জ্ঞান অর্জনে বইয়ের গুরুত্ব
জ্ঞান অর্জনে বইয়ের গুরুত্ব
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ
মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম উপকরণ হলো জ্ঞান। আর জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বই। বই হচ্ছে জ্ঞানের ভাণ্ডার, ইতিহাসের স্মারক এবং ভবিষ্যতের দিশারী। একজন শিক্ষার্থী কিংবা গবেষক যদি নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চান, তবে তাঁকে অবশ্যই বইয়ের শরণাপন্ন হতে হবে। পৃথিবীর প্রতিটি মহান আবিষ্কার, প্রতিটি মূল্যবান চিন্তা ও সভ্যতার অগ্রগতির পেছনে রয়েছে বইয়ের অবদান।
জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন: পড়, তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।
(সূরা আল-আলাক, ১) — এ আয়াতেই প্রমাণিত যে মানুষের প্রথম শিক্ষা শুরু হয়েছে "পড়া" থেকে।
সুতরাং, কোনো বিদ্যা কিংবা কোনো শাস্ত্রে অগ্রসর হতে চাইলে বই পড়া অপরিহার্য।
বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন, ফিকহ, ইতিহাস— প্রতিটি ক্ষেত্রেই বই হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষক।
পাঠ্য বিষয়ে গভীরতা অর্জনের জন্য বই
একজন শিক্ষার্থী যদি বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন, তবে তার জন্য কেবল ক্লাসের নোট যথেষ্ট নয়। বরং তাঁকে বিজ্ঞানের ইতিহাস, বিজ্ঞানের অগ্রগতি, এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করতে হবে। আবার যারা সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য প্রাচীন সাহিত্য, আধুনিক সাহিত্য, সমালোচনামূলক রচনা এবং বিশ্বসাহিত্য অধ্যয়ন অপরিহার্য। এভাবে, যে কোনো বিষয়ে শক্ত ভিত গড়ে তুলতে হলে বইয়ের ভাণ্ডার থেকে আহরণ করতে হবে।
কোন বিষয়ে কোন বই
- বিজ্ঞান: নিউটনের Principia Mathematica, আইনস্টাইনের গবেষণা প্রবন্ধ, স্টিফেন হকিংয়ের A Brief History of Time।
- সাহিত্য: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি, কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা, বিশ্বসাহিত্যের জন্য শেক্সপিয়ারের নাটক।
- ইসলামিক জ্ঞান: ইমাম গাজ্জালীর ইহইয়া উলূমুদ্দীন, ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমাহ, হাদীসের জন্য সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।
- ইতিহাস: ইবনে কাসীরের আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বিশ্ব ইতিহাসের জন্য উইল ডুরান্টের The Story of Civilization।
বই থেকে অর্জিত জ্ঞান
বই কেবল তথ্য দেয় না, বরং মানুষের চিন্তাশক্তিকে পরিপূর্ণ করে। বইয়ের মাধ্যমে একজন মানুষ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে, বর্তমানকে বুঝতে পারে এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে পারে। যারা বইয়ের সান্নিধ্যে থাকে, তারা মননশীল হয়, জ্ঞানী হয় এবং সমাজে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়।
শেষ কথা,,
সংক্ষেপে বলা যায়, একজন মানুষ যদি জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে চায় তবে তাঁকে অবশ্যই বইয়ের দিকে ফিরে আসতে হবে। যে বিষয় নিয়েই পড়াশোনা করা হোক না কেন, বইয়ের তালিকা জানা উচিত, এবং সেসব বই পড়ে নিজেকে পরিপূর্ণ করতে হবে। বইই মানুষকে মহৎ করে, চিন্তাশীল করে এবং প্রকৃত অর্থে মানুষ বানায়।
— মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
Comments
Post a Comment