কেন আমি এই বইটিকে গল্পের রূপ দিলাম
কেন আমি এই বইটিকে গল্পের রূপ দিলাম
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি
এসো গল্পে গল্পে উসুলুল ফিকহ শিখি
এই বইটি গল্প ছাড়া লিখলেও হতো। স্বাভাবিকভাবেই বহু উসুলুল ফিকহের কিতাব যেমন—نور الأنوار, أصول الشاشي, المستصفى প্রভৃতি কিতাবে বিষয়গুলো কঠোর তাত্ত্বিক কাঠামোতে উপস্থাপিত হয়েছে। চাইলে আমিও সে পথেই হাঁটতে পারতাম। কিন্তু আমি হাঁটিনি। আমি বেছে নিয়েছি এক ভিন্ন দিগন্ত—গল্পের পথ।
কেন এই ব্যতিক্রম? এর পেছনে রয়েছে একটি গভীর উপলব্ধি—এই সময়ের তালেবে ইলম কঠিন ভাষায় নয়, সহজ উপস্থাপনায় বুঝতে চায়। কিতাবি জটিলতা নয়, বরং বাস্তবতার ছোঁয়া খুঁজে সে—মনের ভাষায় বলা কোনো গল্পে। গল্প হৃদয়ে পৌঁছায়, তাত্ত্বিকতা অনেক সময় যায় না।
আজকের যুগ তথ্যের নয়, উপস্থাপনার যুগ। মানুষ জানে—তথ্য খুঁজে নিতে জানে; কিন্তু উপস্থাপন যত সহজ হবে, গ্রহণ তত গভীর হবে। আর গল্প সেই সহজতার সর্বোচ্চ রূপ। গল্প একধরনের সেতু—যা পাঠককে জ্ঞানের গভীরে নিয়ে যায় কষ্ট ছাড়াই।
আমি দেখেছি, একটি কঠিন উসুলি পরিভাষা যেমন مطلق, مقيد, عام, خاص, نص، ظاهر، مجمل، مبين—সরাসরি বললে একজন শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অথচ একটি সুন্দর গল্পের মাধ্যমে সেই একই পরিভাষা সে খুব সহজে উপলব্ধি করে নেয়।
আমার লক্ষ্য একটাই—কঠিনকে সহজ করা। ফিকহের এই মৌলিক নীতিগুলো যেন তালেবে ইলমের চিন্তার রসদ হয়, সে জন্যই আমি একেকটি গল্পে একেকটি আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছি। গল্পে থাকবে বাস্তবতা, প্রশ্ন থাকবে, জবাব থাকবে, আর পাঠক না বুঝে বুঝে যাবে—এই হলো গল্পের গোপন শক্তি।
পাঠক একটি গল্প পড়বে, কিন্তু সেই গল্পের মধ্য দিয়ে সে শিখে ফেলবে একটি গুরুত্বপূর্ণ উসুল। এটাই গল্পের জাদু, এটাই সহজ শিক্ষার সার্থকতা।
তাই আমি বলবো—গল্প আমার কৌশল নয়, বরং দায়িত্ব। যেটাকে সহজ করা সম্ভব, সেটাকে কঠিন করে উপস্থাপন করাই ভুল। এই বই সেই ভুল থেকে বাঁচার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস।
আল্লাহ তাআলা এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং পাঠকদের অন্তরে সহজে স্থান দান করুন। আমীন।
Comments
Post a Comment