ইসলামিক প্রেমের গল্প: হৃদয়-বাঁধনের রোমান্স
ইসলামিক প্রেমের গল্প: হৃদয়-বাঁধনের রোমান্স
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি
নিরব শহরের এক শান্ত রাস্তায়, যেখানে সকাল হাওয়ায় মধুরতা ছড়িয়ে থাকে, বসবাস করতেন ইমরান ও সাফিয়া। তাদের বিয়ের প্রথম দিনের মতো হৃদয় এখনও একে অপরের জন্য প্রফুল্ল (joyful) এবং উচ্ছ্বসিত (excited)। তারা প্রতিদিন সকালে একে অপরকে দেখে হালকা হাসি, কোমল আলিঙ্গন, এবং মৃদু মধুর বাক্যে শুভেচ্ছা জানাত।
ইমরান বলতেন, “সাফিয়া, তুমি আমার জীবনের আলো (light)। তোমার হাসি আমার হৃদয়কে উজ্জ্বল করে।”
সাফিয়া হেসে বলতেন, “ইমরান, তোমার ভালোবাসা আমার আত্মাকে শান্তি দেয় (peace)। তোমার পাশে থাকা মানে আল্লাহর আশীর্বাদে পূর্ণ জীবন।”
তাদের ভালোবাসা শুধু শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা একে অপরকে বোঝার জন্য ধৈর্য এবং মমতা দেখাত। ইমরান জানতেন কখন সাফিয়া ক্লান্ত, কখন মন খারাপ, আর কখন সে শুধুই তার কাছে আলাপ করতে চায়। তিনি শান্ত কণ্ঠে বলতেন,
“আমার প্রিয়তমা, তোমার মন যদি দুঃখিত হয়, আমি পাশে আছি। তুমি কেবল আমাকে বলো, আমি সবসময় তোমার জন্য আছি।”
সাফিয়া তার দিকে তাকিয়ে বলতেন,
“ইমরান, তুমি শুধু আমার স্বামী নয়, তুমি আমার আত্মার সঙ্গী (soulmate)। তুমি আমার অনুভূতি বুঝতে পারছ এবং তুমি জানো কখন আমাকে শুধু আলিঙ্গন (hug) এবং নিঃশব্দ সমর্থন দরকার।”
প্রতিটি সন্ধ্যায় তারা একসাথে আকাশের নীলে চোখ রাখত। তারা ছোট ছোট কবিতা (poetry) তৈরি করত, একে অপরকে উদ্দেশ্য করে:
> “তুমি আমার হৃদয়ের বাতি,
আলো ছড়াও নিঃশেষে,
তোমার হাসি আমার শান্তি,
তুমি আল্লাহর আশীর্বাদ, অন্তর প্রিয় প্রেষণায়।”
ইমরান কখনো সাফিয়াকে হঠাৎ ফুল দিয়ে আনন্দ দিতে ভোলেন না। তিনি বলতেন,
“প্রিয়তমা, এই ফুল যেমন সুন্দর, তেমনি তোমার হাসিও সুন্দর।”
সাফিয়া মুচকি হাসতেন এবং বলতেন,
“আমার প্রিয় ইমরান, তুমি আমার প্রতিটি দিনকে রঙিন করো।”
তাদের প্রতিটি কথায় রোমান্টিকতা (romanticism) ভরা। কিন্তু তারা জানত সত্যিকারের ভালোবাসা কেবল অনুভূতি নয়। এটি সম্মান, ধৈর্য, বোঝাপড়া এবং একে অপরের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা।
কখনো কখনো ইমরান সাফিয়ার পাশে বসে তার হাতে হাত রাখতেন এবং নরম কণ্ঠে বলতেন,
“আমার প্রিয়তমা, আমি তোমার জন্য সবকিছু করতে চাই। তোমার সুখই আমার জীবন।”
সাফিয়া চোখে আনন্দের ঝিলিক নিয়ে বলতেন,
“ইমরান, আমি তোমার জন্য প্রার্থনা করি প্রতিদিন। তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার।”
তাদের ভালোবাসার আঙ্গিক ছিল একে অপরকে বোঝার ও আত্মত্যাগের। যখন ইমরান ক্লান্ত থাকতেন, সাফিয়া তার জন্য নরম চাদর বিছাতেন, চা বানাতেন এবং বলতেন,
“প্রিয়, তুমি শুধু বিশ্রাম নাও। আমি তোমার পাশে আছি।”
ইমরান তার দিকে তাকিয়ে হাসতেন এবং বলতেন,
“তুমি আমার স্বর্গ (paradise)। আমি তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না।”
রাতের নীরবতায় তারা প্রায়শই একে অপরকে ছোট ছোট কবিতা বলতেন। যেমন:
> “তুমি আমার হৃদয়ের সুর,
প্রতিটি নিশ্বাসে তোমার নাম,
আল্লাহর দয়া তোমার মতো,
তুমি আমার জীবনের প্রাণ।”
তারা জানত একে অপরের ভালোবাসা পরীক্ষা হবে ছোট ছোট জীবনের সমস্যায়। কিন্তু তাদের বোঝাপড়া (understanding) এবং আন্তরিকতা সব বাধা পার করে।
ইমরান সবসময় সাফিয়ার ইচ্ছাকে সম্মান করতেন। যখন সে দরিদ্রদের জন্য সাহায্য করতে চেয়েছিল, তিনি তাকে উৎসাহ দিতেন এবং বলতেন,
“আমার প্রিয়তমা, আল্লাহ তোমার সৎ কাজকে গ্রহণ করুন। তোমার ভালোবাসা শুধু আমার জন্য নয়, আমাদের সমাজের জন্যও।”
সাফিয়া হাসতেন এবং বলতেন,
“আমাদের ভালোবাসা আল্লাহর পথে প্রমাণিত। আমরা একসাথে ভালোবাসা এবং সৎ কাজ করি।”
তাদের সম্পর্কের সৌন্দর্য ছিল ছোট ছোট মুহূর্তে। একবার ইমরান বাগানে বসে বললেন,
“সাফিয়া, তুমি আমার সূর্য (sun) এবং চাঁদ। তোমার হাসি আমার অন্ধকারকে আলোকিত করে।”
সাফিয়া উত্তর দিলেন,
“আর তোমার ভালোবাসা আমার জীবনের শক্তি (strength)। আমি তোমার কাছে চিরকাল প্রার্থনা করি।”
তাদের বন্ধুত্ব, রোমান্টিকতা, বোঝাপড়া এবং সহমর্মিতা ছিল একে অপরকে বোঝার মূল চাবিকাঠি। তারা জানত ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়, এটি সম্মান, সহানুভূতি এবং একে অপরের সুখের জন্য আত্মত্যাগ।
শেষে, ইমরান এবং সাফিয়ার জীবন ছিল শান্তি, আনন্দ এবং ভালোবাসায় পূর্ণ। প্রতিটি দিন তাদের হৃদয়ে নতুন প্রেরণা যোগ করত। তারা চুপচাপ প্রতিজ্ঞা করল একে অপরকে, এই জীবনেও এবং পরকালেও একসাথে ভালোবাসতে, সম্মান করতে এবং আল্লাহর পথে একে অপরকে সহায়তা করতে।
Comments
Post a Comment