আলেম হতে চাইলে যা করতেই হবে

 আলেম হতে চাইলে যা করতেই হবে

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 

জীবনে যদি সফল হতে চাই, যদি সত্যিকারের একজন আলেমে হক ও রব্বানী হতে চাই—তাহলে আমাকে পড়ালেখাকে জীবনের কেন্দ্রে আনতে হবে। মেহনত ছাড়া, চিন্তা না করে, নফস ভেঙে না দিলে—ইলম আসবে না।

আমাকে মেহনত করতে হবে, পড়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। অনেক কিতাব পড়তে হবে, রাতের ঘুম কমাতে হবে, চোখের আরামের বদলে কলমের সঙ্গ নিতে হবে। আলেম হতে চাইলে শুধুই ইলম শিখলেই হবে না, বরং সেই ইলমকে আমানত মনে করে বুকে ধারণ করতে হবে।

“এই ইলম আমার কাছে আল্লাহর দেওয়া এক আমানত। আমানতের সাথে আমাকে ইলম শিখতে হবে। কোনো প্রকার খেয়ানত করা যাবে না।”

যতটুকু শিখেছি, সেই অনুযায়ী আমল করতে হবে। মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। যাকে যতটুকু বুঝাতে পারি, তার খেদমত করতে হবে। কাউকে যেন কষ্ট না হয়—এই বিষয়টা আমার অন্তরের খুব গভীর অনুভব হওয়া দরকার।

আমাকে মা-বাবার সাথে উত্তম আচরণ করতে হবে, এলাকার মুরুব্বীদের, শিক্ষকদের এবং আমার চেয়ে বড় সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। অহংকার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। কারণ, ইলম অহংকারের সাথে চলে না। ইলম চলে বিনয় আর নম্রতার সাথে।

আসবাবে ইলম—যেমন খাতা, কলম, টেবিল, কিতাব, দস্তারখান, এমনকি কিতাবের পৃষ্ঠা উল্টানো—সবকিছুকেই সম্মানের চোখে দেখতে হবে। এই সম্মান শুধু কিতাবের জন্য নয়, ইলমের প্রতি আমাদের ভক্তির প্রকাশ।

“ইলমে দ্বীন কোনো পাথরের জিনিস নয়—এটা রুহের আলো, এটা নাবুওয়তের উত্তরাধিকার, এটা আমার জান্নাতের বাহন।”

সত্যি বলতে, যদি এসব মানসিকতা নিয়ে আমি অগ্রসর হই, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমি হতে পারব একজন আলেমে হক্কানী ও রব্বানী। যার ইলম হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, মানুষের উপকারের জন্য এবং নিজের আত্মার উজ্জ্বলতার জন্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কবুল করুন, আমাদের ইলমকে আমল ও নসীহতের ইলম বানান। আমাদের অন্তরকে খালিস করুন এবং দ্বীনের সঠিক খেদমতের তাওফীক দিন।

✍️ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি