ভূমিকম্প—এক সতর্কতার দরজায় আল্লাহর করুণাকণ্ঠ
ভূমিকম্প—এক সতর্কতার দরজায় আল্লাহর করুণাকণ্ঠ
আজকের এই ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প শুধু মাটির কাঁপন নয়, তুমি চাইলে এটাকে আল্লাহর এক গভীর, মমতাময়ী সতর্ক ডাকে রূপ দিতে পারো। হঠাৎ ঘুমের ঘোরে, নিস্তব্ধ রাতের বুকে যখন ধুকধুক করে কেঁপে উঠল পৃথিবী—মনে হলো, যেন দয়াময় রব্ব আমাদের হৃদয়ে টোকা দিয়ে বলছেনঃ “ও আমার বান্দারা! ফিরে আসো… আমি এখনো তোমাদের ডাকছি।”
এই কাঁপুনিতে আতঙ্ক ছিল, দৌড় ছিল, হৃদস্পন্দনের তীব্রতা ছিল—কিন্তু একই সঙ্গে ছিল রহমত। কারণ আল্লাহ চাইলে আমরা অনেক বড় বিপদের মুখোমুখি হতে পারতাম। তবুও তিনি বাঁচিয়ে রেখেছেন, রেখেছেন ফিরে আসার সুযোগ, রেখেছেন তওবার দরজা খোলা।
প্রাকৃতিক বিপদগুলো কখনো কখনো আমাদের ভুলে যাওয়া হৃদয়কে নাড়া দেয়। আমরা যেসব গুনাহকে তুচ্ছ করে দেখি, যেসব অবহেলায় দিন কাটাই, সেগুলোর পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিতে আল্লাহ মাঝে মাঝেই তাঁর বান্দাদের কোমলভাবে সতর্ক করেন। এ যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালোবাসারই একটি কঠোর বার্তা— “হে মানুষ! আমার দিকে ফিরে আসো। আমি তোমাদেরই উপকারে ডাকছি।”
পৃথিবীর কাঁপন আমাদের বলে দেয়—মানুষ আসলে কত দুর্বল, কত অসহায়। এক মুহূর্তে যে ভবনকে নিরাপদ ভেবেছিলাম, সেটাই হতে পারে মৃত্যুর দরজা। এক সেকেন্ডে ধনী-গরিব, শক্তিশালী-দুর্বল—সবাই একই কাঁপুনির মাঝে সমান হয়ে যায়। এটাই ভূমিকম্পের শিক্ষা—অহংকার ভাঙা, হৃদয় নরম করা, তওবার পথে ফিরে যাওয়া।
আজকের এই সতর্কবার্তা আমাদের থামিয়ে দেয় কিছুক্ষণের জন্য— আমরা কি আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিলাম? আমরা কি গুনাহকে স্বাভাবিক ধরে নিয়েছিলাম? আমরা কি দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়েছিলাম? যখন মাটি কেঁপে উঠে, তখন বুঝি—এই দুনিয়া কোনোদিনই নিরাপদ ছিল না। নিরাপদ একমাত্র আল্লাহ, তাঁর আশ্রয়, তাঁর রহমত।
ভূমিকম্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়— ইমানের পথে ফিরে যাও, আমল ঠিক করো, জিকিরে মন ভরাও, দোয়ায় চোখ ভিজাও। রব্বকে সন্তুষ্ট করার জন্য নতুন করে জীবন সাজিয়ে নাও। গুনাহ ছেড়ে দাও, রাতের অন্ধকারে অন্তত দুই রাকাত দাঁড়িয়ে তোমার হৃদয়কে তাঁর দিকে তুলে ধরো। যারা আল্লাহর জন্য তওবা করে, আল্লাহ তাদের আরও ভালোভাবে আগলে রাখেন।
আজকের এই ভূমিকম্প আমাদের মনে এই বোধ জাগায়— মৃত্যু খুব কাছে, আর আল্লাহও খুব কাছে। মাঝখানের দূরত্ব শুধু আমাদের গাফলতিই তৈরি করে। যদি আজকের কাঁপন আমাদের হৃদয়কে নরম করে, যদি আমাদের চোখে সামান্য হলেও অশ্রু নামে, তবে এটিই হবে ভূমিকম্পের সবচেয়ে সুন্দর ফল।
আল্লাহর সতর্কবার্তা ভালোবাসারই একটি রূপ। যখন তিনি বান্দাকে সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেন, তখন আর বার্তা পাঠান না। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ—আমরা এখনো তাঁর দৃষ্টি, তাঁর বার্তা, তাঁর রহমত পাচ্ছি। এই সুযোগ হারানো চলবে না।
চল আমরা আজ থেকে বদলে যাই
- গুনাহ পরিত্যাগ করি।
- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ঠিক করি।
- নেক আমল বাড়াই।
- মুমিন ভাইদের হক আদায় করি।
- তওবা ও ইস্তিগফারে জবান ভিজিয়ে রাখি।
শেষে এ দোয়া করি— হে আল্লাহ! আমাদের গাফলতাকে ক্ষমা করে দাও। এই ভূমিকম্পকে আমাদের জন্য রহমত বানাও, গজব নয়। আমাদের অন্তরগুলোকে তোমার দিকে ফিরিয়ে দাও। আমাদের জীবন, পরিবার, দেশ—সবকিছুকে তোমার হেফাজতে রাখো। আমীন।
Comments
Post a Comment