সমার্থক হলেও ব্যবহার ভিন্ন – ৩০টি আরবি শব্দের সূক্ষ্ম পার্থক্য

সমার্থক হলেও ব্যবহার ভিন্ন – ৩০টি আরবি শব্দের সূক্ষ্ম পার্থক্য

আরবি ভাষায় অনেক শব্দ আছে যেগুলোর অর্থ কাছাকাছি, কিন্তু ব্যবহার, প্রেক্ষাপট, শক্তি, শৈলী, কিংবা ব্যাকরণগত দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য না জানলে রচনায় শব্দচয়নে ভুল হয়। নিচে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ জোড়া শব্দ বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ তুলে ধরা হলো।

১. جُلُوسٌ – قُعُودٌ

جلوس সাধারণ বসা বোঝায় (standing → sitting)।
قعود প্রায়ই দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা কাজ থেকে বিরত থাকা বোঝায়।
উদাহরণ: جلستُ على الكرسي (আমি চেয়ারে বসলাম)।
لكن: قعد عن العمل (কাজ থেকে বিরত থাকল)।

২. زِيَادَةٌ – نَمَاءٌ

زيادة সংখ্যাগত বা পরিমাণগত বৃদ্ধি।
نماء স্বাভাবিক/অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি (উন্নয়ন, বিকাশ)।
উদাহরণ: زيادة الأسعار (দাম বৃদ্ধি)।
نماء الزرع (ফসলের বৃদ্ধি)।

৩. فَوْقَ – عَلَى

على সরাসরি স্পর্শসহ উপরে থাকা।
فوق উপরে, কিন্তু স্পর্শ থাকা জরুরি নয়।
الكتاب على الطاولة (টেবিলের উপর)।
الطائرة فوق السحاب (মেঘের উপরে)।

৪. عِلْمٌ – مَعْرِفَةٌ

علم গভীর ও প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান।
معرفة পরিচিতি বা সাধারণ জানা।
علم الفقه (ফিকহের জ্ঞান)।
عندي معرفة بهذا الشخص (আমি তাকে চিনি)।

৫. نَظَرَ – رَأَى

نظر তাকানো (ইচ্ছাকৃত)।
رأى দেখা (চোখে পড়া)।
نظرتُ إلى السماء (আমি আকাশের দিকে তাকালাম)।
رأيتُ القمر (আমি চাঁদ দেখলাম)।

৬. سَمِعَ – أَصْغَى

سمع শোনা (স্বাভাবিকভাবে)।
أصغى মনোযোগ দিয়ে শোনা।
سمعتُ الصوت (শব্দ শুনলাম)।
أصغيتُ إلى المعلم (শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম)।

৭. قَلْبٌ – فُؤَادٌ

قلب হৃদয় (সাধারণ)।
فؤاد আবেগপূর্ণ হৃদয় (তীব্র অনুভূতি)।
في قلبه إيمان (তার হৃদয়ে ঈমান)।
يحترق فؤاده حزنًا (তার অন্তর জ্বলে ওঠে দুঃখে)।

৮. بَيْتٌ – مَنْزِلٌ

بيت ঘর বা বাসস্থান।
منزل থাকার জায়গা বা অবস্থানস্থল।
دخلتُ البيت (আমি ঘরে প্রবেশ করলাম)।
نزل في منزلٍ جديد (নতুন বাসায় উঠল)।

৯. سَرِيعٌ – عَاجِلٌ

سريع দ্রুত।
عاجل জরুরি ও দ্রুত প্রয়োজনীয়।
قطار سريع (দ্রুতগামী ট্রেন)।
أمر عاجل (জরুরি বিষয়)।

১০. خَوْفٌ – خَشْيَةٌ

خوف সাধারণ ভয়।
خشية শ্রদ্ধাভিত্তিক ভয় (বিশেষত আল্লাহর ক্ষেত্রে)।
خوف من الظلام (অন্ধকারের ভয়)।
خشية الله (আল্লাহভীতি)।

১১. قُدْرَةٌ – طَاقَةٌ

قدرة সক্ষমতা।
طاقة শক্তি বা এনার্জি।
عنده قدرة على التعلم (তার শেখার ক্ষমতা আছে)।
ليس عندي طاقة للعمل (আমার কাজের শক্তি নেই)।

১২. كَسَبَ – رَبِحَ

كسب অর্জন করা (সাধারণ)।
ربح লাভ করা (ব্যবসায়িক)।
كسب الأجر (সওয়াব অর্জন)।
ربح المال (টাকা লাভ)।

১৩. مَشَى – سَارَ

مشى হেঁটে যাওয়া।
سار যাত্রা করা (পায়ে বা যানবাহনে)।
مشى في الطريق (হেঁটে গেল)।
سار إلى مكة (মক্কায় যাত্রা করল)।

১৪. بَدَأَ – شَرَعَ

بدأ শুরু করা (সাধারণ)।
شرع আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা।
بدأ الدرس (ক্লাস শুরু হলো)।
شرع في الكتابة (লেখা আরম্ভ করল)।

১৫. نَظِيفٌ – طَاهِرٌ

نظيف পরিষ্কার (বাহ্যিক)।
طاهر পবিত্র (ধর্মীয়)।
ثوب نظيف (পরিষ্কার কাপড়)।
ماء طاهر (পবিত্র পানি)।

১৬. جَمِيلٌ – حَسَنٌ

جميل সুন্দর (রূপগত)।
حسن উত্তম বা ভালো।
منظر جميل (সুন্দর দৃশ্য)।
خلق حسن (উত্তম চরিত্র)।

১৭. ضَحِكَ – تَبَسَّمَ

ضحك জোরে হাসা।
تبسم মৃদু হাসা।
ضحك بصوتٍ عالٍ (উচ্চস্বরে হাসল)।
تبسم في وجهه (মুখে মুচকি হাসি দিল)।

১৮. حُزْنٌ – غَمٌّ

حزن দুঃখ।
غم মানসিক চাপ বা কষ্ট।
حزن على الفراق (বিচ্ছেদের দুঃখ)।
أصابه غم شديد (গভীর মানসিক কষ্ট পেল)।

১৯. طَعَامٌ – أَكْلٌ

طعام খাদ্য।
أكل খাওয়ার কাজ।
هذا طعام لذيذ (এটি সুস্বাদু খাবার)।
أكل الطعام (খাবার খাওয়া)।

২০. سُؤَالٌ – اسْتِفْهَامٌ

سؤال প্রশ্ন।
استفهام ব্যাকরণিক প্রশ্নরীতি।
سؤال صعب (কঠিন প্রশ্ন)।
أدوات الاستفهام (প্রশ্নবাচক অব্যয়)।

২১. قَتَلَ – ذَبَحَ

قتل হত্যা করা (সাধারণ)।
ذبح জবাই করা (বিশেষ পদ্ধতিতে)।

২২. جَاءَ – أَتَى

جاء আসা (সাধারণ)।
أتى আগমন, কখনও আনুষ্ঠানিক বা শক্তিশালী অর্থে।

২৩. رِجَالٌ – ذُكُورٌ

رجال প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।
ذكور পুরুষ লিঙ্গ (জীববৈজ্ঞানিক)।

২৪. صَدِيقٌ – رَفِيقٌ

صديق বন্ধু।
رفيق সঙ্গী (যাত্রা/সহচর)।

২৫. طَرِيقٌ – سَبِيلٌ

طريق রাস্তা (বাস্তব)।
سبيل পথ (বাস্তব বা রূপক)।

২৬. قَوِيٌّ – شَدِيدٌ

قوي শক্তিশালী ব্যক্তি।
شديد তীব্রতা বোঝায়।

২৭. سَكَنَ – أَقَامَ

سكن বসবাস করা।
أقام অবস্থান করা (অস্থায়ীও হতে পারে)।

২৮. كَثِيرٌ – عَدِيدٌ

كثير অনেক।
عديد সংখ্যায় বহু (গণনাযোগ্য)।

২৯. صَمْتٌ – سُكُوتٌ

صمت নীরবতা (ইচ্ছাকৃত)।
سكوت কথা না বলা।

৩০. وَقَفَ – تَوَقَّفَ

وقف দাঁড়ানো।
توقف থেমে যাওয়া।
وقف أمام الباب (দরজার সামনে দাঁড়াল)।
توقف المطر (বৃষ্টি থেমে গেল)।উপসংহার

এই শব্দগুলোর সূক্ষ্ম পার্থক্য জানা থাকলে আরবি রচনা অনেক স্বাভাবিক ও সাহিত্যিক হয়। সমার্থক শব্দ সবসময় একে অন্যের বিকল্প নয়; প্রেক্ষাপট, শক্তি, শৈলী ও ব্যাকরণ নির্ধারণ করে কোন শব্দ ব্যবহার হবে। নিয়মিত কুরআন, হাদিস ও আরবি সাহিত্য পাঠ করলে এসব পার্থক্য স্বাভাবিকভাবে আয়ত্তে আসে।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি