পরীক্ষা, ফলাফল ও মেহনতের দিশা

 

পরীক্ষা, ফলাফল ও মেহনতের দিশা

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 
 

আমাদের জীবনের পথে চলতে গেলে পরীক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত আমরা নানারকম পরীক্ষা দিই—শিক্ষাজীবনের পরীক্ষা, কর্মজীবনের পরীক্ষা, এমনকি দুনিয়ার জীবনে ইমান ও আমলেরও পরীক্ষা। সম্প্রতি আমাদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ আগে বেশিরভাগ মাদ্রাসায় পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে এবং অনেক স্থানে ইতিমধ্যেই ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে।

পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার সাথে সাথে আমরা প্রত্যেকে নিজের যোগ্যতা ও মেহনতের প্রতিফলন দেখতে পাই। কেউ হয়তো অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে যায়, আবার কেউ কেউ প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো করতে পারে না। এটাই দুনিয়ার নিয়ম। সবসময় আমরা যেমন চাই, তেমনটি নাও হতে পারে। কারণ এখানে একটি বড় বাস্তবতা হলো—তাকদীরের ফায়সালা

“তুমি যা চাও, সব সময় তা-ই হবে না। যা আল্লাহ চান, তাই চূড়ান্ত।”

খারাপ ফলাফলে মন খারাপ করার দরকার নেই

অনেক সময় ছাত্ররা সামান্য খারাপ ফলাফলের কারণে দুঃখে ভেঙে পড়ে, কেঁদে ফেলে, হতাশ হয়, এমনকি মেহনত করাও ছেড়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—পরীক্ষা মানেই পরীক্ষা। এখানে সবার জন্য আনন্দ থাকবে না। যদি কারও ফলাফল আশানুরূপ না হয়, তাহলে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ এটি ভবিষ্যতের জন্য আমাদেরকে আরও বেশি মেহনতী, ধৈর্যশীল ও পরিশ্রমী করে তোলে।

আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেছেন— “নিশ্চয়ই আমি মানুষকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, সম্পদহানি, প্রাণহানি ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।” (সূরা বাকারা: ১৫৫)

কাজেই কোনো পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া বা প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়া, আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি শিক্ষা। এটি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয়—ভবিষ্যতে আরও বেশি চেষ্টা করতে হবে।

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার সময়

যে ছাত্র সামান্য ব্যর্থতায় কান্নাকাটি করে, বই বন্ধ করে রাখে, সময় নষ্ট করে বসে থাকে—সে নিজের জন্য অনেক বড় ক্ষতির দরজা খুলে দেয়। কারণ পরীক্ষা তো শেষ, এখন সামনে রয়েছে আরও বড় পরীক্ষা।

খারাপ ফলাফলের সময় আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা উচিত। যেমন:

  • কান্নাকাটি না করে নামাজ ও দোয়ায় মনোযোগী হওয়া।
  • প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত করা।
  • নতুন উদ্যমে কিতাব পড়া শুরু করা।
  • অতীতের ভুল বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে তা না করার পরিকল্পনা করা।

যখনই তুমি আল্লাহর দরবারে ফিরে আসবে, তখন মন খারাপ একেবারেই থাকবে না। কারণ তুমি জানবে, তিনি তোমার সবচেয়ে বড় অভিভাবক এবং তোমার প্রতিটি মেহনত বৃথা যাবে না।

হতাশা নয়, মেহনতই মূল চাবিকাঠি

মনে রাখতে হবে, আজকের এই ব্যর্থতা আসলে আগামীকালের বড় সাফল্যের বীজ। তুমি যদি আজ মন খারাপ করে বসে যাও, কিতাব না খুলো, ক্লাসে মনোযোগ না দাও—তাহলে আগামীতে কোনো উন্নতি হবে না। বরং সামান্য খারাপ ফলাফলকে নিজের উন্নতির সিঁড়ি বানাও।

“ব্যর্থতা মানে শেষ নয়, ব্যর্থতা হলো আরও ভালোভাবে শুরু করার নতুন সুযোগ।”

তাই যারা এবার ভালো করতে পারোনি, তারা নতুন উদ্যমে আবার চেষ্টা করো। যারা ভালো করেছো, তারাও এখানেই থেমে যেয়ো না। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের দিকে লক্ষ্য স্থির করো।

শেষ কথা

আমাদের জীবন হলো এক নিরন্তর পরীক্ষা। শুধু মাদ্রাসার কাগজের খাতা নয়, বরং দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্তে আমরা আল্লাহর পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছি। তাই পরীক্ষায় সামান্য খারাপ হলে হতাশ হওয়া ঠিক নয়। বরং এটাকে উপলক্ষ বানাও আল্লাহর দিকে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার, আরও বেশি মেহনত করার এবং নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি