পর্ব 18

 

১৮. নেক যুবকের প্রস্তাব—হালাল পথে ভালোবাসার পূর্ণতা

পরিবারে ফিরে আসার সেই শান্ত সন্ধ্যার পর বাড়ির বাতাস যেন বদলে গিয়েছিল।

যেখানে একসময় ছিল চাপ, সেখানে এখন ছিল প্রশান্তি।

যেখানে ছিল জোর, সেখানে এখন ছিল দোয়া।

আরিয়ানা বুঝতে পারছিল—

আল্লাহ যখন কাউকে ফিরিয়ে আনেন, তখন শুধু মানুষ নয়, পরিবেশও বদলে যায়।


সেই পরিবর্তনের মধ্যেই একদিন আব্বা নীরবে বললেন—

“মা, এবার তোকে একটা কথা বলি?”

আরিয়ানার বুক কেঁপে উঠল।

কিন্তু এবার ভয়ে নয়।

এক অদ্ভুত প্রশান্ত কৌতূহলে।


আব্বা ধীরে ধীরে বললেন—

“আমরা এমন কাউকে খুঁজছি, যে তোকে বোঝে, তোর ঈমানকে সম্মান করে।”


এই এক বাক্যেই আরিয়ানার চোখ ভিজে উঠল।

সে বুঝে গেল—

এবার আর বিয়ে কোনো শৃঙ্খল নয়।

এবার তা ইবাদত।


কয়েক দিনের মধ্যেই এক নেক যুবকের কথা উঠল।

নাম—রায়হান।

শিক্ষিত,

মার্জিত,

নামাজী।

কিন্তু তার সবচেয়ে বড় পরিচয়—

সে আল্লাহকে ভয় করে।


রায়হানের সম্পর্কে প্রথম যে কথা বলা হলো—

“সে দৃষ্টি নত রাখে।”

এই কথাটাই আরিয়ানার হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলল।


পরিবারের বৈঠকে রায়হানের মা বললেন—

“আমরা মেয়ে খুঁজছি না শুধু সংসারের জন্য।

আমরা এমন একজন খুঁজছি যে আমাদের ছেলের আখিরাতের সাথী হবে।”


এই কথায় ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।

এটা ছিল দুনিয়ার আলোচনা নয়।

এটা ছিল আখিরাতের কথা।


আরিয়ানার সাথে সরাসরি কোনো কথা হলো না।

কোনো ছবি চাওয়া হলো না।

কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন নয়।

শুধু বলা হলো—

“সে কি আল্লাহকে বেছে নিয়েছে?”


এই প্রশ্নেই সবকিছু নির্ধারিত হয়ে গেল।


ইস্তিখারা করা হলো।

আরিয়ানা সেই রাতে অনেকক্ষণ সিজদায় ছিল।

সে বলেছিল—

“হে আল্লাহ, আপনি যদি এই পথে বরকত রাখেন, তবে আমার হৃদয়কে শান্ত করে দিন।”


সকালবেলা তার মনে এক অদ্ভুত স্থিরতা।

কোনো দ্বিধা নেই।

কোনো অস্থিরতা নেই।

শুধু একটাই অনুভূতি—

তাওয়াক্কুল।


নিকাহের দিনটি ছিল অত্যন্ত সাদাসিধে।

কোনো অতিরিক্ত সাজ নয়।

কোনো প্রদর্শনী নয়।

শুধু দোয়া,

আর কুরআনের তিলাওয়াত।


আরিয়ানা সাদা পোশাকে,

পর্দার আড়ালে বসে।

তার মুখে প্রশান্ত হাসি।

এই হাসি ছিল না কারো জন্য—

এই হাসি ছিল আল্লাহর জন্য।


রায়হান নিকাহ কবুল করলেন কাঁপা কণ্ঠে।

এই কাঁপুনি ছিল উত্তেজনার নয়।

এই কাঁপুনি ছিল দায়িত্বের।


নিকাহ সম্পন্ন হতেই দু’হাত তুলে দোয়া করা হলো।

“হে আল্লাহ, এই সম্পর্ককে রহমত বানান।”


এই মুহূর্তে আরিয়ানা বুঝে গেল—

ভালোবাসা মানে হাত ধরা নয়।

ভালোবাসা মানে একসাথে জান্নাতের পথে হাঁটা।


নতুন জীবনের শুরুটা ছিল শান্ত।

সকালে একসাথে নামাজ।

দিনে নিজ নিজ দায়িত্ব।

রাতে দোয়া।


রোমান্টিকতা ছিল—

কিন্তু চোখের ভাষায়।

কথায় ছিল সংযম।

স্পর্শে ছিল দোয়া।


রায়হান একদিন বললেন—

“আমি তোমাকে ভালোবাসি কারণ তুমি আল্লাহকে ভালোবাসো।”


এই এক বাক্যেই আরিয়ানা বুঝে গেল—

এই ভালোবাসা কখনো ফুরাবে না।


এই সংসারে সুখ ছিল।

কিন্তু সুখের কেন্দ্র ছিল আল্লাহ।


আরিয়ানা জানত—

এটা শেষ নয়।

বরং আরও বড় দায়িত্বের শুরু।


১৯তম পর্বের ইঙ্গিত

এই হালাল ভালোবাসার মধ্যেই আরিয়ানা ধীরে ধীরে গড়ে তুলবে—

এক নীরব রাজত্ব।

যেখানে থাকবে—

পর্দা,

ইবাদত,

জ্ঞান,

এবং আত্মমর্যাদা।

যেখানে সে হবে—

দৃষ্টির আড়ালে থাকা এক আলোকিত রাজকন্যা।

এই গল্প এগোবে পরবর্তী অধ্যায়ে—

“পর্দার আড়ালে রাজকন্যার রাজত্ব”

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি