আশুরার ইফতার মুহূর্তে আত্মপ্রশান্তির আহ্বান
আশুরার ইফতার মুহূর্তে আত্মপ্রশান্তির আহ্বান
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি
আজ ১০ই মুহাররম। সারাদিনের রোযার শেষে এখন সেই প্রতীক্ষিত ক্ষণ—ইফতারের মুহূর্ত। এ মুহূর্ত শুধু ক্ষুধা নিবারণের নয়, বরং আত্মার প্রশান্তি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক মহাসুযোগ। রোজাদার এই মুহূর্তে যা দোয়া করে, আল্লাহ তা কবুল করেন—এটা রাসূল ﷺ-এর অঙ্গীকার।
“তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না: ... (তাদের একজন) হলো রোজাদারের দোয়া যখন সে ইফতার করে।”— (তিরমিযী, হাদীস: ২৫২৫)
এই মহা বরকতময় মুহূর্তে আমরা যেন কেবল ইফতারি পরিবেশনের ব্যস্ততায় সময় হারিয়ে না ফেলি। বরং চুপচাপ, গভীর আবেগ ও বিনয়ে ডুবে যাই দোয়াতে, জিকিরে, আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায়। চলো আজকের ইফতারের আগে একটু থামি, চোখ বন্ধ করে কল্পনা করি—এই মুহূর্তে আমাদের সামনে আল্লাহর দরবার খোলা। তিনি আমাদের অপেক্ষায় আছেন। আমরা যেন ডুবে যাই দোয়ার এমন এক গভীরে, যেখানে শুধু কান্না, চাওয়া আর ভালোবাসা থাকে।
কী দোয়া করা যেতে পারে?
- “হে আল্লাহ! আজকের রোযাটি আমার জন্য কবুল করো।”
- “আমার অতীত গুনাহগুলো মাফ করে দাও, ভবিষ্যতের পথ সহজ করে দাও।”
- “আমাকে হুসাইন (রাঃ)-এর মতো সত্যের পথে অটল থাকার তাওফিক দাও।”
- “যারা এই মাসে শিরক, বিদআত ও গোমরাহিতে লিপ্ত—তাদের হিদায়েত দাও।”
- “আমার পরিবার, উস্তায, ও বন্ধুদের জন্য রহমত বর্ষণ করো।”
- “আল-আকসা, ফিলিস্তিন, কাশ্মীরের ভাইদের সাহায্য করো।”
কিছু করণীয় দোয়ার আগে:
- ১০ বার “لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير”
- ৭ বার “رب اغفر لي وتب علي إنك أنت التواب الرحيم”
- “اللهم إنك عفو كريم تحب العفو فاعف عني” বারবার পড়া
এই মাগরিবের পূর্বের সময়টি যেন নষ্ট না হয় কেবল হাতে ঘড়ি দেখে অথবা খেজুর গোনায়। এই সময় হোক আত্মার আত্মসমর্পণ, হোক পরিশুদ্ধ হৃদয়ের কান্না। যদি কারো চোখে অশ্রু আসে এই মুহূর্তে, সে যেন নিশ্চিত জানে—আল্লাহ তার কান্নাকে অপছন্দ করেন না। বরং বলেন, “আমার বান্দা আমার দিকে ফিরে এসেছে, আমি তার দিকে ফিরে যাবো।”
একটি মধুর উপদেশ
যদি পারো, ঘরের সবাইকে ডেকে একটা ছোট দোয়ার মজলিস করে নাও। বাবা-মা, ভাই-বোন—সবাই একসাথে হাত তুলে দোয়া করো। ইফতার যখন ২-৩ মিনিট বাকি, তখন সবাই মিলে একটি করে দোয়া করে ফেলো। সেটাই হবে আজকের সবচেয়ে বরকতময় মুহূর্ত।
লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
Comments
Post a Comment