পর্ব 14

 পর্ব 14

১৪. পরীক্ষার পর পরীক্ষা—সমাজের কথা, দুনিয়ার চ্যালেঞ্জ

ঈমানের পথে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর পর মানুষ ভাবে— এবার বুঝি সব সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো।

আরিয়ানা বুঝে গেল, পরিবারের চাপ ছিল এক ধরনের পরীক্ষা, আর সমাজ— সে আরেক, আরও গভীর, আরও দীর্ঘ পরীক্ষা।


কথার তীর

সে যেদিন সিদ্ধান্তে অটল থাকল, সেদিন থেকেই শুরু হলো ফিসফাস।

“শুনেছিস?” “ও নাকি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।” “ধর্মের দোহাই দিয়ে আসলে নিজের ইচ্ছা চালাচ্ছে।”

এই কথাগুলো কেউ তার সামনে বলেনি, কিন্তু বাতাসের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

আরিয়ানা প্রথমদিকে খুব কষ্ট পেত।

সে ভাবত— আমি তো কাউকে আঘাত করিনি, তবুও কেন আমার নামের সঙ্গে এত কালি মাখানো হচ্ছে?


গীবতের অদৃশ্য আগুন

হুরাইরা একদিন বলল— “তোর নাম নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিছু আত্মীয়, কিছু পরিচিত…”

আরিয়ানা আর শুনতে চায়নি।

সে জানত— গীবত এমন আগুন, যা সামনে না জ্বললেও পেছনে সব পুড়িয়ে দেয়।

সে নিজের মনকে শক্ত করল।

বলল— “আমি যদি প্রতিটা কথার জবাব দিতে যাই, তাহলে আমার শক্তি নষ্ট হবে।”

“আল্লাহ জানেন—এইটাই আমার জন্য যথেষ্ট।”


অভিযোগের ভার

কিছু মানুষ সরাসরি অভিযোগ তুলল।

“এই মেয়েরা সমাজ নষ্ট করছে।” “এইসব ধর্ম দেখিয়ে বিদ্রোহ শেখায়।”

আরিয়ানা এই কথাগুলো শুনে চুপচাপ জানালার পাশে বসে থাকত।

সে ভাবত— যদি সমাজ জানত, এই পথ কতটা কঠিন, তাহলে হয়তো তারা সহজে বিচার করত না।


ধৈর্যের পাঠ

এক রাতে তাহাজ্জুদের পর আরিয়ানা কুরআনের একটি আয়াত পড়ছিল।

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।”

এই আয়াত যেন তার বুকের ভেতর আলো জ্বালিয়ে দিল।

সে সিদ্ধান্ত নিল—

মানুষ যা-ই বলুক, আমি নিজের চরিত্র ঠিক রাখব।

আমি কারও বিরুদ্ধে কথা বলব না। কারও নামে কাদা ছুঁড়ব না।

এইটাই হবে আমার প্রতিবাদ।


দুনিয়ার চ্যালেঞ্জ

সমাজের কথা শুধু মুখেই থেমে থাকেনি।

কাজের জায়গায়, পড়াশোনার ক্ষেত্রেও নানান প্রতিবন্ধকতা আসতে লাগল।

কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তার কাজের মূল্য কমিয়ে দেখাল।

কেউ আবার বলল— “তুমি এত আলাদা কেন?”

আরিয়ানা হাসল।

সে জানত— আলাদা না হলে এই পথ ধরা যেত না।


নীরব জবাব

আরিয়ানা কথা দিয়ে জবাব দেয়নি।

সে জবাব দিয়েছে কাজে।

নিয়মিত পড়াশোনা, নিয়মিত ইবাদত, নিয়মিত আত্মশুদ্ধি।

মানুষের কটু কথা তার গতি কমাতে পারেনি।

বরং প্রতিটি কথাই তাকে আরও দৃঢ় করেছে।


ইয়াসিরের উপদেশ

একদিন ইয়াসির বলেছিল—

“মানুষ যখন কথা বলে, তখন বুঝে নিও— তুমি কিছু একটা ঠিক করছ।”

এই কথাটা আরিয়ানার মনে গেঁথে গেল।


অদৃশ্য বিজয়

ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে লাগল।

যারা আগে কথা বলত, তারা চুপ করতে শুরু করল।

কারণ—

আরিয়ানার চরিত্রে কোনো ফাঁক তারা খুঁজে পায়নি।

সে কারও সঙ্গে তর্ক করেনি, কিন্তু নীতির সঙ্গে আপসও করেনি।


আল্লাহর পরিকল্পনা

আরিয়ানা বুঝতে পারছিল— এই ধৈর্য বৃথা যাচ্ছে না।

কিছু দরজা নীরবে খুলে যাচ্ছে।

কিছু মানুষ নতুন চোখে তাকাচ্ছে।

তার নাম এখন আর শুধু সমালোচনার বিষয় নয়—

কৌতূহলের বিষয়।


১৫তম পর্বের ইঙ্গিত

এই ধৈর্য, এই স্থিরতা— শুধু টিকে থাকার জন্য ছিল না।

এর পেছনে লুকিয়ে ছিল আরও বড় কিছু।

শিগগিরই দেখা যাবে—

আরিয়ানার জ্ঞান, তার গবেষণা, তার কৃতিত্ব—

কীভাবে সারা দেশে আলোড়ন তুলবে।

এই গল্প চলবে পরবর্তী অধ্যায়ে—

“মেয়ের জ্ঞানের দীপ্তি—দেশব্যাপী আলোড়ন”

যেখানে নীরব মেয়েটি পরিণত হবে আলোতে।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি