ঈদের পর কুরবানীর ভাবনা

 ঈদের পর কুরবানীর ভাবনা

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 

ঈদের সকাল ছিল প্রশান্তিতে ভরা। নামাজ শেষে চারপাশ জুড়ে যেন খুশির জোয়ার। সকালের নরম রোদের মতোই সবার মুখে হাসি, হৃদয়ে প্রশান্তি। আজ কুরবানির দিন। যে গরুটি বা ছাগলটি গতকালও জীবনের স্পন্দনে পূর্ণ ছিল, সে আজ নিঃশব্দে, বিনা আপত্তিতে তার জীবন বিলিয়ে দেবে শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

কী আশ্চর্য এক ত্যাগ!

আমাদের খাবারের জন্য নয়, আনন্দের জন্যও নয়—বরং এই কুরবানি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মহা মাধ্যম। আজ যুবকরা হাসবে, খুশি হবে, ঘুরতে যাবে। পরিবারগুলো একসাথে বসে খাবার ভাগ করে নেবে। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝে যেন ভুলে না যাই—এই প্রাণগুলো আজ উৎসর্গিত হয়েছে আমাদের পাপমুক্ত জীবনের আশায়, আমাদের রবের সন্তুষ্টির আশায়।

কুরবানি মানে শুধু ছুরি চালানো নয়, কুরবানি মানে আত্মাকে নির্মল করা, অন্তরকে খাঁটি করা। আর তাই, যারা কুরবানি করেছে, তারাই জানে—এই আনন্দের আড়ালেও কতটা দায়িত্ব আর তাকওয়া লুকিয়ে থাকে।

আসুন, আমরা শুধু পশু কুরবানি না করে, নিজের খারাপ প্রবৃত্তি, হিংসা, অহংকার, এবং গুনাহের দুনিয়াটাকেও কুরবানি করি। তাহলেই কুরবানি হবে পরিপূর্ণ—যেখানে শুধু রক্ত ও গোশত নয়, পৌঁছে যাবে আমাদের তাকওয়া—প্রভুর দরবারে।

কুরআনের দলিল:

"আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশ্ত ও রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি সে সবকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর তাকবীর পাঠ করতে পার, এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন; সুতরাং তুমি সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।"
— সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৩৭

হাদীসের দলিল:

উকবা ইবনু আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগনের মধ্যে কতগুলো কুরবানীর পশু বণ্টন করলেন। তখন উকবা (রাঃ) এর ভাগে পড়ল একটি বকরীর বাচ্চা। উকবা (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ভাগে এসেছে একটি বকরীর বাচ্চা। তিনি বললেনঃ সেটিই কুরবানী করে নাও।
— সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১৪৯
— মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি