ইমরানের বাবার স্মৃতি ও অশ্রুভরা কষ্ট
ইমরানের বাবার স্মৃতি ও অশ্রুভরা কষ্ট
মৃত্যু এমন এক অদৃশ্য সত্য যা থেকে কেউই বাঁচতে পারে না। তবে যখন এই মৃত্যু আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রিয় মানুষকে কেড়ে নেয়, তখন তা হয়ে ওঠে অসহনীয় কষ্টের নাম। ইমরানের জীবনে এমনই এক আঘাত এসে পড়েছে গত পরশুদিন। তার বাবা, যিনি ছিলেন তার জীবনের অবলম্বন, আল্লাহ তাআলার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন চিরস্থায়ী জীবনের পথে।
আল্লাহর ভালোবাসার প্রমাণ
আল্লাহ তাআলা যাকে বেশি ভালোবাসেন, তাঁকে অনেক সময় অতি দ্রুত দুনিয়ার ঝামেলা ও গুনাহ থেকে মুক্ত করে নিজের কাছে নিয়ে যান। হয়তো ইমরানের বাবার জন্যও তাই হয়েছে। দুনিয়ার অশান্তি, পাপ ও কষ্ট থেকে বাঁচাতে আল্লাহ তাআলা তাঁকে দ্রুত জান্নাতের পথে নিয়ে গেলেন। এ এক ধরনের রহমত, যদিও তা দুনিয়ার চোখে এক অশ্রুভরা বিচ্ছেদ।
এক সন্তানের জন্য বাবার মৃত্যু
বাবা হারানো কেবল একটি সম্পর্কের ছিন্ন হওয়া নয়, বরং তা সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতা। যার বাবা বেঁচে আছেন, তিনি সহজে বুঝতে পারবেন না একজন এতিম সন্তানের বুকের ভেতর কতটা আগুন জ্বলে। অন্যরা যখন দেখে তাদের বাবা সন্তানদের জন্য বিভিন্ন জিনিস কিনে আনছেন, ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখছেন, তখন ইমরানের হৃদয়টা ভেঙে যায়। তার চোখ ভিজে ওঠে সেই হারানোর স্মৃতিতে।
ইমরানের চোখের অশ্রু
বাবার মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকেই ইমরানের চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়ছে অনবরত। দিন কিংবা রাত, কোনো সময়ই তার মন শান্ত হচ্ছে না। বাবার প্রতিটি স্মৃতি, প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার মনে ভেসে উঠছে। শৈশবে বাবার কোলে বসা, বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়া, মসজিদে একসাথে নামাজ পড়া—সব স্মৃতি যেন তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অশ্রুর স্রোতে।
স্মৃতির ঝলক
ইমরানের মনে পড়ে, রমজানের রাতে তার বাবা মসজিদে এতেকাফ করতেন। কুরআন তেলাওয়াত করতেন অশ্রুভরা চোখে। তারাবির নামাজে দাঁড়িয়ে থাকতেন দৃঢ় ইবাদতের সাথে। আবার যখন বাড়িতে ফিরতেন, তখন পরিবারের সাথে বসে নানা নসিহত দিতেন। তিনি প্রায়ই ইমরানকে বলতেন: “বাবা, মানুষের উপকার করবে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক শক্ত করবে, তাহলেই জীবন হবে সফল।” আজ সেই কণ্ঠ আর শোনা যাবে না।
অপূর্ণতা ও শূন্যতা
ইমরান মনে করে, তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার বাবা। জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি বাবাকে পাশে পেতেন। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই সেই আশ্রয় হারিয়ে গেছে। যখনই মনের গভীর থেকে কোনো সমস্যা নিয়ে বাবাকে বলার কথা মনে পড়ে, তখন বুকটা হাহাকার করে ওঠে। বাবাহীন এই পৃথিবী যেন ইমরানের কাছে অচেনা, অন্ধকার আর নিঃসঙ্গ।
অশ্রু ও দোয়ার মিলন
প্রতিটি নামাজের পর ইমরানের চোখ ভিজে ওঠে বাবার কথা মনে করে। সে হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করে: “হে আল্লাহ! আমার বাবাকে জান্নাত দাও। তাঁর কবরকে নূরের বাগান বানিয়ে দাও।” এই দোয়ার সাথে সাথে তার অশ্রু গড়িয়ে পড়ে জায়নামাজে। সে জানে, বাবা এখন দুনিয়ায় ফিরে আসবে না, তবে দোয়া আর নেক আমল বাবার কাছে পৌঁছে যাবে।
জীবনের শিক্ষা
বাবার মৃত্যু ইমরানকে শিখিয়েছে জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী। আজ আছি, কাল নাও থাকতে পারি। তাই সে এখন আরও বেশি করে আল্লাহর ইবাদতে মন দিচ্ছে। কুরআন পড়ছে, দোয়া করছে, এবং নেক আমল করার চেষ্টা করছে। কারণ সে জানে, একদিন তাকেও এই দুনিয়া ছেড়ে যেতে হবে। তখন শুধু ইলম, নেক আমল এবং সৎকর্মই সাথে যাবে।
চোখের অশ্রু,,,
ইমরানের বাবার মৃত্যু কেবল ইমরানের জন্য নয়, বরং আমাদের সবার জন্য এক গভীর শিক্ষা। প্রিয়জন হারানোর কষ্ট অশ্রুতে ভাসায়, কিন্তু সেই অশ্রুই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। ইমরান আজ বাবাহীন, কিন্তু তার প্রতিটি অশ্রু, প্রতিটি দোয়া বাবার জান্নাতি জীবনের জন্য আলোকিত পথ তৈরি করছে। আমরা সবাই দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা ইমরানের বাবাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন, আর ইমরান ও তার পরিবারকে এই কঠিন সময় ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দিন।
Comments
Post a Comment