আবেগভরা একটি হৃদয়–কথা

 

আবেগভরা একটি হৃদয়–কথা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

হযরত মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব হুজুরকে (হাফিযাহুল্লাহ)—আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে আল্লাহর জন্য অন্তরের গভীর থেকে ভালোবাসি। ২০২০ সাল থেকেই আপনার প্রতিটি ওয়াজ ও বয়ান আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনে আসছি। যখন আমি গাড়িতে থাকি, সফরে থাকি, কিংবা কোথাও একাকী সময় কাটাই—আমার কানে তখনও আপনার বয়ানের সুমিষ্ট সুরই বাজতে থাকে।

আমার অন্তরের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা—জীবনে অন্তত একবার হলেও আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করব, কথা বলব, দোয়া নেব। আল্লাহর কাছে প্রতিদিন আমি এই প্রার্থনা করেছি; সালাতুল হাজত পড়ে চোখের পানি দিয়ে বলেছি— “হে আল্লাহ! আমার প্রিয় হুজুরের সাক্ষাৎ যেন তুমি কবুল করে দাও।” আলহামদুলিল্লাহ, আজ আল্লাহ তাআলা আমার সেই দোয়ার দরজা খুলে দিয়েছেন।

হাসানাহ ফাউন্ডেশন—এই প্রতিষ্ঠান ইসলামের খেদমতে যে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। যেহেতু এটি আমার প্রাণপ্রিয় হুজুরের প্রতিষ্ঠান, তাই আমার তীব্র ইচ্ছা ছিল আমি নিজেও আর্থিক সহযোগিতা করব। কিন্তু আমার কঠিন অবস্থা, চরম দারিদ্র্য, বাবার মৃত্যুর পর একা হয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে আমি বর্তমানে কোনো সহায়তা দিতে পারছি না। আমার নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই, নির্ভর করার মতো কাউকেই এই পৃথিবীতে পাই না—একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।

তারপরও আলহামদুলিল্লাহ, কোরআনের প্রতি ভালোবাসা এবং দ্বীনের প্রতি গভীর আগ্রহ আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি হাফেজ হয়েছি, গত ছয় বছর বীরগঞ্জে তারাবীহ পড়িয়েছি, এবং বর্তমানে মেশকাত জামাতে পড়ছি। সামনে ইনশাআল্লাহ দাওরায়ে হাদিসে উঠব। এক বছর পর আমি ইনশাআল্লাহ একজন আলেম হয়ে বের হব।

যদিও এখন আর্থিক সহযোগিতা করতে পারছি না, তবুও প্রতিদিন চোখের পানিতে আল্লাহর কাছে আপনার প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও আপনার সুস্বাস্থ্য—এই দু’আ করি। আপনি যেন দীর্ঘজীবী হন, আরও বেশি মানুষকে হিদায়াতের পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন—এই কামনা অন্তর থেকে করি।

হুজুর! আমার হৃদয়ের গভীর থেকে একটি বিনয়ী অনুরোধ— আপনি যদি আমাকে আপনার প্রতিষ্ঠানের কোনো খেদমতে নিযুক্ত করতেন! আমি যদি আপনার একজন খাদেম হতে পারতাম! আপনার দোয়ার ছায়ায় থাকতাম! জীবনে বড় কিছু না পারলেও—আমি অন্তত আল্লাহর দ্বীনের কোনো খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।

আমি আপনাকে সামনে থেকে একবার দেখতে চাই। আপনার হাত ধরে মুসাফাহা করতে চাই। আপনার বুকে মাথা রেখে মুআনাকা করতে চাই। আপনাকে সামনে পেয়ে আমার অন্তরের কথা বলতে চাই। হয়তো কয়েক মিনিটের সেই সাক্ষাৎ—আমার গোটা জীবনকে বদলে দিতে পারে।

হুজুর, শুধু আমি নই—আমার মা এবং আমার মামাও আপনাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। আপনার প্রতিটি বয়ান তারা আগ্রহ নিয়ে শোনেন। আপনার বয়ানে আমাদের জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা আলোকিত হয়েছি। আপনার দাওয়াত, আপনার কণ্ঠ, আপনার উপস্থাপনা—এসব আমাদের হৃদয়কে নরম করে দেয়, গুনাহ থেকে দূরে রাখে, আল্লাহর দিকে টেনে নিয়ে যায়।

হুজুর, আপনার জীবনের মতো জীবন পেতে চাই। আপনার মতো আদব, আপনার মতো ইলম, আপনার মতো মুয়ামালা—সব কিছুই আমার জীবনে ফুটুক, এটাই আমার প্রার্থনা।

হে আল্লাহ! হযরত মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী হাফিযাহুল্লাহ’র প্রতি আমার ভালোবাসাকে তোমার সন্তুষ্টির কারণ বানিয়ে দাও। তাঁর সান্নিধ্য, তাঁর দোয়া, তাঁর খেদমতের সুযোগ—আমার জন্য কবুল করে দাও। আমাকে তাঁর দ্বীনি কাফেলায় সামান্য হলেও অংশগ্রহণের তৌফিক দান করো। আমিন।

সশ্রদ্ধ–
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি