প্রথম সাময়িক পরীক্ষার খেয়ার
দেখতে দেখতে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার খেয়ার চলে এসেছে। আর কয়েকদিন পরেই মাদ্রাসাগুলোতে পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। সেই কুরবানীর পর থেকেই তালেবে ইলমরা প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে। দেখতে দেখতেই চলে এলো পরীক্ষা এই তো কয়েকদিন আগেই আমরা ভর্তি হয়েছিলাম মাদ্রাসাগুলোতে বিভিন্ন মাদ্রাসায় তালেবে ইলমরা ভর্তি হয়েছে। দেখতে দেখতেই কুরবানি চলে এসেছিল এখন কুরবানী শেষ হয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ঘন্টা বেজে উঠেছে। সুতরাং হে ছাত্র ভাইয়েরা, তোমরা যারা এখনো অলসতা এবং গাফিলতির মধ্যে রয়েছো তোমরা ঘুম থেকে উঠো। তোমার পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু কর। যারা এখনো বিভিন্ন বিষয়ে লিপ্ত আছো যারা গল্প গুজবে লিপ্ত আছো, যাদের মাথায় এখনো পরীক্ষার চিন্তা ঢোকেনি, যারা এখনো অলসতায় দিন কাটাচ্ছ তোমরা দ্রুত পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু কর কারণ পরীক্ষা এমন জিনিস عند الامتحان يكرم الرجل او يهان আল্লাহর কুরআনের একটি আয়াত রয়েছে يوم تبيض وجوه وتسود وجوه যেদিন পরীক্ষার ফলাফল বের হবে সেদিন হয়তো কারো চেহারা খুশিতে উৎফুল্ল থাকবে হয়তো বা কারো চেহারা মলিন হয়ে যাবে সুতরাং সেই আফসোসের দিন আসার আগেই আমি পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করি যাতে আমিও সফলতার সিঁড়িতে উঠতে পারি। আমি চেষ্টা করলেই পারব আল্লাহর তৌফিক এবং এবং আমার দোয়া ও চেষ্টা যদি অনবরত চলতে থাকে তাহলে অবশ্যই আমি সফল হব। তোমরা যে যেই জামাতেই হও না কেন প্রত্যেক জামাতের সকল ছাত্র ভাইয়েরা তোমরা খুব মেহনত কর। প্রত্যেকটা কিতাবকেই ভালোভাবে আয়ত্ত কর কোন কিতাব যেন বাদ না যায়। পরীক্ষা হবে এমন সকল কিতাব তোমার হাতের মুঠোয় থাকতে হবে যে কোন প্রশ্নের উত্তর তোমরা জানা থাকতে হবে পরীক্ষক যেন তোমাকে আটকাতে না পারে কোনভাবেই যেন আটকাতে না পারে যে কোন প্রশ্নই যেন তোমাকে উত্তর দিতে বাধ্য করে। তুমি যদি মিজান জামাতে পড়ে থাকো তাহলে অবশ্যই বাংলা থেকে আরবি এবং আরবী থেকে বাংলা খুব মেহনত কর যেই ব্যবহারগুলো এই পর্যন্ত পড়েছ সেই ব্যবহারগুলোকে খুব তামরিন করতে থাকো আরবি তারকীব গুলোর প্রতি খেয়াল দাও। যতগুলো ব্যবহার করেছ সবগুলো দিয়েই তারকিভ পারছো কিনা খেয়াল করো। আরবি হাতের লেখা সুন্দর হয়েছে কিনা বাংলা হাতে লেখা সুন্দর হয়েছে কিনা সে দিকে খুব দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ পরীক্ষক নাম্বার দেওয়ার একটা মাধ্যম হচ্ছে লেখা সুন্দর করা কারণ লেখা সুন্দর হলেই পরীক্ষক সহজেই নাম্বার দিয়ে দেয়। মনে রাখতে হবে পরীক্ষাকে কোনভাবেই কষ্ট দেওয়া যাবে না পরীক্ষক যদি শান্তিতে থাকতে পারেন তাহলেই তোমাকে নাম্বার দিতে থাকবে যদিও তুমি কিছু ভুল করো না কেন আর যদি তুমি সব শুদ্ধও লেখ কিন্তু তোমার লেখায় এত বেশি খারাপ যে তোমার লেখা পড়াই যায় না তাহলে পরীক্ষক তোমাকে নাম্বার দিতে চাইলেও তার কলম থেকে নাম্বার বের হবে না। এই লেখার প্রতি খুব গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রত্যেকটা প্রশ্নের পয়েন্ট আলাদা আলাদা করে লিখতে হবে এবং লেখার মাঝে মাঝে ফাঁকা রাখতে হবে কাটাকাটি করা যাবে না খাতার অসুন্দর করা যাবে না বরং সুন্দর করে লিখবে ফাঁকা ফাঁকা রাখবে। এবং গিজিমিজি করে লিখবে না। তোমার জামাতে যে কয়জন ছাত্র রয়েছে অবশ্যই তোমাকে এক থেকে পাঁচের মধ্যে থাকতেই হবে তুমি টার্গেট নাও যে আমি অবশ্যই সবার আগেই থাকবো আমার ফলাফল সবার থেকে ভালো হবে আমি গড় নাম্বারে সবার থেকে এগিয়ে থাকবো। তুমি যদি টার্গেট গ্রহণ এবং সেই অনুযায়ী মেহনত শুরু করো তাহলে অবশ্যই তুমি টার্গেটে পৌঁছাতে পারবে তুমি তোমার গন্তব্যের সহজেই পৌঁছাতে পারবে। তাই তোমাকে টার্গেট নির্ধারণ করতে হবে। তোমাকে নেজামুল আউকাত বানাতে হবে। কোন সময় কোন কিতাব পড়বে সেই তালিকা তোমাকে রাখতে হবে। যদি তুমি সামনে কোন নেজাম না রাখো তাহলে তোমার সময় অপচয় হবে প্রচুর কারণ তুমি খুঁজেই পাবে না যে কখন কোন কিতাব পড়বে তুমি বুঝতেও পারবে না যে সময় কখন কিভাবে চলে যাচ্ছে সুতরাং তোমাকে একটা নিয়ম সামনে রাখতে হবে। এবং প্রত্যেকটা কিতাবকে সময় অনুযায়ী ভাগ করে নিতে হবে সেটা তুমি ব্যক্তিগতভাবে বুঝবে যে কোন কিতাব কতটুকু সময় দিলে তোমার আয়ত্ত হবে এই কিতাব তোমার সবচেয়ে বেশি দুর্বল এবং কাঁচা সেই কিতাবটি অবশ্যই বেশি সময় নিয়ে পড়তে হবে। এবং যেই কিতাবটি অত বেশি কঠিন নয় সেই কিতাবটি একটু কম সময় দিলেও চলে। যে কিতাবের প্রশ্ন যেই ওস্তাদ করেছেন অবশ্যই সেই ওস্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তার থেকে পরামর্শ নিবে যে কিতাবটি তুমি কিভাবে পড়বে কিতাবটি হল করবে কিভাবে কোন জায়গাগুলো মুখস্ত করবে এবং কোন জায়গাগুলো ভালোভাবে বুঝবে এই সব কিছু নির্ধারণ করে আসবে পরীক্ষকের কাছ থেকে অর্থাৎ তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিবে এবং বলবে যে হুজুর আমাকে পরামর্শ দিন আমি কিভাবে কেতাবটি হল করব। প্রশ্নের ধাচ কেমন আসে সেটা অবশ্যই পূর্বের বছরের প্রশ্ন দেখে তোমাকে বুঝে নিতে হবে। নমুনা হিসেবে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো তোমাকে সামনে রাখতে হবে এতে তোমার অনেক সহজ হবে। আমরা কিতাব করি এবারত পড়ে যাই কিন্তু পরবর্তীতে মনে থাকে না। এটা কমন সমস্যা আমাদের।