সময় নেই। এখন যদি সে নরম হয়, তাহলে সারাজীবন নিজের কাছেই পরাজিত থাকবে। একাকী দাঁড়ানোর মুহূর্ত রাত গভীর। হুরাইরা ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘরের বাতি নিভে গেছে। শুধু জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক মেয়ে— যার চোখে ঘুম নেই, যার বুকে হাজার প্রশ্ন। আরিয়ানা জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকল। আকাশে তারা জ্বলছে। সে ফিসফিস করে বলল— “হে আল্লাহ, ওরাও তো তোমারই বান্দা। আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাই না। কিন্তু আমি তোমার আদেশের বাইরে যেতে পারি না।” এই কথাগুলো তার বুকের ভার হালকা করে দিল। ত্যাগের মূল্য সে জানত— এই সিদ্ধান্তের মূল্য অনেক বড়। পরিবারের ভালোবাসা দূরে সরে যেতে পারে। সমাজ তাকে দোষী বানাতে পারে। নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা—সবই অপেক্ষা করছে। তবুও তার ভেতর একটিই কথা প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল— “দুনিয়া যদি আমার বিরুদ্ধে যায়, কিন্তু আ...

১২ পর্ব

  ১২. অতীতের ঝড় ফিরে আসে—পরিবারের চাপ এই শান্ত ভালোবাসা কি টিকে থাকবে সেই ঝড়ে? নাকি আবারও তাকে একা দাঁড়াতে হবে? এই প্রশ্নটাই যেন বাতাসে ভাসছিল— নীরব, কিন্তু ভয়ংকর। আরিয়ানা বুঝতে পারছিল, আল্লাহ তাকে যে সাময়িক প্রশান্তি দিয়েছেন, তা ছিল এক প্রস্তুতি। কারণ ঝড় আসার আগে সমুদ্র যেমন অদ্ভুতভাবে শান্ত হয়ে যায়, ঠিক তেমনই তার জীবনে নেমে এসেছিল এই নীরবতা। অনুসন্ধানের শুরু এক সকালে হুরাইরা ঘুম থেকে উঠেই লক্ষ্য করল— আরিয়ানার ফোনে একের পর এক মিসড কল। নামগুলো অচেনা নয়। বাবার পুরোনো ড্রাইভার, এক দূর সম্পর্কের খালা, এমনকি গ্রামের এক প্রতিবেশীর নম্বরও। আরিয়ানা ফোনটা হাতে নিয়েই বুঝে গেল— অতীত তাকে খুঁজে পেয়েছে। তার বাবা, হাজী নুরুল আমীন — যিনি একসময় মেয়ের জন্য আকাশ ছুঁতে চেয়েছিলেন, আজ তিনি শুধু নিজের সম্মান বাঁচাতে ব্যস্ত। মা ফারজানা খাতুন — যার চোখে মেয়ের জন্য ভালোবাসা ছিল, কিন্তু সমাজের ভয়ে তা চাপা পড়ে গিয়েছিল। ভাই রাশেদ — যে ছোটবেলায় আরিয়ানাকে আগলে রাখত, আজ সে পরিবারের “মান-সম্মান” রক্ষার সৈনিক। চাপের ভাষা প্...

পর্ব 11

১১. হৃদয়ে ঈমানের পথে হাঁটা দু’জন এই যাত্রার নাম— “হৃদয়ে ঈমানের পথে হাঁটা দু’জন” । এটা কোনো হঠাৎ জন্ম নেওয়া প্রেম নয়, এটা কোনো চোখের চাহনি থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কও নয়। এটা এমন এক বন্ধন—যা ধীরে ধীরে জন্ম নেয় আল্লাহর ভয়ে, তাকওয়ার আলোতে, সীমারেখার সৌন্দর্যে। আরিয়ানা ও ইয়াসির—দু’জনেই তা জানত। তারা কেউই নিজেদের অনুভূতিকে অস্বীকার করছিল না, কিন্তু কেউই তা ছেড়ে দিচ্ছিল না নফসের হাতে। নীরব বোঝাপড়া তাদের মাঝে কোনো প্রকাশ্য প্রেমালাপ ছিল না। কোনো “তুমি-আমি” গল্প ছিল না। তবুও এক অদ্ভুত বোঝাপড়া গড়ে উঠছিল— যেখানে শব্দের চেয়ে নীরবতা বেশি কথা বলত। ইয়াসির কখনো একা করে কথা বলার চেষ্টা করেনি। আরিয়ানাও কখনো সীমা ছুঁয়ে দেখার কৌতূহল দেখায়নি। তারা জানত— যে সম্পর্ক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শুরু হয়, তা হারাম দিয়ে এগোতে পারে না। ইবাদতের বন্ধন একদিন ফজরের পর হুরাইরার বাসায় বসে আরিয়ানা কুরআন তিলাওয়াত করছিল। হুরাইরা জানাল—ইয়াসিরও নাকি প্রতিদিন ফজরের পর কিছু সময় কুরআন পড়ে। এই ছোট্ট তথ্য আরিয়ানার হৃদয়ে অদ্ভুত প্রশান্তি আনল। সে ভাবল— ...

10 পর্ব

  ১০. নেক মানুষের সাথে পরিচয়—লাভের প্রথম আলো নবম অধ্যায়ের সেই ঝড় থেমে যাওয়ার পর, আরিয়ানার জীবনে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছিল। যেন দুনিয়া তার সমস্ত রঙ, সমস্ত প্রলোভন, সমস্ত শব্দ এক মুহূর্তের জন্য গুটিয়ে নিয়েছে। এই নীরবতাই ছিল নতুন কিছুর ভূমিকা—একটি আলো, যা ঝলমলে নয়; কিন্তু গভীর, প্রশান্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। আরিয়ানা তখনো হুরাইরার বাসায়। প্রতিদিনের মতো ফজরের পর কুরআন তিলাওয়াত, তারপর কিছু পড়াশোনা। দুনিয়ার অফারগুলো সে পেছনে ফেলে এসেছে, কিন্তু ভেতরের প্রশান্তি তাকে বিস্মিত করছিল। সে বুঝতে পারছিল—আল্লাহ যখন কিছু কেড়ে নেন, তখন তিনি তার বদলে আরও উত্তম কিছু দেন। এক নীরব পরিচয় সেই দিনটি ছিল সাধারণ। হুরাইরা জানাল, মসজিদের ইমাম সাহেবের মাধ্যমে একজন তরুণ কিছু বই পৌঁছে দিতে এসেছে। আরিয়ানা বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু দরজা খোলার মুহূর্তেই সময় যেন একটু থমকে গেল। তরুণটির নাম ছিল ইয়াসির । সাধারণ পোশাক, কোনো আড়ম্বর নেই। কিন্তু তার চোখে ছিল এক ধরণের প্রশান্তি—যা আরিয়ানার চোখ বহুদিন পর চিনতে পারল। ইয়াসির নিচু স্বরে সালাম দিল। তার দৃষ্টিতে কোনো কৌতূহল...

৯ পর্ব

 ৯ পর্ব  দুনিয়ার অফার, হারামের ঝলক—কিন্তু সে অটল পাহাড় এই প্রস্তুতি তাকে ঠেলে দেবে নবম অধ্যায়ের দিকে, যেখানে সে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবে—এ কথা আরিয়ানা নিজেও জানত। সপ্তম রাতের সেই নিস্তব্ধতা, অষ্টম পর্বের গভীর প্রস্তুতি, বইয়ের পাতা আর দোয়ার অশ্রু—সব মিলিয়ে সে যেন এক অদ্ভুত শক্তি অর্জন করেছিল। কিন্তু সে শক্তির আসল পরীক্ষা তখনই শুরু হয়, যখন দুনিয়া নিজেই দরজায় এসে কড়া নাড়ে। আরিয়ানা জানত, দুনিয়া কখনো সরাসরি বলে না—“এই নাও হারাম।” দুনিয়া আসে রেশমি ভাষায়, আসে চাকরির অফার হয়ে, আসে সম্মান আর ফেমের মোড়কে, আসে অর্থের ঝলক দেখিয়ে। আর ঠিক সেভাবেই এক সকাল শুরু হলো তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি। সম্পদের লোভ: যখন টাকা কথা বলে হুরাইরার ঘরের ছোট টেবিলে বসে আরিয়ানা ল্যাপটপ খুলেছিল। ইনবক্সে একের পর এক ইমেইল—কোনোটা বিদেশি কোম্পানির, কোনোটা দেশি কর্পোরেট হাউসের। একটি মেইলে লেখা— “আপনি চাইলে বছরে কয়েক কোটি টাকার প্যাকেজে আমাদের গবেষণা বিভাগে যুক্ত হতে পারেন।” হুরাইরা বিস্ময়ে চোখ বড় করে বলল, — “আরিয়ানা! এটা তো স্বপ্ন!” আরিয়ানা ধীর...

বাংলা ব্যাকরণ MCQ (বাকি 55)

  বাংলা ব্যাকরণ MCQ (বাকি 55) 10. সমাস (বাকি ধরনের) 46. "দুধদানা" কোন সমাসের উদাহরণ? A) দ্বন্দ্ব    B) সংযুক্ত    C) তদ্ধিত    D) বিশেষ সমাস 47. "সিন্দুকপাট" কোন সমাস? A) সংযুক্ত    B) দ্বন্দ্ব    C) তদ্ধিত    D) অব্যয় 48. "পদ্মফুল" কোন সমাসের উদাহরণ? A) দ্বন্দ্ব    B) সংযুক্ত    C) তদ্ধিত    D) বিশেষ সমাস 49. "অমরপুর" কোন সমাসের উদাহরণ? A) সংযুক্ত    B) তদ্ধিত    C) দ্বন্দ্ব    D) অব্যয় 50. "পথশিশু" কোন সমাসের উদাহরণ? A) সংযুক্ত    B) তদ্ধিত    C) দ্বন্দ্ব    D) বিশেষ সমাস 11. উপসর্গ ও প্রত্যয় 51. "অসাধারণ" শব্দে কোনটি উপসর্গ? A) অ    B) সা    C) ধা    D) রণ 52. "বিস্ময়কর" শব্দে কোনটি প্রত্যয়? A) বি    B) ময়    C) কর    D) ক 53. "অপরাজিত" শব্দে উপসর্গ কোনটি? A) অ    B) পরা    C) জিত    D) পরাজিত 54. "সৌন্দর্য" শব্দে ...

বাংলা গ্রামার ২

  বাংলা ব্যাকরণ MCQ (কমন 100) 1. বর্ণ পরিচয় ও বর্ণমালা 1. বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের সংখ্যা কত? A) 11    B) 12    C) 10    D) 13 2. "ক" কোন প্রকার বর্ণ? A) স্বরবর্ণ    B) ব্যঞ্জনবর্ণ    C) যুগ্মবর্ণ    D) বিশেষবর্ণ 3. "ঐ" বর্ণটি কোন শ্রেণীতে আসে? A) স্বরবর্ণ    B) ব্যঞ্জনবর্ণ    C) যুগ্মবর্ণ    D) হরফ 4. ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা কত? A) 29    B) 30    C) 35    D) 36 5. "ক্ষ" কোন প্রকার বর্ণ? A) স্বরবর্ণ    B) ব্যঞ্জনবর্ণ    C) যুগ্মবর্ণ    D) বিশেষবর্ণ 2. শব্দ ও পদ 6. "গাছ" কোন পদভেদে আসে? A) বিশেষ্য    B) ক্রিয়া    C) বিশেষণ    D) সর্বনাম 7. "দৌড়াচ্ছে" কোন পদ? A) বিশেষ্য    B) ক্রিয়া    C) বিশেষণ    D) সর্বনাম 8. "সুন্দর" কোন পদ? A) বিশেষ্য    B) বিশেষণ    C) ক্রিয়া    D) সর্বনাম 9. "সে" কোন ধরনের পদ? A) সর্বনাম  ...