হায়াতের বিস্ময়: একশ ত্রিশ বছরের জীবন্ত সাক্ষাৎ
হায়াতের বিস্ময়: একশ ত্রিশ বছরের জীবন্ত সাক্ষাৎ
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা (দ্বীনের দ্বীপ্তি)
আজ আল্লাহ তাআলা আমার জীবনে এমন এক অভিজ্ঞতা এনে দিলেন, যা শব্দে প্রকাশ করা সহজ নয়। আজ আমার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এমন একজন মানুষ—যাঁর বয়স একশ ত্রিশ বছর। জীবনের দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করে তিনি এখনো এই দুনিয়ার বুকে জীবন্ত সাক্ষী হয়ে আছেন। এ এক আশ্চর্য নেয়ামত, এ এক মহান রবের কুদরতের প্রকাশ।
আমরা প্রতিদিন কত কিছু দেখি, কত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। কিন্তু কিছু সাক্ষাৎ এমন হয়, যা হৃদয়ের গভীরে স্থায়ী ছাপ ফেলে যায়। এই মানুষটির সঙ্গে দেখা হওয়া ঠিক তেমনই এক মুহূর্ত। মনে হচ্ছিল—ইতিহাস যেন আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। সময়ের দীর্ঘ পথচলার নীরব সাক্ষী হয়ে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ হিসেবে।
আল্লাহ তাআলা এই বিশ্বজুড়ে কত নেয়ামত ছড়িয়ে রেখেছেন—আমরা অনেক সময় তার খবরই রাখি না। চোখ থাকলেও দেখি না, হৃদয় থাকলেও অনুভব করি না। অথচ আজ যদি মিডিয়ার লোকজন এই খবর জানতে পারত, তবে নিশ্চয়ই ক্যামেরা, সাংবাদিক, মাইক্রোফোন নিয়ে ছুটে আসত। শিরোনাম হতো—“১৩০ বছরের মানুষ!” কিন্তু আল্লাহর কুদরত কি শুধু খবরের শিরোনাম হওয়ার জন্য?
এই মানুষটি আমাদের শেখায়—জীবন দীর্ঘ হওয়াটাই বড় কথা নয়, বরং জীবন আল্লাহর ইচ্ছায় প্রবাহিত হওয়াটাই আসল বিস্ময়। তিনি কাউকে অল্প হায়াত দেন, কাউকে দীর্ঘ—সবই তাঁর হিকমত। মানুষের পরিকল্পনা এখানে তুচ্ছ, আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।
এই সাক্ষাৎ আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। আমরা কত তাড়াহুড়ো করি, কত অস্থির হই, কত ছোট বিষয়ে হতাশ হয়ে পড়ি। অথচ আল্লাহ চাইলে একজন মানুষকে একশ ত্রিশ বছর পর্যন্ত এই দুনিয়াতে রেখে দিতে পারেন—সুস্থতা, স্মৃতি ও অস্তিত্বসহ।
নিশ্চয়ই এই দীর্ঘ জীবন শুধু সময়ের হিসাব নয়; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জীবন্ত নিদর্শন। যেন তিনি আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন—“আমি যা চাই, তাই হয়।”
Comments
Post a Comment