পরীক্ষার চিন্তায় খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে না দিয়ে বরং খাওয়া-দাওয়ার প্রতি যত্নবান হই

 পরীক্ষার চিন্তায় খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে না দিয়ে বরং খাওয়া-দাওয়ার প্রতি যত্নবান হই

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 

প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা আমার,

তোমরা আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়। আমি তোমাদেরকে অসীম মহব্বত করি, ভালোবাসি এবং বিশ্বাস করি তোমরা আগামীর দীপ্ত ভবিষ্যৎ। তোমরা জাতির আলো, দীনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলা ত্বালিবে ইলম। এই জন্যই তোমাদেরকে নিয়ে আমি দিনরাত চিন্তা করি, ফিকির করি, কিভাবে তোমরা উন্নত, দায়িত্ববান, সচেতন এবং কার্যকর একজন মুসলিম হয়ে গড়ে উঠবে।

আজকে আমি তোমাদের সামনে এমন একটি বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি, যেটা খুব সাধারণ মনে হলেও বাস্তব জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো—পরীক্ষার সময় খাওয়া-দাওয়া নিয়ে উদাসীনতা ও গাফিলতি। অনেক ছাত্র ভাই পরীক্ষার ভয়ে, টেনশনে, অতিরিক্ত চিন্তায় খাবার ছেড়ে দেয়। কিংবা ঠিকমত ঘুমায় না, বিশ্রাম নেয় না। এটা মোটেই কাম্য নয়। বরং এটা শরীয়তের দৃষ্টিতেও ঠিক নয়, জ্ঞান ও বাস্তবতার দিক থেকেও ক্ষতিকর।

শরীর ভালো না থাকলে মনোযোগ থাকবে না

যখন একজন ছাত্র দীর্ঘ সময় না খেয়ে পড়ালেখা করে, তখন তার মাথা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ব্রেইনের নিউরোনগুলো দুর্বল হয়ে যায়, চিন্তা করার শক্তি কমে যায়। ফলাফল কী দাঁড়ায়? সে পড়ছে বটে, কিন্তু মনে রাখতে পারছে না। পড়া মুখস্থ হচ্ছে না, ঠিকমত বোঝা যাচ্ছে না। অথচ এই সমস্যার শিকড়ে আছে—অনিয়মিত খাওয়া ও বিশ্রামের অভাব।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষা

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য গ্রহণ ও বিশ্রামে ভারসাম্য বজায় রাখতেন। তিনি কখনোই অতিরিক্ত খেতেন না আবার না খেয়ে থাকাও অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা যখন খাও, তখন পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিঃশ্বাসের জন্য রাখো।” (তিরমিযি)

পরীক্ষা মানেই যুদ্ধ নয়, এটা একটি ধাপে ধাপে অগ্রগতি

পরীক্ষা হলো জীবনের একটি অংশ, পুরো জীবন নয়। আমাদের অনেক ছাত্র ভাই পরীক্ষা আসলেই আতঙ্কে ভুগে, নিজের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে। পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য অবশ্যই পড়াশোনা জরুরি, কিন্তু তার চেয়েও জরুরি হলো নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা।

আমি কীভাবে তোমাদের জন্য ভাবি

প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা, আমি প্রতিটি রাত তোমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফিকির করি। তোমরা যেন সঠিক পথে, স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে পারো, সে জন্যই আজ আমি এই বিষয়ে আলোচনা করছি। আমি চাই তোমরা শুধু ভালো ছাত্রই নয়, ভালো মানুষ হও—যারা শরীয়তের আদর্শ অনুযায়ী পড়ে, খায়, ঘুমায়, বিশ্রাম নেয়, এবং কাজেও সফলতা লাভ করে।

খাওয়া-দাওয়া নিয়ে গাফিলতিতে যেসব সমস্যা হতে পারে

  • মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা
  • ঘনঘন ভুল হওয়া
  • নোট মুখস্থ করতে না পারা
  • পরীক্ষার সময়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া
  • মনোযোগ কমে যাওয়া ও মনমরা ভাব
  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া

সমাধান কী?

  • প্রতিদিন সঠিক সময়ে তিনবেলা খাবার খাওয়া
  • পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া (ডিম, কলা, খেজুর, দুধ ইত্যাদি)
  • রাতে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমানো
  • দিনে ১৫-২০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম
  • চিন্তামুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও তাসবীহ

সতর্কতা

কখনোই খালি পেটে পরীক্ষা দিতে যেও না। এটা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ও নৈতিক দায়িত্বও বটে। একটি সুস্থ শরীরই তৈরি করতে পারে একটি সুস্থ মস্তিষ্ক, এবং একটি সুস্থ মস্তিষ্কই দিতে পারে সুন্দর উত্তর, সুন্দর রচনা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ।

শেষ কথা

আমার প্রাণের ছাত্র ভাইয়েরা, আমি চাই তোমরা শুধু পরীক্ষায় সফল হও না—বরং সুস্থ শরীর, সুন্দর চরিত্র, পরিপূর্ণ দ্বীনদারী ও আদর্শ জীবন নিয়ে গড়ে উঠো। আমি সবসময় দোয়া করি, আল্লাহ যেন তোমাদেরকে কবুল করেন, পরীক্ষায় সফলতা দান করেন এবং তোমাদেরকে দীনের খাদেম বানান।

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি