ভালোবাসার নামে প্রতারণা নয়—এক ভাইয়ের সতর্ক আর্তি

 

ভালোবাসার নামে প্রতারণা নয়—এক ভাইয়ের সতর্ক আর্তি

শোনো আপু—এই কথাগুলো আমি হালকা করে বলছি না, গল্পের ছলে বলছিও না। এগুলো বলছি বুকের ভেতর জমে থাকা দায়িত্ববোধ, মমতা আর একজন ভাইয়ের গভীর ভালোবাসা থেকে। আজকের এই সময়ে দাঁড়িয়ে তোমার মতো নিষ্পাপ, স্বপ্নবাজ, মেধাবী মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে—ভুল ভালোবাসার কল্পনা।

স্কুল পড়ুয়া, কলেজ পড়ুয়া অসংখ্য মেয়ে আজ মনে মনে প্রেমের আলপনা আঁকে। চুপচাপ, নীরবে—মা-বাবার অগোচরে। কেউ একজন ছেলেকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলে এক কল্পনার রাজ্য— “আমি তাকে বিয়ে করব”, “সে আমাকে খুব ভালোবাসে”, “একদিন আমরা সংসার করব”— অথচ বাস্তবে সেই ছেলেটি কখনো তার মা-বাবার সামনে দাঁড়ানোর সাহস রাখে না।

এই কল্পনার জগৎ এতটাই মায়াবী যে, একসময় বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা মুছে যায়। মেয়েটি ভাবে—এই ভালোবাসাই তার জীবনের সব। পড়াশোনা, আত্মসম্মান, পারিবারিক বিশ্বাস—সবকিছু ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে।

তারপর একদিন হঠাৎ সেই ছেলেটি মুখ ফিরিয়ে নেয়। কখনো সে পাত্তা দেয় না, কখনো বলে—“আমি তো সিরিয়াস ছিলাম না।” সেই মুহূর্তে মেয়েটির ভেতরের পৃথিবী ভেঙে পড়ে।

কেউ তখন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারে না, কেউ অন্ধকার ঘরে কাঁদে, আর কেউ কেউ—ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। গলায় দড়ি দেয়, অথবা সমাজের চোখে পড়ে যাওয়ার ভয়ে নিজেকেই বিকিয়ে দেয় কয়েক টাকার বিনিময়ে।

প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় এই ঘটনাগুলো আমরা পড়ি। কিন্তু পড়ে ভুলে যাই। ভাবি—“আমার ক্ষেত্রে হবে না।” এই ‘হবে না’-ই শয়তানের সবচেয়ে বড় ধোঁকা।

এই জন্যই আপু, আমি তোমাকে খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই— ভবিষ্যতে তুমি কাকে বিয়ে করবে, এই সিদ্ধান্ত তুমি একা কখনো নিও না। নিজের মন দিয়ে, নিজের আবেগ দিয়ে, নিজের কল্পনা দিয়ে কখনো কাউকে বেছে নিও না।

তোমার কাজ একটাই— মন দিয়ে পড়াশোনা করা, নিজেকে গড়ে তোলা, নিজের চরিত্রকে পবিত্র রাখা।

কার সাথে তোমার বিয়ে হবে—এই দায়িত্ব তোমার আম্মু-আব্বার। কারণ তারা তোমার আগে এই দুনিয়া দেখেছে, তারা জীবনের কাঁটা-ফুল দুইটাই চেনে, তারা জানে কোন মানুষ তোমার জন্য নিরাপদ।

আমরা সব সময় বলি—মুরুব্বিদের কথা শুনতে। আর তোমার সবচেয়ে বড় মুরুব্বি হলো তোমার মা-বাবা। প্রতিটা সিদ্ধান্তে তাদেরকে জানাবে, এক পা-ও একা ফেলবে না।

নিজের মন যা বলছে—সব সময় সেটাই সঠিক নয়। মন অনেক সময় শয়তানের হাতিয়ার হয়ে যায়। আর যে মন মা-বাবার কথা শোনে না, সে মন একদিন নিজেকেই কাঁদায়।

এই জন্যই আমার আকুল আবেদন— কখনো কোনো ছেলেকে ভালোবাসার অভিনয় করবে না। হারাম কোনো সম্পর্কে জড়াবে না। কোনো প্রপোজালে সাড়া দেবে না। কারো সাথে গোপন কথা বলবে না।

বিয়ের আগে ভালোবাসা নয়— বিয়ের পরে ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসা হবে হালাল, পবিত্র, নিরাপদ।

কোনো ছেলে যদি তোমাকে প্রপোজ করে— তার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। প্রয়োজনে একেবারেই কথা বলবে না। ছেলেদের থেকে যতদূর সম্ভব দূরে থাকবে—এটাই ইসলামের শিক্ষা।

আমি জানি, আমিও একজন ছেলে। আমার সাথে তোমার কথা হয়। কিন্তু এই সম্পর্ক কখনো ভালোবাসার নয়, কখনো হারামের নয়।

আমি সবসময় তোমাকে বোনের চোখেই দেখেছি। আজও দেখি, আগামীতেও দেখব। আমার কথা, আমার উপদেশ—সবই ভাই হিসেবে।

এই সতর্কতা কোনো শাসন নয়, এটা ভালোবাসা। এই নির্দেশ কোনো দমন নয়, এটা রক্ষা।

আমি চাই— তোমার সতীত্ব অক্ষত থাকুক, তোমার সম্মান অটুট থাকুক, তোমার জীবন হোক নিরাপদ।

এই দুনিয়ায় মেয়েদের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাদের ইজ্জত। আর সেই ইজ্জত রক্ষা করার সবচেয়ে বড় ঢাল— মা-বাবার আনুগত্য, ইসলামের সীমারেখা।

আপু, শয়তান কখন কোথা থেকে আঘাত করবে কেউ জানে না। এই জন্যই আগে থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। আমি আগেও বলেছি, আজও বলছি— কারণ আমি চাই তুমি নিরাপদ থাকো।

এই কথাগুলো যদি একটুও তোমার হৃদয়ে পৌঁছায়— তাহলেই আমার এই লেখা সার্থক।

এক ভাইয়ের দোয়া— আল্লাহ তোমাকে হেফাজতে রাখুন, তোমার পথকে নিরাপদ করুন, তোমার ভবিষ্যৎকে নূরে ভরিয়ে দিন।

Comments

Popular posts from this blog

সময়ের অপচয়, আত্মপ্রদর্শন ও সামাজিক মাধ্যমে অহেতুক প্রকাশ: এক আত্মসমালোচনামূলক আলোচনা

ইলম অর্জনের কষ্ট ও পদক্ষেপ

বেফাক পরীক্ষার প্রস্তুতি: মিশকাত জামাতের জন্য নিয়ম-নীতি ও কলাকৌশল