ভূমিকম্প: আল্লাহর পক্ষ থেকে জাগরণ ও সতর্কবার্তা
ভূমিকম্প: আল্লাহর পক্ষ থেকে জাগরণ ও সতর্কবার্তা
আজকের পৃথিবী ক্রমশ কেঁপে উঠছে। ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমারেও হয়েছে আজ ৫.২ ও ৫.৩ মাত্রায় ভূমিকম্প।জাপান তো নিয়মিত ভূমিকম্প হয়ই, আজ ঢাকায়ও সকালবেলা মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। গত কয়েকদিনে পরপর যে কম্পনগুলো ঘটছে, তা শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনার ধারাবাহিকতা নয়; একজন মুমিনের দৃষ্টিতে এগুলো গভীর বার্তা, একটি সতর্কতা, একটি ইলাহী আহ্বান— “হে বান্দা! ফিরে এসো তোমার রবের দিকে!”
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন—
وَمَا نُرْسِلُ بِالْآيَاتِ إِلَّا تَخْوِيفًا
“আমি আয়াতসমূহ (ভয় ধরানোর নিদর্শন) প্রেরণ করি মানুষকে সতর্ক করার জন্য।” (সূরা ইসরা : ৫৯)
ভূমিকম্প হলো সেই ‘নিদর্শন’ যার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে মনে করিয়ে দেন— “দেখো! তোমাদের পায়ের নীচের যমীনও আমার নিয়ন্ত্রণাধীন।” হয়তো তোমরা ঘুমিয়ে ছিলে, ব্যস্ত ছিলে, উদাস ছিলে। কিন্তু আল্লাহ এক সেকেন্ডে পুরো শহরকে কাঁপিয়ে দেন, মানুষ দিশেহারা হয়, উঁচু ভবনের মানুষ নীচে নামার পথ খুঁজে পায় না, মা–বাবা–সন্তানের কথা মনে থাকে না— শুধু মনে থাকে “বাঁচো! পালাও!”
ভূমিকম্প: দুনিয়ার নয়, আখিরাতের ছায়া
তুমি লক্ষ্য করো—এক মুহূর্তের কম্পনে মানুষ সব ভুলে যায়। কুরআনের সেই আয়াত যেন চোখের সামনে ভাসতে থাকে—
يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ • وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ
“সেদিন মানুষ পালাবে তার ভাই থেকে, তার মা থেকে, তার বাবা থেকে।” (আবাসা : ৩৪-৩৫)
আজকের ভূমিকম্প ঠিক সেই দৃশ্যের পূর্বাভাস। আজ আমরা সামান্য কম্পনে ঘর ছেড়ে দৌড়েছি। কেউ দেখেনি পোশাক ঠিক আছে কিনা, পকেটে মোবাইল আছে কিনা, টাকা আছে কিনা। কেউ মা–বাবাকে ডাকতে পারেনি, কেউ ভাই–বোনের অপেক্ষা করতে পারেনি। এটাই কিয়ামতের দিনের প্রথম ধাপের ছোট্ট নমুনা।
ইন্দোনেশিয়া-মায়ানমার ভূমিকম্প : আমাদের জন্য শিক্ষা
ইন্দোনেশিয়ায় আজ আবার ভূমিকম্প। মায়ানমারের পাহাড়ি অঞ্চলেও তীব্র কম্পন, ঘরবাড়ি নষ্ট, মানুষ আতঙ্কে রাস্তায়। একই দিনে বাংলাদেশেও মৃদু কম্পন— এগুলো কি কেবল কাকতালীয়?
না, একজন মুমিন জানে— আল্লাহ যখন বারবার স্মরণ করান, তখন তা কখনোই হঠাৎ নয়। এগুলো আমাদের চোখ খোলার জন্য, ঘুম ভাঙানোর জন্য।
রাসূল ﷺ বলেছেন— “যখন ফাহেশা (অশ্লীলতা) ছড়াবে, যখন সুদ সাধারণ হবে, যখন অন্যায় বাড়বে—তখন ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাবে।” (সহিহ বুখারী)
আজ কি সেই সময় আসেনি? অশ্লীলতা, নির্লজ্জতা, সুদ, মিথ্যা, পাপ—সবই চারদিকে। তাই আল্লাহ বারবার সাবধান করছেন। এই কম্পনগুলো যেন বলছে— “এখনই ফিরে আসো।”
এসব সতর্কবার্তার উদ্দেশ্য কী?
**মানুষকে গুনাহ ছাড়াতে**
ভূমিকম্প বান্দাকে বলে—দুনিয়া স্থায়ী নয়। প্রতিদিন গুনাহ করা মানুষ এরকম স্মরণে থেমে যায়,
ভাবতে শেখে—“যদি আজ আমার মৃত্যু হয়ে যেত?”
**বান্দাকে তওবায় ফিরিয়ে আনা**
কুরআনে আছে—
لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
“হয়তো তারা ফিরে আসবে।” (সূরা জুখরুফ : ৪৮)
**মানুষ যেন আল্লাহকে ভুলে না যায়**
যখন দুনিয়া সুন্দর থাকে, মানুষ গুনাহ করে, আল্লাহকে ভুলে যায়। ভূমিকম্প তাকে বলে—“আমি আছি, আমার শক্তি দেখো।”
**কিয়ামতের কথা মনে করিয়ে দেয়া**
এক সেকেন্ডে পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠবে— আজ সেই দিনের প্রস্তুতি স্মরণ করিয়ে দেয়।
এখন আমাদের করণীয় কী?
১. সকল গুনাহ থেকে তওবা করা
মিথ্যা, পরনিন্দা, গীবত, জিনা, গান-বাজনা, অশ্লীলতা—সব থামিয়ে দিতে হবে।
২. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করা
নামাজ হলো বিপদ থেকে বাঁচার ঢাল।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“নামাজ দুনিয়া ও আখিরাতে নাজাতের পথ।”
৩. চোখের পানি ফেলে দোয়া করা
কারণ যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে—
সে চোখে জাহান্নামের আগুন হারাম। (তিরমিযী)
৪. সাদকাহ বাড়িয়ে দেয়া
সাদকাহ বিপদ দূর করে।
সহিহ হাদিসে আছে—
“সাদকাহ বিপদকে প্রতিহত করে।”
৫. তাওহিদের উপর দৃঢ় থাকা
কারণ বিপদে উদ্ধারকারী একমাত্র আল্লাহ।
☁ এই পৃথিবীর কম্পন একটি চূড়ান্ত বার্তা
আজকের পরপর ভূমিকম্পগুলো আমাদের কানে যেন ফিসফিস করে— “হে মানুষ! তোমার সময় বেশি নেই। আজই ফিরে এসো।”
যদি আল্লাহ চান, তবেই আমরা নিরাপদ। আর যদি তিনি রক্ষা না করেন— কেউই রক্ষা করতে পারবে না।
তাই আজ, এই মুহূর্তে, এই কম্পনের মধ্যেই আমাদের বলে উঠা উচিত— “আল্লাহ! আমরা ফিরে এলাম তোমার দিকে।”
Comments
Post a Comment