তাই আমাকে ধরাধরি করতে হবে। আমাকে সাথী বানাতে হবে একজন আমরা দুজন মিলে যেই কিতাব আয়ত্ত করে ফেলব অথবা যে অংশটুকু আয়ত্ত করে ফেলব অবশ্যই একে অপরকে প্রশ্ন করব বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করব এতে করে পড়াটা আয়ত্ত হবে এবং মনে থাকে তা খুব সহজ হবে। এজন্য ধরাধরি এমন বিষয় একে অপরকে প্রশ্ন করা এমন বিষয় যে সহজে কিতাব মাথায় ঢুকে যায় সহজেই আলোচনাটা মনে থাকে। এবং যখন তুমি পরীক্ষায় খাতায় লিখবে তখন সেই যে ছাত্রটা তোমাকে ধরে ছিল সেটা তোমার মনে পড়ে যাবে। এজন্য তোমরা প্রচুর একে অপরকে প্রশ্ন করবে প্রথমে নিজে কিতাব হল করবে এরপর একে অপরকে ধরাধরি করবে একে অপরকে প্রশ্ন করবে এতে দ্রুত কিতাব আয়ত্ত হয়ে যাবে এবং মনে থাকবে। খুব সাবধান এই সময়টাতে কোন ধরনের গুনাহে জড়াবে না। কোন ধরনের অশ্লীল কাজে লিপ্ত হবে না গল্প গুজব তো দূরের কথা সামান্যতম সময় নষ্ট হয় এমন কাজ করবে না। যদি তোমার পরীক্ষা ভালো হয় তাহলে আগামী ফাতরা তোমার অনেক সুন্দর এবং সহজ হবে আর যদি তোমার পরীক্ষা আল্লাহ না করুক এমন তেমন হয় তাহলে এর খেসারও তোমাকে অবশ্যই দিতে হবে একদিন না একদিন। তোমাকে ছাত্র ভাইদের সামনে লাঞ্ছিত হতে হবে তোমাকে ওস্তাদের সামনে অপমানিত হতে হবে তোমার মা-বাবার সামনে তোমাকে অপদস্ত হতে হবে। তোমার পিছনে কতজন মেহনত করেছেন তোমার ওস্তাদ তোমার প্রতি মেহনত করেছেন তোমার মা-বাবা তোমার প্রতি টাকা পয়সা দিয়ে শ্রম দিয়ে তোমাকে লেখাপড়া করাচ্ছেন এখন তুমি যদি সেই মানে উত্তীর্ণ না হও মেহনত না করো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল না করো তাহলে তোমার আব্বা আম্মার পরিশ্রমের অংশটা বৃথা যাবে এবং তারা অনেক কষ্ট পাবে। এবং এটার কোন প্রয়োজন নেই তুমি তোমার টাকা আরেকজনের পিছনে খরচ করে নষ্ট করবে আরেকজনকে খাওয়ানোর পিছনে খরচ করবে। বরং তোমার নিজের টাকা তুমি নিজেই খরচ করবে তুমি এখনো ছাত্র মানুষ তুমি এখন কামাই করছো না। তাই লোভে পড়ে অথবা কারো সাথে অতিরিক্ত সম্পর্ক করে তার পিছনে টাকা ব্যয় করা নিতান্তই বোকামি। এই জাতীয় অবস্থা থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকবে। অবশ্য তোমার যদি মুরুব্বী থাকে তাহলে তোমার জন্য অনেক সহজ এ জাতীয় কাজ থেকে বেঁচে থাকা। আমি এই বিষয়ে পূর্বে বিস্তারিত প্রবন্ধ লিখেছি তুমি আমার পূর্বের যে কোন পোস্ট খুঁজে পড়ে নিও। আজকের টপিকটা এই বিষয় নয় আজকের বিষয়টা পুরোপুরি পরীক্ষা কে কেন্দ্র করে। তাই সেদিকে আর কথা বাড়ালাম না মূল কথায় আমরা ফিরে আসি। যদি তুমি নাহবেমির জামাতেৎপড়, তাহলে সেই জামাত এত বেফাক আছে। সুতরাং বেফাকের জন্য যে কিতাবগুলো রয়েছে অর্থাৎ যে কিতাবগুলো তোমার পরীক্ষা হবে অবশেষে কিতাবগুলো এমনভাবে হল করবে যে বছরে শেষে যখন খেয়াল আসবে তখন তোমার জন্য কোন কঠিন থাকবে না। এই প্রথম সাময়িক পরীক্ষার মধ্যে যতটুকু পড়েছ দেখবে বেফাক পরীক্ষায় কমপক্ষে দুইটা প্রশ্ন চলে এসেছে। স্বাভাবিকভাবে এরকমই হয়ে থাকে। উড়ন্ত পরীক্ষার জন্য তো আমরা পড়াশোনা করি না বরং আমি আমার এলেমকে বাড়ানোর জন্যই পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকি এবং কিতাব হল করি। সুতরাং তুমি যদি কিতাব হল করো, তাহলে পরীক্ষা তুমি এমনিতেই পারবে। এইজন্য অবশ্যই তোমাকে কিতাব আয়ত্ত করতে হবে। কিতাবের প্রত্যেকটা লাইন তোমাকে বুঝতে হবে। সুতরাং এই জামাতে নির্ধারিত কিতাব গুলো তুমি এ টু জেড ওস্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আয়ত্ত করবে। যদি তুমি হেদায়াতুন্নাহ থেকে শুরু করে বড় জামাতে পড়ো তাহলে তোমার পড়া তো অনেক বেশি। তুমি যদি পুরো খেয়ার পড়াশোনা করো তাও তোমার কিতাবের পৃষ্ঠা শেষ হবে না। কারণ যেহেতু তোমরা উপরের জামাতের ছাত্র সেহেতু এখানের পড়াও যেমন কঠিন ঠিক পড়ার পরিমাণটাও বেশি। তাই অবশ্যই তোমাকে অনেক মেহনত করতে হবে এটা বুঝে বুঝে পড়তে হবে না বুঝে সামনে আগানো যাবে না। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা সেটা হল প্রত্যেকটা কিতাবের আরবি এবারত হল করতে হবে। অর্থাৎ তোমাকে শুদ্ধভাবে আরবি এবারত করতে পারতে হবে এবং কোথায় রফা হবে কোথায় নসব হবে কোথায় জম্মা হবে, কোনটি ফেয়েল, কোনটি ফায়েল,কোনটি মাফউল সেটা তোমাকে নির্ণয় করতে পারতে হবে। তরজমা সুন্দর করে হল করতে হবে। এবং প্রত্যেকটা কিতাবের আলোচ্য বিষয় যেটা সেটা তোমাকে মাথায় রাখতে হবে কিতাবের মধ্যে যে হাশিয়া রয়েছে সেই হাশিয়া অবশ্যই পড়তে হবে। আমার পুরোপুরি নিয়ত ছিল তোমাদের প্রত্যেকটা জামাতের প্রত্যেকটা কিতাবকে ধরে ধরে আমি বলে দেই এই কিতাব এভাবে পড়বে। কিন্তু আপনি আমাদের উদ্দেশ্য সেটা না আজকে শুধুমাত্র উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষা কে কেন্দ্র করে পড়াশোনা কেমন হওয়া উচিত এইটা বলা। তবে যদি কোন আগ্রহী পাঠক থেকে থাকে আর এই আগ্রহ রয়েছে যে প্রত্যেকটা কিতাব কিভাবে সে আয়ত্ত করবে সেটা সে জানতে চায় এবং বুঝতে চায় তাহলে অবশ্য তার জন্য নতুন করে খেয়াল এবং চিন্তা রয়েছে যে এ বিষয়ে কিছু লেখা শুরু করব তবে যদি পাঠক পেয়ে যায় তাহলে যদি কোন পাঠক না থাকে তাহলে নতুন করে এ বিষয়ে লেখার আপাতত ইচ্ছা নেই। তাহলে এতক্ষণ আলোচনা থেকে তুমি যেটা বুঝতে পারলে সেটা হল প্রত্যেকটা কিতাব তোমাকে আয়ত্ত করতে হবে তোমাকে লেখা সুন্দর করতে হবে পরীক্ষার খাতায় তোমাকে সুন্দর ভাবে আচরণ করতে হবে সাদাকালি ব্যবহার করা যাবে না কাটাকাটি করা যাবে না খাতা কে সুন্দর রাখতে হবে লেখাগুলোর মাঝে সমান্তরাল রক্ষা রাখতে হবে। খেয়ারের সময়টা খুব ভালোভাবে পড়তে হবে। তুমি যদি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করো যদি তোমার পরীক্ষা ভালো হয় তাহলে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার যে বিরতি রয়েছে সেই বিরতিতে তুমি বাড়িতে ভালোভাবে কাটাতে পারবে। অন্যথায় তোমার বিরতি ঠিকমতো কাঁটবে না মন খারাপ লাগবে। আর হ্যাঁ আরেকটা বিষয় আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত যদি তুমি পেয়ে যাও অর্থাৎ তোমার আগে থেকে কিতাব আয়ক্ত রয়েছে তুমি অল্প সময়ের মধ্যেই কিতাব আয়ত্ত করতে পারো মুখস্ত করতে পারো তোমার মনে থাকে। তাহলে অবশ্যই উচিত দুর্বল ছাত্রদেরকে খুজে তাদের দুর্বলতাকে দূর করা এবং কোন ছাত্র যদি তোমার কাছে এসে পড়া বুঝতে চাই তাহলে অবশ্যই তাকে আদবের সহিত পড়া বোঝানো তার সাথে খারাপ ব্যবহার না করা তাকে গালি না দেওয়া তাকে এমন কোন কথা না বলা যে সে কষ্ট পায়। মনে রেখো তুমি যদি তার জন্য মেহনত কর আল্লাহ উপর থেকে তোমার সফলতাকে খুলে দিবে সফলতার চাবি তোমার কাছে এনে দিবে। আল্লাহর এক বান্দার উপকার করলে অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে উপকার করবে। সুতরাং হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা, কোন দুর্বল ছাত্র তোমাদের কাছে আসলে অবশ্যই তোমরা তাকে পড়া বুঝিয়ে দিবে তাকে সান্ত্বনা দিবে তাকে কখনো মন খারাপ করতে দিবে না তাকে বিভিন্নভাবে মন সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করবে তাকে পড়া বুঝিয়ে দিবে তুমি যদি তাকে পড়া বুঝিয়ে দাও তাহলে ওই পড়াটা তোমার নিজেরই আয়ত্ত হয়ে যাবে এমন ভাবে যে তুমি ভুলবে না কখনো। সেজন্য দুর্বল ছাত্রদের পিছনে মেহনত কর আর আল্লাহর পক্ষ থেকে আমরা যারা দুর্বল রয়েছি এটাও এক প্রকার নেয়ামত তবে অবশ্যই আল্লাহর কাছে চাইতে হবে যাতে আমার দুর্বলতা কেটে যায়। এবং আমি যদি দুর্বল হই তাহলে আমি লজ্জা পাবো না বরং যারা পারে যাদের কিতাব আয়ত্তর হয়েছে আমি তাদের কাছে যাই তাদের কাছে গিয়ে নিজে দুর্বলতা প্রকাশ করি এবং কিতাব বুঝে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করি। তাদেরকে গিয়ে বলি যে ভাই আমাকে একটু বুঝিয়ে দাও ভাই অমুক কিতাবটা আমাকে বুঝিয়ে দাও ভাই অমুক অংশটা আমাকে বুঝিয়ে দাও আমি নিজেকে ছোট