বর্তমান সময়ে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা

 

বর্তমান সময়ে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 
 

ভাষা হলো মানবজাতির যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “And among His signs is the creation of the heavens and the earth and the diversity of your languages and your colors.” (সূরা রূম, ২২)। অর্থাৎ ভাষার বৈচিত্র্যও আল্লাহর নিদর্শনগুলোর একটি। এই ভাষার ভেতর ইংরেজি আজ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।

আজকের যুগে বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, গণমাধ্যম, এমনকি ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রেও ইংরেজি একটি অপরিহার্য মাধ্যম। যিনি ইংরেজি জানেন, তিনি গোটা পৃথিবীর সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। তাই বলা যায় — “English is the key to global communication.”

ইতিহাসে ইংরেজির বিস্তার

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রসার ও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব নেতৃত্ব ইংরেজি ভাষাকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দেয়। বর্তমানে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ডব্লিউএইচও সহ প্রায় সব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরকারি ভাষা ইংরেজি। এমনকি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও গবেষণার জন্য ইংরেজি জানা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে ইংরেজির গুরুত্ব

বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে, উচ্চশিক্ষায়, আইটি সেক্টরে, এমনকি দাওয়াহর ক্ষেত্রেও ইংরেজি জানা আজ জরুরি। কারণ, আমরা যদি ইসলামের সৌন্দর্যকে বিশ্বে তুলে ধরতে চাই, তাহলে আন্তর্জাতিক ভাষার প্রয়োগ অপরিহার্য।

প্রিয় নবী ﷺ বলেন, “Whoever learns the language of a people will be safe from their deception.” (উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর বর্ণনা, মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা)। এই হাদীস আমাদের শেখায় যে, অন্য জাতির ভাষা জানা উপকারী ও প্রয়োজনীয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে ইংরেজির ভূমিকা

আজকের বিশ্বে প্রায় সব উন্নত গবেষণার বই, জার্নাল, আর্টিকেল ইংরেজিতে লেখা। মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি, এমনকি ইসলামিক স্টাডিজেও ইংরেজি রিসোর্সের আধিক্য। তাই ছাত্রদের জন্য ইংরেজি শেখা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বরং জ্ঞান অর্জনের জন্য অপরিহার্য।

“Knowledge without communication is incomplete.” অর্থাৎ যোগাযোগের মাধ্যম ছাড়া জ্ঞান অসম্পূর্ণ। ইংরেজি সেই যোগাযোগের দরজা খুলে দেয়।

চাকরির বাজারে ইংরেজির প্রভাব

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ভালো চাকরি পেতে হলে ইংরেজিতে দক্ষতা থাকা জরুরি। প্রায় প্রতিটি চাকরির ইন্টারভিউ, অফিসিয়াল যোগাযোগ, এমনকি রিপোর্ট ও প্রেজেন্টেশন ইংরেজিতে হয়ে থাকে। এজন্য আজকাল স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পর্যায়েও ইংরেজি শিক্ষার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

ইসলাম প্রচারে ইংরেজির ব্যবহার

আজ ইসলামবিরোধী প্রচারণা ইংরেজি ভাষার মাধ্যমেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই মুসলিম যুবকদের উচিত ইংরেজি শেখা এবং সেই ভাষায় ইসলামকে উপস্থাপন করা। ইংরেজি জানা থাকলে একজন আলেম বা দাঈ বিশ্বমঞ্চে ইসলামের সত্য রূপ তুলে ধরতে পারেন।

অনেক দাঈ ও আলেম যেমন — শায়খ আহমদ দিদাত, ড. জাকির নায়েক (হাফিযাহুল্লাহ) — তারা ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে অগণিত মানুষকে ইসলামের পথে এনেছেন। তাই ইংরেজি শেখা শুধু দুনিয়াবী চাহিদা নয়, বরং এটি দ্বীনি খেদমতের একটি মাধ্যমও হতে পারে।

প্রযুক্তি ও যোগাযোগে ইংরেজি

কম্পিউটার, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স — সবকিছুর ভাষা ইংরেজি। অনলাইন শিক্ষা, ডিজিটাল দাওয়াহ, এমনকি ব্লগিংয়েও ইংরেজি ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। “Technology speaks English.” তাই যদি আমরা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চাই, তবে ইংরেজি শেখা বাধ্যতামূলক।

ইংরেজি শেখার ইসলামী দৃষ্টিকোণ

ইসলামে জ্ঞান অর্জনের প্রতি গুরুত্ব অনেক। আল্লাহ বলেন, “Say: My Lord, increase me in knowledge.” (সূরা ত্বাহা, ১১৪)। অতএব, যেই ভাষায় জ্ঞান অর্জন করা যায়, তা শেখাও ইলমের অংশ। যদি ইংরেজির মাধ্যমে আমরা ইসলাম, বিজ্ঞান ও মানবকল্যাণের জ্ঞান লাভ করতে পারি, তবে তা নিঃসন্দেহে সওয়াবের কাজ।

পরিশেষে,,

বর্তমান যুগে ইংরেজি শেখা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি প্রয়োজন। এই ভাষা আমাদের সামনে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। ইংরেজি শেখার মাধ্যমে আমরা যেমন দুনিয়াবী উন্নতিতে অংশ নিতে পারি, তেমনি ইসলামের বার্তাও বিশ্বের মানুষকে পৌঁছে দিতে পারি। তাই আমাদের উচিত সময় নষ্ট না করে ইংরেজি শেখার দিকে মনোযোগ দেওয়া। কারণ, “The one who learns a language opens a new window to the world.”

লেখক: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি