এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি ও করণীয়
এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি ও করণীয়
বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো “টেস্ট পরীক্ষা”। এই পরীক্ষাই মূল এসএসসি পরীক্ষার ভিত্তি তৈরি করে। অনেক স্কুলে টেস্ট পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারণ করা হয় কে চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে আর কে পারবে না। তাই এই পরীক্ষাটির গুরুত্ব অপরিসীম।
তবে মনে রাখতে হবে—হতাশ হওয়া একজন পরীক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর জিনিস। তুমি যতই দুর্বল মনে করো না কেন, তুমি যতই পিছিয়ে থাকো না কেন, আল্লাহ তায়ালার রহমত সবসময়ই বড়। যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, দোয়া করে, চেষ্টা করে—তাকে কখনো হতাশ হতে দেয়া হয় না। তাই এখনই দৃঢ় সংকল্প নাও: “আমি পারব, ইনশাআল্লাহ আমি সফল হব!”
১. হতাশ হওয়া যাবে না
অনেক ছাত্র মনে করে, “আমি তো অনেক পিছিয়ে আছি, টেস্টে ভালো করতে পারব না।” কিন্তু সত্যি কথা হলো—পরিশ্রম সবকিছু বদলে দিতে পারে। অল্প সময়েও যদি সঠিক নিয়মে পড়া যায়, তাহলে অসাধারণ ফল পাওয়া সম্ভব।
নিজেকে বলো: “আমি ব্যর্থ নই। আমি চেষ্টা করছি, আর আল্লাহ চেষ্টা করা মানুষের সাথেই আছেন।” মনে রাখো—যে হতাশ হয়, সে হেরে যায়। আর যে চেষ্টা করে, সে কখনো হারেনা।
২. দোয়া, কান্না ও আল্লাহর সামনে চাওয়া
দোয়া হলো মুমিনের অস্ত্র। বিশেষ করে পরীক্ষার্থী যদি কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তার জন্য সহজ করে দেন। রাতের অর্ধেক শেষে বা ফজরের আগে একটু দোয়া করো:
“হে আল্লাহ! আমাকে পড়ায় বরকত দাও। আমাকে বুঝার তাওফিক দাও। আমাকে টেস্ট পরীক্ষায় এবং বোর্ড পরীক্ষায় সফল করো।”
দোয়া মানুষের তাকদিরও বদলে দিতে পারে। তাই বেশি বেশি দোয়া করো। নামাজ শেষে হাত উঠাও। নিজের জন্য, মা-বাবার জন্য, পরীক্ষার জন্য কেঁদে দোয়া করো—ইনশাআল্লাহ প্রতিটি কষ্ট সহজ হয়ে যাবে।
৩. নামাজ ঠিক রাখা
নামাজ শুধু ইবাদত নয়—এটা মানুষের মনোযোগ, একাগ্রতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং চরিত্র গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। যে ছাত্র নামাজ ঠিক রাখে, তার জীবনে বরকত আসে, মনে শান্তি আসে, পড়ায় মন বসে।
৫ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো পালন করার চেষ্টা করো। নামাজ মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং সফলতার পথে নিয়ে যায়।
৪. গুনাহ থেকে বাঁচা
যে ছাত্র গুনাহে লিপ্ত হয়—মুভি, হারাম গান, বাজে বন্ধুত্ব—তার মন পড়াশোনায় বসে না। আল্লাহর নাফরমানি করলে জীবনে অশান্তি আসে, মন স্থির থাকে না, এবং পড়া মুখস্থ হয় না।
তাই এখন থেকেই:
- গান-নাচ সম্পূর্ণ বন্ধ
- খারাপ সঙ্গ ত্যাগ
- মোবাইল কম ব্যবহার
- অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বাঁচা
পবিত্র জীবন—সফল পরীক্ষার প্রথম ধাপ।
৫. স্কুল ও প্রাইভেট এর পড়া পুরোপুরি আয়ত্ত করা
অনেক ছাত্র শুধু বই পড়ে কিন্তু প্রাইভেট/কোচিং এর পড়া ঠিকমতো আয়ত্ত করে না। আবার কেউ কেউ শুধু প্রাইভেটের নোট দেখে কিন্তু মূল বই পড়ে না। এটা বড় ভুল।
টেস্ট পরীক্ষায় এবং এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় আসল শক্তি হলো—বই + ক্লাস নোট + প্রাইভেট নোট—এই তিনটির সমন্বয়।
প্রতিদিন যা ক্লাসে পড়ানো হচ্ছে, সেদিন রাতেই সেটা দেখে যাও। এভাবে পড়লে টেস্ট পরীক্ষায় কোনো ভয় থাকবে না।
৬. সম্ভাব্য প্রশ্নগুলোর প্রস্তুতি
টেস্ট পরীক্ষায় সাধারণত ৩ ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে:
- বোর্ড প্রশ্নের মতো স্টাইলে
- পূর্ববর্তী বছরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে
- শিক্ষকের নিজের তৈরি সৃজনশীল প্রশ্ন
তাই এখনই এই কাজগুলো করো:
- শেষ ৫ বছরের বোর্ড প্রশ্ন সমাধান
- স্কুলের মডেল টেস্টগুলো বারবার রিভিশন
- প্রাইভেট/কোচিং প্রশ্ন থেকে কঠিন সৃজনশীল চর্চা
- যে অধ্যায়গুলোতে দুর্বলতা আছে, সেগুলো আগে শেষ করো
৭. দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করা
প্রতিটি ছাত্রের কিছু দুর্বলতা থাকে—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যেটা ভুল, সেটা হলো দুর্বল অংশকে এড়িয়ে যাওয়া। এখনই একটা খাতা নাও এবং লিখে ফেলো:
- বাংলা – কোন ব্যাকরণে দুর্বল?
- ইংরেজি – ট্রান্সলেশন নাকি রাইটিং স্কিল দুর্বল?
- গণিত – কোন অধ্যায়ে সমস্যা?
- বিজ্ঞান – কোন চ্যাপ্টার বোঝা কম?
- আইসিটি – কোন অংশ মুখস্থ হয় না?
তারপর প্রতিদিন ১টি করে দুর্বল অধ্যায় ঠিক করো। ১০ দিনেই তুমি পুরো পরিবর্তন অনুভব করবে।
৮. দিনের রুটিন তৈরি
রুটিন ছাড়া সফল হওয়া অসম্ভব। একটি সহজ রুটিন:
- ফজর → ৩০ মিনিট পড়া
- সকালে ক্লাসের প্রস্তুতি
- বিকেলে → ২ ঘণ্টা অনুশীলনমূলক পড়া
- রাতে → সৃজনশীল + মুখস্থ + রিভিশন
৯. কিভাবে পড়লে দ্রুত মনে থাকবে?
৩টি কৌশল:
- বোঝা → তারপর মুখস্থ
- লিখে লিখে অনুশীলন
- প্রতিদিন রিভিশন
যত বেশি লিখবে, তত বেশি মনে থাকবে।
১০. আল্লাহর উপর ভরসা
সফলতা কার হাতে? অবশ্যই আল্লাহর হাতে। তাই চেষ্টা করো, পরিশ্রম করো, দোয়া করো—আর পুরো ভরসা রাখো তোমার রবের উপর।
“যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।” — সূরা তালাক ৬৫:৩
সুতরাং পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও, সৎভাবে পড়াশোনা করো, গুনাহ থেকে দূরে থাকো, দোয়া করো—ইনশাআল্লাহ টেস্ট পরীক্ষায় তুমি সফল হবেই।
Comments
Post a Comment