নেক আমল ও তাদের ফজিলত
নেক আমল ও তাদের ফজিলত
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)
আমরা অনেকেই দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে আমাদের নেক আমলগুলো ভুলে যাই। কিন্তু কিছু ছোট ছোট আমল আছে, যেগুলো নিয়মিত করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। চলুন আমরা এসব আমল এবং তাদের ফজিলত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।
১. সকাল-বিকেলের তেলাওয়াত
প্রতিদিন সকালে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত বড় ফজিলতযুক্ত আমল। হাদীসে এসেছে:
“من قرأ يس في ليلة أصبح مبرورا”
— সহিহ ইবনে মাজাহ, হাদীস ১০৪১
অর্থ: "যে ব্যক্তি রাতের পর সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে, তার জন্য আল্লাহ রহমত করবেন।"
ফজিলত: এই তেলাওয়াত জীবনের প্রতিটি বিপদ থেকে রক্ষা করে এবং নেক আমলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। শুধুমাত্র ৫ মিনিটের চেষ্টায় আমরা এই আমল করতে পারি।
২. মাগরিবের পরে ওয়াকিয়া (সূরা ওয়াকিয়া)
মাগরিব নামাজের পর সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করা সুন্নত। হাদীসে এসেছে:
“من قرأ سورة الواقعة كل ليلة لم تصبه فاقة أبداً”
— সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৩৭৬
অর্থ: "যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, তার অভাবের অভাব হবে না।"
ফজিলত: এটি ধন-সম্পদ, পরিবার ও জীবনের অভাব থেকে রক্ষা দেয়। ছোট সময়ে এই তেলাওয়াত করলে দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর কৃপা বৃদ্ধি পায়।
৩. ইশার পর সূরা মূলক পাঠ
ইশার নামাজের পরে সূরা মূলক তেলাওয়াত করার ফজিলত উল্লেখযোগ্য। হাদীসে এসেছে:
“القراء بالموّلک بعد العشاء سبب للنجاة يوم القيامة”
— ফাতহুল বারী, খন্ড ২, পৃ. ২৫৪
অর্থ: "ইশার নামাজের পরে সূরা মূলক পাঠ করা কিয়ামতের দিনে উদ্ধারকারী হবে।"
ফজিলত: এই তেলাওয়াত মানুষের আত্মাকে দৃঢ় করে এবং হৃদয়ে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা জন্মায়।
৪. যিকর ও দোয়া
প্রতিদিনের ছোট সময়ে আল্লাহর নাম স্মরণ করা বা যিকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদীসে এসেছে:
“ما من شيء أكرم على الله من الذكر”
— সাহিহ বুখারি, হাদীস ৬৩৪৫
অর্থ: "কোনো কিছু আল্লাহর কাছে যিকরের চেয়ে অধিক সম্মানিত নয়।"
ফজিলত: যিকর হৃদয়কে শান্ত করে, গুনাহ মুছে দেয় এবং নেক আমলের বৃদ্ধি ঘটায়।
৫. সায়্যিদুল ইস্তেগফার
প্রতিদিন একবার سيد الاستغفار পাঠ করা অত্যন্ত সুন্নত। হাদীসে এসেছে:
“من قال سيد الاستغفار في يومه مئة مرة غفر الله له ذنوبه”
— সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫২১
অর্থ: "যে ব্যক্তি দিনে একশবার সায়্যিদুল ইস্তেগফার পাঠ করবে, আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ মাফ করবেন।"
ফজিলত: নিয়মিত পাঠ করলে হৃদয় শুদ্ধ হয় এবং আল্লাহর কাছে নিকট হতে সাহায্য করে।
৬. হাসবিয়াল্লাহু ৭ বার পাঠ
প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় حسبي الله لا إله إلا هو عليه توكلت وهو رب العرش العظيم সাতবার পাঠ করা সুন্নত। হাদীসে এসেছে:
“من قال حسبي الله لا إله إلا هو عليه توكلت وهو رب العرش العظيم سبع مرات كفاه الله ما أهمه”
— সাহিহ তিরমিজি, হাদীস ৩৩৭৪
ফজিলত: সমস্ত দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর হয়, জীবন শান্তময় হয়।
৭. لا حول ولا قوة إلا بالله
সাতবার পাঠ করলে মানুষের হৃদয় দৃঢ় হয় এবং আল্লাহর ওপর ভরসা জন্মায়। হাদীসে এসেছে:
“قال رسول الله ﷺ لا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم كنز من كنوز الجنة”
— সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫২৩
অর্থ: "যে ব্যক্তি বলবে 'লা হাউলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ', সে জান্নাতের একটি ধন অর্জন করবে।"
৮. আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার
সাতবার পাঠ করলে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফজিলত: শয়তান ও মানুষিক বিপদ থেকে রক্ষা পায়।
৯. বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু
তিনবার পাঠ করলে বাড়ি, পরিবার ও জীবনের সব ক্ষতি দূর হয়।
১০. অন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল
- দৈনিক তেলাওয়াত কোরআন
- নফল নামাজ যেমন দুই রাকাত শাফা
- সদকা বা অন্যের উপকার
- শুদ্ধ হৃদয়ে দোয়া ও তওবা
প্রতিটি আমল মানুষের নেকি বৃদ্ধি করে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে এবং জীবনের মান বৃদ্ধি করে। প্রতিদিনের ব্যস্ততা থাকলেও এই ছোট ছোট আমলগুলো করা সম্ভব। আমাদের উচিত নিয়মিত এই নেক আমলগুলোকে জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা।
Comments
Post a Comment