একটি স্মৃতিময় সাক্ষাৎ, একটি সতর্কবার্তা
একটি স্মৃতিময় সাক্ষাৎ, একটি সতর্কবার্তা
মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা দ্বীনের দ্বীপ্তি
প্রকাশকাল: ১৩ জুন ২০২৫
বহুদিন পরে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলাম। আজ যখন আমি বায়তুল মোকাররমে আসলাম, আব্দুর রহমান হুজাইফা জানতে পারলো যে আমি এখানে আছি। সে ফোনে জানালো, "ভাই, আপনি একটু অপেক্ষা করেন। বহুদিন ধরে আপনার সাথে দেখা হয়নি। আমি দশ মিনিটেই আসছি।"
কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সে হাজির হলো, নামাজ আদায় করলো, এবং এরপর আমরা দুইজন একত্রিত হলাম অনেকদিন পর। যে সম্পর্ক আমাদের মাঝে একসময় গভীর ছিল, সেটি যেন মুহূর্তেই ফিরে এলো। আমরা গল্প করলাম, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করলাম, একে অপরের মাদ্রাসার পাঠদান ও পরিবেশ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলাম। এরপর সে আমাকে তার বাসায় নিয়ে গেলো, এবং অপূর্ব মেহমানদারিতে আপ্যায়ন করলো। এমন স্নেহশীল আচরণ, এমন আন্তরিকতা, বহুদিন পর মনকে ভিজিয়ে দিলো।
এ সাক্ষাৎ শুধু একটি পুনর্মিলন ছিল না, বরং ছিল হৃদয়ের গভীরতার এক মিষ্টি উপলব্ধি। আল্লাহ তাআলা আমার প্রিয় এই ভাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তার জীবনে বরকত দান করুন এবং আমাদের মাঝে মহব্বতকে আরো দৃঢ় করুন। আমরা যেন সবসময় একে অপরকে সাহায্য করি এবং পাশে থাকি—এই দোয়া করি। আমিন।
এদিকে, এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, প্রকৃতির এক কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। গ্রীষ্মের তীব্রতা এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, রাস্তায় চলাফেরা করা একরকম দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। সূর্যের দহন, বাতাসের মাঝে আগুনের ঝাঁজ যেন আমাদের জীবনের প্রতিটি কোণাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। ঘরের মধ্যেও যেন স্বস্তি নেই।
এই প্রচণ্ড উত্তাপ হয়তো আমাদের চোখে প্রকৃতির অভিশাপ, কিন্তু ঈমানদারদের জন্য এটি হতে পারে এক জাগরণ-বাণী। আল্লাহ আমাদেরকে গোনাহ থেকে সাবধান করছেন, আমাদের ভুল-ত্রুটি এবং সীমালঙ্ঘনের প্রতিফল হিসেবেই হয়তো তিনি এই অবস্থার মাধ্যমে আমাদের সচেতন করতে চাইছেন। যেন আমরা বুঝি, কেয়ামতের দিনের তাপ কী হতে পারে, যখন কোন ছায়া থাকবে না।
আমি নিজেই আজ সফরে ছিলাম। রাস্তায় বের হয়েছি, তৃষ্ণা নিবারণের জন্য একের পর এক ঠান্ডা পানীয় পান করেছি—লেবুর শরবত, গেন্ডারির রস, ট্যাং, ঠান্ডা পানি... তবুও তৃষ্ণা মেটে না। এই অবস্থায়ও আল্লাহ আমাদের একটু একটু করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, দুনিয়ার সাময়িক শান্তির চেয়েও আখিরাতের প্রস্তুতি অনেক জরুরি।
Comments
Post a Comment