রোজনামচা: তাৎপর্য, গুরুত্ব ও আদীব হুজুরের পরামর্শ
রোজনামচা: তাৎপর্য, গুরুত্ব ও আদীব হুজুরের পরামর্শ
লিখেছেন: মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
তারিখ: ০৫-০৭-২০২৩ | বুধবার
আলহামদুলিল্লাহ! বহুদিন ধরেই আমি এক বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছি—সেটা হলো: "রোজনামচা"। আজ আমি আমার অনুভূতি, উপলব্ধি ও পড়াশোনার আলোকে কিছু কথা তুলে ধরতে চাই।
রোজনামচা কী?
রোজনামচা শব্দটি এসেছে "রোজ" ও "নামচা" থেকে, যার অর্থ দাঁড়ায়—দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাবলির লিখিত বিবরণ। এটি নিছক একটি ডায়েরি নয় বরং একজন ব্যক্তির মনের প্রতিচ্ছবি, অনুভবের দর্পণ এবং আত্মজিজ্ঞাসার দলিল। কেউ কেউ একে বলেন “আত্মসমালোচনার আয়না”, আবার কেউ বলেন “স্মৃতির নাবিক”।
রোজনামচার গুরুত্ব
- নিজেকে জানার জন্য সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।
- প্রতিদিনের কাজকর্ম, সিদ্ধান্ত, অনুভব ও ভুলগুলো বিশ্লেষণ করা যায়।
- আত্মশুদ্ধি ও আত্মপর্যালোচনার একটি উৎকৃষ্ট পদ্ধতি।
- ভবিষ্যতে অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি রক্ষার একটি বিশ্বস্ত বাহন।
- উলামায়ে কেরাম ও সফল ব্যক্তিবর্গ তাদের জীবনে এটি গুরুত্বপূর্ণভাবে চর্চা করতেন।
কোন বইগুলো পড়া উচিত?
এই বিষয়ে বুঝতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই ও ডায়েরি পড়া যেতে পারে:
- আদীব হুজুরের “তোহফাতুল হারামাইন” (একটি হৃদয়ছোঁয়া রোজনামচামূলক লেখনি)
- মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী র. এর আত্মজীবনী ও ডায়েরির অংশ
- ইমাম গাযযালী র. এর “আল-মুনকিযু মিন আদ্-দালাল” (একটি আত্মপর্যালোচনামূলক রোজনামচা)
- “জীবনযুদ্ধের দিনলিপি” – একজন সংগ্রামী আলেমের আত্মকথা
আদীব হুজুরের উপদেশ
মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ (আদীব হুজুর) বরাবরই তরুণদের আত্মজিজ্ঞাসার চর্চা ও রোজনামচা লেখার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ:
“নিজেকে খুঁজতে চাইলে, নিজেকে প্রতিদিন লিখে রাখো। চোখের ভুল কিছুদিন বাদে ঠিক হয়ে যায়, কিন্তু কলমের ভুল থাকে না।”
আমার অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি
আমি নিজেও বহুদিন ধরে চেষ্টা করছি নিয়মিত রোজনামচা লিখতে। প্রথমদিকে কঠিন মনে হলেও এখন বুঝি এটা কতটা স্মৃতির শক্তি এবং চিন্তার জাগরণ তৈরি করে। আমি মনে করি, প্রতিটি তালিবে ইলম, শিক্ষক, দাঈ ও মুসলমানেরই উচিত প্রতিদিন তার দিনলিপি সংরক্ষণ করা। এতে করে সে বুঝতে পারবে কিভাবে সে দিনটি পার করলো এবং কোথায় উন্নতি বা অবনতি ঘটেছে।
আল্লাহ আমাদের সকলকে এই মহামূল্যবান অভ্যাসটিকে জীবনের অংশ বানানোর তাওফিক দান করুন।
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
দ্বীনের দীপ্তি
Comments
Post a Comment