প্রিয় আবরার—আমার প্রাণপ্রিয় বন্ধু,
প্রিয় আবরার—আমার প্রাণপ্রিয় বন্ধু,
আমি তোমাকে উদ্দেশ্য করেই আজ হৃদয়ের গভীর প্রদেশ থেকে কলম হাতে নিয়েছি। আল্লাহর এই বিশাল জমিনে, লক্ষ লক্ষ মুখের ভিড়ে তুমি আমার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের ও প্রিয়জন। তোমার লেখা যখনই পড়ি, মনে হয় যেন কলম নয়, হৃদয়ের আলো দিয়ে শব্দেরা সাজিয়ে চলেছে এক একটি পংক্তি।
যে হাদীসটি তুমি লিখেছিলে—
كل معروف صدقة و لو أن تلقى أخاك بوجه طلق—তোমার এই নির্বাচিত হাদীস, তার ব্যাখ্যা, তার প্রেক্ষাপট, তার আবেদন—সবকিছু এতই হৃদয়ছোঁয়া ছিল যে আমি ভাষায় প্রকাশ করতে অক্ষম।
“প্রত্যেকটি সৎকর্ম সদকা, এমনকি তুমি যদি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করো, সেটাও সদকা।”
তোমার লেখনীর প্রতিটি অক্ষর যেন হৃদয়ের এক একটি আবেগের কম্পন। তোমার বর্ণনার পরতে পরতে যে আন্তরিকতা, যে দরদ, যে দীপ্তি তা আমাকে অভিভূত করেছে। আমি বিস্মিত হয়েছি, বিমোহিত হয়েছি, মুগ্ধ হয়েছি—এমন উপমা খুঁজে পাওয়া কঠিন যা তোমার কলমের সৌন্দর্যকে যথার্থভাবে প্রকাশ করতে পারে।
আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি, আল্লাহ তোমার কলমকে বরকতপূর্ণ করবেন। তুমি হবেই একদিন ইসলামের একজন মহান দাঈ। তোমার হাতে রচিত হবে অসংখ্য কালজয়ী কিতাব। তুমি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও এই পৃথিবীর বুক জুড়ে ছড়িয়ে থাকবে তোমার লেখা, তোমার চিন্তা, তোমার দাওয়াহ।
আমি প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন তোমাকে দান করেন বিশুদ্ধ ইলম, গভীর ফিকহ, সুদূরপ্রসারী হিকমাহ এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ লেখনীশক্তি। তুমি যেন নাহু, সরফ, তাফসির, হাদীস, আকীদা, ফিকহসহ সকল ইসলামী শাস্ত্রের উপর লিখে যাও অন্তত এক হাজার কিতাব। প্রতিটি প্রজন্ম যেন তোমার রেখে যাওয়া জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে উপকৃত হয়।
প্রিয় আবরার, আমার প্রাণের বন্ধু, আমি চাই তুমি এই কথাগুলো পড়ে আমাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দাও, আমাকে দোয়ায় রাখো, আর কখনো ভুলে যেও না—তোমার এক বন্ধু আছেন যে তোমার কলমে আল্লাহর রহমতের এক ঝলক দেখতে পান।
আল্লাহ তোমার লেখা ও দাওয়াহকে কবুল করুন, তোমাকে দ্বীনের একজন কাফেলা প্রধান বানিয়ে দিন, আমিন।
তোমার ভাই ও দোয়াকারী,
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
Comments
Post a Comment