একজন ইমামের ধৈর্য ও আমাদের দায়িত্ব

 

একজন ইমামের ধৈর্য ও আমাদের দায়িত্ব

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 
 

সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা আল্লাহর ঘরে আজান দেন, কুরআন শেখান, মানুষকে দ্বীনের পথে ডেকে নেন। তাদের জীবন পরিপূর্ণ ত্যাগ ও মেহনতের মাঝে কাটে। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব জনাব জাহিদ হাসান। বিচক্ষণ একজন মানুষ। তিনি অত্যন্ত সুন্দর চরিত্রের অধিকারী, একজন যোগ্য আলেম, একজন স্নেহশীল বাবা এবং একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন সমাজের কল্যাণের জন্য নিবেদিত।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, একের পর এক পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি। কিছুদিন আগে তাঁর মোটরসাইকেল চুরি হয়ে গিয়েছিল, আবার সম্প্রতি তাঁর প্রিয় সাইকেলটিও মসজিদ থেকে হারিয়ে গেছে। আরও বেদনাদায়ক হলো—এই সময়ে তাঁর বাবা এক দুর্ঘটনায় পড়েছেন। একদিকে পারিবারিক চিন্তা, অন্যদিকে মসজিদের দায়িত্ব, আবার মাদরাসা পরিচালনার ভার এবং বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর কাজ—সব মিলিয়ে তিনি যেন দুঃখ-কষ্টের এক ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন।

আমি যখন তাঁর কাছ থেকে ফোন পেলাম এবং এ ঘটনা শুনলাম, তখন সত্যিই গভীরভাবে মর্মাহত হলাম। আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো তাঁর অগণিত দায়িত্বের চিত্র। এক মেয়ের জনক হিসেবে তাঁর অন্তরে কত শঙ্কা, কত দুশ্চিন্তা। মসজিদের ইমাম হিসেবে তিনি আজান দিলেন, আর সেই মুহূর্তেই কেউ তাঁর সাইকেল চুরি করে নিয়ে গেলো—এ দৃশ্য কল্পনা করতেই হৃদয় কেঁপে ওঠে।

সমাজের ব্যাধি: চুরি

যারা এ ধরনের চুরি করে তারা সমাজের জন্য অভিশাপ। তারা শুধু একটি জিনিস চুরি করে না, তারা মানুষের অন্তরের শান্তি, মানুষের ভরসা, মানুষের নিরাপত্তা চুরি করে। আগে মসজিদের ব্যাটারি চুরি হয়েছে, পরে মোটরসাইকেল, আর এখন সাইকেল। এটা স্পষ্ট যে পরিচিত কেউ এমন জঘন্য কাজের সাথে জড়িত। আল্লাহর ঘর থেকে জিনিস চুরি করা—এটা শুধু আইন ভঙ্গ নয়, এটা এক ভয়াবহ পাপ, এক অশ্লীল কাজ।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহ তাআলা অন্যায়ের শাস্তি অবশ্যই দেবেন। দুনিয়ায় বা আখিরাতে, কোনো চোরই ন্যায়বিচার থেকে বাঁচতে পারবে না।

ইমামের প্রতি বার্তা

প্রিয় ইমাম সাহেব জাহিদ, আমি আপনাকে বলি—কখনো বিচলিত হবেন না। আল্লাহর সাহায্য সবসময় আপনার সাথে আছে। এই দুনিয়ার জিনিস হারিয়ে যায়, কিন্তু ঈমান ও ধৈর্য যদি অটুট থাকে তবে তার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু নেই। একটি সাইকেল চলে গেছে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ তার বদলে আল্লাহ আপনাকে আরও উত্তম কিছু দান করবেন।

আল্লাহর রহমতে আপনার বাবাও শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন। আপনার মাদরাসা ও মসজিদ আরও আলোকিত হবে। পরীক্ষার এই সময়ে ধৈর্যই হলো আপনার মূল শক্তি। মনে রাখবেন, নবীগণও দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন, কিন্তু তাঁরা ধৈর্যের সাথে আল্লাহর পথে অবিচল থেকেছেন।

আমাদের দায়িত্ব

একজন ইমামের এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কেবল তাঁর একার কষ্ট নয়, বরং আমাদের সবার কষ্ট। সমাজের প্রতিটি মানুষের কর্তব্য—এমন ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা, তাঁর পাশে দাঁড়ানো। যারা দ্বীনের সেবা করেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো মানে দ্বীনের পাশে দাঁড়ানো।

আমাদের উচিত তাঁর প্রতি সমর্থন জানানো, আর্থিকভাবে, মানসিকভাবে এবং দোয়া দিয়ে সহায়তা করা। এভাবে সমাজে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত গড়ে তোলা যায়।

এই দুঃসময়ে জাহিদ সাহেবের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও সমর্থন প্রয়োজন। তাঁর সাইকেল বা মোটরসাইকেল হারিয়ে যেতে পারে, তাঁর জীবনে কষ্ট নেমে আসতে পারে, কিন্তু তিনি যেন কোনোভাবেই ভেঙে না পড়েন। তাঁর হৃদয়ে শক্তি থাকুক, তাঁর জবান থেকে যেন শুধু আজান, দোয়া এবং কুরআনের তেলাওয়াত ধ্বনিত হয়।

আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে ধৈর্যের সৌন্দর্যে অলঙ্কৃত করুন, তাঁর বাবাকে সুস্থতা দান করুন, তাঁর জীবন ও কর্মে বরকত দান করুন, আর তাঁকে ও আমাদের সকলকে দুনিয়ার অশান্তি থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি