এসো কায়দা শিখি

এসো কায়দা শিখি

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)

বিরতির সময়কে ইবাদতে রূপ দেওয়ার এক ছোট্ট প্রয়াস

আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবাণী যে তিনি আমাকে এমন এক আমানতের দায়িত্ব দিয়েছেন, যা কেবল একটি কাজ নয়—বরং এক ইবাদত, এক সাদাকায়ে জারিয়া। মাদ্রাসার পরীক্ষার বিরতিতে অথবা পবিত্র রমজান মাসে যখন বাড়িতে আসার সুযোগ হয়, তখন সময়গুলোকে অবহেলায় নষ্ট না করে আমি চেষ্টা করি সেগুলোকে কুরআনের খেদমতে নিয়োজিত করতে।

এই সময়ে এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং আশেপাশের আগ্রহী ভাই-বোনদের নিয়ে ছোট্ট পরিসরে কুরআন শিক্ষার আয়োজন করি। শুরুটা হয় একেবারে বুনিয়াদ থেকে—কায়দা দিয়ে। কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শুদ্ধ তিলাওয়াতের ভিত্তি যদি মজবুত না হয়, তবে পরবর্তী পথ চলা কখনো পরিপূর্ণ হয় না। তাই প্রতিটি হরফের মাখরাজ, প্রতিটি হরকতের সঠিক উচ্চারণ, মদ, গুন্নাহ, ইদগাম—সবকিছু ধীরে ধীরে, বোঝানোর মাধ্যমে শেখানোর চেষ্টা করি।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে এই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী কায়দা থেকে শুরু করে অনর্গল কুরআন নাজারা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। শুধু তিলাওয়াতই নয়, তারা কুরআনের আয়াতে কোথায় চার আলিফ টান হবে, কোথায় তিন আলিফ, কোথায় গুন্নাহ হবে আর কোথায় হবে না—এসবও নির্দ্বিধায় বুঝে বলতে পারে। তাদের এই অগ্রগতি আমার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।

এভাবেই কায়দা পড়াতে পড়াতে আমার মনে একটি চিন্তার জন্ম নেয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে— কিভাবে পড়ালে ছাত্ররা সহজে বোঝে, কিভাবে উদাহরণ দিলে বিষয়টি মনে গেঁথে যায়, এবং কোন পদ্ধতিতে তাদের আগ্রহ জাগ্রত থাকে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমি একটি কায়দা গ্রন্থ রচনার ইচ্ছা পোষণ করি। নাম ঠিক করি—“এসো কায়দা শিখি”

প্রথমে হাতে লেখা খসড়া, তারপর ধীরে ধীরে সেটিকে সাজিয়ে তুলি। সময়ের স্বল্পতা ও নানা ব্যস্ততার কারণে অনেকদিন এটি কম্পিউটার থেকে বের করার সুযোগ হয়নি। কিন্তু ইচ্ছা কখনো থেমে থাকেনি। অবশেষে নতুন উদ্যমে আবারও সব বিষয়গুলোকে গুছিয়ে, সংশোধন করে, আরও পরিমার্জিত রূপে কম্পিউটার কম্পোজ সম্পন্ন করেছি।

বর্তমানে এটি শীট আকারে সংরক্ষিত রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে উপকৃত হতে পারে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে বই আকারে মুদ্রিত হয়ে বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে যাবে—এই আশাই রাখি। আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস যদি কারো কুরআন শিক্ষার পথে সহায়ক হয়, তবে সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

সবশেষে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করি—তিনি যেন এই প্রচেষ্টাকে কবুল করেন, আমাদের সকলকে কুরআনের খেদমতে নিবেদিত রাখেন, এবং এটিকে আমাদের জন্য নাজাতের উসিলা বানিয়ে দেন। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি