কুরবানীর উপলক্ষে ভাবনার খোরাক
কুরবানীর উপলক্ষে ভাবনার খোরাক
✍ মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ত্বলহা
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাদেরকে ঈদের নামায আদায় করার তাওফিক দিয়েছেন। ঈদের এই পবিত্র দিনে কুরবানীর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করার এক সুবর্ণ সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে যে সম্পদ, শক্তি ও সামর্থ্য দিয়েছেন, তা কেবল ভোগের জন্য নয়—বরং আল্লাহর পথে ত্যাগের মাধ্যমেও তা কাজে লাগানোই প্রকৃত কৃতজ্ঞতা। কুরবানী সেই ত্যাগেরই এক আলোকিত নিদর্শন।
কেউ গরু কুরবানী করছে, কেউ ছাগল। আল্লাহ যাকে যে পরিমাণ দিয়েছেন, সে অনুযায়ী কুরবানী করছে। কিন্তু এই কুরবানী ফলদায়ক তখনই হবে, যখন তা শরীয়তের নিয়ম মোতাবেক সম্পন্ন হবে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব: কুরবানীর পশুকে অন্য পশুর সামনে জবাই করা নিষেধ। এটি পশুর উপর মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
إِنَّ اللهَ كَتَبَ الإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ...
অর্থাৎ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর উপর উত্তম ব্যবহার ফরজ করেছেন।” (সহীহ মুসলিম: ১৯৫৫)
কেউ কেউ পশু জবাই করে গলার মধ্যে ছুরি দিয়ে গুতা দিতে থাকেন—এটি স্পষ্ট নির্যাতন এবং শরীয়তের নির্দেশনার পরিপন্থী। আর প্রাণ পুরোপুরি বের হওয়ার আগে চামড়া ছিলে ফেলা যাবে না।
আরও সতর্কতা: অন্যমনস্কভাবে নয়, বরং ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলেই খুব ধীরস্থির ও একাগ্রতার সঙ্গে জবাই করব। নিজের আঙ্গুল কেটে ফেলা কিংবা আশপাশের লোকজনের ক্ষতির কারণ হওয়া থেকেও সতর্ক থাকতে হবে।
কসাই ও সহযোগীদের অধিকার: যারা আমাদের পশু জবাই করছে বা চামড়া ছাড়াচ্ছে, তাদের আমরা পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দিব। কুরআনের নির্দেশ: وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ
— "ন্যায়ভাবে ওজনে পূর্ণ করো।" (সূরা আল-আন‘আম: ১৫২)
তাদেরকে হাদিয়া হিসেবে গোশত দিলেও কাজের মজুরি আলাদাভাবে দিতে হবে। আর যারা সারাদিন খেটেছে, তাদের খাবার-দাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও করা আমাদের কর্তব্য।
আমরা যেন ঈদের দিন এত ব্যস্ত না হয়ে পড়ি যে নামাযের প্রতি গাফেল হয়ে যাই। যোহরের নামায যেন না ছুটে যায়।
পরিশেষে: আমাদের কুরবানী যেন শুধু পশু কুরবানীতে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আমাদের হৃদয়ও যেন খাঁটি আল্লাহর জন্য কুরবানী হয়ে যায়।
আল্লাহ আমাদেরকে এই ঈদের আমলসমূহ পরিপূর্ণভাবে করার তাওফিক দিন। আমীন।
Comments
Post a Comment