কুরবানির শিক্ষা ও করণীয়

 কুরবানির শিক্ষা ও করণীয়

মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি 

আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি আমাদেরকে কুরবানির শক্তি, সামর্থ্য এবং সম্পদ দান করেছেন। তাঁর অনুগ্রহে আমরা আজ কুরবানি করতে পারছি—গরু বা ছাগল, যেটাই হোক না কেন। তবে এই কুরবানি তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন তা শরীয়ত অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

কুরবানির সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, যেন পশুকে কোনো কষ্ট না হয়। যেমন, এক পশুর সামনে অন্য পশুকে জবাই করা উচিত নয়, কারণ এতে জীবিত পশুটি মানসিক কষ্ট পেতে পারে। জবাই করার পর পশুকে আঘাত করা, যেমন গলার মধ্যে ছুরি দিয়ে গুতা দেওয়া, সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। পশু সম্পূর্ণ মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত চামড়া ছাড়ানো শুরু করা যাবে না।

জবাই করার সময় 'বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার' বলে জবাই করতে হবে এবং মনোযোগ সহকারে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। অন্যমনস্কতা থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। অনেক সময় দেখা যায়, জবাই করতে গিয়ে কেউ নিজের আঙুল কেটে ফেলে বা আশেপাশে থাকা কেউ আহত হয়। তাই সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

যারা কসাই বা অন্য কাউকে দিয়ে কুরবানির কাজ করান, তাদের প্রতি সদয় হওয়া উচিত। কাজ শেষে শুধু গোশত দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা উচিত নয়; তাদের পারিশ্রমিক প্রদান করা এবং খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব। তারা আমাদের কুরবানির কাজে সহায়তা করছেন, তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

কুরবানির সময় নামাজের প্রতি অবহেলা করা যাবে না। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও নামাজ সময়মতো আদায় করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে কুরবানি সম্পন্ন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

কুরআনের দলিল:
"আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশ্ত ও রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।"
— সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৩৭
হাদীসের দলিল:
হজরত শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ সব বিষয়ে অনুগ্রহ করতে বলেছেন। অতএব, যখন তোমরা হত্যা করো, তখন উত্তমভাবে হত্যা করো; যখন তোমরা জবাই করো, তখন উত্তমভাবে জবাই করো। তোমাদের প্রত্যেকে তার ছুরিকে ধার দাও এবং পশুকে কষ্ট দিও না।"
— সহীহ মুসলিম: ১৯৫৫
— মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা

Comments

Popular posts from this blog

“দ্বীনের দীপ্তি: ইসলামের মূল শিক্ষা”

স্মৃতির প্রাঙ্গণ ও মাধুর্যের ঋণ

📘 প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রস্তুতি