কৃতজ্ঞতার সাহিত্যমালা: বিজয়ের প্রেরণায় নতুন অঙ্গীকার

 

কৃতজ্ঞতার সাহিত্যমালা: বিজয়ের প্রেরণায় নতুন অঙ্গীকার

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 
 

আলহামদুলিল্লাহ। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানী ও দয়ায় আমি আজ এমন এক অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে আমার হৃদয়ের প্রতিটি কণিকা কৃতজ্ঞতার সুরে সুর মিলিয়ে উঠছে। আজকের প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করা নিছক একটি সাফল্য নয়, বরং এটি আমার জীবনের জন্য এক নতুন দিগন্ত, এক নতুন দায়িত্ব, এবং সর্বোপরি এক অনন্য আল্লাহর অনুগ্রহ। আমার অন্তরের গভীরতম কোণ থেকে আমি মহান রবের কাছে মাথা নত করছি, তাঁর অসীম রহমতকে স্মরণ করছি, যিনি আমাকে সাহস, ধৈর্য ও মনোবল দিয়ে সহায়তা করেছেন।

আমার সাফল্যের এ অনন্য যাত্রাপথে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই আমাদের প্রিয় মনিরুজ্জামান স্যার-এর কথা। তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন, বরং তিনি একজন পথপ্রদর্শক, একজন আলোকবর্তিকা, যিনি তার শিক্ষার্থীদের অন্তরে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেন। তার প্রতিটি প্রশ্ন, প্রতিটি পরামর্শ আমার চিন্তা-চেতনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। স্যারের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরে আমি অনুভব করেছি, যেন আমি শুধু একটি পরীক্ষার মঞ্চে নই, বরং আমি এক প্রশস্ত জ্ঞানময় মহাসাগরে ডুব দিচ্ছি। স্যারের সন্তুষ্ট দৃষ্টি, তার খুশির হাসি, আমার হৃদয়ের গভীরে চিরস্থায়ী প্রেরণা হয়ে থাকবে।

পাশাপাশি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি বিচারকমণ্ডলীর সম্মানিত সদস্যদের। সূচনা ম্যাডাম, যিনি ন্যায়নিষ্ঠ দৃষ্টিতে প্রতিটি উত্তরকে মূল্যায়ন করেছেন, এবং বড় স্যার, যিনি জ্ঞানের গভীর পরিমাপে আমাকে প্রথম স্থান অধিকার করার যোগ্য হিসেবে মনোনীত করেছেন। তাদের আন্তরিকতা, ধৈর্য এবং প্রজ্ঞা আমাকে শুধু সম্মানিতই করেনি, বরং আমাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর অনুপ্রেরণাও জুগিয়েছে।

আমি অনুভব করেছি, আল্লাহ তাআলার দেওয়া প্রতিটি সুযোগ একেকটি আমানত। আজকের এই সাফল্যও নিছক আমার পরিশ্রমের ফল নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ উপহার। আমি যদি ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে উত্তরের সুযোগ পেয়ে থাকি, তবে সেটি আমার মেহনতের সীমার বাইরে এক অনন্য তাওফিক। সত্যিই, আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন, তার জন্য সকল কঠিনতাই সহজ হয়ে যায়।

আমার হৃদয় ভরে গেছে আনন্দে যখন দেখলাম স্যার আমার উত্তরে সন্তুষ্ট হয়ে খুশি হয়েছেন। এটি আমার কাছে হাজারো প্রশংসার থেকেও মূল্যবান। কারণ শিক্ষকের সন্তুষ্টি হলো ছাত্রের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বিচারকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তে যখন আমাকে প্রথম স্থান দেওয়া হলো, তখন আমি অনুভব করেছি, আল্লাহর রহমতের ছায়াতলেই দাঁড়িয়ে আছি। এই মুহূর্তে আমি যতই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি না কেন, তা কখনো যথেষ্ট হবে না।

তবে আমি এটিকে শুধু একটি সাফল্যের গন্তব্য মনে করি না। এটি আমার জন্য একটি নতুন যাত্রার সূচনা। আমি আশাবাদী, সামনে আমি আরও ভালো করব, আরও দক্ষতা অর্জন করব এবং আরও বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার কণ্ঠে আলো ছড়াবো। জ্ঞানার্জনের এই নিরন্তর পথে আমি কখনো থেমে থাকতে চাই না। আমি চাই, প্রতিটি মুহূর্তে আমি নতুন কিছু শিখি, নতুন কিছু বুঝি, এবং সেই জ্ঞানের আলো দিয়ে অন্যকে আলোকিত করি।

এজন্য আমি নিজেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করছি—আমি আরও বেশি পরিশ্রম করব, আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করব এবং আমার প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাব। আমি বিশ্বাস করি, যত বেশি মেহনত করা যাবে, তত বেশি আল্লাহ তাআলা তাওফিক দিবেন। আমি আশা করি, একদিন আমি সর্বোচ্চ যোগ্যতার স্তরে পৌঁছাতে পারব, যেখানে শুধু একটি প্রতিযোগিতায় নয়, বরং পুরো সমাজে, জাতিতে এবং মানবতার জন্য আমি কিছু অবদান রাখতে পারব।

এ সাফল্যের পেছনে অনেক অনুপ্রেরণা, অনেক প্রেরণা, অনেক দোয়া রয়েছে। আমি আমার সহপাঠীদের প্রতিও কৃতজ্ঞ, যারা আমার সাথে চলার পথে আমাকে সাহস যুগিয়েছেন। আমি আমার পরিবারের প্রতিও কৃতজ্ঞ, যাদের দোয়া ও ভালোবাসা আমাকে সবসময় এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। এবং সর্বোপরি আমি আল্লাহ তাআলার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ, যিনি প্রতিটি সাফল্যের প্রকৃত মালিক।

আজকের এই অর্জন আমার হৃদয়ে এক নতুন আলো জ্বালিয়েছে। আমি দৃঢ় আশাবাদী, ভবিষ্যতে আরও অনেক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রদীপ প্রজ্বলিত করব। আমি চাই, আল্লাহ তাআলা আমার প্রতিটি পদক্ষেপকে কবুল করুন, আমার জ্ঞানকে কল্যাণকর করুন এবং আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার চূড়ান্ত সোপানে পৌঁছে দিন।

🌸 "হে আল্লাহ! আপনি আমাকে জ্ঞান দিন, সেই জ্ঞানকে উপকারী করুন, এবং আমার প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমাকে এমন একজন বানান, যে সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পথে চলে, এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে।" 🌸

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি