ভূমিকম্প—কেয়ামতের দিনের আয়াতের জীবন্ত অনুভূতি

 

ভূমিকম্প—কেয়ামতের দিনের আয়াতের জীবন্ত অনুভূতি

আজকের এই ভূমিকম্প আমাদের হৃদয়ে কুরআনের সেই ভয়ংকর আয়াতকে স্মরণ করিয়ে দিল— ﴿ يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ ﴾
“যেদিন মানুষ নিজ ভাই থেকে পালিয়ে যাবে।” মাটির সামান্য কাঁপুনি আমাদের এমন এক বাস্তব অনুভূতিতে নিয়ে গেল, যা হয়তো কথায় বলা যায় না।

ঘুমন্ত চোখে, বিছানা থেকে হুড়মুড় করে উঠে আমরা যা দেখলাম— ভয়, আতঙ্ক, দৌড়ানো, আর এক অজানা অস্থিরতা। সেই মুহূর্তে আমাদের চিন্তায় মা ছিল না, বাবা ছিল না, ভাই–বোনও ছিল না। কী পোশাকে আছি, যথাযথভাবে পরা আছে কি না—এসবের কোনো খবরও ছিল না আমাদের কাছে। শুধু একটা চিন্তা—“যেভাবে পারি, দ্রুত বাইরে যেতে হবে!”

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কম্পন আমাদের সকল সম্পর্ক, সব অহংকার, সব ব্যস্ততা ভুলিয়ে দিল। আমরা চারতলার নিচে থাকায় সহজে বের হতে পারলেও, ওপরতলার মানুষের চিৎকার, দৌড়ঝাঁপ, অসহায় আতঙ্ক—সব মিলিয়ে মনে হলো যেন পৃথিবী একটু তাড়াতাড়ি কেয়ামতের চিত্র দেখিয়ে দিল।

তাহলে ভাবো— আজ যদি সামান্য ভূকম্পনে এমন অবস্থা, তবে সেদিন কেয়ামতের কম্পন কেমন হবে? যেদিন পাহাড় উড়ে যাবে, সাগর ফেনিয়ে উঠবে, মানুষ মাতালদের মতো দুলতে থাকবে অথচ তারা মাতাল হবে না— সেদিনের ভয় কেমন হবে?

আজকের কাঁপুনিটা ছিল সতর্কতা, ছিল স্মরণ করানোর ডাক— “হে মানুষ! ফিরে এসো তোমার রবের দিকে।” আল্লাহ আজ আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন—তাঁরই করুণা, তাঁরই রহমত। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি যেন বলছেন—“কেয়ামত দূরে নয়, প্রস্তুতি নিয়ে নাও।”

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি