পর্ব 13

 

১৩. স্থির ঈমান—মেয়ের ত্যাগ ও অটল সিদ্ধান্ত

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা 

ঝড় থেমে যায়নি। কিন্তু আরিয়ানার ভেতরে ঝড় থামার এক অদ্ভুত দৃঢ়তা জন্ম নিয়েছে।

সে বুঝে গিয়েছিল— এখন আর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে রাখার সময় নেই। এখন যদি সে নরম হয়, তাহলে সারাজীবন নিজের কাছেই পরাজিত থাকবে।


একাকী দাঁড়ানোর মুহূর্ত

রাত গভীর। হুরাইরা ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘরের বাতি নিভে গেছে।

শুধু জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক মেয়ে— যার চোখে ঘুম নেই, যার বুকে হাজার প্রশ্ন।

আরিয়ানা জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকল। আকাশে তারা জ্বলছে।

সে ফিসফিস করে বলল— “হে আল্লাহ, ওরাও তো তোমারই বান্দা। আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাই না। কিন্তু আমি তোমার আদেশের বাইরে যেতে পারি না।”

এই কথাগুলো তার বুকের ভার হালকা করে দিল।


ত্যাগের মূল্য

সে জানত— এই সিদ্ধান্তের মূল্য অনেক বড়।

পরিবারের ভালোবাসা দূরে সরে যেতে পারে। সমাজ তাকে দোষী বানাতে পারে। নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা—সবই অপেক্ষা করছে।

তবুও তার ভেতর একটিই কথা প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল—

“দুনিয়া যদি আমার বিরুদ্ধে যায়, কিন্তু আল্লাহ যদি আমার সঙ্গে থাকেন— তাই যথেষ্ট।”


বাবার শেষ বার্তা

সকালবেলা আরিয়ানার ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে বাবার নাম— হাজী নুরুল আমীন

সে ফোন ধরল।

ওপাশ থেকে ভেসে এল ক্লান্ত কণ্ঠ— “এইটাই কি তোর শেষ কথা?”

আরিয়ানা চোখ বন্ধ করল।

তার কণ্ঠ কাঁপছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত অটল।

“আব্বা, আমি কোনো অন্যায় করছি না। আমি শুধু এমন কিছু চাই না যাতে আল্লাহ নারাজ হন।”

কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর কল কেটে গেল।

এই নীরবতাই ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ।


অটল সিদ্ধান্ত

সেই দিন আরিয়ানা লিখে ফেলল—

একটা ছোট কাগজে, যা সে নিজের ব্যাগে রাখল।

লেখা ছিল—

“আমি আল্লাহকে বেছে নিয়েছি। যদি এর মূল্য একাকীত্ব হয়— তবুও আমি রাজি।”

এই লেখা যেন তার শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়াল।


ইয়াসিরের নীরব সমর্থন

ইয়াসির কিছুই জানত না বিস্তারিত। তবুও সে অনুভব করছিল— আরিয়ানা বড় কোনো সিদ্ধান্তের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

সে শুধু একটি মেসেজ পাঠাল—

“আল্লাহ যাকে শক্ত করেন, দুনিয়া তাকে ভাঙতে পারে না।”

এই একটি লাইন আরিয়ানার চোখে পানি এনে দিল।


আল্লাহর ওপর ভরসা

আরিয়ানা বুঝে গেল— আল্লাহর ওপর ভরসা মানে সব ঠিক হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নয়।

বরং—

সব ভুল হলেও আল্লাহর সিদ্ধান্তই সেরা— এই বিশ্বাস।

সে নিয়মিত তাহাজ্জুদে দাঁড়াতে শুরু করল। দোয়ায় বলত—

“হে আল্লাহ, আমাকে ধৈর্য দাও। আমাকে নিজের পথে অটল রাখো।”


একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা

এই সিদ্ধান্তের পর আরিয়ানার জীবন সহজ হয়নি।

কিন্তু তার বুকের ভেতর একটি অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এসেছে।

সে জানে— সে আর পিছনে ফিরবে না।

সে এখন সেই মেয়ে— যে দুনিয়া হারানোর ভয় করে না, কারণ সে আল্লাহকে পেয়েছে।


১৪তম পর্বের ইঙ্গিত

কিন্তু পরীক্ষা এখানেই শেষ নয়।

এখন শুরু হবে আরও কঠিন অধ্যায়—

মানুষের কথা, সমাজের ফিসফাস, গীবত, অভিযোগ, সন্দেহ।

এই সবকিছুর মুখোমুখি হয়ে আরিয়ানা কি তার ধৈর্য ধরে রাখতে পারবে?

এই প্রশ্নের উত্তর আসবে পরবর্তী অধ্যায়ে—

“পরীক্ষার পর পরীক্ষা—সমাজের কথা, দুনিয়ার চ্যালেঞ্জ”

যেখানে দেখা যাবে— কীভাবে একজন মুমিনাহ মানুষের কটু বাক্যকে সবরের ঢালে পরিণত করে।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি