কাদিয়ানী 1

 

কাদিয়ানী মতবাদ: নবুওয়তে মুহাম্মদী ﷺ-এর প্রতি এক প্রকাশ্য বিদ্রোহ

কাদিয়ানী সম্প্রদায় শরীয়তের শাখাগত (ফুরুয়ী) বিষয়ে মতভেদকারী কোনো সাধারণ দল নয়। বরং এরা এমন একটি স্বতন্ত্র ধর্মমতের অনুসারী, যা মূলধারার ইসলামী আকীদা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এদের অবস্থান এ দৃষ্টিকোণ থেকে ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য স্বতন্ত্র ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ন্যায়।

তবে এদের সঙ্গে অন্যান্য ধর্মের একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ ধর্মের স্বতন্ত্র নাম, পরিচয় ও পরিভাষা ব্যবহার করে; কিন্তু কাদিয়ানী সম্প্রদায় নিজেদের পরিচয়ের জন্য ইসলামের নাম, ইসলামী পরিভাষা এবং ইসলামী পরিচয় ব্যবহার করে থাকে। এ কারণেই এ মতবাদ একদিকে যেমন সম্পূর্ণ পরাশ্রয়ী, অন্যদিকে সরলপ্রাণ মুসলমানদের জন্য বিভ্রান্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এ কারণেই মুসলিম জাহানের অসংখ্য মনীষী, চিন্তাবিদ, ফকীহ ও সর্বস্তরের মুসলিম জনগণের অভিমত হলো—এই সম্প্রদায়কে তাদের স্বতন্ত্র ধর্মীয় পরিচয়েই পরিচিত করা উচিত এবং ইসলামের নাম, পরিচয় ও পরিভাষা ব্যবহার থেকে বিরত রাখা উচিত।

ইসলাম জগতের অন্যান্য ধর্মের মতো কেবল আচার-অনুষ্ঠাননির্ভর কোনো সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের নাম নয়, যেখানে বিশ্বাস ও আদর্শের তেমন কোনো গুরুত্ব থাকে না; অর্থাৎ স্বীকার করলেও সেই ধর্মে থাকা যায়, আবার অস্বীকার করলেও ধর্মীয় পরিচয় বহাল থাকে। প্রসঙ্গক্রমে বলা হয়, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু একবার তাঁর ধর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, “এ এক আশ্চর্য ধর্ম, যা কোনোভাবেই পিছু ছাড়ে না। ভগবানকে মানলেও এ ধর্মে থাকা যায়, না মানলেও থাকা যায়। ধর্ম মেনেও থাকা যায়, না মেনেও থাকা যায়।”

কিন্তু ইসলাম এমন কোনো ধর্ম নয়। ইসলাম একটি আসমানী জীবনব্যবস্থা, একটি পরিপূর্ণ আদর্শ এবং আল্লাহ তাআলার মনোনীত একমাত্র দ্বীন। এ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ভিত্তি হলো এর মৌলিক আকীদা ও বিশ্বাসকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা এবং তার প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা।

কালিমায়ে তাওহীদ তথা কালিমায়ে শাহাদাত এই বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণের সুস্পষ্ট ঘোষণা। তাওহীদ ও রিসালাতের মৌলিক আকীদাকে অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং তার দাবিকে মেনে নেওয়া ব্যতীত কেউ মুসলিম হতে পারে না।

এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত সকল শিক্ষা, বিধান ও বিশ্বাসকে গ্রহণ করা এবং সেগুলোর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করাও অপরিহার্য।

ইসলামের মৌলিক বিধান ও বিশ্বাসের এই অংশকে ইসলামী পরিভাষায় ‘জরুরিয়াতে দ্বীন’ বলা হয়। অর্থাৎ দ্বীনের এমন বিষয়, যেগুলো কুরআন-সুন্নাহর মাধ্যমে অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং মুসলিম উম্মাহর কাছে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত।

যেমন—কুরআন মাজীদ আল্লাহ তাআলার কালাম হওয়া, কিয়ামত ও আখিরাতের বাস্তবতা ও অনিবার্যতা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়া ইত্যাদি।

জরুরিয়াতে দ্বীনের কোনো বিষয়কে প্রত্যক্ষভাবে অস্বীকার করা অথবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তার প্রকৃত অর্থ অস্বীকার করা—মূলত রিসালাতের শিক্ষাকেই অস্বীকার করার শামিল। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে যে বিষয়গুলো অকাট্যভাবে উম্মতের কাছে পৌঁছেছে, সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অপরিহার্য দাবি।

এ কারণে কোনো ব্যক্তি মুখে কালিমা পাঠ করলেও যদি জরুরিয়াতে দ্বীনের কোনো একটি বিষয় অস্বীকার করে—তা সরাসরি অস্বীকারের মাধ্যমে হোক অথবা কোনো অপব্যাখ্যার মাধ্যমে হোক—তাহলে তার কালিমা পাঠের দাবির সঙ্গে সেই অস্বীকারের মৌলিক বিরোধ সৃষ্টি হয়।

যেমন, কোনো ব্যক্তি যদি কুরআন মাজীদকে আল্লাহর কালাম হওয়া অস্বীকার করে, কিয়ামত ও আখিরাতকে অস্বীকার করে অথবা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়াকে অস্বীকার করে, তাহলে তার এই বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক আকীদার পরিপন্থী হয়ে যায়।

এমনকি কেউ যদি সরাসরি অস্বীকার না করে কোনো কথার আড়ালে বা ভিন্ন ব্যাখ্যার মাধ্যমে এসব বিষয়ের প্রকৃত অর্থ অস্বীকার করে, তবুও বিষয়টি একইভাবে বিবেচিত হয়।

যেমন কেউ বলল—‘আমি মানি যে কুরআন আল্লাহর কালাম, তবে সাধারণ মুসলমানেরা যেভাবে বুঝে সেভাবে নয়। এটি আল্লাহর নাযিলকৃত কালাম নয়; বরং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রচনা, তবে আল্লাহর নির্দেশে রচনা করা হয়েছে বলে একে আল্লাহর কালাম বলা হয়।’ (নাউযুবিল্লাহ)

এ ধরনের বক্তব্য কুরআন মাজীদের আল্লাহর কালাম হওয়ার মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

এভাবে কেউ যদি কিয়ামত ও আখিরাতের বিষয়েও ভিন্ন ব্যাখ্যার আশ্রয় নেয় এবং বলে—“আমি কিয়ামতকে মানি, তবে সেই অর্থে নয়, যে অর্থে মুসলমানরা কিয়ামতকে বুঝে থাকে। বরং কিয়ামত বলতে বোঝায় একটি পুরোনো যুগের সমাপ্তি এবং একটি নতুন যুগের সূচনা।” (নাউযুবিল্লাহ)

অনুরূপভাবে কেউ যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সম্পর্কে বলে—“আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়া মানি, তবে নামাজ বলতে সেই বিষয়কে বুঝি না, যা মুসলমানরা বুঝে থাকে; বরং নামাজের অর্থ হলো ধ্যান।” (নাউযুবিল্লাহ)

তাহলে এ ধরনের মনগড়া ব্যাখ্যা মূলত দ্বীনের সুস্পষ্ট ও স্বীকৃত বিধানকে অস্বীকার করারই নামান্তর। কারণ ইসলামের কোনো অকাট্য ও সর্বজনবিদিত বিষয়কে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা, যার মাধ্যমে তার প্রকৃত অর্থ বিলুপ্ত হয়ে যায়—তা মূল বিশ্বাসের পরিপন্থী।

অতএব, এ ধরনের বিশ্বাস পোষণকারী ব্যক্তি মুসলিম পরিচয়ের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে উপনীত হয়।

দ্বীন ও ঈমানের এই গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি পরিষ্কারভাবে বোঝার পর, এর আলোকে কাদিয়ানী মতবাদ সম্পর্কেও চিন্তা করা প্রয়োজন।

হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল—এই বিশ্বাস যেমন ঈমানের অপরিহার্য অংশ, তেমনি তিনি সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবী আগমন করবেন না—এই বিশ্বাসও ঈমানের অপরিহার্য ও অকাট্য অংশ।

এটি কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত একটি মুতাওয়াতির আকীদা এবং ‘জরুরিয়াতে দ্বীন’-এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এই আকীদাকে অস্বীকার করাও ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী—তা সরাসরি অস্বীকারের মাধ্যমে হোক অথবা কোনো অপব্যাখ্যার আড়ালে হোক।

খতমে নবুওত অস্বীকার ও কাদিয়ানী মতবাদের অবস্থান

কাদিয়ানী সম্প্রদায় খতমে নবুওতের সুস্পষ্ট ও অকাট্য আকীদাকে শুধু অস্বীকারই করে না; বরং তারা মির্জা গুলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করে। (নাউযুবিল্লাহ)

এই বিশ্বাসের কারণেই তারা নিজেদের পরিচয় ‘আহমদিয়া’ নামে প্রকাশ করে থাকে। বলাবাহুল্য, খতমে নবুওতের মতো ইসলামের একটি মৌলিক ও অকাট্য আকীদাকে অস্বীকার করা এবং নবুওতে মুহাম্মদী ﷺ-এর পরে নতুন নবুওতের ধারণায় বিশ্বাস করা—মূলধারার ইসলামী আকীদার দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

এ কারণেই মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশ আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো—কাদিয়ানী মতবাদ ইসলামের মৌলিক আকীদার পরিপন্থী এবং এই মতবাদে বিশ্বাসীদের মুসলিম পরিচয় গ্রহণযোগ্য নয়।

খতমে নবুওতের মতো সুস্পষ্ট আকীদা অস্বীকার করার পর এবং নবুওতে মুহাম্মদী ﷺ-এর সমান্তরালে নতুন নবুওতের বিশ্বাস গ্রহণ করার পরও যারা এ বিষয়ে সংশয় পোষণ করেন, তাদের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে অধ্যয়ন করা এবং ইসলামের মৌলিক আকীদা সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞানকে সুদৃঢ় করা।

একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো—আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানকে দৃঢ় রাখা এবং খতমে নবুওতের আকীদাকে সুস্পষ্টভাবে ধারণ করা।

মুসলিম উম্মাহর নানাবিধ দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে সমাজের কিছু বিভ্রান্ত ও বিচ্যুত চিন্তাধারার মানুষ এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তারা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একের পর এক ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে; অথচ সেখানে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ইসলামের কালিমা এবং বিভিন্ন ইসলামী পরিভাষা।

বিষয়টি বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে—

যদি কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী কোনো দেশের অখণ্ডতাকে অস্বীকার করে এবং সেই দেশের সীমানার ভেতরে আরেকটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, অথচ সেই কল্পিত রাষ্ট্রের জন্য মূল রাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা ও পরিচয় ব্যবহার করে; পাশাপাশি পৃথক নির্বাহী, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার ঘোষণা দেয়—তাহলে দেশপ্রেমিক জনগণ, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবস্থান কী হওয়া উচিত?

আর যদি সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ সমর্থনে কোনো জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয় এবং তাদের পৃথক পরিচয় ও কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে?

তারা কি এটিকে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করবে না? তারা কি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা হিসেবে দেখবে না?

অনুরূপভাবে, কোনো ধর্মীয় পরিচয় ও মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও পরিচয় ও মূলনীতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মতবাদ যদি কোনো ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, অথচ সেই ধর্মের নাম, প্রতীক ও পরিভাষা ব্যবহার করে, তাহলে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

একই বিষয় কাদিয়ানী সম্প্রদায় এবং তাদের সমর্থকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মনে করেন অনেকে। এই সম্প্রদায় রাসূলুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওতের আকীদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক পৃথক নবুওতের দাবিকে গ্রহণ করেও নিজেদেরকে মুসলিম উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে।

তাদের বিশ্বাস ও মতবাদ মূলধারার ইসলামী আকীদা থেকে পৃথক হওয়া সত্ত্বেও তারা ইসলামের পরিচয়, পরিভাষা ও প্রতীক ব্যবহার করে চলেছে—এমন অভিযোগ উলামায়ে কেরাম ও বিভিন্ন ইসলামী মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে, মুসলিম সমাজের ভেতরের কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভিন্ন উপায়ে এ মতবাদের প্রচার ও সমর্থনের চেষ্টা করছে—যার ফলে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ইসলামের মৌলিক আকীদা, বিশেষ করে খাতমে নবুওতের বিশ্বাসের আলোকে এ ধরনের মতবাদ সম্পর্কে একজন মুসলমানের জন্য সঠিক জ্ঞান অর্জন করা, বিষয়টি বোঝা এবং আকীদাগত বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে যেসব মতবাদ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হয়, সেগুলোর ব্যাপারে একজন মুমিনের উচিত কুরআন-সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা।

বর্তমান সময়ে কাদিয়ানী মতবাদ সম্পর্কে সচেতনতা ও ইলমি আলোচনা

বর্তমান সময়ের দাবি হলো—মসজিদে মসজিদে কাদিয়ানী মতবাদ সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সুস্পষ্ট ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা শুরু করা। বিশেষ করে খতমে নবুওতের অকাট্য আকীদা, এর গুরুত্ব এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে অদ্যাবধি নবুওতের মিথ্যা দাবিদারদের ইতিহাস, তাদের ভ্রান্তি ও পরিণাম সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহকে অবগত করা অত্যন্ত জরুরি।

পাশাপাশি মাসিক, পাক্ষিক সাময়িকী এবং দৈনিক পত্রিকার ইসলামী পাতাগুলোতেও এ বিষয়ে ধারাবাহিক ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা থাকা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মুসলমানগণ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর মতবাদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারেন।

মনে রাখতে হবে, এ ধরনের ভ্রান্ত মতবাদ তাদের প্রচার ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে থাকে। তাই মুসলিম সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আকীদার হেফাজতের জন্য আলিম-উলামা, ইমাম-খতীব এবং ইসলামপ্রিয় লেখক ও সাংবাদিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা সময়ের অপরিহার্য দাবি।

যদি মুসলিম উম্মাহ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক জ্ঞান প্রচার এবং বিভ্রান্তিকর মতবাদের মোকাবিলায় সচেষ্ট হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বাতিল চিন্তাধারার অপতৎপরতা প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক আকীদা বুঝার, তার ওপর অটল থাকার এবং দ্বীনের হেফাজতে যথাযথ ভূমিকা পালনের তাওফীক দান করুন।

আমীন।



Comments

Popular posts from this blog

🌸 শুরু কথা: ফুলের মত সুন্দর জীবন

SSC ইংরেজি: সাধারণ ভুল ও কমন প্রশ্ন-উত্তর

ذِكْرَى رِحْلَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الطَّائِف