মনে করি যদি আমি নিজেকে বড় মনে করে অথবা নিজেই লজ্জা পাই এই ভেবে যদি আমি কারো কাছে গিয়ে বুঝে না আসি তাহলে এই ক্ষতিটা আমার থেকেই যাবে কারণ যে পারে সে তো আগে বেড়েই গেল কিন্তু যার দুর্বলতা রয়েছে সে যদি পিছিয়ে থাকে তাহলে সারা জীবন পিছিয়ে থাকবে সুতরাং তাকে সামনে থাকতে হলে অবশ্যই তাকে লজ্জা কাটাতে হবে তাকে ভয় কাটাতে হবে এবং তাকে অবশ্যই আরেকজনের কাছে গিয়ে পড়া বুঝে নিয়ে আসতে হবে। অবশ্য ওস্তাদের কাছেও যাওয়া যায় তবে সবসময় ওস্তাদেরকে পাওয়াটাও মুশকিল হবে এবং ওস্তাদের কষ্ট হতে পারে। তবে অবশ্যই ওস্তাদের পরামর্শ নিয়ে সবকিছু করবে এটা আমি আগেই বলে দিয়েছি যদি কোন ওস্তাদ পড়া বোঝানোর জন্য তৈরি থাকেন অবশ্যই তার কাছে গিয়ে পড়া বুঝে আসবে তাহলে এটা আরো ভালো হবে। আসলে অনেক কথাই লেখার ছিল সময় এবং সুযোগের কারণে সবগুলো লেখা তৈরি হয়ে আসেনি নিয়ত রয়েছে এই বিষয়ে আমি আরো বিভিন্ন প্রবন্ধ লেখালেখি করব। অবশ্যই আমাকে একজন আদর্শ পরীক্ষার্থী হতে হবে। পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় অবশ্যই দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া ও কান্নাকাটি করে বের হব। প্রবেশপত্র কলম স্কেল বোর্ড সহ যাবতীয় জরুরি জিনিসগুলো যাতে আমি সাথে রাখি সেদিকে দৃষ্টি রাখব পরীক্ষার রাতে বেশি সময় জাগব না। এরকম যেন না হয় যে রাত দুইটা তিনটা পর্যন্ত আমি পড়াশোনা করলাম আর সকাল দশটা পর্যন্ত ঘুমালাম। এতে কোন ফায়দা হবে না বরং আরো ক্ষতি রয়েছে। এজন্য অবশ্যই রাত এগারোটার মধ্যে শুয়ে পড়বে। এবং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেহনত করবে। প্রতিদিন দুই রাকাত সালাতুল হাজত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবে। অন্যদের জন্য দোয়া করবে যাদের মেধা দুর্বল তাদের জন্য দোয়া করবে তাহলে দেখবে আল্লাহ তোমার মেধাকে খুলে দিবেন তোমার হিফজ শক্তিকে বাড়িয়ে দিবেন। খাওয়া-দাওয়ার প্রতি যত্ন নিবে পরীক্ষার উপলক্ষে খাওয়া ছেড়ে দিবে না। শরীরে যত্ন নিয়ে পড়াশোনা করবে। যদি পড়াশোনা করতে করতে রাত জাগতে জাগতে খাওয়া না খেতে খেতে অসুস্থ হয়ে যাও এবং বাড়িতে চলে যাও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারো তাহলে লাভ হলো কি। সুতরাং সব কিছুকে ঠিক রেখেই তোমাকে মেহনত করতে হবে। আল্লাহ তৌফিক দান করুন। اللهم انا نسالك قوه الحفظ وقوه الفهم وقوه الافهام اللهم انا نسالك فهما صحيحا وفهما كاملا وفهما عميقا اللهم انا نسالك النجاح في الامتحان اللهم تقبل منا انك انت السميع العليم وتب علينا انك انت التواب الرحيم. এইচটিএমএলএ সাজিয়ে দাও
Comments
Post a Comment