কেয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়া পাবে
কেয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়া পাবে
হাদিসের আরবি ইবারত
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ: إِمَامٌ عَادِلٌ، وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ، اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ: إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ
সূত্র: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম
বাংলা অর্থ
“সাত শ্রেণির মানুষ রয়েছে যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর আরশের ছায়া দিবেন যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না—
- ন্যায়পরায়ণ শাসক,
- যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে বড় হয়েছে,
- যার হৃদয় মসজিদের সাথে যুক্ত,
- যে দু’জন ব্যক্তি আল্লাহর জন্য পরস্পর ভালোবাসে—আল্লাহর জন্যই মিলিত হয় এবং আল্লাহর জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়,
- যে ব্যক্তিকে উচ্চ বংশীয় ও সুন্দরী মহিলা কুপ্রস্তাব দিলে সে বলে: “আমি আল্লাহকে ভয় করি”,
- যে গোপনে দান করে—এমনভাবে যে বাম হাত পর্যন্ত জানে না ডান হাত কী দান করছে,
- যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়।”
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক (إِمَامٌ عَادِلٌ)
যে ব্যক্তি রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান, পরিবার বা নেতৃত্বের যেকোনো অবস্থানে থেকে ন্যায়বিচার করে। সে নিজের, আত্মীয়ের বা অন্য কারও প্রতি পক্ষপাত করে না। ন্যায়ের মানদণ্ড আল্লাহর বিধান—সেটা মেনে চলে।
কেন মর্যাদাপূর্ণ? কারণ নেতৃত্বে পক্ষপাত এড়ানো অত্যন্ত কঠিন। তাই ন্যায়পরায়ণ নেতার জন্য আল্লাহ বিশেষ ছায়া নির্ধারণ করেছেন।
২. আল্লাহর ইবাদতে বেড়ে ওঠা যুবক (وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ)
যে যুবক ছোটবেলা থেকে আল্লাহর ইবাদত করে, গুনাহ থেকে দূরে থাকে, নামাজ, কোরআন, সৎকর্মে নিজেকে গড়ে তোলে। যুবক বয়স গুনাহের দিকে টানার সময় হলেও সে নিজেকে সংযত রাখে।
কেন মর্যাদা? কারণ যুবকের নফস, শক্তি এবং আবেগ থাকে—সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
৩. যার হৃদয় মসজিদের সাথে যুক্ত (وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ)
এ ব্যক্তি মসজিদ ভালোবাসে। নামাজ শেষ করলেও মনটা থাকে—পরবর্তী নামাজে কখন ফিরবে। মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয়—আত্মার শান্তির স্থান।
লক্ষণ: সে নিয়মিত জামাতে অংশগ্রহণ করে এবং মসজিদে থাকার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।
৪. আল্লাহর জন্য পরস্পর ভালোবাসা দু’জন ব্যক্তি (وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ)
যারা জাগতিক স্বার্থ, টাকা বা কাজের সম্পর্ক নয়— শুধু আল্লাহর জন্য একে অন্যকে ভালোবাসে। আল্লাহর জন্যই মিলিত হয় এবং আল্লাহর জন্যই পৃথক হয়।
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা— এর মানে হল, তার ভালোবাসায় নফস, স্বার্থ বা দুনিয়া থাকে না।
৫. কুপ্রস্তাব আসলে আল্লাহকে ভয়ে ফিরিয়ে দেওয়া ব্যক্তি
وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ
যে ব্যক্তিকে কোনো প্রভাবশালী, সুন্দরী নারী কুপ্রস্তাব দিলে সে গুনাহের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বলে: “إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ — আমি আল্লাহকে ভয় করি।”
গুনাহ করার সম্পূর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে সংযত রাখা অত্যন্ত কঠিন—তাই তার জন্য বিশেষ মর্যাদা।
৬. গোপনে দানকারী ব্যক্তি
وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا
যে এমনভাবে দান করে যে— ডান হাত যা দান করে বাম হাতও তা জানে না। মানে: সে দান করে প্রচার ছাড়াই, দেখানোর জন্য নয়, সম্পূর্ণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
লক্ষণ: সে লোক দেখানোর কু-উদ্দেশ্য থেকে দূরে থাকে।
৭. নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে চোখ অশ্রুসিক্ত হওয়া ব্যক্তি
وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ
যে একা অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে, কৃতজ্ঞতা বা ভয়ে তার চোখে অশ্রু চলে আসে। এ অশ্রু ভণ্ডামিমুক্ত, দেখানোর জন্য নয়—বন্ধ ঘরে, নির্জনে, একান্তে।
মহান পুরস্কার: এ ধরনের অশ্রু জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার মাধ্যম।
শেষ কথা
এই সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। কারণ এ গুণগুলো অর্জন করতে সত্যিকারের ঈমান, নফসের জিহাদ, সত্যতা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদেরকেও এ সাত গুণের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
Comments
Post a Comment