ফেসবুক চালানোর উদ্দেশ্য, উপকার ও অপকার
ফেসবুক চালানোর উদ্দেশ্য, উপকার ও অপকার
লেখক: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
ভূমিকা
বর্তমান যুগকে বলা হয় “the age of social media.” আজকের পৃথিবীতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি ফেসবুকের নাম শোনেননি। এটি একটি ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যম, যেখানে মানুষ তাদের চিন্তা, অনুভূতি, ছবি, ভিডিও ও মতামত অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — আমরা ফেসবুক কেন ব্যবহার করি? এর মাধ্যমে আমরা কী অর্জন করছি, আর এর দ্বারা আমরা কী হারাচ্ছি?
ফেসবুক চালানোর উদ্দেশ্য
মানুষ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ফেসবুক ব্যবহার করে। কেউ ব্যবহার করে communication বা যোগাযোগের জন্য, কেউ business promotion এর জন্য, আবার কেউ entertainment বা বিনোদনের জন্য। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য তুলে ধরা হলোঃ
১. যোগাযোগ রক্ষা
ফেসবুকের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হলো বন্ধু, আত্মীয়, সহপাঠী ও প্রবাসী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা। আগে যেখানে দূরে থাকা কারও সঙ্গে দেখা করা কঠিন ছিল, এখন Messenger বা Facebook call এর মাধ্যমে মুহূর্তেই কথা বলা যায়।
২. তথ্য ও জ্ঞানের আদান-প্রদান
আজকাল বহু শিক্ষার্থী ও গবেষক ফেসবুকের groups and pages থেকে নতুন তথ্য, নোট ও শিক্ষামূলক পোস্ট পায়। এমনকি ইসলাম, ইতিহাস, বিজ্ঞান বা ইংরেজি শেখার জন্যও অসংখ্য ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে, যা অনেককে উপকৃত করছে।
৩. ব্যবসা ও মার্কেটিং
বর্তমানে ফেসবুক শুধু একটি সামাজিক মাধ্যম নয়; এটি একটি বিশাল digital marketplace. ছোট থেকে বড় ব্যবসায়ী তাদের পণ্য বা সেবা প্রচারের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে। Facebook Ads এখন এক বিশাল ব্যবসায়িক অস্ত্র।
৪. দাওয়াত ও ইসলামী প্রচার
অনেক ইসলামপ্রিয় যুবক ও আলেম ফেসবুকের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছেন। কুরআন, হাদীস, ওলামায়ে কেরামের বাণী ও দীনী আলোচনাসমূহ ফেসবুকের মাধ্যমে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এটা সত্যিই ফেসবুকের একটি positive impact.
ফেসবুকের উপকারিতা
১. তথ্যের সহজলভ্যতা
ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা দ্রুত বিশ্বের যেকোনো খবর জানতে পারি। কোনো ঘটনা ঘটলে মুহূর্তেই তা viral হয়ে যায়। এতে যেমন সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিও বিস্তৃত হয়।
২. শিক্ষা ও গবেষণায় সহায়ক
বর্তমানে অনেক শিক্ষক ও ছাত্র ফেসবুকে educational groups তৈরি করেছেন, যেখানে তারা ক্লাস নোট, প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করেন। এতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
৩. দুনিয়ার খবর জানা
আগে খবর জানতে সংবাদপত্র বা টেলিভিশনের প্রয়োজন ছিল। এখন ফেসবুক নিউজফিডে বসেই জানা যায়, পৃথিবীর কোন স্থানে কী ঘটছে।
৪. মানবিক সহায়তা
কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ফেসবুকে সাহায্যের আবেদন জানালে অনেকেই এগিয়ে আসে। একে বলা যায় social responsibility এর এক সুন্দর উদাহরণ।
৫. প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ
ফেসবুক অনেকের জন্য প্রতিভা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম। কেউ লেখালেখি করে, কেউ গজল বা নাশিদ পোস্ট করে, কেউ আবার ডিজাইন বা ফটোগ্রাফি শেয়ার করে।
ফেসবুকের অপকারিতা
১. সময়ের অপচয়
অনেকেই অযথা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুকে সময় নষ্ট করে। ফলে নামায, পড়াশোনা, এমনকি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও কমে যায়। এটি এক বড় disadvantage.
২. আসক্তি (Addiction)
ফেসবুকের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ অনেককে মানসিকভাবে ক্লান্ত ও উদ্বিগ্ন করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, social media addiction এখন এক ধরনের রোগে পরিণত হয়েছে।
৩. গীবত, পরনিন্দা ও অশ্লীলতা
ফেসবুকে প্রায়ই গীবত, পরনিন্দা, অশ্লীল ছবি ও মন্তব্য দেখা যায়, যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। এই সব পোস্ট মানুষের ঈমান ও চরিত্র নষ্ট করে।
৪. ভুয়া খবর ও প্রতারণা
ফেসবুকে অসংখ্য fake accounts এবং ভুয়া সংবাদ প্রচার হয়। অনেক মানুষ এই খবর বিশ্বাস করে বিভ্রান্ত হয় এবং প্রতারিত হয়।
৫. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট
ফেসবুকে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের কারণে অনেকের privacy নষ্ট হয়। অপরিচিত লোকজন এসব তথ্য ব্যবহার করে ক্ষতি করতে পারে।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ফেসবুক
ইসলাম আমাদেরকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংযম ও হালাল পন্থা অনুসরণের শিক্ষা দেয়। তাই ফেসবুক ব্যবহার করতে হবে উদ্দেশ্য পরিষ্কার রেখে — আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। গীবত, পরনিন্দা, অশ্লীলতা ও অহংকার থেকে দূরে থাকতে হবে। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, “যা তোমার কোনো উপকারে আসে না, তা থেকে দূরে থাকো।”
সঠিক ব্যবহারের নির্দেশনা
- ফেসবুক শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করো।
- সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার করো, যেন পড়াশোনা ও ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে।
- অশ্লীল ছবি, ভিডিও বা তর্কে অংশ নিও না।
- ইসলাম, জ্ঞান ও নৈতিকতার পোস্ট বেশি শেয়ার করো।
- নিজেকে ও অন্যকে উপকারে আসে এমন কনটেন্ট তৈরি করো।
শেষ কথা,,
ফেসবুক নিজে ভালো বা খারাপ নয়, বরং আমরা কিভাবে ব্যবহার করছি সেটিই আসল বিষয়। এটি যদি সৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তবে এটি এক বিশাল tool for learning, da'wah, and communication. কিন্তু যদি আমরা অযথা সময় নষ্ট করি, পাপাচারে লিপ্ত হই, তবে এটি আমাদের জন্য a source of destruction.
তাই আমাদের উচিত — ফেসবুককে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ের কল্যাণে ব্যবহার করা। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে ফেসবুকসহ সকল প্রযুক্তিকে হালাল ও উপকারী কাজে ব্যবহার করার তাওফিক দান করেন। Ameen.
Comments
Post a Comment