পাঠকদের প্রতি

 

সম্মানিত পাঠকের প্রতি,,,,

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা 

সম্মানিত পাঠক, এতক্ষণে আপনারা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছেন—আমরা আপনাদের সামনে যে দীর্ঘ পথচলা তুলে ধরেছি, তা কোনো সাধারণ গল্প নয়। “প্রাসাদ কন্যা” নামে বিশটি পর্বে যে আলোচনা ও উপন্যাসধর্মী বর্ণনা আপনাদের সামনে এসেছে, তা মূলত একটি আত্মার যাত্রা, একটি অন্তরের বিপ্লব, একটি নূরের পথে ফিরে আসার কাহিনি। ইনশাল্লাহ, এই বিশটি পর্ব একত্রিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের রূপ নেবে— যেখানে প্রতিটি অধ্যায় একেকটি আয়নার মতো, পাঠক নিজের ভেতরের মানুষটিকে খুঁজে পাবেন।

এই লেখা এখানেই শেষ নয়। সময়ের সাথে সাথে এতে পরিমার্জন আসবে, ভাষা আরও পরিশুদ্ধ হবে, অনুভূতির গভীরতা আরও বিস্তৃত হবে। কারণ জীবনের মতোই সাহিত্যও চলমান—সে থেমে থাকে না। আমরা আপনাদের অনুভূতি জানতে চাই। এই গল্প পড়ে আপনার হৃদয়ে কী আলো জ্বলেছে, কোন বাক্য আপনাকে থামিয়ে দিয়েছে, কোন দৃশ্য আপনাকে নীরবে কাঁদিয়েছে কিংবা নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে—সে অনুভূতিগুলো আমাদের কাছে অমূল্য।

এই উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নারীচরিত্র—যে একটি ধনী, প্রাসাদসম পরিবারের কন্যা হয়েও আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টিকে সমস্ত আরাম-আয়েশ, সম্মান-প্রতিপত্তি ও দুনিয়াবি নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। যে মেয়ে চাইলে দুনিয়ার সব সুখ নিজের করে নিতে পারত, সে মেয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নিয়েছে সংযম, পর্দা, তাকওয়া ও আত্মসংযমের জীবন।

বহু মানুষের কাছে ধনী হওয়া মানে বিলাসিতা, ক্ষমতা, প্রভাব। কিন্তু এই কাহিনির নায়িকা আমাদের শিখিয়ে দেয়—প্রকৃত ধন হচ্ছে অন্তরের প্রশান্তি। আল্লাহর উপর ভরসা, তাঁর হুকুমের সামনে মাথা নত করা, আর হারাম থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা—এগুলোই প্রকৃত সম্পদ। সে দুনিয়ার অনেক কিছু ছেড়ে দিয়েছে, অথচ তার হৃদয় ছিল পরিপূর্ণ; কারণ সে জেনে গিয়েছিল—যে আল্লাহকে পায়, সে আসলে কিছুই হারায় না।

এই উপন্যাস আমাদের সামনে একটি চিরন্তন সত্য তুলে ধরে— যারা আল্লাহকে পাওয়ার জন্য দুনিয়াকে ছেড়ে দেয়, দুনিয়া একদিন তাদের পেছনে ছুটে আসে। আর যারা দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরে আল্লাহকে ভুলে যায়, তারা ভেতরে ভেতরে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এই কাহিনির প্রতিটি পর্ব যেন সেই সত্যের নীরব সাক্ষ্য।

প্রাসাদের দেয়াল ছেড়ে যে মেয়ে আল্লাহর দিকে পা বাড়ায়, তার জীবনে নেমে আসে এমন এক নূর—যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু আত্মাকে আলোকিত করে। তার জীবন প্রমাণ করে—সংযম কোনো অভাব নয়, বরং এক রাজকীয় আত্মমর্যাদা। পর্দা কোনো বন্দিত্ব নয়, বরং নিরাপদ স্বাধীনতা। ইবাদত কোনো বোঝা নয়, বরং ক্লান্ত হৃদয়ের বিশ্রাম।

এই বই যদি একজন পাঠককেও নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়, যদি একজন হৃদয়কে আল্লাহর দিকে একটু হলেও ফিরিয়ে আনে, যদি কোনো তরুণীকে নিজের মর্যাদা বুঝতে সাহায্য করে, অথবা কোনো তরুণকে হালালের পথে দৃঢ় হতে অনুপ্রাণিত করে— তবে এই লেখার শ্রম সার্থক।

সম্মানিত পাঠক, আমরা লেখক—ভুল আমাদের হবেই। ভাষায়, প্রকাশে, অনুভূতির উপস্থাপনে কোনো ত্রুটি থেকে গেলে, আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ—ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা কোনো নিখুঁত সৃষ্টি নই; আমরাও পথের যাত্রী। আপনাদের পরামর্শ, সমালোচনা ও দোয়াই এই লেখাকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলবে।

সবশেষে একটাই কথা— এই উপন্যাস কোনো কল্পনার রাজকন্যার গল্প নয়; এ গল্প সেইসব আত্মার, যারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে চায়। যদি এই বই আপনাকে একটু নীরব করে দেয়, একটু ভেতরে তাকাতে শেখায়, একটু আখিরাতের কথা মনে করিয়ে দেয়— তবেই আমাদের কলমের ইজ্জত রক্ষা হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সত্য বুঝে গ্রহণ করার তাওফিক দিন। আমিন।

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা --

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি